প্রবন্ধ
-

একাত্তরের শহিদ পরিবার
ঝরনা আমার প্রতিবেশী পাড়াতো বোন। একটি শহিদ পরিবারের অসহায় সন্তান। প্রায় সময় সে মোবাইলে ফোন করে। সে কখনো কুশলাদি জানাতে বা জানতে ফোন করে না। নিরুপায় হলে ফোন করে। এ নিয়ে তার কোনো সংকোচ বা দ্বিধা নেই। যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, তার ফোন পেলে বিবেকের তাড়নায় ফোন ধরি, কথা শুনি। অধিকাংশ সময় ফোন ধরার…
-

স্মৃতিভারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধ ও আমার কলকাতা
দক্ষিণ এশিয়া তথা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে ষাট ও সত্তরের দশক ছিল বিভিন্ন ধরনের গণআন্দোলনের যুগ। জন্মানোর পর থেকেই একটি রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন বামপন্থি পরিবারের সন্তানরূপে এসব চোখে দেখেছি, কানে শুনেছি। এর মধ্যে সব থেকে সফল ছিল ১৯৭১-এর পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) গণআন্দোলন, যা পরে পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শোষণের কবল থেকে মুক্তির যুদ্ধে…
-

একাত্তরের রাজারবাগ ও শাহজাহানের যুদ্ধ
১৯৬৫ সাল। ম্যাট্রিক পাশ করেছি মাত্র। একটা চাকরিও পেয়ে যাই তখন। দিনাজপুরের হাউজিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট অফিসের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট। কয়েক মাসের মধ্যেই আমার বিয়ে দেয় সবাই। কিন্তু সে-আনন্দ বেশিদিন টেকেনি। প্রজেক্ট শেষ হওয়ায় বছর দেড়েকের মধ্যেই চাকরি হারাই। কেউ তখন পাত্তা দেয় না। পরিবারেও আদর কমতে থাকে। অনেক কষ্ট পেলাম। রাগ করে একদিন বাড়ি থেকে এক…
-

বাড়িয়া গণহত্যা ও আমাদের স্বাধীনতা
চারশো বছরেও অধিক সময় আগে বেলাই বিলের আশেপাশে কোনো গ্রামের অস্তিত্ব ছিল না। খরস্রোতা চেলাই নদীর কারণে বিলটিও খরস্রোতা স্রোতস্বিনীরূপে বিরাজমান ছিল। কথিত আছে – ভাওয়ালের ওই সময়ের ভূস্বামী ঘটেশ্বর ঘোষ ৮০টি খাল কেটে চেলাই নদীর জল নিঃশেষ করে ফেলেন। তারপরই এটি প্রকাণ্ড বিলে পরিণত হয়। বিশাল এই বিলটির কোনো কোনো স্থানে প্রায় সারাবছরই পানি থাকে, তবে…
-

গীতগোবিন্দ
বাংলা কাব্য-রূপান্তর : অসীম সাহা দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় সর্গ করিতে করিতে রতি যুবতীকে নিয়া। রাধাকে মনে করে হয় ব্যাকুল হিয়া ॥ রাধার অনেক গুণ করিয়া স্মরণ। অনুতাপ ক’রে কৃষ্ণ বলে সারাক্ষণ ॥ সংসারে আবদ্ধ তার জীবন ও প্রাণ। রাধিকার রূপ-গুণ প্রকৃতির দান ॥ সকল গোপীর চেয়ে রাধিকা রূপসী। অমৃতবচন মুখে যেন পূর্ণ শশি ॥ রাধিকাকে…
-

সৃজনশীল প্রকাশনা, একুশের বইমেলা ও বইজগতের উন্নতি-অবনতি প্রসঙ্গে
শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে নানা বিষয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যমূলক বইয়ের প্রকাশকরা নিজেদের দাবি করেন সৃজনশীল প্রকাশক হিসেবে। তাঁদের একটা সমিতিও আছে। নিছক মুনাফালোভী পাঠ্য কি নোট-গাইড বইয়ের ব্যবসায়ের চেয়ে তাঁদের পেশাটা মহত্তর সন্দেহ নেই। কারণ এসব বইয়ের রচয়িতারা দেশের জ্ঞানী-গুণী-বুদ্ধিজীবী হিসেবে সম্মানিত, আর কবি-সাহিত্যিকরা নিজেদের সৃজনশীল মানুষ ভাবতে ভালোবাসেন। সাহিত্যমূলক এসব বইয়ের পাঠকরাও নিজেদের…
-

