February-March 2026

  • জীবন বুনে

    কোথাও বোমা পড়লে কেঁপে উঠি, মনে হয়, তোমার কাছে যাওয়ার পথ কি ভেঙে পড়লো আগুনের ধাক্কায়! পথ ভরে আছে মিছিল আর মিছিলে, ক্রোধের বাইরে নয় এতটুকু জায়গাও যেখান দিয়ে আমরা হাত ধরে যাব পরস্পর। গোলাপ চাষ হচ্ছে না, চাষ হচ্ছে হত্যার, চাপাতির আঘাতে টুকরো টুকরো বিকাল তার ভেতর রান্না হয় শিশুদের আর্তনাদ। ভেঙে পড়া রাস্তা…

  • কপোতাক্ষপাড়ে গিয়ে

    কপোতাক্ষপাড়ে গিয়ে শীতের রোদ্দুর গায়ে মাখি। তারপর ফিরে আসি কাঠবাদাম গাছের নিচে। মিষ্টি বউদি এসে কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে আমাকে দেখেন। যেন আমি কোনোদিন একা একা কপোতাক্ষপাড়ে আসতে পারি না। যেন আমি রাজনারায়ণ দত্ত আর জাহ্ণবী দেবীর নামটা শুনিনি। যেন আমি মাইকেল মধুসূদন দত্তের টানে কখনো আসিনি সাগরদাঁড়িতে। যেন আমি কলকাতা আর ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে গিয়ে…

  • কাচের বাইরে কুয়াশার মেঘ

    একটুখানি পানি জমতে শুরু করেছে কাচের বাইরে কুয়াশার মেঘ। ডিপ কালারের একটি স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। রাত বারোটার কিছু আছে বাকি; এই থাকা অর্থহীন নয়। চলো, উপলব্ধি করি কুয়াশা মোড়ানো এক বাংলো বাড়ি; যার কড়িবর্গা নেপালের সেগুনের ফাইবার পূর্ণ এক দোআঁশ মাটির অনুবর্তী হতে চায়। আমাদের দেহলি দরদ উথলায় যেখানে, সেখানে এক রাত্রি কুজ্ঝটিকা…

  • তোমার বাগান ছেড়ে

    ভুল পথে হেঁটে হেঁটে তোমার বাগান ছেড়ে অনেক দূর চলে এসেছি। কুয়াশার অন্ধকারে-ঢাকা দীর্ঘ পথ। কেউ জানে না, বাগানবাড়ির ঠিকানা; তবে কী সব ফুল ঝরে গেছে? এখন এক বিষবৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে আছি একা সব মানুষ খুব ব্যস্ত অস্থির – আমি কি ডালভাঙা জীর্ণ-শীর্ণ মৃত গাছ – আমাকে দেখে না কেউ! এই বৃক্ষের নিশ্বাসও সর্পিলছোবল হয়ে…

  • প্রতিযোগিতা

    মেয়েটা সিগ্রেট খায় কজন পুরুষ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায় সে হাওয়া থেকে সুখপ্রদ ধারণা গিলে নিচ্ছে সে হাওয়া থেকে নিকোটিনের স্বাধীনতা খেয়ে নিচ্ছে লাল রঙের লম্বা নখের ফাঁকে বেনসনের অফ হোয়াইট মুথা বেশ ভঙ্গি দেখায় অপরাহ্ণের মোরাম শুঁষে নিচ্ছে মেয়েটা পুরুষগুলো নিজেরাও সিগ্রেট মুখে দিয়ে মেয়েটার দিকে ধোঁয়া ছুড়ে দেয় অন্তত ধোঁয়া ছাড়ার ব্যাকরণে তারা…

  • বারুদ

    একটু হাওয়া দিক তারপর জানলাটা খুলো, বিরহের পর কাঁদে যতনে মানুষ – ভেজে তুলো পুরনো ডায়েরি পড়ে আছে, ব্যথা সকল পাতায়, একটি লাইন শুধু কালিহীন বুকের ছাতায়। ধরে রাখি শ্বাসমূলে, ঋতু আসে-যায় অলৌকিক বাঁশিতে লেগেছে ঘ্রাণ, সুরগুলো মায়ার অধিক আহা রে শ্রাবণ! সাদা-কালো মেঘগুলো দূরকামী, আমার চোখের ’পরে আসে তারা বেহায়া বেনামি। ভিজে যাচ্ছে ভুলগুলো,…

