জীবনকে ভালোবেসে…

‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, স্যার। আমার জন্য কিছু একটা করেন। আর পারছি না। বেঁচে থেকেও প্রতি মুহূর্তে আমাকে প্রমাণ করতে হচ্ছে যে, আমি মরে যাইনি।’ কথাগুলো এক নিশ^াসে বলে শেষ করে আমার দিকে যুবকটি তাকালো ছলছল চোখে।

দেখতে সুদর্শন, বয়স আনুমানিক পঁয়ত্রিশ-ছত্রিশ বছর হবে। তার মায়াকাড়া চেহারার মধ্যে অদ্ভুত এক বিষণ্নতা এমন গভীরভাবে লেপটে আছে যে তা উপেক্ষা করার মতো নয়। ছেলেটি আমার থানায় এসেছে একটি জিডি মানে জেনারেল ডায়েরি করতে। তার মুখ থেকে বিস্তারিত ঘটনা শুনে আমি বেশ কিছু সময়ের জন্য নির্বাক হয়ে গেলাম।

যেহেতু থানায় বসে দর্শন কপচানো যায় না আর এখানে অহরহ নানা কিসিমের দর্শনার্থীর আনাগোনা, তাই যুবকটির জিডিটা দ্রুত গ্রহণের ব্যবস্থা করে তাকে আশ^স্ত করলাম এই বলে যে, একজন সংবেদনশীল এবং দায়িত্ববান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার যা যা করা দরকার আমি তা তার জন্য করবো। এতটুকু নিশ্চয়তা দিয়ে তাকে আমার বিদায় করতে হয়েছিল।

খুব কম মানুষই ঠেকায় না পড়লে পুলিশের শরণাপন্ন হয় না। এ-কথা আমার এতদিনের চাকরি জীবন থেকে ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি। পুলিশকে নিয়ে আমাদের এখানে ভালোমন্দ গল্পের শেষ নেই। মন্দের সংখ্যাই বেশি। সেসব প্রসঙ্গ এখানে তোলা অবান্তর মনে করছি। বরং, যে-যুবকটির কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম সেখানে ফিরে যাই।

তার বিষয়টা একই সঙ্গে অভিনব আর ভীষণ করুণ। তার মুখ থেকে ঘটনার আদ্যোপান্ত শুনতে শুনতে আমার ভেতরে একটা তোলপাড় অনুভব করি। পুলিশ হিসেবে আমার আবেগ প্রকাশের সুযোগ বলতে গেলে নেই। মানুষের

দুঃখ-কষ্ট-বিপদ-মুসিবত সামলানোর কাজে নিয়োজিত

থাকলেও সেসব করতে গিয়ে আমাদের আবেগশূন্য রোবটের বেশ ধারণ করতে হয়। সিংহভাগ পুলিশ সফল হলেও কেউ কেউ কখনো কখনো নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কাছে নতজানু হয়ে পড়ে। সে-সময়টাতে পুলিশ পরিচয় ছাপিয়ে তার মানবিক পরিচয়টা বেশি ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। দুটো ভিন্ন সত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার কাজটি বেশ দুরূহ।

যুবকটির নাম ফয়সাল হামিদ। সেদিন সকালে যখন সে আমার টেবিলের সামনের এসে চেয়ারে বসার অনুমতি চাইল, তার কথা বলার নির্জীব ভাব দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম, যে-কোনো কারণেই হোক, জীবনের বোঝা টানতে গিয়ে খুব অল্প বয়সে সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তার বয়সের একজন পুরুষের এত তাড়াতাড়ি এরকম ভেঙে পড়ার পেছনের লম্বা ইতিহাস কিছুক্ষণ পর তার মুখ থেকে উন্মোচিত হলো।

দুই

দুই বছর আগে আর না পেরে আত্মহত্যা করবো বলে যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, তখন তা কার্যকর করার আগে খানিকটা নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়েছিলাম। অবশ্য এখন নাটকীয়তা বললেও তখনকার মানসিক অবস্থায় সেটাকেই আমার জন্য সঠিক উপায় মনে হয়েছিল। সেজন্য বেছে নিয়েছিলাম বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম ফেসবুককে।

