নারী দিবসে নারীর শৈল্পিক অংশীদারিত্ব

নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনী, নারী শিল্পীর আঁকা ছবি নিয়ে এবং নারীকে নিয়ে আঁকা ছবি। বিষয়বস্তু ‘নারী’- তাতে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়, কিন্তু শিল্পীর কি কোনো নারী-পুরুষ আছে? নারী সকল শিল্পীরই চিরন্তন বিষয়। এ প্রদর্শনীটি এই দৃষ্টিতে একটি একপেশে ভাবনার প্রতিফলন। শিল্পক্ষেত্রে এ-ধরনের বিভাজন বা লিঙ্গভেদকে গুরুত্ব প্রদান করা শিল্পের পূর্ণবিকাশে সমীচীন কি-না তা তাত্ত্বিকগণ বিশ্লেষণ করবেন।

প্রদর্শনীতে পুরুষের আঁকা ছবি থাকলে দর্শকের পক্ষে দৃষ্টিভঙ্গি ও আঙ্গিকের তুলনা করা সম্ভব হতো। নারী যেভাবে নারীকে নিরীক্ষা করে পুরুষ নিশ্চয়ই সেভাবে করে না। তাদের নিরীক্ষণের পার্থক্যটি বুঝিয়ে দিতে এ প্রদর্শনীটি ভূমিকা রাখতে পারত। প্রদর্শনীতে কোনো কোনো শিল্পীর ছবিতে নারীর প্রতি সন্ত্রাস ও সহিংসতার চিত্র ফুটে উঠেছে। নারীর প্রতি সন্ত্রাস শুধু নারীবাদের বিষয় নয়। এটি মানবতার সংকট। এটিতে নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতিবাদই সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। যা-ই হোক নানা কারণে নারী শিল্পীদের এ-ধরনের সংগঠনের প্রয়োজনের কথাও অস্বীকার করা যায় না। এ-সমাজে একজন সাধারণ নারীকে যে-সংগ্রাম করতে হয় নারী শিল্পীকেও সেই একই সংগ্রাম করতে হয়। তার সাথে এ সমাজে শিল্পী হয়ে ওঠার যে-প্রতিবন্ধকতা সেগুলোকেও অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে পার হতে হয়। যে-কারণে নারী শিল্পীর সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন। শুধু বাংলাদেশেই নয় সারা পৃথিবীতে চট করে নাম উল্লেখ করার মতো নারী শিল্পী দু-চারজনের বেশি নেই বললে সত্যের অপলাপ হবে না।

নারী শিল্পীদের নিয়ে গঠিত সাঁকোর শিল্পী এবং যে-কজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁরা হলেন – শিল্পী ফরিদা জামান, নাসরীন বেগম, নাঈমা হক, তন্দ্রাদাস, কুহু, ফারেহা জেবা, কনকচাঁপা, সুলেখা, রেবেকা সুলতানা, ফারজানা ইসলাম, মুন্নি, রুবিনা এবং শিল্পী লাভলী। শিল্পীরা তাঁদের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন নারী। শিল্পীর দৃষ্টি যেহেতু সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা, তাই একই দৃশ্য যা সাধারণের চোখে খুব সাধারণ, কিন্তু তা শিল্পীর চোখে অসাধারণ কিংবা অস্বাভাবিকভাবেও ধরা দিতে পারে। শিল্পী একই সঙ্গে দুটো দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

১. অনুদ্ঘাটিত সুন্দরের উদ্ভাসন। ২. অনুদ্ঘাটিত অসুন্দরের উদ্ভাসন, যা জীবনের দায়িত্ববোধ থেকে উৎসারিত। সভ্যতার অগ্রগতি হলেও নারীদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি; বরং জীবন আরো জটিল হয়েছে। শিল্পীরা তাঁদের শিল্পসত্তার চাইতে নারীসত্তাটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যদিও নারীসর্বস্ব নারীবাদী ছবিগুলো যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হননি কোনো কোনো শিল্পী। প্রদর্শিত ছবিগুলোর শিল্পমান রক্ষা হয়নি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তবে পুরুষদের সঙ্গে তুলনা করলে খুব-একটা খাটো করে দেখা যায় না। আমাদের বিবেচনা করতে হয় নারীর আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কথাও। এছাড়া ব্যক্তি হিসেবে ও শিল্পী হিসেবে উঠে আসতে একজন নারীকে যে-সংগ্রাম করতে হয় তা তাঁর শিল্পকর্মের মানকে অনেক সময় প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা নিচে নামিয়ে দেয়।

