কবিতা
-
রাজনীতি
মারুফুল ইসলাম ছিমছাম শুয়ে ছিল ছায়া হাতের দূরত্বে রোদ হয়ে বাদ সাধে পুরনো কথক ছবি হয়ে হাসছিল রোদ দীঘল প্রভায় ছায়া এসে পাল্টে দিলো ছক না না, এই ছবি মুছে যাবে কালি ও কলমে পেনসিলে থাকে না পরমায়ু কাটা মু- আঁকা হয় প্রাচীন হরফে তোমার তরফে খরবায়ু উপহার নেবে যদি নাও তবে…
-
পলি মাটি গড়ে গৌড় দেশ
রবিউল হুসাইন সব কিছু খুলে বলা ভালো নয় এত আর রেখে ঢেকে বলা মানে কিছু বলা যায় ঠিক প্রায় সবে তাই করে মেঘে মেঘে অন্য দিক অতি জলে ভাসে ভূমি আর শস্য ফল সার সে-ই ভোগে বেশি যার নেই কম কোনো ভুলে হালে সুদে হারে ফের কী-না বারে বারে ঘটে তাতে কিছু যায় …
-
পাথর-বিবাহ
মুহম্মদ নূরুল হুদা আমার চারপাশে চকচক করছে আদিম পাথর। হায়, পাথর খুঁটতে খুঁটতে আমার পাখিরাও ভুলে গেছে পাললিক চর। অন্ধ আমি, আমিও পাথর তুলে রেখেছি আমার দুচোখে। আমার আগে আগে স্বয়ং পাথর আমাকেই শোঁকে। চোখ থেকে বুক, বুক থেকে সারাশরীর। শরীর ছেড়ে ত্রিভুবন ঘুরে বেড়াচ্ছে আমার মন অধীর। ঘুরতে ঘুরতে আমি নিজেই এখন জাফলং থেকে…
-
আকাশপ্রদীপ
কালীকৃষ্ণ গুহ ‘ঢাকিরা ঢাক বাজায় খালেবিলে’ – কেন বাজায় কেউ জানে না তা কারা শোনে কে দেয় হাততালি? উত্তর নেই – উড়ছে বটপাতা। এই কথাটা নিয়ে কবির কবি অনেক কথা ভেবেছিলেন মনে – কতকালের অবাক-করা কথা সময় বহন করছে নির্জনে। মাঠের পাশে একলা একটা বুড়ি চাটাই বোনে, এই শুধু কাজ তার ডাকাত…
-
কোজাগরি
রহিমা আখতার কল্পনা চোখ তো কাঁদে না আর, চোখে নিদারুণ মরু চোখের তারায় জল টলোমলো আয়না আকাশে বাড়ায় বাহু মনোবাসনার তরু ফিরে আসে হাত, নীলাকাশ ছুঁতে পায় না। চোখ তো কাঁদে না আর, চোখে নিদারুণ মরু চোখের তারায় জল টলোমলো আয়না। কখনো আমার কিছু আপনজনেরা ছিল তখন আমার মাটিতে শিশির, মমতা উড়ে গেলে…
-
আসলে আমরা
দিলীপ কির্ত্তুনিয়া কাপড়কে না খুলে আসলে আমরা শরীরকেই খুলে রাখি কাপড় থেকে। স্কুলে গিয়ে দেখলাম – স্কুলে আমি যাইনি স্কুলই হেঁটে এসেছে আমার কাছে। বাজার থেকে আনাজপাতি ঘরে হেঁটে চলে আসে হুটহাট। টিউবওয়েল উপুড় হয়ে নামে কলসিতে টুপটাপ। এইসব অনেকদিন থেকে ঘটছে – অথচ সারাজীবন আমরা উলটোটা দেখলাম – উলটো বললাম। নিজের দোষ না…
-
একটি বিষন্ন বিবরণ