অতীতে বিভিন্ন সময় এক্ষেত্রে এর নানামুখী ব্যবহার দেখেছি। দেখেছি, মানুষ কী নির্বিকার চিত্তে ফেসবুক লাইভে এসে ক্যামেরা অন করে দিয়ে দিব্যি ফ্যানের সঙ্গে রশি বেঁধে ঝুলে পড়ছে অথবা মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করছে। যেন এগুলো আর যে-কোনো লাইভ ভিডিওর মতো একেকটা ফান অ্যাক্টিভিটি। যেন ঘটনাগুলো ঘটে যাওয়ার পর আবার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গিয়ে অতিউৎসাহী দর্শকদের মন্তব্যের জবাবে বলা যাবে, ‘হ্যালো, ভিউয়ারস, হাও ডু ইউ ফাউন্ড মাই সুইসাইডাল পারফরম্যান্স? ডিড ইউ এনজয় ইট ওর শুড আই গিভ অ্যানাদার ট্রাই?’ ব্যাপারটা যেন এরকম আরো অনেক কিছুর মতো, অথচ ঘটনা ঘটে গেলে এরকম হাস্যকর কথা বলার আর কোনো সুযোগই থাকে না।

ফেসবুক লাইভে এসে অন স্পট আত্মহত্যা করার ক্ষেত্রে আমি হয়তো তাদের মতো অতটা সাহসী বা দুঃসাহসী ছিলাম না। তাই সরাসরি ক্যামেরার সামনে এসে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে পারিনি। আমি বরং ধীরেসুস্থে একটা লম্বা স্ট্যাটাস লিখেছি, কয়েকবার এডিট করেছি, যাতে আমার পোস্টটাকে ছোটখাটো একটা লিটারারি নিবন্ধ মনে হয়, যাতে এটা পড়ার পর কারো মনে কোনো সন্দেহের উদ্রেক না হয় যে, আত্মহত্যার সিদ্ধান্তটা আমি হুইমজিক্যালি নিয়েছি।

স্ট্যাটাসটা লেখার সময় আসন্ন মৃত্যুচিন্তা ছাড়াও আমার ভেতরে এক ধরনের বিষণ্নতা কাজ করছিল। সামাজিক প্রতিষ্ঠা অথবা প্রিয় মানুষের ভালোবাসা – জীবনে এসবের কিছুই পেলাম না বলে নিজ উদ্যোগে জীবনাবসানের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। অথচ, ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে দেশের নামকরা পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলাম আর একজন বড় সাহিত্যিক হওয়ার তীব্র বাসনা নিজের মধ্যে ধারণ করতাম।

কেন এতসব চিন্তা তখন মাথায় এসেছিল জানি না। পুরো ব্যাপারটাকে আমি যে-কোনো প্রকারে দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলাম কি না সেটিও ঠিক এখন আর মনে নেই। কারণ, যে-দুর্বিষহ জীবনের যন্ত্রণা আমার পক্ষে আর একটা মুহূর্ত সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না, সেই জীবনের ইতি টানার এত আয়োজন করেও শেষ পর্যন্ত আমি মরতে পারিনি। শ-খানেক ঘুমের ওষুধ গিলে ফেলেও কীভাবে বেঁচে গেলাম বলতে পারব না।

আমাদের ধর্মে আছে, জন্ম-মৃত্যু আল্লাহ্‌র হাতে আর আত্মহত্যা মহাপাপ। একদিকে মহাপাপ করার চেষ্টার দোষে দোষী হলাম, অন্যদিকে বেঁচে ফেরাটাই এখন আমার নবলব্ধ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে চরমভাবে বিষিয়ে তুলছে। আক্ষরিক অর্থে, আমার এখন শাঁখের করাতের অবস্থা। কারো কাছ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য না পেয়ে শেষমেশ আমি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি। থানায় গিয়ে জিডি করে এসেছি।