  • বকুল ফুটেছে কোথাও

    বকুল ফুটেছে কোথাও, বুঝি শোনা যায় পদধ্বনি বসন্তের এইখানে ধূলি-ধূসরিত পথ, বাতাস এখানে ভারী মৃদু ক্রন্দনে ঝরাপাতাদের। অবশিষ্ট কিছু শীত হচ্ছে জড়ো সন্ধ্যায় গোল হয়ে আগুন পোহাবে বলে ছোট একটা মাছ পেয়ে মাছরাঙা উড়ে গেছে কোথাও, খড়কা বিলের ধারে পানকৌড়ি বসে আছে সেই সকাল থেকে! বকুল ফুটেছে কোথাও গাছে গাছে মুকুল এসেছে আমের। শিশুরা নতুন…

  • কথা

    এত কথা কেন বলো তুমি? করো মৌনতার চাষাবাদ ভিতরে-বাহিরে হও কসমিক এনার্জি হও প্রকৃতির মতো গাছ কোনো কথা বলে না গাছ সুন্দর পাখি কোনো কথা বলে না পাখি সুন্দর – নদী কোনো কথা বলে না নদী সুন্দর তুমি কেন বৃথাই         করো কলরব করো শব্দ সন্ত্রাস – হও সূর্যের আলো হও সোনালি বাতাস পাথরের নদী,…

  • শেষ কথা

    যাকে আনন্দের মাধ্যমে এতদূর নিয়ে এলাম তাকে ছেড়ে দিতে হবে দুঃখের মাধ্যমে কষ্টের নিয়মে। যে গাছ নিজ অঙ্গে ফোটালো ফুল উৎসাহের আলোক বরণে তাকেই দেখতে হলো দিনবেলা শেষে ফুলের অমোঘ মৃত্যু – সকরুণ রঙে। পথ শেষ হয়। রং শেষ হয়। সুখের নদীতে নামে ভাটা। একই জল দেহের উল্টো দিকে ফেরা। ফেরায় বোনা সন্ধ্যা ফেরায় বোনা…

  • পিয়ানো

    কুয়াশা পড়ছে খুব অরণ্যের শাখায় শাখায় কুয়াশার তন্তু এমন আলগা হয়ে পড়ে আছে, মনে হয় মায়ের মুষ্টিচালের কৌটা থেকে সুতাগুটি চুরি করে এলোমেলো ছড়িয়ে রাখছে এখানে-ওখানে! হাটফেরা মানুষের এত এত তাড়া মনে হচ্ছে নেকড়ের ভয়ে পায়ে জড়িয়ে নিয়েছে দৌড় এই মুহূর্তগুলোও আমরা হারিয়ে ফেলি বেপারির খুতি হতে পড়ে যাওয়া খুচরো পয়সার মতো। আহা – প্রতিটি…

  • কুয়াশা আশ্রম

    কুয়াশার হিমডানা চেরা এই শীতের সন্ধ্যায় তুমি আমি মুখোমুখি ঝিম পাহাড়ের এক সবুজ কটেজে; হালকা হাওয়া বইতে থাকা বারান্দায় শীতের ছড়ানো পরিযায়ী পাখিদের গান – কটেজের কিছুটা পাশেই জঙ্গলের তাঁবুতে ধীরে উঠে এলো ময়ূরের নাচলিপি! দূর টংঘর থেকে ভেসে আসা পিদিম আলোয় আর চূড়া ভেদ করা রশ্মি দিয়ে দেখতে পাওয়া যায় নিচের বাঁকানো রাস্তা পাহাড়ি…

  • বস্তুত তোমার সুখ নাই

    ৫৫ প্লাস বয়সেও কালেভদ্রে পথমধ্যে সহসা তোমার মুখোমুখি পড়েই যাই, ভীষণ চমকে উঠি! ২৫ বছরের পরিপাটি যুবকের মনোভাব নিয়ে শার্টের কলার ঠিক করি আলতোভাবে চুলের সিঁথি স্পর্শ করি দেখি মনের জোর তো দ্রুতগামী রেলগাড়ি। মুহূর্তেই হাঁটুর জয়েন্টের ব্যথা কমে, ভগ্নপ্রায় মন ভালো হয়, রক্তে অক্সিজেন আরো ভালোভাবে পৌঁছায় অচঞ্চল মস্তিষ্ক ফের জেগে ওঠে! তদুপরি সঠিক…

