ছোট গল্প
-
যখন অসময়
ফা রু ক ম ই ন উ দ্দী ন কুসুমবাগ প্রাইমারি স্কুলের একচিলতে মাঠের মাঝ বরাবর টানানো নকশাদার প্যান্ডেলের ছাদের পেট থেকে ঝালরের মতো ঝুলে আছে রংবেরঙের পাকানো সুতো। কুয়াশা আর মেঘে-ঢাকা সকালের ম্লান আলোর ওপর প্যান্ডেলের নিচের ছায়া আরেক পরত ছাই মেখে দিয়েছিল। এখন কুয়াশা উবে গেলে মেঘের পাতলা আবরণের নিচ থেকে সূর্যটা তেড়ে…
-
বৃক্ষদের করুণ গান
না স রী ন জা হা ন সেতুর আসমান টুটে গেল, নীলিমার ঝাঁক পাখিরা গতি হারিয়ে বিহবল হলো দুর্ঘটনার পৈশাচিক নখর অনন্তকে জীবনের জন্য কেড়ে নিয়ে গেল এই ধরিত্রী থেকে। দিনরাতগুলো কাটে অগ্নিঝরা নিঃশ্বাসে চারপাশ পোড়াতে পোড়াতে। সেতুর চক্ষুকোটরে একবিন্দু আলো নেই, আত্মাপিঞ্জরে একফোঁটা জল নেই। সে দিন-রাত্রির ওপর দিয়ে চলে না, যেন এক বিবশ…
-
আবদুল কুদ্দুস কেন ইলিশ মাছ খায় না
আ নি সু ল হ ক বিআইডব্লিউটিএর থার্ড গ্রেডের অফিসার আবদুল কুদ্দুস জেটির ধারে একটা ঝুপড়িঘরে শুয়ে হাত নেড়ে নেড়ে মশা তাড়ায়। মশার কয়েল শেষ হয়ে গেছে, এতো রাতে আর আনার উপায় নেই। ভ্যাপসা গরমে সে হাঁসফাঁস করে, তার ঘুম আসে না। শেষ রাতে বৃষ্টি হয়, তার ঘরের চালে বৃষ্টির ফোঁটার শব্দ এক সম্মোহনী…
-
ওরা এরকমই
হ রি শং ক র জ ল দা স রিকশাটা থামার সঙ্গে সঙ্গে একজন লালকোর্তার কুলি বলল, ‘কোন টেরেনে যাইবেন স্যার? সুবর্ণতে?’ বিরক্তি নিয়ে বাদল রহমান ওপরে-নিচে মাথা নাড়লেন। বাদল রহমানের বিরক্ত হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। নির্ধারিত সময়ে তাঁর বাসার নিচে অফিসের গাড়ি আসার কথা ছিল। আসেনি। অফিস থেকে জানানো হলো – তাঁর জন্য…
-
কখন যে জেগে ওঠে অচেনা গোপন!
জা কি র তা লু ক দা র মেয়েটি ভাসছিল হালকা কুয়াশার মধ্যে। এই নগরের সব বাসাবাড়ির মানুষ ততক্ষণে কাজে নেমে পড়েছে। তৃপ্ত সঙ্গমের পরে গাঢ় ঘুমে রাত পার করা বধূরা সকালে দরদের সঙ্গে পছন্দের নাস্তা খাইয়ে অফিস-বিদায় করেছে স্বামীদের। নগরের রাস্তাগুলোতে অফিসভিড়ের প্রথম চালান কেটে যাওয়ারও অনেকক্ষণ পরে ভাসন্ত মেয়েটা নেমে এলো গত রাতে…
-
আমার মৃতদেহ কবর দিয়েছি আমি
বিপ্রদাশ বড়ুয়া স্বপ্নেই দেখতে পেলাম আমার মৃতদেহ পড়ে আছে আমারই অপরিপাটি বিছানায়। কী করে হয়! তেমন কোনো ঘাতক রোগের ছিটেফোঁটা দুদিন আগেও আমাকে নিয়মিত দেখার ডাক্তারের চোখে পড়েনি। বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমি দেখছি। মুখে মৃত্যু-যন্ত্রণার কোনো গুরুতর চিহ্নও নেই, নিয়মিত গোমরা-ঘেঁষা এক নিঃসঙ্গ মুখম-ল, ডানদিকের ওপরের ঠোঁটের নিচে ছেলেবেলায় শোবার ঘরের মাচা থেকে পড়ে…