তিন

ফয়সাল হামিদের থানায় করা জিডি আর মুখের বর্ণনা থেকে যা জানলাম, তাতে সেই পুরনো আপ্তবাক্যটাই আবার স্মরণ করতে হলো : ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন। হাল আমলের রীতি মেনেই যেন বা ফেসবুকের দেয়ালে তার আত্মহত্যার ঘোষণাপত্র সেঁটে দিয়েছিল ফয়সাল। একেবারে নির্মম শোনালেও আমার বক্তব্য হচ্ছে, তা বাবা, মরবি বলে যখন মরণপণ করেই ফেলেছিস, এত ঘটা করে লোক জানানোর কী দরকার ছিল। চুপচাপ গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়তিস আর তা না হলে ট্রেনের নিচে মাথা পেতে দিতিস।

তা না করে পাবলিক ডোমেইনে গিয়ে মাইকে আওয়াজ দেওয়ার মতো করে সে জানান দিলো যে, তার মৃত্যুর জন্য সে নিজে ছাড়া অন্য কেউ দায়ী নয়। বাইরের কেউ কোনোভাবে তাকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনা দেয়নি। ঠান্ডা মাথায় অনেক ভেবেচিন্তে নিজেই সে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জীবনের সঙ্গে অনেক চেষ্টার পরও কোনোরকম বোঝাপড়া করে উঠতে না পারার নিদারুণ ব্যর্থতাই তাকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। ইত্যাদি।

এ-ধরনের কিছু ভারী কথাবার্তাভরা সুইসাইডাল স্ট্যাটাসটি ফয়সাল তার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছিল। দিনটি ছিল দুই বছর আগের জানুয়ারির শেষ মঙ্গলবার। প্রেমিকার জন্মদিনটিকে সে তার মৃত্যুদিন হিসেবে বেছে নিয়েছিল। হয়তো তার মনে ক্ষীণ আশা ছিল, এভাবে নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও তার ভালোবাসার অপমানের প্রতিশোধ সে নিতে পারবে। ভবিষ্যতে জন্মদিন পালন করতে গিয়ে তার কথা মনে না করে উপায় থাকবে না প্রাক্তন প্রেমিকার। যদিও আত্মহত্যার চেষ্টা সফল না হওয়াতে ফয়সালের সবকিছুই এখন এলোমেলো হয়ে গেছে। আত্মহত্যা পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়ে তাকে এখন অধিক মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

সস্তা পাবলিসিটির জন্য আমাদের দেশের বেশিরভাগ চিন্তাশূন্য মিডিয়া যা করে থাকে, ফয়সালের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দুই বছর আগে আপাতদৃষ্টিতে তার আত্মহত্যার খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল। মূলত তার ফেসবুকের সুইসাইডাল নোটটি এক্ষেত্রে সে-সময় প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। চটকদার ভাষা বা শব্দ চয়নের কারণে তা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল। কয়েক হাজার বার শেয়ার হয়েছিল পোস্টটি। এ-সবই থানায় বসে আমাকে জানালো যুবকটি।

তবে পরবর্তীকালে যে-খবরটি লোকের নজর এড়িয়ে যায় তা হলো, ঘটনার দিন ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার পর মুমূর্ষু অবস্থায় ফয়সালকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল তার পরিবারের সদস্যরা। রুমের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং দশ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে জান নিয়ে বাড়িতে ফেরে যায় সে।

চার

মহান স্রষ্টার অশেষ করুণায় জীবন ফিরে পেলেও আত্মহত্যাচেষ্টার পরের দিনগুলোর কথা ভাবতেই আমার সারা শরীরে ঠান্ডা রক্তস্রোত বয়ে যায়। যে-দুঃসহ জীবনযন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে আমি স্বেচ্ছামৃত্যুর কাছে মাথা পেতে দিয়েছিলাম, নতুন জীবন লাভের পর আমার সেই যন্ত্রণার স্বরূপ পালটে যেন তা দ্বিগুণভাবে ফিরে আসে। অথচ এরকম কিছু হতে পারে সেটি ভয়ংকর দুঃস্বপ্নেও আমি কল্পনা করতে পারিনি। বেঁচে ফেরার পরবর্তী প্রতিটি মুহূর্ত এখন আমার কাছে চরম বিভীষিকাময়।

