অন্তর্লীন ক্রন্দনপ্রবাহ

বারবণিতাদের গল্প

সম্পাদনা : মনি হায়দার ষ পরিবার পাবলিকেশন্স

ষ ঢাকা, ২০১৭ ষ ৬০০ টাকা

‘পুরুষশাষিত’ বা ‘পুরুষনিয়ন্ত্রিত’ বা ‘পুরুষতান্ত্রিক’ সমাজ অত্যন্ত পুরনো শব্দ হলেও এর উপস্থিতি আর অভিঘাত তো মিথ্যা নয়। সৃষ্টির আদি থেকে নারীকে পুরুষের সমান মর্যাদা না দিয়ে তাদের অধীন করে রাখার জন্য ধর্মীয়, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান প্রণীত হয়েছে। রাষ্ট্রের অধিপতি এবং সমাজের মোড়লগণ নারীকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য নিজেদের মতো করে আইনও তৈরি করে নিয়েছেন। অর্থনৈতিক সমুদয় মন্ত্র ও যন্ত্র পুরুষদের কুক্ষিগত থাকায় তারা নারীদের অবাধে অধীনস্থ করে নিজেদের স্বার্থে নারীকে দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করে রেখেছে। প্রাচীনকাল থেকেই দেখা যায়, নারী যেন পুরুষের ক্রীড়নক, খেলার পুতুল, বিলাসিতার অমিত উপাচার এবং ভোগের সামগ্রী। এককালে নারীদের রক্ষিতা, দাসী, সেবাদাসী ও গুরুদাসী করে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হতো ক্ষমতাবান পুরুষদের ভোগের পণ্য ও সন্তান উৎপাদনের জন্য। আধুনিক বিশ্বেও এর ব্যতিক্রম নয়। হয়তো সামাজিক কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এই পরিবর্তন মানুষের মানসকাঠামোতে কতটুকু ঘটেছে, তা প্রশ্নের বিষয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে রাষ্ট্রীয় বিধিবদ্ধ আইনের আওতায় নারীর দেহব্যবসার নিমিত্তে পতিতাপল্লি বা যৌনপল্লি। এসব পল্লিতে অবস্থানকারী নারীদের খুব কমই আছে যারা স্বেচ্ছায় এই পেশায় জড়িত হয়েছে। নানা কৌশলে এই নারীদের বাধ্য করে বা করছে যৌনপল্লির অন্ধকার খুপড়ির বাসিন্দা হয়ে জীবনকে নিঃশেষ করতে।

নিষিদ্ধপল্লি কিংবা অন্ধকারপল্লি যা-ই বলি না কেন, সেখান থেকে বর্তমান সময়ের আধুনিক জীবনের করপোরেট জগতের উচ্চবিত্তের আধুনিক বারাঙ্গনাদের নিয়ে লেখকদের কৌতূহলেরও অভাব নেই। লেখকরা মানবিক অন্তর্চক্ষু দিয়ে দেখেন অন্ধকারপল্লির বাসিন্দাদের জীবনের এপিঠ-ওপিঠ। তাদের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা, কল্পনা ও ভাষার মিশ্রণে তাদের জীবনের ছবি চিত্রিত করেন। এ-কারণেই সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বারবনিতাদের যাপিত জীবনের আলেখ্য লক্ষণীয়ভাবে ফুটে উঠেছে। বারবনিতাদের গল্প মনি হায়দারের সম্পাদনায় এমনই একটি গল্পসংকলন যেখানে পঞ্চাশজন গল্পকারের পঞ্চাশটি গল্পের ক্যানভাসে চিত্রিত হয়েছে অগণিত বারবনিতার অন্ধকার জগতের নানামাত্রিক জীবনালেখ্যের মূর্ত-বিমূর্ত প্রতিচ্ছবি। পঞ্চাশজন গল্পকারের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় খ্যাতিমান লেখক থেকে শুরু করে হালের প্রবীণ ও নবীন লেখকের গল্পও এই গ্রন্থে মলাটবন্দি করেছেন সম্পাদক মনি হায়দার।

