February-March 2026

  • শিরোনামহীন

    শিরোনামহীন

    সত্তরের দশকের শেষ পর্যায়ে চিত্রশিল্পী শহিদ কবীর বাউল সাধক লালনের গানে প্রবলভাবে আলোড়িত ও আন্দোলিত হয়েছিলেন। সে-সময়ে তাঁর চিত্র সৃষ্টিতে লালনের গানের মর্মবাণী বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল। টেম্পেরায় করা বাউল সিরিজের এসব চিত্রে বাউল সংগীতের অচিন প্রেম ও মানবিক বোধের উজ্জ্বল প্রকাশে চিত্রানুরাগীরা বিমোহিত হয়েছিলেন। শিল্পের বৃহত্তর জগতে নিজের শিল্পসাধনাকে ব্যাপৃত করার ইচ্ছা নিয়ে চারু ও…

  • মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন – ‘হারামণি’র সন্ধানে নিরন্তর যাত্রা

    মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন – ‘হারামণি’র সন্ধানে নিরন্তর যাত্রা

    লোকসংস্কৃতির অনুরাগী অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) ছিলেন মুহম্মদ মনসুরউদ্দীনের (১৯০৪-৮৭) প্রিয় সুহৃৎ, গুণগ্রাহী ও সহমর্মী। দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ ও আলাপ ১৯৩১ সালে, রাজশাহী জেলার মহকুমা-শহর নওগাঁয়। অন্নদাশঙ্কর এখানে ছিলেন মহকুমা শাসক আর মনসুরউদ্দীন স্কুল সাব-ইন্সপেক্টর। তাঁদের আলাপ ও ঘনিষ্ঠতার মূলে ছিল লোকসংস্কৃতি। সম্পর্কের সূচনা হয় মনসুরউদ্দীনের তরফ থেকে তাঁর সংকলিত-সম্পাদিত লোকগীতিসংগ্রহ হারামণি (১৩৩৭) উপহার দিয়ে এবং…

  • শতবর্ষ স্মরণ – মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও তার মুখপত্র শিখা একটি আনুপূর্বিক পর্যালোচনা

    শতবর্ষ স্মরণ – মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও তার মুখপত্র শিখা একটি আনুপূর্বিক পর্যালোচনা

    চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারি মাসে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজে’র শতবর্ষপূর্তি। উপলক্ষটি সারা দেশে নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হচ্ছে বলে আশা করা যায়। বর্তমান সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় এই উপলক্ষটি এবার এক নতুন আবেদন বা বাড়তি মাত্রা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। ‘সাহিত্য-সমাজে’র নেতৃস্থানীয় চিন্তক এবং অন্য যাঁরা কমবেশি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, গত শতকে বাঙালি মুসলমানেরবুদ্ধিবৃত্তিক-সাংস্কৃতিক…

  • সৈয়দ মুজতবা আলীর পরাক্রান্ত শিল্পদৃষ্টি

    সৈয়দ মুজতবা আলীর পরাক্রান্ত শিল্পদৃষ্টি

    ফরাসি লেখক জুল রেনার (Pierre-Jules Renard :1864–1910) তাঁর দিনলিপিতে লিখেছিলেন, ‘প্রতিভার প্রশ্নটি পরিমাণ-সংক্রান্ত। প্রতিভা একটি মাত্র পৃষ্ঠা লিখেই ক্ষান্ত থাকে না : লিখে ফেলে তিনশো পৃষ্ঠা। এমন কোনো উপন্যাস নেই যা সাধারণ বুদ্ধি দ্বারা কল্পনাসাধ্য নয়; এমন কোনো বাক্য নেই, তা যত সুন্দরই হোক না কেন, যার নির্মাণ সম্ভব নয় কোনো প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পক্ষে।’ তিনি মনে…

