রিভারভিউ রিসোর্টে পাবলিক রিলেশন্স অফিসার পদে যোগ দেওয়ার পর থেকে আনোয়ার আমাকে বেশ কয়েকবার সেখানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বলেছে, ঢাকার কাছে এমন নিরিবিলি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা খুব কমই আছে। তারপর বলেছে, অন্য কেউ হলে বলতাম এমন নিখুঁত রিসোর্ট আর কোথাও খুঁজে পাবেন না। আমাদের এখানে মনাস্টারির সলিচুড আছে, সেইসঙ্গে ফাইভ স্টার হোটেলের সুযোগ-সুবিধা। আমরা অবশ্য শেষের কোয়ালিটির ওপর খুব একটা জোর দিই না, কেননা ক্রিয়েচার কমফোর্টসের চেয়ে স্পিরিচুয়াল বিটিচুডের পরিবেশকেই আমাদের সিগনেচার ইমেজ করতে আমরা আগ্রহী।

শুনে আমি বলেছি, তোমরা কি জেন মেডিটেশন ‘জাজেন’-এর ব্যবস্থা রেখেছো? ইন্ডিভিজুয়াল, না গ্রুপে?

আনোয়ার উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে, কী করে জানলেন স্যার?

আমি বললাম, জাপানে অধ্যাপনা করার সময় জেনেছি। কিছুটা প্র্যাকটিসও করেছি। ঢাকায় কোথাও এর চর্চা হয় বলে শুনিনি। তা তোমাদের মাথায় এই আইডিয়া এলো কেমন করে? জাপানি কনসালট্যান্ট রেখেছো নাকি তোমরা?

আনোয়ার বললো, আমাদের ম্যাডাম কিছুদিন জাপানে ছিলেন। তিনি ফিরে এসে বাগানবাড়ি ভেঙে রিভারভিউ কমপ্লেক্স করেছেন। তাঁর হাজবেন্ডের এতে খুব একটা সমর্থন ছিল না। তিনি এখানে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি করতে চাচ্ছিলেন।

আমি বললাম, রিভারভিউ রিসোর্টের মালিক কে? ম্যাডাম, না তাঁর হাজবেন্ড?

– তাঁর হাজবেন্ড। তিনিই সিইও। ম্যাডাম চেয়ারম্যান। জেন মেডিটেশনের সেকশন ম্যাডামই পরিচালনা করেন। রুমগুলো তার ডিজাইন অনুযায়ী হয়েছে। জেন মেডিটেশনে যেসব গেস্ট আসেন তাদের রুমে তাতামি ফ্লোর, কাঠ আর কাগজের তৈরি শোজি দেয়াল, দরোজা। মাটিতে শোয়ার ব্যবস্থা। নিজের রুমের শোজি সরিয়ে যখন খুশি মেডিটেশন করতে পারেন আমাদের জেন গেস্টরা। প্রতিটি রুমের এক্সক্লুসিভ ভিউ। কমপ্লিট আইসোলেশন আর প্রাইভেসি বজায় রাখা হয় জেন সেকশনে।

আমি বললাম, এতদিন বলোনি কেন? আমি ভেবেছি আর পাঁচটা রিসোর্টের মতো তোমাদেরটাও। আসবো একদিন।

– কবে স্যার?

আমি অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি, ছয় মাস পর ফিরবো। এসে যোগাযোগ করবো তোমার সঙ্গে।

আনোয়ার বললো, যাওয়ার আগে একদিন আমাদের চাশিটসুতে আসুন স্যার।

– চাশিটসু?

– জাপানিজ টি হাউজ স্যার। জেন পদ্ধতির টি সেরেমনি।- অফ কোর্স। জেন মেডিটেশন টি সেরেমনি ছাড়া কমপ্লিট হবে কী করে? এই অভিজ্ঞতাও আমার জন্য স্থগিত থাক। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে আসার পর সব হবে। জেজেন, চাশিটসু, সাতোরি। সব কমপ্লিট করবো।

– সাতোরি? এই প্রথম শুনলাম। ম্যাডাম কোনোদিন বলেননি। মানে কী স্যার?

