মাজাম ওস্তাগারের পোলা

মাহবুব রেজা

আমি মোজাম ওস্তাগারের পোলা। আমার দাদায় আছিল ঢাকা শহরের সেরা ওস্তাগার গো মইদ্যে এক লম্বর। হের নাম হুরমত। হুরমত ওস্তাগার। হের নাম হুনে নাই পুরান ঢাকায় এমন আদম খুঁইজা পাওন যাইব না। বেকতে অই হেরে চিনে-জানে। খুব নাম-ডাক আছিল হের। আমার দাদারা চাইর-পাঁচ পুরুষ ধইরা ওস্তাগারির কাম করে। আদি ঢাকার বহুত দালাল-বাড়ি হেগো হাত দিয়া হইছে। ঢাকার বাইরেও বহুত নকশাদার জমিদারবাড়ি হেরা বানাইছে। আমার বড় দাদার কাম-কাইজে খুশি হইয়া ইংরাজ সাহেবরা ভি হেগো বাড়িঘর, মোকাম বানানের লাইগা হুরমত ওস্তাগারের পিছনে লাইন লাগাইত। বাত্তি দিয়াও ভি খুঁজত।

একবার তো এক ইংরাজ সাহেব আমার দাদার নকশাদার কাম-কাইজ দেইহা এমুন খুশি হইল যে, দালান বানাইবার লাইগা বাড়তি খরচ-বরচ দিয়া হেরে দিল্লি পর্যন্ত লিয়া গেছিল। দাদার দিল্লির কাম-কাইজ এতই নকশাদার আছিল, হেই দেইহা পরের বছর হের ডাক পড়ল পাটনা। পাক্কা দুই বছর আমার দাদায় হের লাল্লু-পাল্লু লইয়া পাটনায় দালান-বাড়ির কাম করছে। পাটনার থিকা ফিরা আওনের পর বড় দাদা যহন বাড়ির উঠানে আয়া খাড়াইছে তহন আমার বড় দাদি পিয়ারি বেগম হেরে দেইহা বড় পোলা জুম্মনরে ধইরা ভূত দেহনের মতো তবদা খায়া গেছিল, হায়! হায়! জুম্মন দেখ, দেখ বাইত্তে আবার কোন দরবেশ-ফকির হান্দায়া গেল!

আরেকবার এক শিখ জমিদার আমার দাদারে লক্ষ্ণৌ লিয়া গেছিল। অহনও বলে হেই বাড়িঘর বহাল-তবিয়তে টিকা আছে। এককালে আমার দাদা, বড় দাদাগো চাইরো দিকে নাম-ডাক আছিল খুব। হুরমত ওস্তাগারের লাল্লু-পাল্লুও আছিল কয়েক ডর্জন। লাল্লু-পাল্লু হইল হেলপার। কাম করণের সময় হেগো লাগে। বাড়িঘরের কাম করাইতে হইলে হের পিছনে লাইন দিতে লাগে। এই লাইন আবার যেমুন-তেমুন লাইন না। এই ধরেন, আইজকা যদি কেউ হের কাছে আইল সিরিয়াল লওনের লাইগা, তাইলে হের সিরিয়াল পড়ত তিন মাস-চাইর মাস বাদে। কপালে খারাপি থাকলে সিরিয়াল পাইতে বছরো ঘুইরা যাইত।

দিন বদলাইছে। ছিন-ছিনারিও ভি পাল্টাইছে। দেখতে দেখতে কত বছর পার হয়া গেল গা! অহন আমার বড় দাদায়ও নাই। দাদায়ও নাই। বড় দাদা, দাদা গো লগে হেগো দিনও খাইছে কাউয়ায়।

কাউয়ায় খাইছে?

এইড্যা আবার কিমুন কথা!

