কবিতা

  • বিশ্বায়ন বিপণিবিতান

    হাফিজ রশিদ খান বাস্তবতা নামের আগ্রাসী জানোয়ারের কবলে দিনগুলো যাচ্ছে বোবা ও বধির বিশ্বায়ন বিপণিবিতানে সুচেতা দেশজ শুভাশিস কল্যাণে বিস্তৃত লোকপ্রেম দীপময় আলাপচারিতা বিশ্বাস ও নিশ্বাসের বহমান ঘ্রাণ কান্নারত লবণের ঘাম – এ-জন্তু কেবলি কুপিয়ে-কুপিয়ে খাচ্ছে অথচ এ-রক্ত মৃত্যুবিদারী মহান ফাল্পুনের দশদিকের আবর্তে পা রাখা কঠিন সত্যচারী সেনানীর সংবহনতন্ত্রে তাই জাগছে বিলাপ : আনো রুধির…

  • দেশভাগের মানুষ

    মাসুদুজ্জামান আকাশ একটা নীল তুলি হাতে নিয়ে এঁকে চলেছে মৃত্যু ও বিষাদ সেই থেকে বিষাদ একটা প্রগাঢ় আয়না যতই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিজেকে দেখো আমাদের মুখগুলি সেখানে কাচের মতো স্বচ্ছ ও ভঙ্গুর তোমার জ্বলন্ত গ্রীবা মেঘের মধ্যে ম্রিয়মাণ ছিল কিন্তু সে তুলে আনলো জল ভালোবাসার হিমশীতল বরফকুচির রক্তাভ সব টুকরো টুকরোগুলি জোড়া দিতে দিতে আমরা গড়ে তুললাম…

  • প্রহরগুলো প্রহরে নেই

    তারিক সুজাত ১. অপেক্ষায় ছিল সকাল না চাইতেই দুপুর এসে গেল বিকেলকে বলে রাখি ইশারায় তুমি দেরি করে এসো… বহুদিন পর দুপুরটাকে বেঁধেছি ভোরের স্নিগ্ধতায়! ২. রোদ, তুমি কতটা পুড়েছো বোঝেনি বিহ্বল সকাল! কাল নিরবধি – দুপুর গড়িয়ে গেল, সন্ধ্যা আসন্ন… অথচ সকাল শূন্যতার আঙুল ছুঁয়ে এখনো প্রতীক্ষায়; দুপুর দুপুর তুমি কি পথ হারিয়েছো?

  • মুগ্ধকর

    ফারুক মাহমুদ সঞ্চয়ে রাখি না কিছু। দুহাতে যেটুকু থাকে ব্যয় করে ফেলি উৎসাহে উপুড় করি মন… আগুনের স্পর্শ নেই, বজ্রপোড়া বৃক্ষটির মতো ভৌতিক দাঁড়িয়ে থাকা আর কতক্ষণ! ফণার সৌন্দর্য নেই, শুধু শুধু কেন তবে ছেঁড়াখোঁড়া সাপের খোলস! সবার অভ্যাস নয় ক্লান্তিকর খাদ্য খুঁজে মরা আগুনে ঝাপায় কেউ। বুকে রাখে পাথরের ধস যে আমার সবচেয়ে বেশি…

  • মাঘের নির্জনতা

    সুহিতা সুলতানা শীতের দুপুরে জাপটে ধরে হলুদ পাতা আর ঋতুর বৈভব। মাঘের নির্জনতা কী ভীষণ স্মৃতিময় করে তোলে দিনরাত্রি কাচের বারান্দায় বসে দেখি নৈমিত্তিক বৃক্ষের বিচিত্র বাকল, শিকারির কৌশল মানুষের বেদনার্ত হৃদয়। কিন্তু অদ্ভুত এক বিষয় মানুষ এখন মৃত্যুভয় থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে! অপেক্ষা ও সময়ের ভেতরে সে অবলোকন করতে চায় রৌদ্রময় দিন, কণ্ঠলগ্ন…

  • একাকী চরের ভিতর

    হারিসুল হক একাকী চরের ভিতর একজোড়া ক্ষুধিত সিগ্যাল ঘাই মারে ঠিক যেন মনের ভিতর। ঠিক যেন মনের ভিতর থেকে খুঁড়ে পাওয়া ধূসর স্মারক, ছিন্নপ্রায় ভূর্জপত্র – দুষ্পাঠ্য তবু বোঝা যায় বেশ বোঝা যায়। হঠাৎ চরের মাঝে জেগে ওঠা নির্জন নারকেল গাছ – ওটাই কি স্মৃতি-প্রতিমা? হয়তোবা হয়তোবা সাগরের কূল ছেপে দুর্দান্ত ছাতিম এক দাঁড়িয়ে একা…