ঘরের বাইরে পা ফেলতেই নানা জনের নানা ধরনের প্রশ্নের তীর আমার দিকে ধেয়ে আসছে। বেশিরভাগই বিদ্রƒপাত্মক। আমার কাছে কোনোটার উত্তর আছে, কোনোটার নেই। আমি যে-জবাবই দেওয়ার চেষ্টা করি না কেন এবং যত আন্তরিকই থাকুক আমার ভঙ্গি, উত্তরটা তাদের পছন্দমতো হয় না। তাদের একেকজনের চোখ-মুখের অভিব্যক্তি দেখে মনে হয়, তারা আমার মুখের জবান তো দূরে থাকুক, আমার শারীরিক অস্তিত্বটাই স্বীকার করতে চাইছে না। তাদের বিশ^াস করতে কষ্ট হচ্ছে যে, এত ধকলের পরও আমি দিব্যি বেঁচেবর্তে আছি, চলাফেরা করছি আগের মতো। কেউ কেউ ভাবছে, আমি যেন আগের সেই ফয়সাল নই, তার প্রেতাত্মা বা ফয়সালের বেশধারী ভিন্ন কোনো ব্যক্তি। এই অসম্মানজনক তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুক্তভোগী ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির পক্ষে একেবারেই অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

একজন মৃত্যুপথযাত্রী অথবা মৃত্যুশজ্জায় শায়িত কোনো ব্যক্তি দৈবক্রমে সুস্থ জীবন ফিরে পেলেও বোধ করি এ-ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় না, যেরূপ অবস্থার ভেতর দিয়ে আমাকে যেতে হচ্ছে গত প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে। সাহিত্য পড়েছিলাম বলে রবি ঠাকুরের ‘জীবিত ও মৃত’ গল্পের কাদম্বিনী চরিত্রটির দুর্ভাগ্যের কাহিনি আমার জানা আছে। ‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই’ গল্পের সেই বিখ্যাত লাইনটি যে আমার জীবনে এরকম ভীতিকরভাবে এসে উপস্থিত হবে কোনোদিন দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি।

হাসপাতালে দশ দিন ধরে যমে-মানুষে লড়াই শেষ করে জীবনটা ফিরে পাওয়ার পরের অভিজ্ঞতা আমাকে এক অচিন্তনীয় বাস্তবতার সামনাসামনি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এ থেকে বের হয়ে এসে বা এর মধ্যে থেকে কীভাবে আমি একটা নতুন জীবন শুরু করবো – তার কোন কূল-কিনারা করতে পারছি না।

সবচেয়ে কষ্টের কথা হচ্ছে, এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমি আমার পরিবারের বাইরে আর কোনো ধরনের মানসিক সহযোগিতা পাচ্ছি না। অথচ, বেঁচে থাকতে হলে তো আমাকে ঘরের বাইরে পা ফেলতে হবে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে আমি যেন আমার পরিবারকেও এক অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছি। আর এসব ভাবতে ভাবতে আমার আবারো ক্রমশ এক হতাশার চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মনে করে শিউরে উঠছি যে, ঠিক একই ধরনের মানসিক অবস্থায় আমি সেই বিধ্বংসী সিদ্ধান্তটি নিতে বাধ্য হয়েছিলাম।

পাঁচ

থানায় জিডি দাখিল করার পর ফয়সালকে কিছুক্ষণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম। অবশ্য বিষয়টা তাকে বুঝতে না দিয়ে। পুলিশের অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি আর নিরীক্ষণ ক্ষমতা দিয়ে তৎক্ষণাৎ বুঝতে চাইলাম, তার বক্তব্যের সত্যাসত্য। সরেজমিনে যাচাই-বাছাইয়ের আগে এই কাজগুলো আমাদের করতে হয়।