হ, হ, বরাত খারাপ হইলে কাউয়াও ভি মাইনষেগো লগে ঠাট্টা-মশকারি করে।

আমার বাপে হালায় আছিল ভেন্দা কিছিমের। ভেন্দা হইল বেক্কল। কানের হুমকে (সামনে) যে-হালায় হুদা কামে মশার মতন সারাক্ষণ খালি ভ্যান ভ্যান করে। আমার দাদিও কয়, নানিও কয়, তর বাপে অইল ভ্যান্দাকান্ত। মাথার ভিত্তে বুদ্ধি-উদ্ধি কিচ্ছু নাইক্কা। খালি গোবর আর গোবর। মোজামেও বাপের কানাকড়িও পায় নাইক্কা।

আমার দাদায় যা কিছু করছিল হের পোলাপাইন ওইগুলারে তামাদি কইরা ফালাইছে। বরবাদ কইরা ফালাইছে। অহন থাকনের মইদ্যে আছে খালি মোজাম ওস্তাগার। আগে আমার বাপে কাম-কাইজ বালাই করত। নাম-ডাকও আছিল ম্যালা। মাগার কইত্থে হুট কইরা বাপের শ্বাসকষ্টের রোগ হইল, হেরপর থিকা বাপে আমার কাহিল হয়া গেল-গা। এই রোগ হওনের পর আমার দাদি-নানিরা বহুত অবাকই হইছে, আরে! বংশের কাউরো মইদ্যে তো এই বালের রোগ-বালাই আছিল না। এই রোগ মোজামের ভিত্তে হান্দাইলা ক্যামতে?

বাপের যহন হাঁপানির টান বাইড়া যাইত তহন বাপে আমার দম ফালাইবার পারত না। রানীক্ষেত বিমার হইলে মুরগি ক্যামতে ঝিমায় – হাঁপানির টান বাইড়া গেলে বাপেও হেই রকম ঝুমত। এই রকম চলতে চলতে বাপের কাম-কাইজ কইমা যাইবার লাগল। হের লাল্লু-পাল্লুরা তহন নিজেরাই ওস্তাদ হয়া গেল। অহনও মাঝেমইদ্যে বাপেরে দেখবার আহে লাল্লু-পাল্লুরা। বাইত আইলে হেরা আয়া সালাম করে। দোয়া-খায়ের চায়। বাপও হেগো লগে পরান খুইলা বাৎচিত করে। লাল্লু-পাল্লুগো কয়, তরা হইলি আমার গুরুমারা শিষ্য। তগো দেখলে আমার বুক ফুইলা মীর জুমলার কামান হয়া যায়।

বছরের নয় মাস জাজিমের ওপরে ভেটকি মাইড়া পইড়া থাকে মোজাম ওস্তাগার। হের লাইগা কেউ আর অহন মোজাম ওস্তাগাররে কাম-কাইজে ডাকে না।

আমগো ওস্তাগার বাড়িটা লালবাগ কেল্লুর থিকা একটু তাফাতে। পুষ্পরাজ সাহা লেনে। বাপ-দাদাগো আমলে আমগো এই বাড়িটা আছিল একবিঘা জমির মইদ্যে। পরে কোরবানির গরু য্যামতে ভাগ অহে হ্যামতে ভাগ হইতে হইতে ওস্তাগার-বাড়ির চৌহদ্দি কবুতরের বাক্সর লাহান হইয়া গেছে। ভাগাভাগির বাদে আমার বাপের ভাগে পড়ছিল সোয়া দুই কাঠা জমিন। অভাবে পইড়া বাপে এক কাঠা জমিন বেইচা সোয়া কাঠা জায়গার মইদ্যে জোড়াতালি দিয়া বগলা সিগ্রেটের বাক্সর মতন সিধা লম্বা একখান তিনতলা বাড়ি উঠাইছে। বাইরে থিকা আমাগো বাড়িটারে দেখলে যে কেউ বুইঝা লিবো যে, মোজাম ওস্তাগার বুঝি ইটা-মিটা আর লোহা একলগে মিক্সার কইরা, খাড়া কইরা একখান লম্বা সিঁড়িঘর বানায়া রাখছে। আমগো এই সিঁড়িঘরে দুইখান ছোট ছোট খুপরি আছে। লগে একখান বাথরুমও আছে। আমার বাপে যে এক সময় নামকরা ওস্তাগার আছিল হেইটার পরমাণ হ্যায় রাখছে বাড়ির দক্ষিণে কায়দামতন একখান ঝুল বারান্দা রাইখা। হেই বারান্দায় খাড়াইলে দূরে সিধা লালবাগের কিল্লা দেহন যায়। কিল্লার শইল ঘেইষা মরা বুড়িগঙ্গা। এক সময় এইখান দিয়া আসল বুড়িগঙ্গা যাইত। বুড়িগঙ্গার হেইপারে কেরানীগঞ্জ। নদী পার হইলে ইসলামবাগ, কুইশারবাগ, নাইকরোজবাগ, বরিশুর, অাঁটি, খোলামুড়া, জগন্নাথ সাহা রোড, আমলীগোলা, আতশখানা রোড, লালবাগ রোড, শায়েস্তা খান রোড, কাজী রিয়াজউদ্দিন রোড, হরনাথ ঘোষ রোড, পোস্তা, শেখসাহেব বাজার, বিষ্ণুচরণ দাশ, নীলাম্বর সাহা রোড থিকা শুরু কইরা পুষ্পরাজ সাহা লেনের ময়-মুরবিবরা আমগো বাড়ি লিয়া বহুত রঙ্গ-রসিকতা করে। হ্যারা আমগো এই বাড়িটার নাম দিছে কুতুব মিনার।