  • জল তানপুরা

    জানালায় কাঁপে উজ্জ্বল ভোরের কিশোরী-হাওয়া তাকিয়ে আছে সদ্য ফোটা ঘাসছোঁয়া উষ্ণতা আমার ছায়া নিজেই এখন ভবিষ্যতের রথ … আলোর বেগে ছোটে, মাটির বুকে রেখে যায় চিহ্ন দিন গড়ায় – নক্ষত্র কাছে আসে তপ্ত স্মৃতি নিয়ে তাকে ছুঁই, টেনে আনি হৃদয়ের নীল অনুরণনে যা কিছু লুপ্ত, তা নয় আমার ভাষা, বলি সেই গল্প সোনালি ধানের আঁচলে…

  • পানাফুলের দেশে

    বেইজ্জতি করিও না আর। কলঙ্কী করিও না আর। আমি তো তোমার নামে বান্ধিতেছি গান। আমি তো তোমার তরে ছাড়িয়াছি ঘর। ছাড়িয়াছি দেশখেশ, হইয়াছি পর। মিনতি রাখিও তুমি। অধমের। বদনামি করিও না আর। বেইমান বলিও না আর। আমি তো আসিবো ফিরে। মাথায় ময়ূরপুচ্ছ, হাতেতে বাঁশুরি। রজনী ব্যাকুল হবে। হয়তো তখন বারিষ নামিবে। ফুটিবে কদম। তুমিও ধরিবে…

  • আবহমান অস্তিত্ব

    রৌদ্রের ঝলমলে উচ্ছ্বাস, তেজি উত্তাপে দাহ হয় মধ্যাহ্নের নরম শরীর। জলতেষ্টায় মলিন কামিনীর ঘ্রাণ। শীতল জলে ডুবে থাকা চাতকের তৃষ্ণার্ত চঞ্চু জুড়ে আমাদের আবহমান দুঃখগাথা। ধানক্ষেতের সোনালি সবুজ আভায় উঁকি দেয় শেকড়সন্ধানী মানুষের অযুত নিযুত ইচ্ছে। তারা ভেসে বেড়ায় নদীবক্ষে, স্রোতের টানে, মাঝিমল্লার ভাটিয়ালি সুরে। আমাদের দগদগে ক্ষতগুলো এখনো আরক্ত শুঁড় নাড়িয়ে ভয় দেখায়। জাজ্বল্যমান…

  • বাড়ি

    ‘ম্যাঁয় আন্দলিব্-এ গুলশান-এ না আফরিদা হুঁ’                          – মির্জা গালিব তুলট মেঘেরা ওড়ে কখনো উত্তরে কখনো পশ্চিমে জলহাওয়া ভাঙে পাহাড়ি পাথর নেমে আসে ঝরনাতলায় – নদীজলে সে হাঁটে আঁধার ঢাকা গাঁয়ে ।

  • একাকী খুঁজে ফিরছি

    কোনো এক বসন্তের‌ গন্তব্যহীন সন্ধ্যায় ভালোবেসেছিলে – প্রিয় ‘বনলতা সেন’ অনেক পৃথিবীর অতীত কাব্যের শরীরে তোমার ধূসর পাণ্ডুলিপির ’পরে আলোর অজস্র পাতা পড়ে – অন্ধকারে; পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা মুছে ফেলে শতাব্দীর পর শতাব্দী নিভৃতির মর্মমূলে তোমাকেই একাকী খুঁজে ফিরেছি ধানসিড়ি নদীটির তীরে করুণ-বিষণ্ন শালিকের ভিড়ে; ভাবিয়াছি তোমারে বহুদিন পুরনো কলকাতার পথে – নিঃস্বতার দীর্ঘশ্বাসে…