এদের মধ্যে পতিতাপল্লির, আবাসিক এবং ভাসমান বারবনিতাদের নিয়ে লেখা এই গল্পসংকলনের ২৩টি গল্প পতিতাপল্লিভিত্তিক, পনেরোটি আবাসিক ও কলগার্লের এবং বারোটি গল্প ভাসমান যৌনকর্মীকে নিয়ে রচিত। এসব গল্প শুধু গল্পই নয়, গল্পের গভীরে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে তাদের জীবনের নির্মম দারিদ্র্য, অবহেলা, বঞ্চনা, নিপীড়ন ও সংঘাত। বারবনিতারা সমাজের কলুষিত মানুষ নয়, কলুষিত বরং তারাই যারা তাদের জন্য অন্ধকার ও বেদনাময় জগৎ নির্মাণ করেছে। এইসব কামুক, স্বার্থপর, ক্ষমতাধর, প্রতারক ও ভণ্ড পুরুষেরা সমাজের ভয়ংকর কীট, নষ্ট মানুষ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আঁধারের আলো’, চিত্তরঞ্জন দাশের ‘ডালিম’ এবং বদ্ধুদেহ গুহর ‘পহেলি পেয়ার’ তিনটি গল্প নির্মিত হয়েছে বাইজি না নতর্কীদের জীবনালেখ্যের আলোকে এবং তিনটি গল্পেই প্রেমের প্রোজ্জ্বল শিখা ছড়িয়েছে। এর মধ্যে ‘আঁধারের আলো’ গল্পের প্রধান চরিত্র পরমা সুন্দরী ‘বিজলী’ সত্যেন্দ্রকে নিয়ে প্রথমে প্রেমের উনুনের উত্তাপে নাচিয়ে পরে নিজেই সেই উনুনের গনগনে অগ্নিতে পুড়ে ভস্ম হয়েছে। সত্যেন্দ্রকে নিয়ে তামাশা করার ছলে নিজেই বুঝতে পারে তাকে সে ভালোবেসে ফেলেছে এবং যখন সত্যেন্দ্র বিজলীর নর্তকী পরিচয় পাওয়ার পর ছি ছি করে দূরে ঠেলে দিয়েছে তখন সে বাইজিগিরি ছেড়ে বিরহের আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে শুদ্ধ করার ব্রত নিয়েছে। ‘ডালিম’ গল্পের প্রধান চরিত্র ডালিম নামের এক বাইজি। উত্তম পুরুষের ন্যারেশনে অভিজাত ও সমাজের উচ্চবিত্ত মানুষের ভোগবিলাসী কতিপয় মানুষের জলসার আসরে গল্পের নায়কের সঙ্গে এক রাতে দেখা হয় ডালিমের। মেয়েটি অন্য বাইজিদের মতো প্রাণোচ্ছল নয়, সে নির্বিকার – যেন বাসি গোলাপ। ডালিমের দিকে একবার তাকিয়েই নায়কের ভালো লেগে যায় এবং একসময় তারা জলসাঘর থেকে আলাদা হয়ে যায়, পিতৃমাতৃহীন মাতুলগৃহে লালিত-পালিত ও নির্যাতিত ডালিম বর্ণনা করে তার অতীত জীবনের কষ্টগাথা। ষোলো বছরের তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হয় পঞ্চাষোর্ধ্ব ব্যক্তির এবং তাদের চার বছরের দাম্পত্যজীবনে সাত-আটবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। ওই ব্যক্তির এটি ছিল তৃতীয় বিয়ে, ঘরে ছিল সৎমা এবং আধা ডজনের মতো ছেলেপুলে, যাদের মানুষ করার দায়িত্ব ছিল তার ওপরই। তারপর ঘটনাচক্রে একদিন কলকাতায় এবং পরবর্তী সময়ে বাইজি। গল্পের ন্যারেশনে পাঠকের মধ্যে ব্যাকুলতা সৃষ্টি হয় এবং বিষাদের দাগও কাটে। ‘পহেলি পেয়ার’ অভিজাতপাড়ার বাইজির গল্প। এই গল্পও উত্তম পুুরুষে বর্ণিত হয়েছে। গল্পে এক জমিদারপুত্রের সঙ্গে এক ঝড়তোলা সুন্দরীর একটি মিষ্টি প্রেমের পুষ্প প্রস্ফুটিত হয় যেন উষর জমিনে। পরিণতি অমীমাংসিত।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কমপিটিশন’ গল্পটিও আধুনিক নাগরিক জীবনের। দুর্নীতি ও অবৈধ রোজগারের মধ্য দিয়ে নারীলোভী কামুক শহরের সিনেমার উচ্চমূল্যের অভিনেত্রীর সঙ্গে মেলামেশা করতে গিয়ে দেখে তার ছেলে সিগারেট টানতে টানতে অন্য একটি সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছে। পিতাপুত্র মুখোমুখি হয়নি; কিন্তু পিতা বুঝতে পারে, সে যে নারীর কাছে এসেছে সেই নারীর কাছ থেকে তার পুত্র বের হয়ে যাচ্ছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মেলা’ গল্পটি পাঠকের মনে দাগ কাটে। দীর্ঘ এই গল্পের খুঁটিনাটি আকর্ষণীয় এবং মনে হয় উপশহর বা শহরের আশপাশে কোথাও বিশাল আয়োজনের একটি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে নিষিদ্ধপল্লিও রয়েছে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ভাইবোন। বোনের বয়স ছয় বছর যাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে মেলা দেখতে যায় বড়ভাই। দুই ভাইবোন মেলা দেখতে দেখতে একসময় ভিড়ের চাপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মেয়েটি ভাইকে খুঁজতে খুঁজতে আশ্রয় নেয় এক যৌনকর্মীর ডেরায়। একজন পুরুষ তাকে ছিনিয়ে নিতে চাইলেও যৌনকর্মী মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। গল্পটি এখানে শেষ হয় এবং পাঠক অনুমান করতে পারে, এই শিশুকে নিষিদ্ধপল্লির নরকযন্ত্রণা থেকে বাঁচাতেই যৌনকর্মী পালিয়ে যায়। শিশুটিকে যৌনপল্লি থেকে কৌশলে বাঁচিয়ে দিয়ে মানবতার দিকে এগিয়েছেন লেখক, পাঠককেও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে নিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘মহানগর’ গল্পে ভাইবোনের অমোঘ নিবিড় ভালোবাসার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বোনের বিয়ের পর ছোটভাইটি বিচ্ছেদকাতার হয়ে পড়ে। কিন্তু বিয়ের পর বোনের সংসার টেকে না এবং সে কলকাতার এক যৌনপল্লিতে আশ্রয় নেয়। হতদরিদ্র বাবার সঙ্গে মাছ বিক্রি করতে গিয়ে ভাইটি অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বোনের সন্ধান পায়; কিন্তু সে জানে না তার বোন এখানে কী করে। বোনটিও আদর-সোহাগ করে ভাইকে বিদায় করে। নিখুঁত ও নিপুণ বর্ণনায় গল্পটি অনন্য হয়ে উঠলেও ভাই ও বোনের ভালোবাসার কষ্টের একটি নীলাভ স্রোত পাঠকের মনে থেকে যায়।

