প্রবন্ধ
-
বিস্মরণের নয় তাঁর দৃশ্যজগৎ
আবুল মনসুর শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর তিরোধানের বছরপূর্তিতেও তাঁর অসিত্মত্বের বিপুলতা এখনো যেন ঘিরে রয়েছে আমাদের। তাঁর মৃত্যুর ভেতর দিয়ে অসিত্মত্ব ও অনসিত্মত্বের মাঝখানে ফাঁকটুকুর অকিঞ্চিৎকরতার প্রত্যক্ষ পরিচয়টি এলো আমাদের অনেকের প্রিয় একজন মানুষের মুহূর্তে অমত্মর্হিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। কাইয়ুম চৌধুরী, – বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে পরিচিত একটি নাম, বরেণ্য চিত্রশিল্পী, এদেশে রম্নচিশীল মুদ্রণ-সংশিস্নষ্ট শিল্পের পথিকৃৎ, কবি ও…
-
আবুল মনসুর আহমদ : অনালোকে আলোকিত জন
সৌম্য সালেক ‘Here sleeps Adu Mia who was promoted from class VII to class VIII’ একদিকে শেষ এবং অন্যদিকে অনুত্তীর্ণ-অধপতিতের জন্য বেদনাবোধ যা আবুল মনসুর আহমদের রচনার অন্যতম শিল্পরূপ। কেউ কেউ থাকেন জীবনকে যাঁরা দেখেন সত্যের দুর্বিনীত আলোয়। সময়ের অন্ধকারকে দুহাতে তাড়িয়ে হয়ে ওঠেন তিমিরবিনাশী, আবুল মনসুর আহমদ আমাদের উপমহাদেশের ভূগোলে তেমনি এক ব্যতিক্রম নাম।…
-
বাংলাদেশের কবিতা : ভাবরূপের পালাবদল
রফিকউলস্নvহ খান জীবনের বৈচিত্র্য, তার সংঘর্ষ ও গতি, প্রত্যাশা ও অচরিতার্থতা, সংক্ষোভ ও যন্ত্রণা এবং সর্বোপরি সংগ্রাম ও আত্মসন্ধানের সমন্বিত পরিচর্যায় বাংলাদেশের কবিতার চেতনাজগৎ নির্মিত। বিগত প্রায় সাত দশকের বাঙালি-মনের রূপ ও রূপামত্মরের ইতিহাস কবিতার শিল্পশরীরে ধরা পড়েছে। চেতনার বিবর্তনের সঙ্গে-সঙ্গে কবিতার ভাবরূপ, শব্দ, ছন্দ, অলংকার ও চিত্রকল্পের প্রকৃতিও রূপামত্মর লাভ করেছে। বিশ শতকের চলিস্নশের…
-
পুনর্পাঠে সভ্যতার সংকট
সনৎকুমার সাহা সম্ভবত এটি তাঁর চেতনায় সঞ্চিত ও উদ্ভাসিত মননশীল শেষ পূর্ণাঙ্গ গদ্য রচনা। ‘সম্ভবত’ বলছি, কারণ, আমি পড়িনি, এমন আরো লেখা থাকতেও পারে। টুকটাক কথোপকথনে তারপরেও তাঁর তখনকার মানসভুবনের আভাস ফুটে ওঠে নানা জায়গায়। তাদের স্মৃতিচারণ করে গেছেন কেউ-কেউ। কিন্তু সুসমন্বিত সুশৃঙ্খল গদ্যে তিনি তাকে বেঁধে একক বৈশিষ্ট্যে তার সবটুকুর প্রতি মানব-সমুদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ…
-
ভাষার জীবন-মরণ
পবিত্র সরকার প্রাথমিক কথাবার্তা : ভাষার ক্ষয়, ভাষার মৃত্যু দীর্ঘদিন পর্যমত্ম আমরা ভাষার মৃত্যু কথাটাকে কিছুটা আংশিক ও খ–তভাবে দেখতে অভ্যসত্ম ছিলাম। ‘ভাষার মৃত্যু’ বলতে বুঝতাম পুরো গোষ্ঠী নয়, কিন্তু গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তার কিছু লোক নিজেদের ভাষা ছেড়ে দিচ্ছে, সমত্মানদের সে-ভাষা শেখাচ্ছে না – তাকে ব্যক্তিগত বা পরিবারগতভাবে ভাষার ‘ক্ষয়’ বা loss…
-
ফিরে দেখা কবিতা সিংহ
প্রমিতা ভৌমিক কবিতা সিংহ তাঁর ‘মহাশ্বেতা’ কবিতায় লিখেছিলেন : তুমি কেন তিনশ’ বছর আগে এই ভুল পৃথিবীতে এলে? (‘মহাশ্বেতা’, হরিণা বৈরী) কবিতাটি তিনি উৎসর্গ করেন মহাশ্বেতা দেবীকে। এই একই কথা কবিতা সিংহের সম্বন্ধেও প্রযোজ্য। সময়ের অনেক আগেই হয়তো পৃথিবীতে এসেছিলেন কবিতা। তাঁর চিমত্মা-ভাবনা, সাহিত্য রচনা – সবকিছুই সমসময়ের থেকে অনেকখানি এগিয়ে ছিল। এক অদ্ভুত আত্মপ্রত্যয়…






