ছোট গল্প

  • রামবিলাসের একেকটি দিন

    রামবিলাসের একেকটি দিন

    সকাল দশটা বা সাড়ে দশটা হবে। ধু-ধু লাল মাটি। ডানদিকে ফসল উঠে যাওয়া মাঠ। বাঁদিকেও তাই। মাঝখানে টানটান রেললাইন। স্টেশন ছাড়িয়ে রেলপথ চলে গেছে চোখের শেষ সীমা পর্যন্ত। এ-পথের দুধারেই খানিক খানিক জুড়ে ছোটমাথা ঝাঁকড়া গাছ। মহুয়া, নিম, বনসৃজনের ইউক্যালিপ্টাস। রেলপথের সে-জায়গাগুলো ছায়া-ছায়া। রোদ আর ছায়ার মাখামাখি। এর বাইরে গাছ ছাড়িয়ে লাইন কোথাও একেবারেই ফাঁকা।…

  • অগস্ত্যযাত্রা

    অগস্ত্যযাত্রা

    যার যে স্থানে জন্ম, সেই জন্মস্থানের মাটিতে মিশে যাওয়ার অন্তিম বাসনা অনেকেরই হয়। হার্টে প্রথমবার মৃদু ধাক্কা খেয়ে, আবারো বড় অ্যাটাকের আশংকায় আমিও স্বজনদের কাছে শেষ ইচ্ছেটি জানিয়ে রেখেছি। মরে গেলে পৈতৃক ভিটাতেই আমাকে কবর দিও। কার মরণ কোথায়, কখন এবং কীভাবে ঘটবে, কেউ ঠিক জানে না। কিন্তু এটুকু জানি, মরার পর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে দীর্ঘ…

  • বাছেত মিয়ার দ্বিতীয় পর্বের জীবনযাপন

    বাছেত মিয়ার দ্বিতীয় পর্বের জীবনযাপন

    বিশেষত কুকুরটা সারাদিন একটা খেকিকুকুরের পেছনে প্রচুর সময় দেয়, সারাদিন ডেটিং করে

  • বারান্দা

    বারান্দা

    জানালাটা বন্ধই থাকত। গাড়ি-ঘোড়ার আওয়াজ, ধোঁয়া, ধুলো, হাড়বজ্জাত মাতালের মাতলামি কোনোটিকেই কারণ হিসেবে দায়ী করা যাবে না। তথাকথিত ফ্ল্যাট-বাড়ির জানালাও এটি নয় যে, অন্ধের কি-ই-বা দিন কি-ই-বা রাত! শুধু ছিটকিনি খোলার অপেক্ষা। হুড়মুড়িয়ে রোদ আর বাতাস। আহা কী দিনই না ছিল! শুধু কি জানালা! দরজা খুললেই চওড়া বারান্দা। শীতের সকালে আরামকেদারা আর খবরের কাগজ। পিতৃপুরুষের…

  • অদরকারি

    অদরকারি

    বাস্তব জগতে যখন কিছু ঘটে, তখন তা ঘটতে যা যা লাগে তার সবকিছু নিয়েই সে ঘটে – যেমন আসমান থেকে জমিনে বৃষ্টি পড়তে পানি লাগে, আসমান লাগে আর জমিন লাগে। তিনটে জিনিসের উপস্থিতিতেই কেবল ‘গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা’ হয়। মুশকিল হচ্ছে, যা লাগে না তা-ও থাকে, যেমন সুলতাদের ঘিনঘিনে কানাচে একটি আত্মজ্বালা মানকচু গাছ…

  • তমোহর

    তমোহর

    অফিসের পোশাক পরে মেয়ের হাত ধরে বেরিয়ে যাওয়ার আগে তমোহরের রুমে উঁকি দিলো সেঁজুতি। বিছানায় পা ছড়িয়ে বসে, নতুন কেনা গিবসনের গিটারটার টিউনিং করছিল সে। ওদের উপস্থিতিতেও সে-কর্মের কোনো ছেদ ঘটে না। সে আপনমনে টিউনিং করতে থাকে। সেঁজুতি জানত, ও এক পলকের জন্যও চোখ মেলে তাকাবে না। তাই বেশ উঁচু কণ্ঠে বলে, ‘আমরা যাচ্ছি।’ তমোহর…