না পারতে সাধারণ মানুষ পুলিশকে ঘাঁটায় না। কেউ যখন বাধ্য হয়ে থানার দরজায় হাজির হয়, তখন আমাদের ধরে নিতেই হয় যে, তার ভালো অথবা মন্দ যে-কোনো একটা উদ্দেশ্য আছে। অনেক সময় অন দ্য স্পট আমরা অনেক বিষয় ধরে ফেলতে পারি। দর্শনার্থীর ভালো-মন্দ উদ্দেশ্যের শানে নজুল বুঝতে আমাদের খুব বেশি বেগ পেতে হয় না। কিন্তু কখনো কখনো আবার এমন অবস্থা হয় যে, ঘটনার কার্যকারণ বের করতে আমাদের
দিন-রাত এক হয়ে যায়; ঘাম ছুটে যায় ঘটনার পেছনার ঘটনার উৎস তালাশ করতে গিয়ে।

ফয়সাল নামের যুবকটিকে প্রথম দেখায় আমার মনে হয়েছিল, এক বা একাধিক কারণে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। বয়সের তুলনায় তার চেহারায় বিরূপ অভিজ্ঞতার পুরু ছাপ বসে গেছে। তার দিক থেকে সে যথাসম্ভব স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলেও কথা বলার সময় আর ভেতরের অসহায় ভাবটি লুকিয়ে রাখতে পারেনি।

মাস্টার্স শেষ করে পারিবারিক ব্যবসায় ভালো অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে ফয়সাল। দুই-তিনজন বিশ্বস্ত বন্ধুকে সহযোগী হিসেবে সঙ্গে নেয়। এজন্য ব্যাংক লোন ছাড়াও নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে ধার-দেনাও করতে হয় তাকে। শুরুর দিকে ব্যবসায় ভালো লাভের মুখও দেখছিল। তারপর যা হয়। বন্ধুরা ব্যবসার টাকা মেরে দিয়ে বিদেশে পালিয়ে যায়। তাকে কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ না দিয়ে।

‘আমি কোনোদিন ভাবতেও পারিনি যে-বন্ধুদের আমি নিজের টাকায় জীবনে দাঁড় করিয়ে দিতে সাহায্য করলাম, তারাই আমার বুকে এভাবে ছুরি মেরে চলে যাবে।’ ডান হাতের তালু দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে ফয়সাল বলে। ‘বাড়ির সবাই আমাকে তখন নিষেধ করলেও আমি কারো কথাই কানে নিই নাই। বলেছি, ছেলেবেলার বন্ধু। ওরা এরকম কিছু করবে না। আর, যে-কথাটা বলতে এখনো লজ্জায় মরে যাই, ওদের একজনের সঙ্গে আমার আট বছরের প্রেমিকাও চলে যায়। বলতে পারেন স্যার, একজন মানুষের জীবনে একসঙ্গে এত দুর্ঘটনা ঘটে গেলে সে কীভাবে বেঁচে থাকার সাহস করে?’ ফয়সালের মুখের কথাগুলো অভিযোগের মতো থানার দেয়ালে আঘাত করতে থাকে।

তার পরের ঘটনা আরো করুণ। বাড়ির প্রায় সবার সঙ্গে ফয়সালের কথা বন্ধ। ব্যাংকের লোন, আত্মীয়দের ধার শোধের তাড়া। ব্যবসায় ধস। কয়েকদিন ধরে ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে এনে জমা করতে থাকে সে। আর মুসাবিদা করতে থাকে ফেসবুকের স্ট্যাটাস। সময়মতো সেটি পোস্ট করে দেয় আর ওষুধগুলো গিলতে থাকে একসঙ্গে যতগুলো পারা যায়। বন্ধ দরজার ওপাশে বিছানার ওপর তার দেহ নেতিয়ে পড়ে। একসময় দরজা ভেঙে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। ওপরওয়ালা তার প্রায়-চলে-যাওয়া জীবনটা ফিরিয়ে দিলেন।