নারী শিল্পীদের মধ্যে ফরিদা জামান শিল্পী হিসেবেই পরিচিত। তিনি রচনা করেছেন একটি বালিকার নিজস্ব জগৎ। ‘সুফিয়া উইথ হার লাভলী বার্ড’ নামের ছবিতে দেখা যায় বালিকার পরনে শুভ্র সাধারণ শাড়ি। কাছেই একটি বলাকা ও শুভ্রতা একে অপরের উপমা হিসেবে এসেছে। ফরিদা রং এবং কম্পোজিশনে একজন স্বতন্ত্র ও উত্তীর্ণমানের শিল্পী। তবে তাঁর সৃজনশীলতা তিনি পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবেন তখন, যখন বিষয়বস্তু নিয়ে তাঁর নিরীক্ষা আরো বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে একই বিষয় নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন ক্যানভাসে। যদিও তাঁর ছবি কখনোই দর্শকদের ক্লান্ত করে তোলে না, তবুও আশা করি আগামীতে তিনি নতুন কিছু উপহার দেবেন।

শিল্পী লায়লা শারমিন নারী শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি নিয়মিত শিল্পচর্চা করে থাকেন। শিল্পী তাঁর স্বভাবসিদ্ধ কাব্যময়তা এবং স্নিগ্ধতা নিয়ে আমাদের সামনে এসেছেন। তবে ছবিগুলোর একটি শিরোনাম প্রত্যাশিত ছিল। কুহুর ছবিতে রেখাঅঙ্কনে যে-প্রত্যয় আমরা লক্ষ করি তা অন্যদের ক্ষেত্রে প্রায় বিরল। তিনি এঁকেছেন ‘দি রাইট টু সে নো’ নামে অ্যাসিডদগ্ধ নারীর ছবি। কালো চশমা পরিহিতা, মুখের চারপাশে ব্যান্ডেজ বাঁধা নারীর সৌন্দর্যের বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। নারীর অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যই তাঁর কাছে সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। নাইমা হকের ‘জার্নি’ ছবিতে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে দেখানো হয়েছে। প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তার যাত্রা স্তব্ধ হয়নি। নাঈমা হকের ছবির স্বভাবগত পরিচ্ছন্নতা এই ছবিতেও পরিলক্ষিত হয়।

এই প্রদর্শনীর একটি বিশেষ অংশ হচ্ছে প্রতিবন্ধী নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণ। এই শিল্পীরা তাঁদের স্বাভাবিক সৃজনশীলতা এবং নন্দনচেতনা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। শিল্পবোধ মানুষের মৌলিক ব্যাপার। শারীরিক কিংবা মানসিক প্রতিবন্ধকতা তারচেয়ে শক্তিশালী নয়। একটি ছবি আমরা দেখতে পাই, যার শিল্পী মুন্নী। তিনি তাঁর ছবিতে মুখোমুখি করেছেন স্বাভাবিক শিল্পী ও প্রতিবন্ধী শিল্পীদের, যাদের অর্ধেকই হুইলচেয়ারে বসা। কম্পোজিশন ও রং সাজাবার কৌশল শিল্পী রপ্ত করেছেন। ছবিটি প্রশংসার দাবি রাখে। রুবিনা এঁকেছেন মাঠে কাজ করার দৃশ্য। যদিও তাঁর ছবির শিরোনাম হচ্ছে ‘কর্মক্ষেত্রে নারী’, কিন্তু তাঁর ছবিতে দুজন পুরুষও রয়েছেন। নারী ও পুরুষ সম্মিলিতভাবে গড়ছে তার আকাক্সক্ষার পৃথিবী। লাভলী এঁকেছেন তিনজন নারীর একান্ত জগৎ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর কল্পনার রং বিবর্ণ করেনি।