  • বোবা রাজহাঁস

    বোবা রাজহাঁস

    ‘ইলিশ নিবেন গো মা – ইলিশ মাছ – পদ্মার ইলিশ – ’ মাছওয়ালা পাড়ায় হেঁকে বেড়াচ্ছে অনেকক্ষণ থেকে। বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁকে গেল কয়েকবার।  কার্তিকবাবু রাস্তার দিকের ঝুলবারান্দায়। বর্ষার ভিজে বাতাসে ইলিশের আমন্ত্রণ! তৃতীয়বার লোকটা আসতেই – চাকরির প্রবাস থেকে বউ গোলাপবালার কাছে ফেরার মতো অমোঘ আকর্ষণে মাছের ব্যাগ নিয়ে নিঃশব্দে পথে নেমে এসেছেন কার্তিকবাবু।…

  • কাচঠোকরা

    কাচঠোকরা

    জরুরি একটা কাজে গিয়েছিলাম। শহর থেকে দূরে। অন্য শহরে। ওখানেই এক বন্ধুর বাড়ি। ওর কাছে উঠব। স্টেশন থেকে নিয়ে যাবে আমায়। এই ছিল কথা। নেমেই খোঁজ করলাম। আসেনি। অপেক্ষা করলাম। এলো না। যাওয়ার পথে মোবাইল হারিয়েছি। ফলে যোগাযোগও করা গেল না। কী করব? তখন রাত। বাড়ছে। বিদেশবিভুঁই। কে যেন বলেছেন, যার কোথাও থাকার জায়গা নেই,…

  • ঠান্ডা রক্ত বা এনআরসির দিনে প্রেম

    ঠান্ডা রক্ত বা এনআরসির দিনে প্রেম

    ওই যে লালমাটির ছোট্ট গলিপথ, পুরোটা না, শুধু মুখটুকু, কোনো কোনোদিন বেশ রঙিন, ফুরফুরে আর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সিক্তার উপস্থিতিতে। সিক্তা ঝলমলে সালোয়ার-কামিজে, নির্ভার মেজাজে, ছাতা মাথায় এসে দুদ- দাঁড়ায় গলিমুখে একটা অটোরিকশা ধরার আশায়। তবে রোজই এখানে দাঁড়িয়ে তার ভাগ্যে রিকশা জোটে না। খানিকটা পথ উজিয়ে মেইন রোডে গিয়ে রিকশা ধরতে হয়। মাঝেমধ্যে লালমাটি-গলিপথের…

  • ডুমুরের ফুল এবং সাপের পাঁচ পা

    ডুমুরের ফুল এবং সাপের পাঁচ পা

    ডুমুরের ফুল আর সাপের পাঁচ পা দেখা নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। তবে ওই দুই জিনিসই কখনো চোখে দেখা যায় না। কেউ কখনো দেখেনি। আমি অন্তত এতদিন সেটাই জানতাম। কিন্তু হঠাৎ করে আন্দু আমাকে বলল, ডুমুরের ফুল দেখবি? আন্দু আমাদের বন্ধু। তার কথায় আমি চমকে উঠলাম। বললাম, তুই একটা পাগল নাকি! ডুমুরের ফুল হয় নাকি…

  • ঘাসের নিচে মাটির ঘ্রাণ

    ঘাসের নিচে মাটির ঘ্রাণ

    পুরনো রংচটা একটা জিনসের প্যান্ট আর ছাই রঙের টি-শার্ট পরে বউয়ের চোখ ফাঁকি দিয়েই সেমিপাকা রান্নাঘরের খড়ির মাচার কাছ থেকে ঝুড়ি আর কোদাল নিয়ে উঠোন পেরিয়ে সন্তর্পণে পাটক্ষেতের ভেতর ঢুকে পড়ল সে। দৃশ্যটা প্রতিবেশী দু-একজনের চোখে পড়লেও পড়ে থাকতে পারে, তবে তা আমলে নেওয়ার মতো কিছু নয়। শ্রাবণ মাস এসে যাওয়ায় পাটগাছগুলো লকলকিয়ে দেড়-মানুষ সমান…

  • ঋতুরেখায়

    ঋতুরেখায়

    কায়া নামের একজন নারী এবং ঘুরঘুরে নামের একজন পুরুষের গল্পটা বলার আগে তাদের সঙ্গে আপনাদের একটু পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক। ঘুরঘুরে এবং কায়া কীটপতঙ্গের জগতের মান্তিস রেলিজিওসা প্রজাতির পতঙ্গ। এই প্রজাতির পতঙ্গের পরিণত সদস্যদের গায়ের রং গাঢ় সবুজ বলে তাদের ‘পাতাফড়িং’ নামে ডাকা যেতে পারে। তাদের মাথা ত্রিভুজ, মাথার দুপাশে দুটো অ্যান্টেনা। তাদের বুক সরু,…