দেবজ্যোতি রায় গভীর সন্দেহ নিয়ে জেগে আছি যেতে হবে দূর অন্ধকারে। সাইডব্যাগে কাগজ, কলম, কিছু বই জলের বোতল ও লাল রঙের গামছা কৃষ্ণচতুর্দশীর চাঁদ আমার জন্য ইনহেলার নিয়ে অপেক্ষা করছে পথে। রাত্রির বুক চিরে তীব্র হেডলাইট জলঙ্গি ব্রিজের কাছে একটি শেয়াল জাতীয় সড়ক পার হয়ে ঢুকে পড়ল জঙ্গলে। বাতাস কমে আসছে সাতটি…
-
স্মৃতি
আদিত্য নজরুল একদিন বৃষ্টি হয়েছিল … শহরের সবকটি গলি জল পেটে ধরে তুলেছিল পোয়াতি কোমল ঢেউ … একদিন বৃষ্টি হয়েছিল … তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে তোমার ঠোঁটের ঠিক মাঝ থেকে বৃন্তচ্যুত পাপড়ির মতো টুপ করে ঝরে পড়ল দু-একটা চুমো … সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম চুমোগুলো কুড়াতে কুড়াতে কেঁপে উঠেছিলাম … একদিন বৃষ্টি হয়েছিল…
-
দেখি অট্টালিকা টালির ছাদ
সেলিম মাহমুদ কিছুই কি নেই গড়ার? গড়বেন একা শুধু রমাকান্ত কামার অথবা শ্রীকান্ত-পর্ব পড়ে, মজে যাব বারবার এই দেখি সেই দেখি উত্তম-সুচিত্রা দেখি আবার পুরনো চাল ভাতে বাড়ে হা-ভাতে চেনে ভাতের বেগার প্রজন্ম-নতুন চেনে চিকেন সসেজ আর বার্গার দেখি অট্টালিকা টালির ছাদ ড্যান ব্রাউন হিমু হুমায়ূন আজ কিংবা গত, ভুলে থাকি আকছার চাকরি খুঁজি…
-
যাপিত জীবন
কাজী সুফিয়া আখ্তার ক্যান্সার হওয়ার পরে কী যে হয়েছে আমার! শুধু মৃত্যুকে দেখি রয়েছে দুয়ারে দাঁড়িয়ে। অপারেশন, কেমোথেরাপি, সবই তো ঠিকঠাক হলো ডাক্তারের নির্দেশমতো চেকআপ নিয়মিত ওষুধ খাওয়া নিষ্ঠুর ঘড়ির কাঁটা জানিয়ে দিচ্ছে যাবার সময় অসম্ভব সুন্দর এই পৃথিবীতে মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মানুষ সহজ-সরল একটা জীবন তো যাপন করেছি; অতীত দিনের স্মৃতির ঝরনাধারায় পূর্ণতার…
-
ওপার-এপার
সৌভিক রেজা ময়-মুরুব্বিরা বলতেন বালাই ষাট; সেই ষাটের উলটোদিকে দাঁড়িয়ে তোমার ঝলমলে ডালপালাগুলো দেখি, পাতা আর ছায়াগুলো দেখতে-দেখতে বাইরে যাই। দেখি জারুলের বেগুনিময় ফুলের আলো। বালাই ষাট। মাঝে মাঝে আলো আর বাতাসের কাছ থেকেও দূরে সরে থাকি। এদিক-সেদিক যাই, তোমার ছায়া নিয়ে নিজের ছায়ায় ফিরতে চাই। হেনা, তুমি ষাটের ঘাটে ফুটে-ওঠা আঁধার-আলো-ছায়া
-
পা বাড়াই প্রাণের পথে
তারিক সুজাত ১. ঘুমিয়ে ছিলো প্রখর রোদে একলা একটি কূপ তার গভীরের গভীর থেকে তুলে আনলে তুমি জলের ঝলকানি! ২. আমার শহর শূন্য ব্যথাদীর্ণ বৃক্ষ সারি সারি জানায় বিদায় পা খি আ মা র মেঘে মেঘে দেবে পাড়ি আমি ধূলিকণা স্মৃতির ডানায় ভেসে শূন্য খাঁচায় এ কা এ কা উ ড়ি …
