শ্রদ্ধান্জলি
-

আনিসুজ্জামান স্যার ও নারী-প্রগতির গবেষণা-চর্চা
আনিস স্যার বলতেই অনন্য ও একক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সকলের মনের দর্পণে হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্বে ভাস্বর হয়ে ওঠেন। ‘জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো’ – এই রবীন্দ্র-আহ্বানে আনিস স্যার আমাদের উজ্জীবিত করে এসেছেন। মানুষের কথা, মানুষের জীবন, মানুষের সাধনা – এসবই স্যারের জীবনব্যাপী শিক্ষা-সাহিত্য-জীবন চর্চার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে ‘জড়িয়ে আছে’। ‘জড়িয়ে ছিল’ – এরকম অতীতবাচক শব্দ তাঁর…
-

নিখাদ বাঙালি এবং বিশ্ব-নাগরিক আনিসুজ্জামান
আনিসদা আমাদের বিপুল শূন্যতার মধ্যে রেখে দিয়ে চলে গেলেন। আমার সঙ্গে আনিসদার প্রথম পরিচয় ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্বর্গত অধ্যাপক অনিল সরকারের মাধ্যমে। তিনি প্রায়শই ভারতবর্ষে এবং বিশেষ করে কলকাতায় আসতেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান-আয়োজিত আলোচনাসভায় যোগ দিতে। তারই ফাঁকে আমাদের কয়েকজনের সঙ্গে নিয়মিত গল্পগুজব হতো। তাঁর মতো বিশাল মহীরুহের…
-

প্রিয় স্যারের মহাপ্রস্থান
চলে গেলেন আমার স্যার, আমার শিক্ষক আনিস স্যার। এ-মহাপ্রস্থান সবার জীবনেই আসবে। এ-অমোঘ বিধান এড়াবার ক্ষমতা কারো নেই। এ-বেদনাদায়ক পরিণতি যুগ যুগ ধরে ঘটে আসছে এবং ঘটবেই। কিন্তু আমি নিজেকেই অনেক সময় প্রশ্ন করি, এতশত জেনেও এ-চিরতরে ছেড়ে যাওয়ার বেদনা এত কেন আহত করে আমাদের বুঝি না, এত কেন অস্থির করে – সে-মৃত্যু যে-বয়সেই হোক…
-

আনিসভাই স্মৃতিচারণ
কবে, কখন, কোথায় কী পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল, তা আমার মনে নেই। একদিকে এই স্মৃতিভ্রান্তি সম্ভবত ক্ষমার অযোগ্য, অন্যদিকে সেই ভরাট স্মৃতি বারংবার বলছে যে, আমাদের প্রতিটি সাক্ষাৎ ও সংলাপ ছিল মধুময় আন্তরিকতায় পূর্ণ। আনিসভাইকে যখন বললাম যে, আমি প্রসিদ্ধ কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের রচনা নিয়ে গবেষণা করব, তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি ঠিক লেখককেই…
-

আনিসদা
গত কয়েক বছর ধরে যিনি আমাদের ঘরের মানুষ হয়ে গেছিলেন, সেই আনিসুজ্জামান সাহেবকে আমরা হারিয়েছি কিছুদিন আগেই। প্রিয়জনের বিচ্ছেদ-বেদনা আমাদের কাতর করে তুলেছে। বছর দশেক আগেই আমাদের আলাপ, কিন্তু এর মধ্যেই তিনি কবে ডক্টর আনিসুজ্জামান থেকে আনিসদা হয়ে গেছেন এবং গোটা পরিবারই আমাদের ঘরের লোক হয়ে গেছেন, তা সঠিক মনে পড়ে না। তবে জানি এপার…
-

মৃত্যুহীন প্রাণ : অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
কিছুদিন আগে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্মরণে অনলাইনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো – অনলাইনে, যেহেতু করোনা মহামারি আমাদের বাস্তব পৃথিবীকে ভেঙেচুরে এক উদ্ভট পরাবাস্তবে ঢুকিয়ে দিয়েছে, যেখানে কায়ার হয়ে ছায়া কথা বলে, সেখানে সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য জীবন্ত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে তার ছবি। আয়োজকরা আমাকে অনুরোধ করলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের – আমাদের প্রতিদিনের সম্বোধনে, স্যারের – যে-কোনো…
-