ব্রহ্মবিদ্যালয় থেকে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ
রবীন্দ্রনাথ-প্রবর্তিত শান্তিনিকেতন শিক্ষায়তন নানা কারণেই শিক্ষা-আগ্রহী ভাবুকদের কাছে স্বতন্ত্র এবং আকর্ষণীয় বলে বিবেচ্য হয়েছে। বাঙালি ছাড়াও অবাঙালি ভারতীয় শিক্ষানুরাগী মানুষজন, পাশ্চাত্যের কতিপয় নিবেদিত প্রাণশিক্ষক ও গবেষক নানা সময়ে শান্তিনিকেতনে এসে উপস্থিত হয়েছেন, কর্মকাণ্ডে কমবেশি অংশ নিয়েছেন। এর ফলে শান্তিনিকেতন শিক্ষায়তনের ছাত্র ও শিক্ষকমণ্ডলী আলোকপ্রাপ্ত হয়েছেন, সেইসঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের একটা সর্বভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি বৃদ্ধি হয়েছে।…
-

গীতগোবিন্দ
প্রথমপর্ব গ্রন্থারম্ভ বিরহিণী রাধিকার বিরহ-বর্ণনা। সম্প্রতি ইচ্ছে হইলো করিতে রচনা ॥ বসন্তের রূপ দেখে বলে রাধা, ঠিক। মাধবী ফুলের চেয়ে কোমল অধিক ॥ কামজ্বরে অতিশয় হইয়া আকুল। কৃষ্ণের বিরহ-দুঃখে হয় সেব্যাকুল ॥ কৃষ্ণকে ভেবে ভেবে মনে লজ্জা পায়। তার কাছে গিয়ে সে যে রতি করতে চায় ॥ একমন হয়ে রাধা সখী সঙ্গে যায়। কৃষ্ণের সন্ধানে…
-

শতেক বরষ পরে উদাসী তালাশ রাখলেন সাঁই কূপজল করে
অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) পেশা সূত্রে অখণ্ড বঙ্গে বিভিন্ন জেলা ও মহকুমায় ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমাশাসক, জেলাশাসক ও জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেকালের নদীয়া জেলার কুষ্টিয়ায় মহকুমা শাসক হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন ১৯৩৫-৩৬-এ। এই কালপর্বে নানাসূত্রে যেসব মানুষের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রচিত হয়, তাঁদের কথা সময়ের দীর্ঘ-ব্যবধানেও তিনি বিস্মৃত হননি। কুষ্টিয়ায় তাঁর কর্মস্থলে একজন উদার-অসাম্প্রদায়িক মুক্তমনের…
-

ভাষা-আন্দোলনের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু
পূর্ববাংলায় প্রথম রাষ্ট্রভাষার প্রস্তাব ও বঙ্গবন্ধু বিংশ শতকের চল্লিশের দশকে কবিগুরু ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে লিখেছিলেন, ‘একদিন অপরাজিত মানুষ নিজের জয়যাত্রার অভিযানে সকল বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হবে তার মহৎ মর্যাদা ফিরে পাবার পথে।’ বাঙালি তার সকল বাধা অতিক্রমের জন্য পেয়েছিল হাজার বছররের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পূর্ববাংলায় সাতচল্লিশে ভাষা-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে…
-

চিত্রকলার ভাষা
চিত্রকলার ভাষা নিয়ে আলোচনাটা দীর্ঘদিনের। আমরা অনুমান করতে পারি আদিম কোনো গুহার গায়ে শানিত পাথর অথবা ধাতুর আঁচড়ে একটা ছবি যখন আঁকা হতো, অথবা গাছের বাকলে বা মৃত পশুর ছড়ানো চামড়ায়, তখনই তো প্রশ্নটা জাগত : ছবিটা কিসের? হয়তো কোনো প্রাণীর, না হয় চেনা কোনো বস্তুর, কিন্তু এরপরের প্রশ্নটা হয়ে দাড়াত : কী বলতে চাইছে…
-

বাংলাভাষা ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র
এক চলচ্চিত্র এক বিস্ময়কর মাধ্যম, মানব সমাজে যার আছে ব্যাপক প্রভাব। চলচ্চিত্র বহন করে শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার শক্তি। প্রভাব, প্রচার, ভূমিকা তৎপরতায় চলচ্চিত্র এখন পরাশক্তি, যদিও চলচ্চিত্র নিছক কারখানায় উৎপাদিত পণ্যমাত্র। চলচ্চিত্র কি কৌশল, নাকি চমক, নাকি শিল্প-এসব প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। চলচ্চিত্রের শৈশবকালের উদ্দেশ্য ছিল, বস্তু অথবা ব্যক্তির দৃশ্য পর্দায় প্রক্ষেপণের সময় তাতে গতি…