সাম্যবাদী চেতনার লেখক মানিক বন্দ্যোপাধায়ের ‘তারপর?’ শিরোনামের গল্পটিও পাঠককে ভাবিয়ে তোলে। তিনি নিখুঁত বর্ণনায় একটি হতদরিদ্র অঞ্চলের যে-ছবি চিত্রিত করেছেন তা এক কথায় অনবদ্য। পাঠকের অবচেতন মনে জাগিয়ে দিয়েছেন একশ্রেণির দালালের ভয়ংকর রূপ। ছেলেধরার মতো মেয়েধরার দালালও যে সমাজে রয়েছে এবং এই কাজে শিকারি নারী গ্রামে গ্রামে যে ঘুরে বেড়ায়, তার আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র একটি কিশোর। দুর্ঘটনাচক্রে শারীরিকভাবে সে কিছুটা প্রতিবন্ধী। কিন্তু এই ছেলেটিই যৌনপল্লিতে মেয়ে বিক্রি করে। হতদরিদ্র ওই পল্লিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কেরোসিন তেলের সংকটও প্রকট। ওই কিশোর একটি মেয়েকে পতিতাপল্লিতে বিক্রি করে এসে তার বাবাকে এক টিন কেরোসিন দেয়। কিন্তু মেয়েটি বাড়ি ফিরে এসে ওই টিনের সমস্ত কেরোসিন গায়ে ঢেলে আগুনে আত্মাহুতি দেয়। আশ্চর্যজনকভাবে লেখক দারিদ্র্যের নিষ্ঠুরতা বোঝাতে এবং পুঁজিবাদী প্রভুদের গালে কঠোর চপেটাঘাত করতে বর্ণনা করেন :

পুরো এক টিন কেরোসিন গায়ে-বিছানায় ঢেলে হাবো আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ঘরে পর্যন্ত আগুন ধরে গেছে দয়ালের।

খবর শুনে বৈরাগী দাসের বৌ চোখ বড় বড় করে বলে, ‘এক টিন তেল! কুপি জ্বালার তেল মেলে না এক ফোঁটা, ছুঁড়ি এক টিন তেল ঢেলেছে।’

