প্রকাশকের কথা

সম্পাদকমণ্ডলী স্থির করেছেন, কালি ও কলমে সম্পাদকীয় বলে কিছু মুদ্রিত হবে না, এমন কী, প্রথম সংখ্যায়ও নয়। পাঠকের উদ্দেশে তাই প্রকাশকের এই পত্র। তবে তা কেবল পত্রিকার সূচনায়। আগামী সংখ্যা থেকে, আমরা আশা করছি, এই জায়গা এবং আরো খানিকটা জুড়ে থাকবে পাঠকের পত্র। পত্রিকার বিষয়ে, পত্রিকায় লেখার বিষয়ে এবং প্রাসঙ্গিক যে-কোনো বিষয়ে পাঠকদের বক্তব্য আমরা সাগ্রহে প্রকাশ করব।

একটি ভালো সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশের বাসনা অনেকদিন আগেই মনে বাসা বেঁধেছিল। এ-ব্যাপারে খুবই উৎসাহী ছিলেন আমার পিতৃব্য অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। এককালে তিনি ছিলেন কালিকলম পত্রিকার অনুরাগী পাঠক। সেই নামেই একটি মাসিকপত্র প্রকাশের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। একটু পরিবর্তিত নামে কালি ও কলম যখন বের হতে যাচ্ছে, তখন তিনি আর নেই, এ-দুঃখ কেবল আমার একার নয়।

ভালো, মাসিক ও সাহিত্যবিষয়ক পত্রিকা প্রকাশের সম্ভাবনা সম্পর্কে, দেখা যাচ্ছে, অনেকেই সংশয়ী। মাসে মাসে ভালো লেখার এবং প্রচুর অর্থের জোগান দেওয়া সম্ভবপর হবে বলে তাঁরা মনে করেন না। অতএব, এখন যা আবির্ভূত হতে যাচ্ছে, তার অকালমৃত্যু যে অনিবার্য, এ-বিষয়ে তাঁরা একরকম নিশ্চিত। আমি জানি, কেবল মুখের কথায় তাঁদের প্রত্যয় জন্মাবে না, ফলেই বৃক্ষের পরিচয় পেতে চাইবেন তাঁরা। তবু বলব, এ অনিত্য সংসারে কালি ও কলম অন্তত যৌবনপ্রাপ্ত হবে। আমরা প্রতি মাসেই পত্রিকা প্রকাশ করব। লেখকদের সহযোগিতা পেলে পত্রিকা ভালো হবে। আমরা বাংলা সাহিত্যপত্র প্রকাশ করছি, তাই বাংলাভাষার সকল লেখককে এতে লেখার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের হাত বাড়ানো রয়েছে, লেখকেরা কি নিজেদের হাত প্রসারিত করবেন না?

পত্রিকার চরিত্র কী হবে, সে-সম্পর্কে আগাম কিছু বলে লাভ নেই। আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে চরিত্রটি ক্রমশ বিকশিত হবে। আমাদের আশা, কালি ও কলম এমন একটি পত্রিকা হয়ে দাঁড়াবে যা আগ্রহের সঙ্গে, আনন্দের সঙ্গে, প্রত্যাশার সঙ্গে পাঠকেরা হাতে তুলে নেবেন।

পত্রিকার লেখক, পাঠক, কর্মী ও সম্পাদকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।
আবুল খায়ের

Published :


Comments

Leave a Reply