  • জহির রায়হানের কথাসাহিত্যে সমাজভাবনা ও একুশে

    জহির রায়হানের কথাসাহিত্যে সমাজভাবনা ও একুশে

    (১৯শে আগস্ট, ১৯৩৫ – ৩০শে জানুয়ারি, ১৯৭২) জহির রায়হান কীর্তিমান কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার। এই দুটি পরিচয় ছাড়াও গীতিকার, সম্পাদক, প্রযোজক, শিক্ষকসহ আরো অনেক পরিচয়ে পরিচিত তিনি। তবে দুঃখের বিষয়, স্বল্পকালীন তাঁর জীবন। এই অল্প সময়েই তিনি অসামান্য কিছু গল্প ও উপন্যাস রচনা করেছেন। পাশাপাশি করেছেন চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনা। প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। জহির…

  • সিলেটি নাগরীলিপি অতীত-বর্তমান

    দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনপদ সিলেট। ওই অঞ্চলের ছাপাছাপির ইতিহাস অভিনব। বৃহৎবঙ্গে (পাক-ভারত বিভক্তিপূর্ব বাংলা) উনিশ শতকের গোড়ায় বাংলালিপির মুদ্রণ চালু হলেও সিলেটে ছিল এর ব্যতিক্রম। ইসলামিয়া প্রেসের আব্দুল করিম ১৮৬০ সালে সিলেটে প্রথম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ছাপাখানাটি। তাঁর প্রতিষ্ঠানের সূচনা করেছিলেন নাগরীলিপিতে রচিত কেতাব হালতুননবী ছেপে। মুন্সী সাদেক আলী (পূর্বনাম গৌরকিশোর সেন, ৩০ বছর বয়সে ধর্মান্তর) এই…

  • বুনো ফুলের চরণচিহ্ন

    বুনো ফুলের চরণচিহ্ন

    প্রাচীরের ছিদ্রে এক নামগোত্রহীন ফুটিয়াছে ছোট ফুল অতিশয় দীন। ধিক্ ধিক্ করে তারে কাননে সবাই – সূর্য উঠি বলে তারে, ‘ভালো আছ ভাই?’ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ‘উদার-চরিতানাম্’, কণিকা ষড়ঋতু ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বিচিত্র ফুল ও ফসলের এই বাংলাদেশে ফুলের প্রসঙ্গ এলেই রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ে। দেশি-বিদেশি কত ফুল যে তিনি আমাদের চিনিয়েছেন, নামকরণ করেছেন, অচেনা…

  • ‘দেউস সিভ নেচুরা’ : স্পিনোজার দর্শনে ঈশ্বর, প্রকৃতি ও নৈতিকতা

    ‘দেউস সিভ নেচুরা’ : স্পিনোজার দর্শনে ঈশ্বর, প্রকৃতি ও নৈতিকতা

    প্রায় চারশো বছর আগের কথা। সতেরো শতকের আমস্টারডামের এক অভিবাসী-পল্লি। হেমন্তের এক বর্ণিল দিনে মিখাইল স্পিনোজা আর হানা ডেবোরাহ দম্পতির ঘরে এলো দ্বিতীয় পুত্র। মা হানা আদর করে সন্তানের নাম রাখলেন ‘বারুচ’। হিব্রু ভাষায় নামটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Blessed, অর্থাৎ আশীর্বাদপ্রাপ্ত। নামকরণ সার্থক হয়েছে নিঃসন্দেহে। আশীর্বাদ না থাকলে কি পৃথিবীর সেরা দার্শনিকদের একজন হওয়া যায়! বার্ট্রান্ড…

  • বাবার যত বাণী

    বাবার যত বাণী

    বাণী একটা ভারি পদ। আবার মানুষের সৃষ্টির সঙ্গে এর জন্ম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুখের কথা বাণী। বাণী বিদ্যাদেবী সরস্বতী। যাকে আমরা বীণাপাণিও বলে থাকি। বাণী বলতে সাধারণত বুঝি কোনো গুণীজন বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তির আশীর্বাদ বা জ্ঞানমূলক বক্তব্য। আর একটি প্রধান অর্থ, একজনের সারা জীবনের সারকথা, যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। যেমন সক্রেটিসের উক্তি : নিজেকে…