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান : স্মরণীর দিনগুলি
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সঙ্গে কবে প্রথম আলাপ হয়েছিল আজ এতদিন পরে আর মনে পড়ে না। মনে হয় গত শতকের নব্বইয়ের দশকে কলকাতায় গোলপার্কে রামকৃষ্ণ মিশনের হলে আয়োজিত মকাইসের (মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স) একটি কনফারেন্সে ওঁর সঙ্গে আলাপ হয়। ওঁর বক্তৃতায় আকৃষ্ট হয়েছিলাম। মনে আছে সুললিত স্বচ্ছন্দ ইংরেজিতে বক্তৃতা দিয়েছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। লাঞ্চ…
-

জীবন থামে না
বাংলা নাটকের প্রবাদপ্রতিম পুরুষ শম্ভু মিত্র জীবনের রঙ্গমঞ্চ থেকে ৮২ বছর বয়সে বিদায় নেন ১৯৯৭-তে। সর্বজনশ্রদ্ধেয় জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী প্রয়াত হন ২০১১ সালে ৮৮ বছর বয়সে। দুজনেই তাঁদের ইচ্ছাপত্রে তাঁদের মৃত্যুকে ঘিরে শোকের আড়ম্বর বা আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করতে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন। দুজনের ক্ষেত্রেই তাঁদের ইচ্ছার প্রতি যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বছরচারেক আগে আমাদের সদ্যপ্রয়াত…
-

স্মরণে আনিসুজ্জামান স্যার
আমার পুরো শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজশাহীতে। রাজশাহী আমার হয়ে ওঠার শহর। ষাটের দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হই। সে-সময়ে আমাদের শিক্ষক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ক্লাসে পড়ানোর সময় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মুসলিম-মানস ও বাংলা সাহিত্য বইটির উল্লেখ করেন। তিনি নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে বইটি সম্পর্কে ক্লাসে আমাদের বলেন। আরো বলেন, আনিসুজ্জামানের পিএইচ.ডি গবেষণার বিষয় ছিল ইংরেজ আমলের বাঙলা সাহিত্য-বাঙালি…
-

আনিসুজ্জামানের সাথে দেখা-সাক্ষাতের স্মৃতি
অনুবাদ : আশফাক স্বপ্ন ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বসার কক্ষ ছিল সে-সময়কার ঘটনাবলি, ইতিহাস আর রাজনীতি নিয়ে সারগর্ভ ও সুবেদী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বঙ্গ বা বাংলা নিয়ে আলোচনা তখন তুঙ্গে – এই অঞ্চলের সমসাময়িক অস্বস্তি আর রাজনৈতিক প্রতিরোধ, এর সাংস্কৃতিক আর সাহিত্যিক পুনর্জাগরণ ছিল আলোচনার বিষয়। এসব আলাপ-আলোচনার মধ্যমণি ছিলেন অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। তাঁকে ঘিরে…
-

আনিসভাই
১৯৬১ সাল। ঢাকায় তখন রবীন্দ্রবার্ষিকী পালনের জোর তোড়জোড়। দুটো কারণ। এক. শতবার্ষিকী। দুই. পাকিস্তানি সরকারের রবীন্দ্রচর্চার ওপর নিষেধাজ্ঞা। সুতরাং আমাদের জিদ ষোলো আনা ছাড়িয়ে। মানব না এ-বন্ধনে, মানব না এ-শৃঙ্খলে – তরুণসমাজ, মাঝবয়সী ও বয়সী সবাই একাট্টা। আমাদের দাবি প্রাণের। সংস্কৃতির। অধিকারের। পাকিস্তানের বয়স তখন তেরো-চৌদ্দো। আমাদের মূল সাংস্কৃতিক বন্ধনটি হাজার বছরের বাঙালি ও বৃহত্তর…
-

মৃত্যুঞ্জয়ী আনিসুজ্জামান : তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও তাঁর লেখালেখিতে বাংলাদেশের শিল্পী ও শিল্প
‘মানুষ মৃত্যুকে এড়াতে পারে না, কিন্তু কেউ কেউ মৃত্যুকে জয় করতে পারে।’ কথাগুলো লিখেছিলেন আনিসুজ্জামান ২০০৬ সালে তাঁর এক প্রিয় শিল্পীবন্ধু নিতুন কুন্ডু সম্পর্কে তাঁর মৃত্যুর পর। নিতুন কুন্ডু ছিলেন আনিসুজ্জামানের সমবয়সী। মারা গিয়েছিলেন ৭০ বছর বয়সে। নিতুন কুন্ডুকে তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষদের একজন আখ্যায়িত করেছেন। আনিসুজ্জামান মৃত্যুবরণ করেন তিরাশি বছর বয়সে। তিনি মৃত্যুকে জয় করেছেন।…