কয়দিন আগে লালবাগ কিল্লার মোচড়ে আমার চক্ষে পড়ল মহল্লার মুরবিব রহিম চাচারে। রহিম চাচা হুদা কামে আজিরা পক-পক করে। চাপাবাজি করে। উল্টা-সিধা কথা কয়। যের লাইগা হেরে দেখলে আমি তাফাতে ফুইটা যাই। আইজকাও রহিম চাচারে দেইখা আমি চাপলিছে ফুইটা যাওনের ধান্ধা করতাছিলাম, মাগার তার আগেই রহিম চাচা গলা উচায়া আমারে ডাক দিলো, আবে ওই কুতুবমিনার জুয়েল, তুই দেহি দিন দুই ফরে আমার লগে চোর-পলান্তিস খেলবার লাগছছ?

কুতুবমিনার জুয়েল!

হাউয়ার পো ডাউয়ায় কয় কী!

রহিম চাচার মুখে কুতুবমিনার জুয়েল নাম হুইনা আমার চান্দি-মান্দি গরম হয়া শিক কাবাব হওনের জোগাড়! আমার মিজাজ খিচড়ায়া গেল। অর মায়রে বাপ!

হালায় কয় কী!

হাউয়ার পো ডাউয়া কয় কী!

মনে মনে খিচ দিয়া রইলাম। মাগার কিছু কইলাম না। শত হইলেও বাপের বাচপান কি দোস্ত। চাচা বইলা কথা।

হাত দিয়া ইশারা দেওনে রহিম চাচার সামনে গিয়া তারখাম্বার মতন খাড়াইলাম। রহিম চাচায় জিগাইল, মোজামের খবর কী রে? অর কোনো খোঁজখবর নাইক্কা, কেইস কী?

বাপের শইলটা বালা না।

হাঁপানির টান বাড়ছেনি?

মনে হইতাছে।

মোজামরে রেস্ট লিবার কইছ – কথাটা কয়া রহিম চাচা একটু দম লিল। হেরপর কইল, মোজাম কি অহনও গাঞ্জা-মাঞ্জা খায়নি? অরে কত কইলাম, দোছ, এইগুলারে ছাড়ান দে। কে হুনে কার  কথা –

রহিম চাচার কথা হুইনা হের বন্ধু আছলাম মিয়া একখান হাসি দিয়া কইল, তুই যে মোজামরে অ্যাডভাইস দিতাছছ এইটা তো ঠিক কাম না।

আছলামের কথা হুইনা রহিম চাচা খ্যাঁক খ্যাঁক কইরা উঠল, আরে আমার কথা বাদ দে – আমি তো আর মোজাম না। অর তো হাঁপানির ব্যারাম আছে – বুঝছ না ক্যালা? কথাগুলা কয়া রহিম চাচা সিগ্রেটে একটা লম্বা টান মাইরা ধুঁয়ায় চাইরদিক আন্ধার বানায়া ফালাইল। রহিম চাচার লম্বা টানে সিগ্রেটের মুখটা আগুনে দগ দগ কইরা উঠল।