-
ভিটেমাটির খরচ
সু শা ন্ত ম জু ম দা র পাড়াগাঁর লক্ষ্মী বিকেল ফুরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতই বদলে যেতে থাকে ধূমল আকাশের রং। ডাঙা ও প্রান্তরের বাকি ফিকে আলো মুছে ছাইছায়া ঘাসে-পাতায়-মগডালে জুড়ে বসার জন্য ব্যস্ত। তালেশ্বরের হাট-লাগোয়া খরজলভর্তি খালের কোল থেকে একে একে হাটুরেরা তাঁদের নৌকো খুলে উঠে পড়ছে। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ আর নোনা ঢেউ…
-
দেয়াল
সৈ য় দ ম ন জু রু ল ই স লা ম অফিস থেকে বেরিয়ে দারা দেখল, শেখ মুজিব সড়কটার মাঝামাঝি আড়াআড়িভাবে একটা দেয়াল উঠে গেছে, সড়কটাকে একেবারে আটকে দিয়ে। সারা সড়কে বাস-ট্রাক-রিকশা থমকে দাঁড়িয়ে হর্ন বাজাচ্ছে এমন জোরে যে, আগ্রাবাদের আকাশটাই যেন খানখান হয়ে ভেঙে পড়ছে। সামনে যেতে পারছে না একটা গাড়িও; মানুষজনও আটকা…
-
স্পর্শ
পূ র বী ব সু ওর সারাশরীরে সহাস্য মুখখানা ছাড়া আর যেন কিছু নেই। অন্তত চট করে অন্য কিছু চোখে পড়ে না। যেন শস্যক্ষেতে লাঠির ডগায় বসানো মাটির পাতিল দিয়ে বানানো কাকতাড়ুয়া। চুন-কালি দিয়ে আঁকা চোখমুখ সতত দৃশ্যমান। মাটিতে দ-ায়মান লাঠির মাঝামাঝি উচ্চতায় আড়াআড়িভাবে আরেকটি লাঠি বেঁধে ছেঁড়া শার্ট আর ফেলে দেওয়া মাফলার জড়িয়ে কাকতাড়ুয়াকে…
-
অদ্ভুত এক রাতের গল্প
ই ম দা দু ল হ ক মি ল ন এই বাড়িকে লোকে বলে রাজবাড়ি। সেটাই বলার কথা। চৌধুরী সাহেব তো রাজাই। এলাকার সবচাইতে ধনী, সবচাইতে নামকরা লোক। বিলে-মাঠে জমি যা আছে সবই তাঁর। হাজার হাজার বিঘা। পশ্চিমে পদ্মার চর। চর পুরোটাই তাঁর। অর্থাৎ আমাদের। আমি চৌধুরী সাহেবের স্ত্রী। দেবর-ননদরা আমাকে বলে ‘মহারানী’। ঠাট্টা করে…
-
জানালা
ও য়া সি আ হ মে দ একটা কংকাল। গা-ভর্তি বড় বড় খোড়ল। শোবারঘর থেকে জানালা বরাবর তাকালে সীমা চোখের যন্ত্রণায়ই বেশি ভোগে। চক্ষুশূল। সে অবশ্য আরো লাগসই আইসোর কথাটাই ভাবে। চারতলা পর্যন্ত উঠে বাড়িটা আটকে আছে। মুশকিল হলো, তার শোবারঘরের একমাত্র জানালার ওপারে দশ হাত তফাতেও হবে কিনা, বাড়িটা উঠতে না উঠতে থেমে পড়তে…
-
রাজপথ রাজার
রে জা উ র র হ মা ন সূজা অবসরে গেলে আন্না নিজেকে চিরসুখীজনের একজন মনে করে। সেদিন বেলা থাকতে থাকতে অংকের প্রফেসর সূজাউদ্দৌলা ঘরে ফিরে আসে। এক হাতে তাঁর কতগুলো ফাইল ও অন্য হাতে একটা ব্যাগ। সূজার তা বহন করার অবস্থা দেখে আন্না ধরে নেয়, তাতে ভারী কিছু আছে।… আর ব্যাগে হাতলছোঁয়া একগোছা ফুল।…