  • বৃক্ষ

    বৃক্ষ

    তরু পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। শিশুবেলাটা আনন্দেই কেটেছে। যেই একটু বড় হলো, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, যন্ত্রণাটা তখন থেকে শুরু। স্কুল বন্ধ। নির্জন দুপুরে জানালার ধারে বসে তরু একটি বই পড়ছে। কিছুক্ষণ পরপর ফ্রকের ঝুল দিয়ে চোখ মুছছে। তরুর খুব কষ্ট হচ্ছে। বইটি রেখে দিলে তার কষ্ট বন্ধ হয়। কিন্তু বইটি সে রাখতে পারছে না। বরং কী…

  • মোমিনউদ্দিনের দিগদারি

    মোমিনউদ্দিনের দিগদারি

    মোমিন সাব নাকি একলা মানুষ! বিজন, এক ভাবের মানুষ? মানুষটার ঘরভর্তি স্ত্রী, পুত্র, নাতিনাতকুর, আত্মীয়স্বজন, ভাই-বেরাদর। গুষ্টি-ইষ্টি-পড়শি। সেই মুরুব্বি একলা কেমনে? সত্য, ঘরভরা স্বজন, হইহল্লা। … কপালি মানুষ, সম্মানী মানুষ, জানেওয়ালা মানুষটা। তাঁর ভাবের দুনিয়া, জাহেরি বাতেনি সকলের মগজে আঁটে না। নুরানি সুরুতের মুরুব্বির আশেকে দিওয়ানা, মহল্লার সহজ-সরল এমনকি কূটকচালি জনমানুষ। জন্মভিটার আদি ঢাকাইয়া কুট্টিজনও…

  • কৃতজ্ঞতার বনবাস

    কৃতজ্ঞতার বনবাস

    সকালহাঁটাটা ডিসি হিল পার্কেই সারেন অখিলেশবাবু। বাহাত্তর পেরোনো বয়স। বাহাত্তরের থুত্তুরে বুড়া – এই কথাটি অখিলেশবাবুর জন্য খাটে না। জমাটবাঁধা শরীর না হলেও পেশিগুলো ঢিলেঢালা হয়ে যায়নি এখনো। লম্বাতেও কম না তিনি। পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি। তার শরীরে দোষ যে নেই, তা কিন্তু নয়। ওজনটা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি। সাতাত্তরের স্থলে আশি কেজি। ডায়াবেটিস একটু…

  • অশরীরী

    অশরীরী

    এখানে এসেই থেমে পড়ে সামিউল। প্রায় তিরিশ মিটার দূরের বাড়িটি ইথারে অদ্ভুত নিশ্চুপ কণ্ঠে ডেকে যায়। ‘আয় সামিউল, এখানে আয়। আয় রে।’ সামিউল সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে থাকে ক-মুহূর্ত। তারপর পুনরায় সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দেয়। অনেক কাজ। যেতে হবে বেশ দূর। একদিন সত্যি সত্যি ওই বাড়িতে যাবে। কী আছে সেখানে? কে ডাকে তাকে? অচেনা হিম হিম…

  • ফ্লাইওভার

    ফ্লাইওভার

    এক ফ্লাইওভার এই তল্লাটে নতুন এসেছে। ফ্লাইওভার আসার আগে এখানে শুধু রাস্তা ছিল – মাটির ওপর দিয়ে চলা একটা সরল জিনিস, যেখানে হাঁটতে গেলে পা লাগত মাটিতে, চোখ পড়ত সামনে, আর মানুষের সঙ্গে মানুষের দেখা হতো প্রায় সমান উচ্চতায়; কিন্তু ফ্লাইওভার মানে হলো মাথার ওপর দিয়ে চলা রাস্তা, যেখানে আয়েশ করে হাঁটা যায় না, এমন…