ঐতিহাসিকভাবেই নারী স্নিগ্ধতা, রূপময়তা, রহস্যময়তা ইত্যাদি ধারণার সাথে যুক্ত; কিন্তু এগুলো নারীর সম্পূর্ণ অস্তিত্ব নয়। নারীকে এসব অভিধা দিয়ে দুর্বল করে তোলা হয়। নারী শিল্পীরা এসকল প্রচলিত বিশ্বাসের বাইরে গিয়েও ছবি আঁকবেন। নারীর শক্তিমত্তার দিকটিও যেন তাদের ছবিতে আসে। নারী যেন কেবল রূপসী, রহস্যময়ী হয়ে না-এসে একজন দৃপ্ত নাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীল অবয়ব পায়। নারীর ক্লাসিক্যাল ইমেজের পূর্ণসৃজন করা নারী শিল্পীদের কাজ নয়।

নারী শিল্পীদের নিয়ে আঁকা প্রদর্শনীটি হয়েছে গ্যালারি চিত্রকে। এ-ধরনের প্রদর্শনী আরো হওয়া উচিত। চিত্রক গ্যালারি এ-ধরনের উদ্যোগকে বরাবরই সমর্থন দিয়ে এসেছে। এ-প্রসঙ্গে নির্বাহী পরিচালক শিল্পী মনিরুজ্জামান বলেন, ভবিষ্যতে নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও চিত্রক রাখতে পারে বিশেষ ভূমিকা। য়

সমাজে শিল্পী হয়ে ওঠার যে-প্রতিবন্ধকতা সেগুলোকেও অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে পার হতে হয়। যে-কারণে নারী শিল্পীর সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন। শুধু বাংলাদেশেই নয় সারা পৃথিবীতে চট করে নাম উল্লেখ করার মতো নারী শিল্পী দু-চারজনের বেশি নেই বললে সত্যের অপলাপ হবে না।

নারী শিল্পীদের নিয়ে গঠিত সাঁকোর শিল্পী এবং যে-কজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁরা হলেন – শিল্পী ফরিদা জামান, নাসরীন বেগম, নাঈমা হক, তন্দ্রাদাস, কুহু, ফারেহা জেবা, কনকচাঁপা, সুলেখা, রেবেকা সুলতানা, ফারজানা ইসলাম, মুন্নি, রুবিনা এবং শিল্পী লাভলী। শিল্পীরা তাঁদের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন নারী। শিল্পীর দৃষ্টি যেহেতু সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা, তাই একই দৃশ্য যা সাধারণের চোখে খুব সাধারণ, কিন্তু তা শিল্পীর চোখে অসাধারণ কিংবা অস্বাভাবিকভাবেও ধরা দিতে পারে। শিল্পী একই সঙ্গে দুটো দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

১. অনুদ্ঘাটিত সুন্দরের উদ্ভাসন। ২. অনুদ্ঘাটিত অসুন্দরের উদ্ভাসন, যা জীবনের দায়িত্ববোধ থেকে উৎসারিত। সভ্যতার অগ্রগতি হলেও নারীদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি; বরং জীবন আরো জটিল হয়েছে। শিল্পীরা তাঁদের শিল্পসত্তার চাইতে নারীসত্তাটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যদিও নারীসর্বস্ব নারীবাদী ছবিগুলো যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হননি কোনো কোনো শিল্পী। প্রদর্শিত ছবিগুলোর শিল্পমান রক্ষা হয়নি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তবে পুরুষদের সঙ্গে তুলনা করলে খুব-একটা খাটো করে দেখা যায় না। আমাদের বিবেচনা করতে হয় নারীর আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কথাও। এছাড়া ব্যক্তি হিসেবে ও শিল্পী হিসেবে উঠে আসতে একজন নারীকে যে-সংগ্রাম করতে হয় তা তাঁর শিল্পকর্মের মানকে অনেক সময় প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা নিচে নামিয়ে দেয়।

নারী শিল্পীদের মধ্যে ফরিদা জামান শিল্পী হিসেবেই পরিচিত। তিনি রচনা করেছেন একটি বালিকার নিজস্ব জগৎ। ‘সুফিয়া উইথ হার লাভলী বার্ড’ নামের ছবিতে দেখা যায় বালিকার পরনে শুভ্র সাধারণ শাড়ি। কাছেই একটি বলাকা ও শুভ্রতা একে অপরের উপমা হিসেবে এসেছে। ফরিদা রং এবং কম্পোজিশনে একজন স্বতন্ত্র ও উত্তীর্ণমানের শিল্পী। তবে তাঁর সৃজনশীলতা তিনি পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবেন তখন, যখন বিষয়বস্তু নিয়ে তাঁর নিরীক্ষা আরো বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে একই বিষয় নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন ক্যানভাসে। যদিও তাঁর ছবি কখনোই দর্শকদের ক্লান্ত করে তোলে না, তবুও আশা করি আগামীতে তিনি নতুন কিছু উপহার দেবেন।