অনেকেই আফসোস করে। 

অণুগল্প লেখায় বনফুলের সমকক্ষ কমই আছেন। তাঁর রসবোধ গল্পে এমনভাবে সিঞ্চিত হয় যা পাঠককে চুম্বকের মতো টানে। বারবনিতাদের গল্প গ্রন্থেও বনফুলের গল্প ভিন্ন আঙ্গিকে রচিত হওয়ায় কিছুটা রসবোধ জাগায়। এই রসবোধ কেবল গল্পনির্মাণের কৌশলের জন্যই। দুই পৃষ্ঠার গল্পটিতে কথক একজন চিকিৎসক। তিনি একজন যৌনকর্মীকে চিকিৎসা দেন। প্রথম দফায় যৌনকর্মী ডাক্তারের ফি দিতে পারলেও পরের দফায় ফি দিতে পারেনি। বকেয়া থাকে। ঘটনাচক্রে সেই যৌনকর্মী কলকাতায় চলে যায়। তার দাঁতগুলো ছিল কালো। একজনের পরামর্শে তার দাঁত সোনা দিয়ে বাঁধানো হয়। একসময় যৌনকর্মী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং তার মৃত্যু অত্যাসন্ন ভেবে চিকিৎসকের সেই পাওনা শোধ করার জন্য দাঁতগুলো কৌটায় ভরে একটি চিঠিসহ পাঠিয়ে দেয়। এই গল্পে যৌনকর্মীর সততার পরিচয় পাওয়া যায় এবং সেইসঙ্গে আসন্ন মৃত্যুর দুঃসহ বেদনার মিশ্রণ একটি ভিন্নমাত্রা দেয়।

‘শেষ পারানি’ গল্পেও একটি নিষ্কাম প্রেমের ছবি চিত্রিত হয়েছে। লেখক প্রফুল্ল রায় নিপুণভাবে একজন বারবনিতার সঙ্গে একজন কীর্তনশিল্পীর প্রেমের গল্প রচনা করেছেন। কিন্তু এই প্রেম সার্থকতা পেয়েছে বিরহের আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং শেষে বারবনিতার মৃত্যুযাত্রায় কীর্তন গেয়ে দাহ করার মধ্য দিয়ে।

‘বাগাল’ মানে রাখাল। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের দীর্ঘ এই গল্পে চিত্রিত হয়ে গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। এটি কোনো সরলরৈখিক গল্প নয়। গ্রামের এক উচ্চবিত্ত পরিবারে বাগালকে রেখে তার মা চলে যায় শহরে নিষিদ্ধপল্লিতে। এদিকে বাগাল নির্বিকার ও আবেগহীন শিশু – ওই পরিবারের লোকজনের হুকুম পালন করে অনেকটা রোবটের মতো। গল্পপাঠে মনে হয়, অ্যাবসার্ডজিমের ওপর ভিত্তি করে গল্পটি রচিত হয়েছে। বাগাল একদিন গ্রামের একজনের সঙ্গে তার মাকে দেখতে যায়। মা আদর করে খাওয়ায়, জামা-কাপড় দেয়। এগুলো পেয়েও পরতে পারে না, লুকিয়ে রাখে অন্যের বাড়িতে। কিন্তু এই গল্পের পালাবদলটা শেষের দিকে। বাগাল মাকে দেখতে যাওয়ার জন্য মোড়লের গরুগুলো ধরে নিয়ে যায় খোঁয়াড়ে। সেজন্য তাকে শাস্তি পেতে হয়। এই গল্পে যৌনকর্মীর জীবনালেখ্য গাঢ় রেখাচিত্রে অঙ্কিত না হয়ে বরং বাগাল, মোড়ল ও মোড়লগিন্নিসহ ওই গ্রামের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট স্থাপিত হয়েছে।

‘শরবতির পাশ ফেরা’ সৈয়দ শামসুল হকের একটি আলোচিত গল্প। কিন্তু এই গল্প বারবনিতার গল্প কি না তাতে সন্দেহ রয়ে যায়। কারণ গল্পকার তাকে পাগলিনী বলে আখ্যায়িত করেছেন। শরবতি নামে এক নারী মসজিদের সিঁড়ির গোড়ায় বিবস্ত্র শুয়ে আছে আর মসজিদ থেকে বের হয়ে মুসুল্লিরা তাকে দেখছে। একসময় শরবতি পাশ ফিরে চিৎ হয়ে শোয়। গল্প বা ঘটনাটি এ পর্যন্তই। তবে লেখক মানুষের মনোভাব ও মনস্তাত্ত্বিক কিছু বিষয় এখানে উপস্থাপন করে রক্তমাংস দিয়েছেন, ফলে পাঠককে আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট উপাদান এই গল্পে রয়েছে।