  • মিতুর জন্মদিন ও একটি ছবি

    মিতুর জন্মদিন ও একটি ছবি

    রাতে খাবার সেরে স্ত্রীর হাতে যত্ন করে বানানো পানটা মুখে পুড়ে নতুন কেনা সোফায় হেলান দিয়ে হোসেন আলী বলে, ‘কী, কেমন লাগতাছে, ভালা না?’ স্বামীকে দেওয়ার পর এবার নিজের পানটা মুখে চালান করে দিলো শানু। পানটা বেশ ঢাউস সাইজের হওয়ায় মুখের ভেতরের প্রায় সবটা জায়গা দখল হয়ে গিয়েছিল। এমনিতে পান সে বেশ সময় নিয়ে আরাম…

  • দেল বকসের নবাবি খোয়াব

    দেল বকসের নবাবি খোয়াব

    মাঘ মাস সবে শুরু, শীতের কামড় ততটা নেই এবার। মানুষের চাঞ্চল্য কমতে থাকে। বাড়ে পরিযায়ী পাখিদের মেলা; বসে নানা জায়গায়, পৌষের চিরকেলে রূপ বদলে গিয়েছিল এবার। মাঘের শীত বাঘের গায়ে – এমন কথা বলার জো ছিল না এবার। হাড়কাঁপানো শীতে কাবু ছিল তামাম মানুষ। মাবুদ আর জার দিও না – এমন কথা বলছে অশীতিপর বাসমতি…

  • ইশতাহার

    ইশতাহার

    ছিঃ! ছিঃ! ছিঃ! অকস্মাৎ একদলা ঘৃণা আমার গায়ে এসে না পড়লে আমি বোধহয় কখনোই এ-গল্প লিখতে বসতাম না। যদিও চার বছর ধরে সময়ে-সময়ে রাগ, ঘৃণা, অপমানের নানা ছিটেফোঁটা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পেয়ে এসেছি; কিন্তু গায়ে মাখিনি। সম্ভবত এর কারণ ছিল, মানুষ যখন নিজের মনে জানে সে অপরাধী নয়, তখন তার মনে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেকে…

  • দ্বৈত

    এই যে এখানে এলে বাদামের খোসা পেলে        অবশিষ্ট হাতে যাকে ভাবলে বাওবাব সে একটি নৈশ ক্লাব        ফুরায় প্রভাতে সকালে এমনই তোর তৈরি হয়েছিল ঘোর        কীভাবে বেরোবি নতুন বর্ষ আসে ডোবা তাতে পোকা ভাসে        বিধ্বস্ত ছবি পদ্ম যে অবিচল তোর কী হয়েছে বল্       কালো দেখছিস পিরিচে সাজানো বেল নাগলিঙ্গমে উদ্বেল      …

  • আমার মৃত্যু হবে, তবু বেঁচে থাকবো

    আমার মৃত্যু হলে ভাববে সব চুকেবুকে গেল আমি আর থাকবো না কোথাও, কিন্তু আমি তো যাবো না এই লোকালয় ছেড়ে – শূন্য কফিন নিয়ে আমাকে গোর দিতে যাবে তোমরা অঝোরধারায় বৃষ্টি ঝরবে তোমাদের চোখের অশ্রু আর বৃষ্টির জলের মিলিত ধারায় সহস্র চাতক তৃষ্ণা মেটাবে, পিপাসার্ত আমি কোথাও জল খুঁজে পাবো না, কোথায় সে অবিরল ঝরনাধারা…

  • কফি কাপ

    অবহেলায় পড়ে থাকা কফি-কাপ আমাকে নাড়িয়ে দিলো তা শুধু স্মৃতি নয়, বরং এমন গল্প যা ফুরায় না কোনোদিন – আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম এত নিঃসঙ্গ পড়ে আছো কেনো কাপ নড়েচড়ে বসলো – আর শুরু করলো অবরুদ্ধ সময়ের গল্প : সেই নারী যে ভালোবাসতো তোমাকে – সে তার ঠোঁটের তুলিতে রংধনু এঁকে ছিল কপালে ধূসর আকাশ…