আইচ্ছা, রহিম চাচা কী সিগ্রেট খাইতাছিল, না গাঞ্জা? জুয়েলের মনে সন্দেহ প্যাঁচায়া প্যাঁচায়া উঠতাছে।

না, না, এইটা সিগ্রেটের গন্ধ না।

বাপে যে-জিনিস খায় এইটা হেই জিনিসের গন্ধ।

ঘরে গিয়া দেহি বাপে ময়লা তেল চিটচিটে বিছানায় মুলি বাঁশের মতন লম্বা হয়া চিৎ মাইরা হুইয়া গান গাইতাছে, ‘সব দিল হি টুট গায়া হ্যাম ক্যায়সে কিয়া কারেঙ্গে।’

: বাপজান তুমি কী একখান বাড়ি বানাইছ যে, বেবাকতে কয় কুতুবমিনার।

আমার কথা হুইনা বাপে গান থামায়া একখান হাসি দিলো। দিয়া কইল,

: কোন মগায় তরে এই কথা কইছে?

: রহিম চাচা।

: গাঞ্জুটি রহিম? অয় তো পিচ্চিকাল থিকাই কলকি খায়। অর কথা বাদ দে। রহিম হালায় বাপ-দাদার বাড়ি বিক্রি কইরা ফ্যালাট বাড়ি কিন্যা তাফালিং মারায়। ছাগলের মায়রে-বাপ – বাপে বিড়বিড় করতাছে।

: ফ্যালাট বাড়ি তো সুন্দর – রহিম চাচা জববর কামই করছে।

: আবে! তর কি মাথা-উথা বিগড়ায়া গেল গা! ফ্যালাট বাড়িরে তুই সুন্দর কইতাছ?

: হ, কই। একশবার কই।

: হোন, নিজের বাড়ি হইল আপনা বাড়ি।

: থাকো তুমি তোমার আপনা বাড়ি লিয়া।

: বাপ-দাদার বালা লাগে না। যা, আমি মইরা গেলে এই বাড়ি ভাইঙা তরা যা খুশি করিছ।

: আমি কী তুমারে মইরা যাওনের কথা কইছি?

আমার কথা হুইনা বাপে আমার দিকে চোখ বড় কইরা তাকাইল। হের বাদে কইল,

: বাবা জুয়েল ওস্তাগার, তুমার মিজাজ-উজাজ কি খারাপ অইছে?

দিলে রহম চাগাড় দিয়া উঠলে বাপে আমারে মাঝেমইদ্যে জুয়েল ওস্তাগার কয়া ডাকে। ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুলের মাস্টার ছাবরাও আমারে কয়, জুয়েল তুই নামের শেষ দিয়া কি             ওস্তাগার-মোস্তাগার টাইটেল লাগাইছছ? এইছব পুরানা টাইটেল ফালায়া নয়া টাইটেল ল।

ক্যালা আমি আমার বাপ-দাদার টাইটেল ফালায়া নয়া টাইটেল লিমু? আমি মোজাম ওস্তাগারের পোলা ওস্তাগারই থাকুম।

মাস্টার ছাবগো এই কথা আমি মুখ ফসকায়া আমার বাপেরে কইছিলাম। বাপে আমার কথা হুইনা বহুত বিলা খায়া গেছিল,

হালাগো মাথার তার-মার কি সব ছিঁড়া গেছে! ওস্তাগার হইল আমগো খানদান – আর অরা হেই খানদান ফালায়া নতুন টাইটেল লিবার কয়! হালাগো মুখে মার জুতা।