‘কাচের পাখির গান’ শীর্ষক মুর্তজা বশীরের গল্পটির প্রেক্ষাপট মনে হচ্ছে স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানের কোনো এক শহরের। এটি একজন অভিজাত কলগার্লের এক রাত্রিযাপনের বর্ণনার গল্প। বলা চলে, এটি উচ্চবিত্ত মানুষের জীবনের চালচিত্র।

আল মামুদের ‘জলবেশ্যা’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যে একটি আলোচিত ও জনপ্রিয় গল্প। আল মাহমুদ কবি হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করলেও তাঁর কয়েকটি গল্প বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। ‘জলবেশ্যা’ কাহিনির বর্ণনা, ভাষার কারুকাজ এবং সর্বোপরি চরিত্র চিত্রণের জন্য পাঠকের মনে স্থায়িত্ব লাভ করেছে। এটি গ্রামীণ
হাট-বাজার ও জলাশয় পরিবেষ্টিত এক জনপদকে প্রেক্ষাপট করে রচিত। এক কামুক মহাজন এক রাতে নৌকায় এক বেশ্যাকে ভোগ করার জন্য ওঠায়। সেখানে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। কিন্তু জলবেশ্যার গোপন ইচ্ছে সম্পর্কে মহাজন জানতে পারেনি। সে গোপনে একটি বিষধর সাপ নিয়ে যায় এবং মহাজনের পাশে ছেড়ে দেয়। একসময় সাপটি মহাজনকে কামড় দিলে সে মারা যায় এবং জলবেশ্যা মহাজনের সমস্ত টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

সেলিনা হোসেনের ‘অনূঢ়া পূর্ণিমা’ গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্রটি বানিয়াশান্তার যৌনপল্লির একটি মেয়ের। এক যুবক ও মেয়েটি দুবলার চরে রাশমেলা দেখতে যায়। তাদের মধ্যে আলাপ-পরিচয় থেকে হৃদয়ে টান অনুভব করে উভয়ে। কিন্তু যুবক যখন জানতে পারে মেয়েটি বানিয়াশান্তার, তখন সে তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। এক রাতের বর্ণনায় ঝরঝরে ভাষার কারুকাজে এই গল্পও পাঠকের মনে দাগ কাটে।

হুমায়ূন আহমেদের ‘সংসার’ গল্পটি নিম্নবিত্ত ভাসমান যৌনকর্মীর একটি আলেখ্য। ছোট ছোট বাক্যে পথের পাশে পড়ে থাকা স্যুয়ারেজ পাইপের ভেতরে কুদ্দুস ও তার স্ত্রী মনোয়ারার সংসারের বর্ণনা। মজিদ নামে তাদের আছে একটি শিশুসন্তান। কুদ্দুস বাদাইম্যা, স্ত্রীর রোজগারে চলে এবং সে মনে মনে দীন ও আখেরাতের বিভিন্ন বর্ণনা করতে থাকে। এক দুপুরে কুদ্দুস যখন মজিদকে নিয়ে খেলায় মগ্ন ছিল তখন মনোয়ারা এসে বলল, কুদ্দুস যেন মজিদকে নিয়ে ঘুরে আসে। কুদ্দুস তখন মনোয়ারার পেছনে এক খদ্দেরকে দেখতে পেয়ে ছেলেকে নিয়ে চলে যায়। গল্পটি সরল হলেও এর রেশ পাঠকের মনে থেকে যায়।

পতিতাপল্লি বলতে সাধারণত ধরে নেওয়া হয় যৌনতা, ধূমপান ও মদ্যপান, অন্যান্য মাদকের ব্যবহার এবং মারামারি ও খুন-খারাবির ঘটনা। আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘পাখির পালক’ গল্পের জমিনে কান্দুপট্টির এরকম চিত্রই পরিস্ফুটিত। তবে এই গল্প শেষ হয় কান্দুপট্টি লুটসহ এক যৌনকর্মীর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন এবং তাকে খুন করার মধ্য দিয়ে। এই গল্পেও বিষাদের প্রবাহ রয়েছে, যার রেশ থাকে অনেকক্ষণ।