ছয়

কিন্তু বেঁচে ফিরে তো আমি আরেক সংকটে পড়লাম। বাড়ির বাইরের কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না, আমি সত্যি সত্যি বেঁচে আছি। আর এই সমস্যার মূল কারণ ভাইরাল হয়ে যাওয়া আমার সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস। ওখানে অনেক কথা লিখে ফেলেছিলাম। নিজের আর্থিক দুর্গতির কথা, ব্যবসায় ধস নামার কথা, বন্ধুদের প্রতারণার কথা, প্রেমিকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা। এসব না লিখলেও চলতো।

আমি তো মরতেই চেয়েছিলাম। তাই ভেবেছিলাম, কাউকে দোষারোপ না করে কেবল নিজের দুর্ভাগ্যের করুণগাঁথা সংক্ষেপে লিখে যাবো। অবশ্য লেখার সময় এ-বিষয়ে অনেক সচেতন থাকার পরও শেষ পর্যন্ত অন্যদের কথা চলে এসেছে। অবধারিতভাবে। আসলে আমার জীবন তো শুধু আমার একার ছিল না। অনেককে নিয়ে আমি ছিলাম। তাই যখন কিছু কথা লিখবো বলে মনস্থির করলাম, স্বাভাবিকভাবে অন্যদের প্রসঙ্গ টেনে আনতে হলো।

বিশ^বিদ্যালয়ে বিশ্বসাহিত্যের বিখ্যাত লেখকদের বইগুলি পড়ার চেষ্টা করতাম। মনে-প্রাণে একজন বড় সাহিত্যিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমার প্রিয় কবি/ সাহিত্যিক যেমন কিটস, শেলি, ডিকেন্স, তলস্তয়, হেমিংওয়ে প্রমুখের লেখা পড়ে তাঁদের মতো অসাধারণ সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি করার বাসনা লালন করতাম মনে-মনে। তা না করতে পেরে শেষ অবধি আমাকে শুধু আমার মৃত্যুর পরোয়ানা রচনা করতে হলো। আমি যে তখন কী এক অবর্ণনীয় দুঃসহ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, এক আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ তা জানে না।

অথচ সারা জীবন আমি আত্মহত্যা বিষয়টাকে অপছন্দ করে এসেছি। বলতে পারেন, ঘৃণাই করতাম। স্কুলে ক্লাস এইটে পড়ার সময় আমার এক বন্ধুর বড় ভাই কীটনাশক খেয়ে মরে গেলেন। প্রেমিকার অন্য একজনের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেছে সেই কষ্টে। সেই অল্প বয়সেও ব্যাপারটা আমার কাছে কাপুরুষের মতো মনে হয়েছিল।

একজন মানুষের কারণে আমি আমার মূল্যবান জীবনটা শেষ করে ফেলতে পারি না। জীবন তো মানুষ একবারই পায়। এরকম চিন্তাই আমার ভেতরে সবসময় সক্রিয় ছিল। অথচ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, আত্মহত্যাকে ঘৃণা করা, বড় সাহিত্যিক হতে চাওয়া, পড়ালেখায় ভালো, আচার-ব্যবহারে ভালো, সবার কাছে প্রিয় ছেলেটাকেই আজ আর কেউ সহজে গ্রহণ করতে পারছে না। মানুষকে বিশ্বাস করে ভালোবাসা ছাড়া জীবনে আর বড় কোনো পাপ করেছি বলে মনে করতে পারি না। তাহলে আমাকে কেন এত শাস্তি পেতে হচ্ছে, জানি না। সত্যিই জানি না।

এখন আমি কোথাও গিয়ে কারো কাছ থেকেই কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি না। অথচ, ব্যাপারটা ঠিক উলটো হওয়া উচিত ছিল। প্রাণে বেঁচে আছি – এটা প্রমাণ করতে আমাকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাড়িতে বিদ্যুতের মিটার সংযোগের জন্য মিউনিসিপ্যালিটি অফিস থেকে যখন প্রত্যয়নপত্র নিতে গেলাম, তাদের ভাষ্য, আমি দুই বছর আগে মারা গেছি। নাগরিক সনদপত্র নিতে গিয়েও একইরকম নাজেহাল হতে হয়েছে। তাদের সোজাসাপটা বক্তব্য, ইন্টারনেটে এখনো আমার মৃত্যু বা আত্মহত্যা সংক্রান্ত অনেক সংবাদ দেখতে পাওয়া যায়।