শিল্পী লায়লা শারমিন নারী শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি নিয়মিত শিল্পচর্চা করে থাকেন। শিল্পী তাঁর স্বভাবসিদ্ধ কাব্যময়তা এবং স্নিগ্ধতা নিয়ে আমাদের সামনে এসেছেন। তবে ছবিগুলোর একটি শিরোনাম প্রত্যাশিত ছিল। কুহুর ছবিতে রেখাঅঙ্কনে যে-প্রত্যয় আমরা লক্ষ করি তা অন্যদের ক্ষেত্রে প্রায় বিরল। তিনি এঁকেছেন ‘দি রাইট টু সে নো’ নামে অ্যাসিডদগ্ধ নারীর ছবি। কালো চশমা পরিহিতা, মুখের চারপাশে ব্যান্ডেজ বাঁধা নারীর সৌন্দর্যের বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। নারীর অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যই তাঁর কাছে সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। নাইমা হকের ‘জার্নি’ ছবিতে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে দেখানো হয়েছে। প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তার যাত্রা স্তব্ধ হয়নি। নাঈমা হকের ছবির স্বভাবগত পরিচ্ছন্নতা এই ছবিতেও পরিলক্ষিত হয়।

এই প্রদর্শনীর একটি বিশেষ অংশ হচ্ছে প্রতিবন্ধী নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণ। এই শিল্পীরা তাঁদের স্বাভাবিক সৃজনশীলতা এবং নন্দনচেতনা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। শিল্পবোধ মানুষের মৌলিক ব্যাপার। শারীরিক কিংবা মানসিক প্রতিবন্ধকতা তারচেয়ে শক্তিশালী নয়। একটি ছবি আমরা দেখতে পাই, যার শিল্পী মুন্নী। তিনি তাঁর ছবিতে মুখোমুখি করেছেন স্বাভাবিক শিল্পী ও প্রতিবন্ধী শিল্পীদের, যাদের অর্ধেকই হুইলচেয়ারে বসা। কম্পোজিশন ও রং সাজাবার কৌশল শিল্পী রপ্ত করেছেন। ছবিটি প্রশংসার দাবি রাখে। রুবিনা এঁকেছেন মাঠে কাজ করার দৃশ্য। যদিও তাঁর ছবির শিরোনাম হচ্ছে ‘কর্মক্ষেত্রে নারী’, কিন্তু তাঁর ছবিতে দুজন পুরুষও রয়েছেন। নারী ও পুরুষ সম্মিলিতভাবে গড়ছে তার আকাক্সক্ষার পৃথিবী। লাভলী এঁকেছেন তিনজন নারীর একান্ত জগৎ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর কল্পনার রং বিবর্ণ করেনি।

ঐতিহাসিকভাবেই নারী স্নিগ্ধতা, রূপময়তা, রহস্যময়তা ইত্যাদি ধারণার সঙ্গে যুক্ত; কিন্তু এগুলো নারীর সম্পূর্ণ অস্তিত্ব নয়। নারীকে এসব অভিধা দিয়ে দুর্বল করে তোলা হয়। নারী শিল্পীরা এসকল প্রচলিত বিশ্বাসের বাইরে গিয়েও ছবি আঁকবেন। নারীর শক্তিমত্তার দিকটিও যেন তাঁদের ছবিতে আসে। নারী যেন কেবল রূপসী, রহস্যময়ী হয়ে না-এসে একজন দৃপ্ত নাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীল অবয়ব পায়। নারীর ক্লাসিক্যাল ইমেজের পূর্ণসৃজন করা নারী শিল্পীদের কাজ নয়।

নারী শিল্পীদের নিয়ে আঁকা প্রদর্শনীটি হয়েছে গ্যালারি চিত্রকে। এ-ধরনের প্রদর্শনী আরো হওয়া উচিত। চিত্রক গ্যালারি এ-ধরনের উদ্যোগকে বরাবরই সমর্থন দিয়ে এসেছে। এ-প্রসঙ্গে নির্বাহী পরিচালক শিল্পী মনিরুজ্জামান বলেন, ভবিষ্যতে নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও চিত্রক রাখতে পারে বিশেষ ভূমিকা।