‘লালীদের কথা’ নামে ইমদাদুল হক মিলনের গল্পটি রচিত হয়েছে এক পল্লির যৌনকর্মীকে নিয়ে। তবে গল্পটি নির্মিত হয়েছে যৌনকর্মীর গ্রামের বাড়িতে মাকে দেখার জন্য বেড়াতে আসা ও যাওয়ার মধ্যে। বর্ণনাটি বিস্তার পেয়েছে যৌনকর্মীর ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। মা জানে মেয়ে স্বামীর বাড়ি যাচ্ছে এবং সেজন্য জামাইকে খাওয়ার জন্য মেয়ের হাতে খাবার দিয়ে দেয়। আর মেয়ে এগিয়ে যায় তার গন্তব্যে। গ্রামের মানুষের কটাক্ষ পড়ে তার দিকে। এভাবেই ক্ষুদ্র পরিসরের গল্পটি শেষ হয়।

মইনুল আহসান সাবেরের ‘দুই বোন’ এবং ইকবাল হাসানের ‘আশ্চর্য এক সন্ধ্যায়’ – এই দুটি গল্পই রচিত হয়েছে কলগার্লদের নিয়ে। এই দুই গল্পের নায়িকারা সুশিক্ষিত। প্রথম গল্পে সংসারের অভাব-অনটন ঘোচানোর জন্য দুই বোন কলগার্ল হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয় গল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিভাময়ী তরুণী কেন যৌনবৃত্তিতে গেল – তার প্রেক্ষাপট রচিত হয়নি। শখ, নাকি জীবনকে উপভোগ করার জন্য, তা অস্পষ্টই থেকে যায়।

এক লাঞ্ছিত নারী ও মৃত্যুর মতো কষ্টকর কাহিনি রচিত হয়েছে খায়রুল আলম সবুজের ‘ঢং’ গল্পে। রবিউল হুসাইনের ‘দরোজা’ যৌনপল্লিভিত্তিক গল্প এবং হরিশংকর জলদাশের ‘মোহনা’ গল্পটি মহাভারতের পুরাণাশ্রিত আলেখ্য। এই গল্পটি পুরাণাশ্রিত হওয়ায় একটি ব্যতিক্রম গল্প হিসেবে পাঠককে মুগ্ধ করবে। গল্পের ন্যারেশন ও মহাভারতের বিভিন্ন চরিত্রের বর্ণনাও চমৎকার। ফরিদুর রহমানের ‘গৃহবাস’ গল্পটি জলপাইগুড়িতে বেড়াতে গিয়ে এক যুবকের একটি পরিবারের সঙ্গে এক রাতের গৃহবাস। শীতের রাতে মেয়েটি তার শয্যাসঙ্গিনী হয়। মেয়েটি পেশাদার যৌনকর্মী কি না তার ইঙ্গিত এই গল্পে না থাকাতে এটি একটি আকস্মিক প্রেম ও যৌনতাড়না হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে।

