শ্রদ্ধান্জলি
-

চট্টগ্রামে তাঁর ষোলো বছর
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ষোলো বছর চট্টগ্রামে কাটিয়েছেন। অবশ্য স্বাধীনতার পরে সংবিধানের বাংলাভাষ্য রচনার সূত্রে দীর্ঘ ঢাকাবাস এবং দুয়েকবার লম্বা সময়ের জন্য বিদেশবাসের ফলে তাঁর চট্টগ্রাম অবস্থানে মাঝে মাঝে ছেদ পড়েছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে রিডার (বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক) পদে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগসমূহে জ্যেষ্ঠ পদের সংখ্যা…
-

প্রিয়জন ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
সাম্প্রতিককালের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্যে কেটেছে আমাদের এবারের ঈদুল ফিতর। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই এমন একটা সময়ের কথা কল্পনাও করতে পারেনি এবং আমার মনে হয় তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে এ-কথা আরো বেশি সত্য। এমন একটা সময়ে যখন আমাদের প্রয়োজন পড়ে যা কিছু ভালো ও শুভ তা এবং যা কিছু বা যে-কোনো মানুষ, যিনি আমাদের আশার বাণী…
-

আনিসুজ্জামান : কৃতি ও কীর্তি
১৯৮৩ সালে এমএ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে আমাদের শিক্ষক ডক্টর আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্যারের বাসায় যাই, উদ্দেশ্য স্যারের আশীর্বাদ নেওয়া। অনেক কথা হলো স্যারের সঙ্গে, বললেন : ‘পরীক্ষার ফল তো ভালো হলো, এখন কী করবেন?’ জানালাম, শিক্ষকতাই প্রথম এবং একমাত্র পছন্দ। মিনিটখানিক চুপ থাকলেন স্যার, তারপর বললেন – ‘শিক্ষকতাই যখন করবেন, তখন লেখালেখি এবং…
-

অন্য আনিসুজ্জামান : চিন্তাপথের অভিযাত্রী
বাংলা অনার্স পরীক্ষার কোনো এক উত্তরপত্রে আনিসুজ্জামান রবীন্দ্রনাথের কবিতার উদ্ধৃতি দেয়ার সময় ‘সর্বত্রগামী’র বদলে লিখেছিলেন ‘সর্বপথগামী’। পঙ্ক্তিনিচয় স্মরণ করা যায়, ‘আমার কবিতা, জানি আমি/ গেলেও বিচিত্রপথে হয় নাই সর্বত্রগামী।’ এই ভুলের জন্য মৃদু তিরস্কার আনিসুজ্জামানের প্রাপ্য হয়েছিল জগন্নাথ কলেজে তাঁর অসীম শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক অজিতকুমার গুহের কাছে। শিক্ষকেরও অপরিসীম প্রত্যাশা ছিল এই নবীন বিদ্যার্থীর কাছে, তাই…
-

আনিস স্যার : সাধারণ, তবু অসাধারণ
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে অনেকেই অনেক পরিচয়ে সম্বোধন করেন, ব্যাখ্যা করেন, আলোচনা করেন; কিন্তু আমার কাছে তিনি আনিস স্যার। যদিও সরাসরি তাঁর ছাত্র ছিলাম না, আমার বিষয় সংখ্যাতত্ত্ব আর তিনি শিক্ষক ছিলেন বাংলার। আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, স্যার তখন সেখানে শিক্ষক। আমরা জানি, তিনি শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন, আমৃত্যু শিক্ষকই ছিলেন। কিন্তু সেই কখন, কোন সময়, কীভাবে…
-

আনিসুজ্জামান, প্রিয় শিক্ষক
বৈশ্বিক দুর্দিনের এক করোনাকালে মহাকালের সহজ হিসাবের খাতায় লেখা হলো তাঁর নাম। তিনি নিজে ছিলেন এক সহজ মানুষ, সহজ মনীষী এবং ছিলেন সহজলভ্য, সকলের জন্য। অশীতি-অতিক্রান্ত কর্মক্লান্ত দেহটি যখন আর নিজের ভার সইতে পারে না, অথচ তাকে থাকতে হয় সজাগ, সতর্ক ও সক্রিয়, তখন করুণাময়ের অপার করুণা হয়তোবা এভাবেই নেমে আসে। তাঁর জীবনব্যাপী দানের ঋণ…
-