আমি বলি, সাডেন রিয়েলাইজেশন। এপিফ্যানি। দিব্যদৃষ্টি লাভ। এটা একান্তই ব্যক্তিগত। এর কোনো ট্রেনিং নেই, গাইডেন্স দিতে পারে না কেউ। আর দিব্যদৃষ্টি লাভ এমনিতেই হয়। মেডিটেশন করতে করতে সাতোরি এসে যায়। শুনেছি সবার আসে না। কেউ কেউ পায়।

– আপনি অনেক জানেন স্যার।

– অনেক না, কিছু জানি। বললাম না, জাপানে অধ্যাপনা করেছি।

দুই

ছয় মাস নয়, এক বছর পর ফিরে আনোয়ারকে ফোন করলাম। কয়েকবার করার পরও তাকে পেলাম না। ঠিকানাটা জানা ছিল, তাই এক ছুটির দিন গাড়ি চালিয়ে গেলাম রিভারভিউ রিসোর্টে। কাছাকাছি যেতেই অ্যারো মার্ক দেওয়া সাইনপোস্ট দেখে সহজেই পৌঁছে গেলাম রিসোর্টে। আনোয়ার যেমন বলেছিল, রিসোর্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। নদী বয়ে যাচ্ছে পাশে, এতো শান্ত যে মনেই হয় না নদী। গাছ-গাছালি ঘিরে রেখেছে রিসোর্টের চারিদিক। একটা মূল ভবন, তাকে ঘিরে অনেকগুলো একতলা কটেজ টাইপের ঘর। বোঝা যায় সেগুলিতেই গেস্টরা থাকে। প্রতিটি কটেজের সামনের দিক নদী বরাবর। কটেজগুলোর মধ্যে গাছের দেয়াল, একটা থেকে অন্যটা দেখা যায় না।

আমি মূল ভবনে গিয়ে রিসেপশনের মেয়েটির সঙ্গে কথা বলি। সে আমার কেডস দেখে বলে, আমাদের ড্রেস কোডে কেডস অ্যালাউড না।

আমি বলি, তাই? জানা ছিল না। আর কী কী অ্যালাউড না?

মেয়েটি পাশের দেয়ালে ঠেস দিয়ে রাখা নোটিশ বোর্ডটা দেখায়। তাকিয়ে পড়তে থাকি আমি। স্যান্ডেল নিষিদ্ধ। হাফ টি-শার্ট পরা যাবে না। প্যান্টের ওপর শার্ট পরা চলবে না। এমনি আরো নিষিদ্ধ পোশাক আর পাদুকার তালিকা।

পড়ার পর আমি বললাম, গেস্টরা আগে থাকতে কী করে জানবে?

মেয়েটি বলল, অনলাইনে গেলেই জানা যাবে। আমাদের ওয়েবসাইট আছে।

আমি বললাম, আনোয়ার নামে একজন পিআরও ছিল। সে কোথায় গেল?

মেয়েটি বললো, জাপানে এক বছরের ট্রেনিংয়ে গিয়েছেন। জাপান সরকার স্পন্সর করেছে।

আমি বললাম, তার কথা শুনে আমার এখানে আসা। এক বছর আগে, আমি বিদেশে যাওয়ার আগে। তাকে ফোনে না পেয়ে নিজেই চলে এলাম দেখতে। কিন্তু দেখছি জুতোর জন্য ফিরে যেতে হবে।

মেয়েটি হেসে বলল, তা কেন? আমাদের কাছে জুতো আছে। আপনি কেডস এখানে রেখে আমাদের জুতো পরে ভেতরে গিয়ে দেখুন। কফি শপ আছে। স্ন্যাকস বারে যেতে পারেন। ফাইন ডাইনিংয়ের রেস্তোরাঁ আছে। আপনি গিয়ে ঘুরেফিরে দেখুন। আমাদের নতুন পিআরও এখন নেই।

থাকলে তিনিই আপনাকে সঙ্গে নিয়ে সব দেখাতেন। ব্যাখ্যা করে বলতেন। তারপর বললো, আমি নিজেও যেতে পারতাম; কিন্তু রিসেপশন খালি রেখে যেতে পারছি না।

আমি বললাম, তার দরকার নেই। নিজেই ঘুরে দেখতে পারবো।

মেয়েটি নিচু হয়ে পেছন থেকে রিসোর্টের জুতো দিয়ে বলল, এটা পরে ভিতরে যেতে পারেন।

আমি দেখে বললাম, এটা জাপানি জুতো মনে হচ্ছে।

মেয়েটি বলল, আমাদের এখানে জাপানি স্টাইলই প্রাধান্য পায়।

আমি বললাম, শুনেছি আপনাদের ম্যাডাম জাপানি কালচার পছন্দ করেন। জেন মেডিটেশিন। চাশিটসু। সাতোরি। এসবের জন্য আলাদা সেকশন আছে।

মেয়েটি বলল, সাতোরির সেকশন নেই। ওটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। যার হয়, তার হয়। শেখানো যায় না।

আমি বললাম, হ্যাঁ তাই। আমি ভুলে গিয়েছিলাম। সাতোরি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। দিব্যদৃষ্টি। আপনি ঠিকই বলেছেন, যার হয়, তার হয়।

মেয়েটি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, এখন ম্যাডাম দেখাশোনার জন্য আসতে পারেন না। আসেনই না। গত ছয় মাসে একদিনও আসেননি।

– কেন আসেননি? স্বামীর সঙ্গে ডিফারেন্স অফ ওপিনিয়ন?