আন্দালিব রাশদীর ‘তৃতীয় স্তন’ গল্পে একটি শুদ্ধ প্রেম, তৃতীয় শক্তির দানবীয় অনুপ্রবেশ এবং মানবীয় উপকার এবং মাদকাসক্ত মাজারের খাদেমের নিষ্ঠুর নির্যাতন উৎকীর্ণ হয়েছে। আনওয়ার আহমদের ‘মিজ জিনা বেগম’ গল্পটিও নির্মিত হয়েছে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যন্ত এক নারীর জীবন নিয়ে। এই নারী কলগার্ল হিসেবে কাজ করে। শাহাবুদ্দীন নাগরীর গল্পটি শীতকালীন একটি ভ্রমণের মধ্যে দৌলতদিয়া ঘাটের এক যৌনকর্মীর রাত্রিকালীন ঘটনায় শেষ হয়। তবে গল্পের শেষে তিনি ম্যাজিক রিয়ালিজমের অবতারণা করেছেন, যেখানে নারীর স্তনের কাঁচা দুধে ঘর ভেসে যায়, এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এই গল্পে যৌনকর্মীর বুকের দুধের প্লাবন আর মশিউল আলমের ‘দুধ’ গল্পের কুকুরের দুধের প্লাবনে সাযুজ্য পাওয়া যায়। পারভেজ হোসেনের ‘কারবার’ গল্পটির বিস্তার যৌনপল্লি থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত আবাসিক যৌনকর্মীর কর্মকাণ্ডের এখনকার সময়ের মধ্যে। প্রতিবন্ধী পুরুষের সঙ্গে যৌনকর্মীর প্রেম ও প্রতারণা এবং অন্য কিশোরীর সান্নিধ্য এই গল্পে বর্ণিত হয়েছে। শাহ্নাজ মুন্নীর ‘ধূলির শয্যা’ গল্পটি একজন ভাসমান যৌনকর্মীর এক রাতের অমানবিক ও প্রতারণার ঘটনাবলি দিয়ে নির্মিত হয়েছে। এই গল্পে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে ভাসমান যৌনকর্মীদের কীভাবে মানুষ প্রতারণা করে। মানুষের পাশবিক রূপই এই গল্পে উন্মোচিত হয়েছে। প্রশান্ত মৃধার ‘দহনের স্বস্তি স্বস্তির দহন’ গল্পে হিন্দু ও মুসলমানদের মিথস্ক্রিয়া ঘটেছে এবং নারী প্রতারণার শিকার হয়ে অবৈধ এক পুত্রসন্তান নিয়ে হোটেলে ও নিজ গৃহে পতিতাবৃত্তি করে। আবদুল মান্নান সরকারের ‘খরায় পোড়া মুখ’ গল্পটি যৌনপল্লি উচ্ছেদ করার পর নারীরা ভাসমান যৌনপেশায় লিপ্ত হয়ে যে ধরনের প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের শিকার হয় তারই ছবি পরিস্ফুটিত হয়েছে। আহমেদ মওলার ‘পতিতালয়ে একরাত’ গল্পে একজন নবীন খদ্দেরের যে-ধরনের সম্পর্ক ও মিথস্ক্রিয়া যৌনপল্লিতে ঘটে তার কল্পচিত্র মূর্ত হয়েছে। মশিউল আলমের গল্প ‘মডেল’-এ এক আবাসিক যৌনকর্মীর জীবনের ঘটনা বিধৃত হয়েছে। রাজীব নূরের ‘পিতৃত্ব’ গল্পটি ভিন্ন আমেজে রচিত হয়েছে। দীর্ঘ এই গল্পে মেয়েসন্তানের প্রতি সমাজের মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। কিন্তু এর বৈপরীত্যও দেখা যায় যৌনপল্লিতে যেখানে মেয়েশিশুর চাহিদা বেশি। সমীর আহমেদের গল্প ‘খোঁজ’-এ ঢাকা শহরের ভাসমান যৌনকর্মীদের করুণ কাহিনি চিত্রিত হয়েছে। হামিদ কায়সারের গল্পে ভাষার মায়াজালে বর্ণিত হয়েছে অভিজাত যৌনকর্মী ও মক্কেলের মধ্যে একটি প্রেমের সম্পর্ক। হামীম কামরুলের ‘বিপজ্জনক সময়’ গল্পের পর্দা উন্মোচিত হয়েছে আবসিক যৌনকর্মীর জীবনালেখ্য। রাশেদ রহমানের ‘নাতাখোলা’ গল্পটিতে যৌনপল্লির মেয়েদের কুমারীত্ব হরণ করার আচারানুষ্ঠানের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।

