রমণীর মুখ

বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের ভুবনে কামরুল হাসান এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্বাতন্ত্র্য এবং লোক-ঐতিহ্যের আধুনিকীকরণের মধ্য দিয়ে তাঁর চিত্রভাষা স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন, আশা, হতাশা ও প্রতিবাদ তাঁর সৃষ্টিতে ভিন্ন মর্যাদায় আলাদা আসন করে নিয়েছে। বৈচিত্র্যে এবং সৃষ্টির অজস্রতায় তিনি এদেশে চিত্রকলায় এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন।

তাঁর সৃষ্টিবৈচিত্র্যের এক বিশাল অংশ জুড়ে আছে বাঙালি নারীর স্বপ্নমঞ্জরি। নারীকে শিল্পের বিষয় | করেছেন তিনি দেশজ আত্মাকে অনুভবের মর্মগত নৈকট্য থেকে। রোমান্টিক মুগ্ধ আবেশের সঙ্গে জীবন বিন্যাসের বহুস্তর বাস্তবতা আবিষ্কারের অন্বেষণ ছিল তাঁর নারীবিষয়ক চিত্রমালায়। কোমলহৃদয় বাঙালি রমণীর অনুপম ছন্দের মধ্যে তিনি আবিষ্কার করেছিলেন বাঙালির লোকায়তিক প্রতিমার নান্দনিক বৈভব। প্রচ্ছদের চিত্রে এই অনুভবেরই স্বাক্ষর। ছবিটি কামরুল অঙ্কন করেন ১৯৮২ সালে। জলরঙে আঁকা এই ছবিটির সংগ্রাহক আবুল খায়ের।