– না। তিনি খুব অসুস্থ। মেয়েটি জানায়।

তিন

আমি মেইন বিল্ডিংয়ের সব সেকশন ঘুরে দেখলাম। যেখানেই যাই খুব কাছে থেকে নদী দেখা যায়। সব জায়গাতেই একটা ন্যাচারাল অ্যাস্থেটিক্স কাজ করছে। খুব সযত্নে ইনটেরিওর ডেকর ঠিক করা হয়েছে। আন্ডারলাইং থিম হলো জেন ফিলোসফির মিনিমালিজম। ভেতরে ঢোকার পর বেশ একটা প্রশান্ত ভাব এসে যায় মনের মধ্যে।

অনেকক্ষণ ঘোরার পর আমি রেস্তোরাঁয় গিয়ে বসি। লাঞ্চের সময় পার হয়ে গিয়েছে। তিনটা বাজে। মাত্র একটা টেবিলে এক দম্পতিকে খেতে দেখা গেল।

আমি নদীর কাছ ঘেঁষা এক টেবিলে বসে খাবারের অর্ডার দিলাম। একটু পর দম্পতি খাওয়া শেষে বিলে সই করে চলে গেলেন। বুঝলাম তারা রিসোর্টে থাকছেন। তারা চলে যাওয়ার পর বিশাল রেস্তোরাঁয় শুধু আমি বসে থাকলাম। ঘরটা এত নিঃশব্দ যে, বাইরে নদীতীরের ঘাসে যখন বাতাস বয়ে যায়, সেটা দেখে আমি যেন শব্দ শুনতে পাই।

এরপর ঘরে যিনি এসে ঢুকলেন তার পোশাক দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। তিনি পরেছেন স্ট্রাইপ দেওয়া একটা স্লিপিং স্যুট। তার পায়ে স্যান্ডেল। ঠোঁটে সিগারেট। সেটা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।

কোথায় গেল ড্রেস কোড? নো স্মোকিংয়ের নোটিশ? এই ভদ্রলোক এই বেশে, মুখে সিগারেট নিয়ে ঢুকলেন কী করে? আর রেস্তোরাঁয় কি এই পোশাকে কেউ আসে? ভদ্রলোককে দেখে সিকিউরিটি কিছু বলেনি কেন?

আমি অবাক হয়ে ভাবলাম।

একজন ওয়েটারকে দেখলাম তার দিকে এগিয়ে যেতে। নিশ্চয় তাকে পোশাক বদলে আসতে বলবে। ধূমপান নিষেধ – একথা জানাবে।

আমি খুব আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকলাম কী হয় দেখার জন্য। দেখলাম, ওয়েটার গিয়ে খুব সম্ভ্রমের সঙ্গে ভদ্রলোকের কথা শুনছে। তারপর সে আরো দুজন ওয়েটার নিয়ে এসে নদীর দিকে মুখ করে তিনটা টেবিল জোড়া দিয়ে তার ওপর নীল টেবিল ক্লথ বিছিয়ে দিলো। ভদ্রলোক তাদের কিছু বলার পর তারা নীল কভার বদলে সাদা টেবিল ক্লথে মুড়ে দিলো

জোড়া-দেওয়া তিন টেবিল। ভদ্রলোক নদীর দিকে তাকিয়ে সিগারেট খেতে থাকলেন। এরপর যা ঘটল তার জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। দেখলাম সাদা পোশাক পরা চারজন নার্স একটা মেডিক্যাল বেড ঠেলে রেস্তোরাঁয় নিয়ে এলো। বিছানায় রিক্লাইন করে শুয়ে আছেন এক মহিলা। পেছনে এলেন সাদা অ্যাপ্রোন পরা, গলা থেকে স্টেথোস্কোপ ঝোলানো দুজন ডাক্তার। নার্স চারজন মেডিক্যাল বেড এমন করে রাখলো যেন মহিলা সামনে নদী আর আকাশ দেখতে পান।

এরপর কয়েকজন ফটোগ্রাফার এসে ছবি তুললো। ভিডিও মুভির ক্যামেরা নিয়ে এলো ক’জন। তারা নানা অ্যাঙ্গেল থেকে বেডে আধশোয়া মহিলার ছবি তুললো। দেখলাম, ভদ্রমহিলার শীর্ণ মুখে কোনো কিছুতে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তিনি একদৃষ্টিতে কাচের দেয়ালের বাইরে আকাশ আর নদী দেখছেন।