  • সপিনা

    তোমার পাশে বসে আছে সে অ্যালবাট্রস এক বসে আছে আরেক অ্যালবাট্রসের পাশে অক্স, আজ বিকেলের আইভি দুলছে অক্সফোর্ড-এ নরম সপিনা পেয়ে হাসছো বাঘের মতো? বুল, এল ডোরাডোর ডোরাকাটা চামড়ায় বুলাও জিভ সবার ঠোঁটেই খানাপিনা আর ভোগবিলাস গরু, হাঁচি দিয়ো না, গরুড়ের মতো উড়ে যাবে মাল, পাখি, সব।

  • উত্তরাধিকার

    এ ধুলোপথে নিবেদিত ইতিহাসের চাবি; গন্তব্যের শ্রাবণ অবুঝ বণিকের ক্লাউন – থামাও তোমার জুতোর শব্দ। দ্যাখো – পাখি উড়ছে পালকের পাপ; সৌন্দর্যের দায় ঠোঁটে। আমার কৃষক পিতার নিবিড় চর্চায় মাঠ – ফসলের গেরিলা তাঁর লাঙল রোদকথায় পূর্ণ; ক্ষুধাবিরোধী মিছিলের দৃঢ় সমতা। তুমি জানো না অন্ধ, আমি সেই বৃক্ষের বীজ যার পূর্বপুরুষ স্বপ্নের বদলে ফেলে এসেছে…

  • প্রেতের নগরে

    পূর্ণিমার এক রাতে সুরমার বুকে নেমে এসেছিল চাঁদ – একাকী, মায়াবী, নিঃশব্দ দীপ্তি। হঠাৎ ছায়ামানবেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ভূত? না, প্রেতাত্মা! আদতে ওরা চাঁদটাকেই খেতে এসেছিল সুরমার জল ঘোলা করে। শেষতক ঘোলাটে জলে চাঁদের মৃত্যু ঘটে নিভে যায় এক অপার সৌন্দর্য। সেই থেকে প্রেতের নগরে জ্যোৎস্না আসে-না আর। নাগর হেঁটে চলে অন্ধকারে – আলো খুঁজে, আলো…

  • কবিতা

    কবিতা স্বপ্নের মতোই থেকে থেকে উঁকি দেয় চেতনার শৈল্পিক নগরে। ভাবুক মনের ঘরে ঢেউ খেলে শব্দ ছন্দের ব্যাকুল তৃষ্ণা, উজ্জীবিত অলকানন্দা ফুল। বাবুই পাখির ঠোঁট যেরকম ক্রমে ক্রমে বুনে যায় বাসা সেই ধাঁচে কবি তার নিপুণ হাতে এঁকে যায় কবিতার রূপ, বোধ ও অব্যক্ত বেদনার লিপি। কবিতা প্রেমিকার মতোই মাঝে মাঝে দেখা দেয়, মাঝে মাঝে…

  • ফল বেশি দরকার

    ওরা আনন্দিত কণ্ঠে বললো – কবি আপনি আমাদের এখানে এলে আমরা আপনার জন্যে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো! আমি বিষণ্ন স্বরে বললাম – গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল নয় গো! ছোট্ট একটি ফল নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকো! আমি ভীষণ অসুস্থ! এখন আমার ফুলের চেয়ে ফল বেশি দরকার!

  • একটাও কবিতা লেখা হয়নি

    আপন নিউক্লিয়াস মধ্যমণি, নিজ বৃত্তপথ ঘোরাঘুরি বাতাস ভারি আত্মরতির রোলে চোখ অন্ধগলি, দেখে না পড়শি বটপাতাদের রংবদল স্থির নদ, ঢেউ তোলে না পাশে দাঁড়ানো ‘মরিয়মে’র নোনা জল মাথা রাখে না কেউ কারুর কোলে আমার বন্ধ্যা কবিতার খাতায় শুধু শূন্য-শূন্যের লুকোচুরি

  • তাচ্ছিল্য

    তোর নাম কী রে, ক্ষীর বরফের গুঁড়ো গলে যাস, গলে যাস ভাঙাধান কুড়ো উড়ে যাস, উড়ে যাস তোর নাম কী রে, ছায়া অপার্থিব পৃথিবীর ভার্চুয়াল কায়া ভেসে গেছে হরীতকী ডুমুরের বন এ কী প্রবল শ্রাবণ এ কী প্রবল প্লাবন তোর নাম কী রে, মেঘ উড়ে উড়ে যাস ওটা তোর বাড়ি নয়, ভুলের আকাশ