শ^াসরুদ্ধকর পরিবেশে গল্পের পর গল্প পড়ে পাঠক বেদনাকাতর হলে মণিকা চক্রবর্তীর গল্প ‘রাতে হেঁটে চলা পাথর’ যেন একটু নিষ্কৃতি দেয়। এই গল্পে মেয়েশিশুকে এক যৌনকর্মী উদ্ধার করে আপন গন্তব্যের দিকে ছোটে – মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। নূর কামরুন নাহারের ‘সমবৃত্ত’ গল্পে দুজন সর্বহারা মানুষের মানবিকতা উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাশিদা সুলতানার গল্পটি উচ্চবিত্ত অভিজাত মানুষের গল্প ‘পরালালনীল’। এটি দীর্ঘ গল্প এবং কয়েকজন ধনাঢ্য মানুষ কীভাবে গল্পের নায়িকার সান্নিধ্যে এসেছে – সেসব কাহিনি চিত্রিত হয়েছে। স্বকৃত নোমানের গল্প ‘নিশিরঙ্গিনী’ ভাসমান যৌনকর্মী এবং তাদের খদ্দেরদের ভাসমান ভালোবাসা এবং নিজের সন্তান ভাসমান জরায়ুতে রেখে ভাসমান হয়ে যাওয়ার কাহিনি। পঞ্চাশটি গল্পের মধ্যে রুবী শামসুননাহারের ‘একজন সাশা একজন রাফায়েল’ গল্পটি একটু ব্যতিক্রম – এটি ইউরোপের কোনো এক দেশের আখ্যান, যে-আখ্যানে এক নারী পুরুষকে ভাড়া করে বাসায় নিয়ে যায়, অর্থাৎ পুরুষ টাকার বিনিময়ে যৌনকর্ম করে। এই পুরুষ যৌনকর্মী। আধুনিক জীবনের গল্প এটি এবং বর্তমান সময়ের জীবনযাপনের বিষয়াদি লেখক নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেছেন। সাহানা খানম শিমুর ‘বিষপোকা’ গল্পটিতে রয়েছে নানা রকম বাঁক। এক প্রতারিত নারীর ঘাটে ঘাটে নির্যাতিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যখন আবাসিক এলাকার অভিজাত যৌনকর্মী হয়ে পুরুষদের মনোরঞ্জন করে, তখনই একদিন তার গ্রামের এক ন্যায়বান যুবক আসে তাকে অঙ্কশায়িনী করতে। ওই ন্যায়বান নেতাকে দেখে যৌনকর্মী যেমন বিস্ময়াহত হয়, ঠিক তেমনি নেতাও হতবাক হয়। মাথা হেঁট করে বের হয়ে যায় ন্যায়বান নেতা। বকুল আশরাফের ‘ঘণ্টি’ গল্পটিতে রয়েছে স্কুলের পাশে এক যৌনকর্মীর কথা, যে একজন মেয়েধরা হিসেবেও চিহ্নিত। শাহীন আখতারের ‘মেকআপ বাক্স’ গল্পটিতে কাহিনি ও নির্মাণের কারণে কিছুটা বৈচিত্র্য রয়েছে। এই গল্পে একজন যৌনকর্মীর মৃতদেহ সৎকারের জন্য একদিকে ছোট বোনের বোনের প্রতি মায়া-মমতা ও সহমর্মিতা বোধ এবং অন্যদিকে তার অবর্ণনীয় দুর্দশা ও কষ্টের চিত্র ফুটে ওঠে। এই দেশে কিছুকাল আগেও যৌনকর্মীদের কবর দেওয়া নিষেধ ছিল। তাদের মৃতদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। এই গল্পে ছোট বোনকে দেখা যায় লাশ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে, মানুষ তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত মৃতের মেকআপম্যানের সহযোগিতায় কোনো এক অজানা নদীর চরে তাকে সমাহিত করতে সক্ষম হয় ছোট বোন। জামাল রেজার ‘নিরন্তর ধুলা ওড়ে’ গল্পে এক বড়লোকের বাসায় মেয়ে পাঠায় একজন। সকালে তাকে বিদায় করার সময় সেও তাকে ভোগ করে গাড়ির গ্যারেজে। একদিন ওই ব্যক্তি যাকে সেই বড়লোকের শয্যাসঙ্গিনী করে পাঠিয়েছে, সকালে দেখে সেই নারী তারই স্ত্রী। ম্যারিনা নাসরীনের গল্প ‘ভাসমান পতিতা ও কর্পোরেট বারবনিতা’ গল্পে সমান্তরালভাবে এগিয়েছে দুটি চরিত্র। গল্পের কথক পতিতাদের নিয়ে উপন্যাস লেখার জন্য অনেকের সাক্ষাৎকার নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি অভিজাত হোটেলে গিয়ে দেখে, তারই আপন বোন করপোরেট সোসাইটির পতিতা। কামরুল আহসানের গল্প ‘জীবডারে কোন জীবনে থুই’ গল্পে পল্লির একদিনের রাত্রিযাপনের গল্প চিত্রিত হয়েছে।

সংকলনের সম্পাদক মনি হায়দার কথাসাহিত্যিক, মিডিয়া উপস্থাপক ও বাগ্মী। দীর্ঘদিনের অক্লান্ত শ্রম ও মেধা দিয়ে অত্যন্ত যত্নসহকারে তিনি গল্পগুলো নির্বাচন ও সম্পাদনা করেছেন। দীর্ঘ ভূমিকার অবতারণা করেছেন প্রচলিত নিয়মের বাইরে থেকে, যেটিকে একটি গল্প হিসেবেও ধরে নেওয়া যায়। ভূমিকায় সংযোজিত হয়েছে তিন শিক্ষিত বারবনিতার কথোপকথন। তাদের কথার বুননে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ কলেবরের এই সংকলিত গ্রন্থটি।

এই সংকলনের গল্পগুলো সমাজবাস্তবতার প্রেক্ষাপটে রচিত বলে এগুলো শুধু গল্পই নয়, বরং বলা যায় সমাজের চিরচেনা সভ্য পুরুষদের পর্দার আড়ালের কদর্যরূপের প্রতিফলন। নারীরা পুরুষদের কাছে কতভাবে নিগৃহীত হয়, কতভাবে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয় – তার একটি জীবন্ত দলিল।