আমি বুঝলাম, কোনো টিভি সিরিজের শুটিং হচ্ছে। তাই তো বলি। না হলে সিøপিং পাজামা-শার্ট পরে, মুখে সিগারেট নিয়ে ভদ্রলোক এমন নিশ্চিন্তে রেস্তোরাঁয় ঢুকবেন কেন? মেডিক্যাল বেডে মহিলাকে শুইয়ে চারজন নার্স আর দুজন ডাক্তারই বা আসবেন কেন তারপর? ভদ্রলোক যে তিনটি টেবিল একত্র করে সাদা টেবিলক্লথে ঢেকে দিতে বললেন সেটাও নিশ্চয় স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী। তিনি মনে হয় টিভি সিরিয়ালের পরিচালক। নাটকের হসপিটাল সিনের শুটিং চলছে। এখন লাঞ্চ আওয়ার শেষ, রেস্তোরাঁয় কেউ নেই। শুটিংয়ের মোক্ষম সময়ে এরা এসেছে।

আমার খাবার এসে যায়। আমি খেতে খেতে অদূরে টিভি সিরিয়ালের শুটিং দেখি। একসময় দেখি জোড়া দেওয়া টেবিলে ভদ্রলোক দুই ডাক্তার আর তিনজন নার্সকে নিয়ে খেতে বসেছেন। একজন নার্স চামচে করে মহিলাকে খাওয়াচ্ছে। মহিলা খুব অল্প খাচ্ছেন, সর্বক্ষণ তাকিয়ে থাকছেন কাচের দেয়ালের বাইরে। সেখানে কালো নদী, সবুজ মাঠ আর ওপরে নীল আকাশ ছবির ক্যানভাস হয়ে আছে। ক্যামেরা ক্রু মহিলার ছবি তুলে চলেছে।

আমার খাওয়া আর ফিল্মের শুটিং একসঙ্গেই শেষ হলো। ভাবলাম, মহিলা এবার বেড থেকে নেমে অন্যদের সঙ্গে টেবিলে বসবেন। ভদ্রলোক কাছে গিয়ে তাকে কিছু বললেন। মহিলা তাকে সামনের দিক দেখিয়ে কিছু দেখালেন। ক্যামেরা ক্রু তাদের ছবি তুলতে থাকলো। বুঝলাম, একই ব্যাকগ্রাউন্ডে এটা নতুন দৃশ্য। কিন্তু সংলাপ নেই। নিয়ম অনুযায়ী পরে ডাবিং করবে।

আমি বিল দেওয়ার পর কিছুক্ষণ দেরি করলাম। ইচ্ছা, মহিলা বেড থেকে নামলে তাকে ভালো করে দেখবো। নিছক কৌতূহল। সামনে একটা সিনেমার শুটিং হচ্ছে, কারা করছে, কী হচ্ছে, এসব জানতে চাওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে এমন একটা রিসোর্টে এসে, যা নিঃসন্দেহে আউট অফ দ্য অর্ডিনারি।

আমার কাজ ছিল, তাই বেশিক্ষণ অপেক্ষা না করে উঠলাম। ক্যামেরা ক্রু তখনো শুয়ে থাকা মহিলার শুটিং করে চলেছে।

চার

আমি রিসেপশনে এসে রিসোর্টের জুতো ফেরত দিয়ে আমার জুতো পরছি। এই সময় দেখি শুটিংয়ের পুরো ক্রু চলে যাওয়ার জন্য এগিয়ে আসছে। এটাও মুভি ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে। সিøপিং পাজামা-শার্ট পরা ভদ্রলোক সিগারেট খাচ্ছেন। ধোঁয়া বের হচ্ছে তার মুখ থেকে। দেখলাম, একটা অ্যাম্বুলেন্স গাড়ি বারান্দায় এলো। ভাবলাম, এইবার মহিলা বিছানা থেকে নামবেন; কিন্তু তিনি নামলেন না। মেডিক্যাল বেডে শুয়ে থাকলেন। সেটা স্ট্রেচারে পরিণত করে চারজন তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের পিছনে শুইয়ে দিলো। এবার আর ছবি তোলা হলো না।

ভদ্রলোক আধ-খাওয়া সিগারেট ফেলে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের সামনে বসতে যাবেন, এইসময় এক সিকিউরিটি গার্ড দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, স্যার মন্ত্রণালয়ের লোক এসেছে। ক্যাটারপিলার দিয়ে নতুন গেট ভাঙা শুরু করবে। আমাদের কী আছে সরাতে বলছে।

ভদ্রলোক বললেন, আমার স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাওয়ার পর ভাঙতে বলো তাদের। আমরা এখুনি যাচ্ছি।

ভদ্রলোক গিয়ে ওঠার পর অ্যাম্বুলেন্স চলে গেল। আমি জুতো পরে রিসেপশনের মেয়েটিকে ধন্যবাদ দিলাম।

মেয়েটি বিষণ্ন স্বরে বলল, ম্যাডাম আজই প্রথম …।

আমি তাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে বললাম, থাক। কিছু বলতে হবে না। সবকিছু বলতে হয় না।