  • প্রতিশ্রুতির কথা

    শাহজাদী আঞ্জুমান আরা আমরা কি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পরস্পরের নিকট কী নিয়ে? কোন কথায়? না, কিছুই জানা নেই। তুষারের নিচে পড়ে থাকা চাপা ঘাস আমি তুলছি, তুমি তুলছো এক এক করে কোথাও সবুজ নেই, সবটাই বিবর্ণ, মলিন তবুও তুলছি, তুমি সরাচ্ছো পাথর কিন্তু কেন, কিছুই তো জানা নেই। শব্দের অভাব এতো! হেঁটে যাই অনেকদূর শব্দের খোঁজে টুক…

  • দুটি কবিতা

    খালেদ হোসাইন স্বপ্নে খানিক ঠাঁই দিও আমাকে একটু ঠাঁই দাও না তোমার স্বপ্নে! চুপটি করে বসে থাকবো রাত্রিভর। স্বল্পে তুষ্ট মানুষ আমি, তেমনকিছু চাইবো না দেখবো তোমার লীলালাস্য কী বিচিত্র রং-বেরং! যা খুশি তা কোরো তুমি যেমন করো নিত্যদিন স্নানঘরে বা রান্নাঘরে আমার দুচোখ কী নির্মল পোশাক পাল্টে শাড়ি পরো কপালে টিপ এব্বড়ো ঠোঁটে একটু…

  • অনন্ত বিরহ

    ইকবাল হাসান তোমাকে মানায় খুব সুতির শাড়িতে অশ্লীলতার কথা ভেবে পরিহার করে চলি গোলাপি স্তনের বিভা, পেটিকোটের মায়াবী বাঁধন আর কালো ব্রেসিয়ার যখন বাড়িতে থাকো নিঃসঙ্গ অধিক ফ্যানের ব্লেডের নিচে উড়িয়ে আঁচল পরী ভেবে ভুল করে দূরের পথিক পথে ও বিপথে ঘুরে ফিরে আসে তোমার দুয়ারে সমুদ্র জেগে ওঠে ভাতঘুম থেকে দেখি, সঙ্গমে নয় –…

  • আমি পক্ষীগোত্র

    বায়তুল্লাহ্ কাদেরী আমি কি বলতে পারি না ঘোড়াটি কাহার লেজে নেচেছিল লেজের ওপর? ডিম্বাণুর ঘোড়া মেঘের ভেতরে মুখ ডোবায়-ভাসায় আবার ঘুরতে থাকে… উপত্যকা বেয়ে গিরিখন্দে কিংবা অদ্ভুত পাতালে জলডুবি কলসির ভিতরের গতিপথে ওই আসিতেছে পুণ্যবতী আসিতেছে আর্যতের মগধের মটকাতে পুরনো স্নানের কীর্তি আমি যার ভাগ্যের উদোম সৌন্দর্যের সঙ্গে কিছু আড়িয়াল, কিছু পৈকগাছা, কিছু গঙ্গাফুঁর কিছু…

  • একদিনের কথা

    শাহজাহান হাফিজ এক একদিনের কথা, আমার খুব মনে পড়ে! স্বপ্নময় সুনিবিড় ছায়াচ্ছন্ন, রাজা শশীকান্তর বাগানবাড়ির পথটি ধরে, আমি চলেছি; তখন দুপুর, পথটি নির্জন, পাখিদের কোনো সাড়াশব্দ নেই। আমি সাদা ফিতের মতো, সরলরেখার মতো সুন্দর পথটি ধরে এগিয়ে যেতেই, অল্প বাতাস, পাতা ঝরতে লাগলো, অজস্র পাতা! আমি ছিলাম একাকী, আমি ছিলাম নিঃসঙ্গ। আমার নিঃসঙ্গতার মধ্যে কেবলই…

  • আনিসুজ্জামান

    মারুফুল ইসলাম পার্থিব সন্ধ্যায় আমি তাঁর নেমন্তন্ন পাই অনুভবের ছায়ায় বসে থাকি পাশে আমাদের অপার্থিব গান শোনান অপত্যস্নেহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে-বাতাস কাউকেই মানে না সেও প্রিয় পাখি হয়ে মূর্ছনা ছড়ায় চিম্বুক-চুড়োয় কোথা থেকে আলো আসে? এতো আলো কে তবে উপুড় করে সুরভির শিশি মধ্যরাতে মাঝপথে রেলগাড়ি থামে খুব কাছে কে যেন আবৃত্তি করে পুরনো গদ্যের…