বরং মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরত আসার যে কল্পকাহিনি আমি তাদের বিশ্বাস করাতে চাইছি সে-ব্যাপারে কোথাও একটি খবরও তাদের নজরে পড়েনি। কাজেই তাদের কাছে আমার দ্বিতীয় জীবনের গল্প পুরোটাই ধাপ্পাবাজি বলে মনে হচ্ছে। আমি তাদের সবটুকু দোষও দিতে পারছি না। মৃত হওয়ার ভান করে অনেক ধরনের চালাকির ঘটনা আমাদের দেশে অহরহই ঘটে থাকে। মাঝখান থেকে আমার বিষয়টা নিয়ে এমন গোলকধাঁধা তৈরি হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত না পেরে পুলিশের কাছে যেতে বাধ্য হয়েছি।

সাত

ফয়সালের অসহায় অবস্থা আমাকে সেই দুষ্টু রাখাল বালকের গল্পটা মনে করিয়ে দিলো। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও রূঢ় বাস্তবতা এই যে, বারবার মিথ্যা বলে মানুষকে ধোঁকা দিলে একসময় সত্যটাকে সে আর গ্রহণ করতে পারে না। আবার ধোঁকা খাওয়ার আশঙ্কায়। ফয়সালের ঘটনা হয়তো সত্য। সে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেও কপালগুণে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছে। কিন্তু আমাদের সমাজে মাঝেমাঝে এমন ঘটনা ঘটে যেখানে বিশেষ কোনো স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কেউ নিজে মৃত হওয়ার অভিনয় করে অথবা কাউকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ফয়সালও একই পরিস্থিতিতে পড়েছে। তাকে কেউ কেউ বলেছে, বড় অংকের ব্যাংক লোন পরিশোধ করা থেকে রেহাই পেতে সে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। যেহেতু এরকম প্রায়ই ঘটে থাকে, সে-কারণেই মানুষের মনে এত অবিশ^াস আর দ্বিধা। ফয়সালের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার আগে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাস বা তার মৃত্যুর খবরটা যেভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার পেয়েছে, তার বেঁচে ফেরার খবরটা সংবাদমাধ্যমসহ সবাই উপেক্ষা করে গেছে। এ-কারণে অনেকের কাছে সে মৃত হিসেবেই থেকে যায়।

বিশেষ করে এখানে ফেসবুকের যথেচ্ছ ব্যবহারের মন্দ দিকটার কথা উল্লেখ করতে হয়। ফয়সাল আমাকে জানিয়েছে, যখন সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে, তখন তার ফেসবুক আইডিতে অনেকে মন্তব্য করে যে, সে মারা গেছে। পরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাকে একটি মেসেজ পাঠিয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিল সে মৃত, নাকি জীবিত। তাদের সে তার জাতীয় পরিচয়পত্র স্ক্যান করে পাঠালেও পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না বলে ফেসবুক তার আইডি ডিসঅ্যাবল করে দেয়। গুগলেও ফয়সালের মৃত্যুসংবাদ সংক্রান্ত অনেক নিউজ সার্চ করলে পাওয়া যায়। টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের সঙ্গে সে যোগাযোগ করেছে যাতে এই খবরগুলো সরানোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কারণ যে-কোনো ধরনের নাগরিক সেবা নিতে গেলে প্রথমেই তাকে যে বিব্রতকর প্রশ্নের সামনে পড়তে হয় সেটি হলো – সে জীবিত, না মৃত।