  • আলাপ

    – সীমাবদ্ধ গল্পের ভেতরে থেকে জীবনের মহিমা বুঝবে না। এর জন্যে প্রয়োজন উড্ডয়ন, প্রতিকারহীন সর্বজাল ছিন্ন করা অহমিকারিক্ত এক নম্র অভিযান, অভিমান-পরিত্যাগী বেদুইনের পরম              যাত্রা-পথ – বৃত্তভাঙা চাঁদের আলোর নিচে চোখ বন্ধ রাখা এক ধীমান প্রতিজ্ঞা, শূন্য হাতে শূন্য ক্রোধ শূন্য মুঠি শূন্য শোক-জাল আর বিস্তারিত অসীমের অবাধ ঠিকানা – আলো জ্বালো, আলো ফেলো…

  • বসন্তের উদার সৌন্দর্য

    ইটবাঁধানো কষ্ট নিয়ে          বসন্ত এলো,        কাঁচামাটি দিয়ে তৈরি ঘরে! বসন্তের অন্তরা খুলে ঘনিষ্ঠ হবো   অন্তরাত্মা শান্তি পাবে বলে     আমিও সবুজের মূলধন নিয়ে  নিজের হৃদয়ে সম্পাদকীয় লিখতে চেয়েছিলাম! কিন্তু এবারের বসন্তে –    যে কুঁড়ি ফুটতে চাইছিল,       তা আর ফুটল না –          পুষ্পবাগানও হতবাক হলো! বসন্তের দিনেও আত্মকলহ ও আত্মকর্তৃত্বে…

  • ভালোবাসা নিঃশর্ত হোক

    ভালোবাসা নিঃশর্ত হোক যেমন নিঃশর্ত হয় ভোর  জলপতনের ধ্বনি। সবাই নিসর্গে যাবে  যেমন নিঃশর্ত যায় নদী  বীজপাতা খুলে দিয়ে যেমন উদ্ভিদ  হৃদয়ে ধরিত্রী মাখে। যেটুকু ধরেছো তুমি  লুকোছাপা-খেলা দুই হাতে  তারও বেশি  ঝরে পড়ে নীল নীলাকাশ হতে  পাখিদের মৌনতা ভাঙে রাতভোর, প্রাতে। ভালোবাসা নিঃশর্ত হোক যেমন নিঃশব্দ বাড়ায় হাত ঘুমছায়া বট গোধূলির আঙুল ছুঁয়ে চুপে  ঘন হয়ে নামে রাত আমাদের ঘরে যেমন নিঃশর্ত ছড়ানো এই ট্রপোস্ফিয়ার  হিরণ ধূলির পথ, পলি সমতল  আর আলো ফুটলেই আয়নায়  অবলীলায়িত কারো ছায়াপাত –  আমাদের বোধের ভেতরে  বীজফোটা দিন, ছায়াময় ব্যাকুলতা  নদী ও প্রভাত …

  • ঈশ্বরীয় বিশ্বাস ও অবিশ্বাস

    ঈশ্বর আছেন অথবা ঈশ্বর নেই – এ দুই এর মধ্যে ঝুলে আছি ঘড়ির পেন্ডুলাম হয়ে অথচ নিতান্ত মূর্খ এক হাটুরে বললো, দৃষ্টিগ্রাহ্য সবকিছুই বিশ্বাস করতে নেই, তেমনি অদৃশ্য যা কিছু, সবটুকু মিথ্যাও নয় আছেন অথবা নেই এর মধ্যেও ঈশ্বর খুঁজেছি, বিশ্বাসের মজবুত রজ্জুতে বন্দি ঈশ্বরের কালো চশমাটা খুলে দেখি আমারই প্রতিবিম্ব