সাহিত্যের আকাশ থেকে একটি তারকা খসে পড়ল
বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা যেন ক্রমাগত শোকই উদ্যাপন করছি! পঞ্চাশের দশকের শিল্প সাহিত্য ইতিহাস ভাষা-আন্দোলন ও মুক্তিসংগ্রামের রথী-মহারথীদের একের পর এক আমাদের হারাবার পালা চলছে। তারই ধরাবাহিকতায় যেন প্রফেসর এমেরিটাস ডক্টর আনিসুজ্জামান চলে গেলেন। আর আমাদের সাহিত্যের আকাশ থেকে একটি তারকা যেন খসে পড়ল। সাহিত্যের অঙ্গনে এখন থাকল যেন শুধু বালুঝড় আর ক্ষমতার দাপট।…
-

আমার দেখা আনিস স্যার
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যার চলে গেলেন। প্রায় নীরবেই নিভৃতবাসে তাঁর চলে যাওয়ায় মর্মাহত দেশের সাহিত্য, শিল্পকলা, সংস্কৃতি, শিক্ষাঙ্গনসহ সমগ্র জাতি। দেশবরেণ্য এই মহান মানুষটি ছিলেন আমাদের সবার প্রিয়, শ্রদ্ধেয় এবং ঘনিষ্ঠজন। অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আনিস স্যারের ভক্তজন সারা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। সবাই তাঁর ভালোবাসায় সিক্ত। তিনি তাঁর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত করে চিরকালের জন্যে বিদায় নিলেন। দেশকাল, বাংলাভাষা,…
-

আনিসুজ্জামান: অবস্থানগত বস্তুমুখিতা
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সঙ্গে আমার প্রথম প্রত্যক্ষ পরিচয় শান্তিনিকেতনে। ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে এসেছিলেন। তখনো ভেঙে দেওয়া হয়নি সাবেকি পঞ্চবঢী। পঞ্চবঢী পাঁচখানি লাগোয়া বাসস্থান – গবেষক, অধ্যাপক যাঁরা বিশ্বভারতীর বিশেষ আমন্ত্রণে আসতেন, সেখানেই থাকতেন কিছুদিন। তাঁদেরই জন্য নির্মিত হয়েছিল শান্তিনিকেতনী-শৈলীর ওই একতলা বাড়িগুলি। গাছের ছায়া আর পাখির ডাকে ঘেরা ওই আবাসস্থলে থেকেছেন অনেকেই। শঙ্খ…
-

আনিসুজ্জামান স্যার ও নারী-প্রগতির গবেষণা-চর্চা
আনিস স্যার বলতেই অনন্য ও একক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সকলের মনের দর্পণে হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্বে ভাস্বর হয়ে ওঠেন। ‘জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো’ – এই রবীন্দ্র-আহ্বানে আনিস স্যার আমাদের উজ্জীবিত করে এসেছেন। মানুষের কথা, মানুষের জীবন, মানুষের সাধনা – এসবই স্যারের জীবনব্যাপী শিক্ষা-সাহিত্য-জীবন চর্চার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে ‘জড়িয়ে আছে’। ‘জড়িয়ে ছিল’ – এরকম অতীতবাচক শব্দ তাঁর…
-

নিখাদ বাঙালি এবং বিশ্ব-নাগরিক আনিসুজ্জামান
আনিসদা আমাদের বিপুল শূন্যতার মধ্যে রেখে দিয়ে চলে গেলেন। আমার সঙ্গে আনিসদার প্রথম পরিচয় ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্বর্গত অধ্যাপক অনিল সরকারের মাধ্যমে। তিনি প্রায়শই ভারতবর্ষে এবং বিশেষ করে কলকাতায় আসতেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান-আয়োজিত আলোচনাসভায় যোগ দিতে। তারই ফাঁকে আমাদের কয়েকজনের সঙ্গে নিয়মিত গল্পগুজব হতো। তাঁর মতো বিশাল মহীরুহের…
-

প্রিয় স্যারের মহাপ্রস্থান
চলে গেলেন আমার স্যার, আমার শিক্ষক আনিস স্যার। এ-মহাপ্রস্থান সবার জীবনেই আসবে। এ-অমোঘ বিধান এড়াবার ক্ষমতা কারো নেই। এ-বেদনাদায়ক পরিণতি যুগ যুগ ধরে ঘটে আসছে এবং ঘটবেই। কিন্তু আমি নিজেকেই অনেক সময় প্রশ্ন করি, এতশত জেনেও এ-চিরতরে ছেড়ে যাওয়ার বেদনা এত কেন আহত করে আমাদের বুঝি না, এত কেন অস্থির করে – সে-মৃত্যু যে-বয়সেই হোক…