পুলিশের চাকরি করতে গিয়ে জীবনে অনেক ধরনের অবিশ্বাস্য সব ঘটনার মুখোমুখি হয়েছি। তবে ফয়সালের ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। আমার চাকরিজীবনে এ-ধরনের জিডির ঘটনা এই প্রথম। সত্যি কথা বলতে কী, এ-জিডি সমাজ বাস্তবতার এক অন্ধকার দিক সামনে নিয়ে এলো, যেখানে বর্তমান সমাজের টেকনোলজি আসক্তির ভয়াবহ প্রভাবের একটি রূপ প্রকাশ পেয়েছে। আত্মহত্যার পথ থেকে ভাগ্যক্রমে ফিরে আসা এক সম্ভাবনাময় যুবককে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ শক্তি-সাহস না জুগিয়ে অহেতুক প্রশ্নবাণে জর্জরিত করছে। সন্দেহ ও অবিশ্বাসের চোখে কেউ কেউ তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করছে।

জিডিতে ফয়সাল লিখেছে, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরত আসার পরও কিছুদিন সে মানসিক ও সামাজিকভাবে খারাপ পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যায়। সেসময় অনেকের পরামর্শ ও সহযোগিতা চাইলেও কেউ তার পাশে দাঁড়ায়নি। নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার জন্য সে আবার তার পূর্ণ পারিবারিক ব্যবসাটাকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এবার আর কোনো বন্ধু নয়, বড় ভাইয়ের দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়েছে।

নতুন জীবনে ফয়সালের যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা আমার থানার প্রত্যেক সদস্যের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সমাজবাস্তবতার কারণে এমন সমস্যার প্রতিকার চেয়ে কেউ থানায় জিডি করতে পারে – এটা প্রায় অকল্পনীয়। এ-বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশের দিক থেকে করণীয় সব ধরনের সহযোগিতা আমরা তাকে করব। আমাদের প্রত্যেকের বোঝা দরকার, এ-সমস্যা আমাদের যে কারো ঘরে হতে পারে। দিন দিন কারণে-অকারণে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। আত্মহত্যার পথ থেকে যারা ফিরে আসে, তাদের পাশে সবার মানসিকভাবে দাঁড়ানো প্রয়োজন। সমাজের দায়িত্ব তাদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচার মতো পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।

আট

আমার মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতা আমি সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। কোলরিজের ‘রাইম অফ দ্য অ্যানশেন্ট মেরিনার’-এর বৃদ্ধ নাবিকের মতো সবার হাত ধরে বলতে চাই, জীবন সুন্দর। আমার মতো ভুল কেউ করো না। রাবণের হাত থেকে উদ্ধার হওয়ার পর সীতাকে তার সতীত্বের প্রমাণ দেওয়ার জন্য যে অগ্নিপরীক্ষার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল, আমাকেও যেন একই পরীক্ষা দিয়ে যেতে হচ্ছে।

তবে হাল ছেড়ে দেওয়ার মানুষ আমি নই। একবার ভুল করেছি বলে দ্বিতীয়বার একই ভুল করতে চাই না। আমি কাদম্বিনীর মতো মরে প্রমাণ করতে চাই না যে, আমি আসলে মরি নাই, বা বেঁচে ছিলাম। আগের যে-কোনো সময়ের চেয়ে এখন আরো বেশি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। আমার নবলব্ধ জীবন আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রেরণামূলক কাজে লাগাতে চাই। তবে তার আগে সমাজের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে; মানুষের মনে সচেতনতা বাড়াতে অনেক কাজ করতে হবে। এ-ধরনের সামাজিক ইস্যুকে সমস্যা মনে না করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতে হবে। ‘মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না, ও বন্ধু?’  প্রিয় শিল্পী ভূপেন হাজারিকার গানটি এ-সময় বড় বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হয়।

মনোবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষকে সমাজের ভেতরে চলাফেরা করতে হয়। কাজেই সমাজ যে তাকে ভিন্নচোখে দেখছে ওই ব্যক্তি যাতে সেটি বুঝতে না পারে। আত্মহত্যাচেষ্টার অন্ধকার মুহূর্তের চেয়ে বেঁচে ফিরে আসার পর নতুনভাবে জীবন শুরু করার যুদ্ধ আরো বেশি কঠিন, আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং।

থানায় জিডি করার মাধ্যমে আমি আমার নতুন জীবন প্রতিষ্ঠার একটা ধাপ অতিক্রম করলাম মাত্র!