দুই

রাইত বহুত হইছে।

চাইরোদিকে ঝিম আন্ধার।

হেই আন্ধারে তামাম দুনিয়া ভাইসা যাইতাছে। এই আন্ধারে ছিনার ভিত্তে কিমুন জানি ভয় ভয়ও লাগে। কথা নাই, বার্তা নাই আকাশের এইদিক-ওইদিক দিয়া অাঁতকামাইরা বিজলি চমকাইয়া গেল। ওস্তাগার বাড়ির বেবাকতে তহন মরার মতো ঘুমাইতাছে। মাগার আমার ঘুম আহে না। মাঝেমইদ্যে আমার এইরহম হয়। রাইতে ঘুম আহে না। ঘুমে চক্ষু ভাইঙা আহে, মাগার ঘুম হাউয়ার পোলার কোনো নিশানা খুঁইজা পাওন যায় না। এই রহম হইলে আমি তহন ঘর থিকা বাইরায়া বারান্দায় যাই গা। গিয়া বাইরে তাকায়া থাকি। আমাগো বারান্দাটা বহুতি আজিব। একজন মানুষ কোনো রহম চাইপা-চুইপা খাড়াইবার পারে। রাইতে ঘুম না আইলে আমি বারান্দায় খাড়ায়া খাড়ায়া চান-তারা দেহি। পূর্ণিমার চান্দের আলোর মইদ্যে দূরের লালবাগ কিল্লা দেহি। লালবাগ কিল্লার লাল রঙের ওয়াল ছিনা টানটান কইরা খাড়ায়া থাকে। রাইতের আলো-আন্ধারে হেই ওয়াল জানি আরো সুন্দর হয়া যায় – মনে হয় লাল রঙের ঘোড়ার পাল কিল্লার ওয়ালের ওপরে লাইন দিয়া লৌড়ায়া যাইতেছে। কই যে যাইতাছে ক্যাঠায় জানে! আমার যে তহন কী বালা লাগে! নিজেরে তহন ঘোড়া ঘোড়া মনে অয়। লাল ঘোড়া। জুয়ান ঘোড়া। বারান্দায় খাড়ায়া এসব দেখতে দেখতে আমার ঘুম বখতিয়ার খিলজির ঘোড়ার লাহান উইড়া যায়।

ঘরের দরজা দিয়া বারান্দার দিকে পা বাড়াইতে গিয়া আমি ভূত দেহনের মতন চমকায়া গেলাম। দেহি কী, আমার বাপে সিদা তারখাম্বার মতো লালবাগ কিল্লার দিকে মুখ কইরা খাড়ায়া রইছে। বাপেরে এমতে দেইহা আমার জবান বন্ধ হয়া গেল। আমি চুপ মাইরা ঘরের দরজার চিপায় খাড়ায়া থাকি। আরে! আমি আরো চমকায়া যাই যহন হুনি, আমার বাপে একলা একলা কথা কইতাছে, এই লালবাগ কিল্লা আমার বড় দাদার। তার বড় দাদার। আমার বাপের। আমার বড় দাদারা ইংরাজগো লগে এই কিল্লার ভিত্তে যুদ্ধ করছে। রক্ত লুটায়া দিছে। শহীদ হইছে। আর আইজকা আমি হুরমত ওস্তাগারের পোলা মোজাম ওস্তাগারের বেইজ্জইত অবস্থা। অভাবের মইদ্যে পইড়া মইরা রইছি।

জবান-উবান বন হয়া গেছে। কোনো সাড়া-শব্দ নাইক্কা। আমি একটু তব্দা খায়া গেলাম। মাগার কান্দনের একটা সুর ওস্তাদ বিছমিল্লাহ্ খাঁর সানাইয়ের লাহান আমার কানে হান্দাইল। কান্দনটা বাসমতী চাইলের মতন মিহি।

কান্দে কোন হালায়?

চোখের সামনে আমার বাপ। আর আমার বাপের সামনে লালবাগের কিল্লা।

এই সময় জিগান নাই-কওন নাই আন্ধা-কুন্ধা তুফান শুরু হইল। তুফানের লগে দিয়া চাইরদিকে ঝুম বিষ্টি। মনে হইল, তামাম দুনিয়া বিষ্টিতে ডুইবা যাইব। বিষ্টির মইদ্যে, তুফানের মইদ্যে আমার বাপের কান্দনের আওয়াজ ডুইবা গেল।

আমি আমার বাপের পিছে খাড়ায়া খাড়ায়া বাপের কান্দন হুনতে থাকি।