February
-
চিত্তরঞ্জন দাশ ও বাংলা সাহিত্য
মোরশেদ শফিউল হাসান চিত্তরঞ্জন দাশের (১৮৭০-১৯২৫) পরিচয় প্রধানত একজন ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় দেশনেতা হিসেবে। দেশবাসী ভালোবেসে তাঁকে ‘দেশবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে (১৯২০), তাঁর আসল নামটি আজ প্রায় যার আড়ালে চলে গেছে। উপমহাদেশ বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলায় হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে মানুষের এতখানি শ্রদ্ধা ও সম্মান তাঁর আগে বা পরে বোধ করি আর কোনো রাজনৈতিক নেতার…
-
‘তোমারি ঝরনাতলার নির্জনে’
সুধীর চন্দ পদ্মার পারে লালন ফকির গান গেয়েছিলেন, – ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায় তারে ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতাম তারি পায়’ – এই অচিন পাখি রবীন্দ্রনাথকে চিরমুগ্ধ করে রেখেছিল। জীবনভর তিনি অচিন পাখির খোঁজ করে গেছেন। পেয়েছিলেন কি-না বলেননি। খোঁজাটাই আসল। আমরা রবীন্দ্রের মধ্যে অচিন পাখির ঠিকানার আভাস কখনোবা পেয়ে যাই। রবীন্দ্রনাথ অচিন…
-
নিখোঁজ
হাসান আজিজুল হক মার-খাওয়া নেড়ি কুকুরের দশা সবুরের। যেন এইমাত্র পাছায় দু-ঘা দিয়েছে গেরস্থ, কেঁউ-কেঁউ করে সেখান থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আসতেই পড়েছে পাড়ার নেড়ি কুকুরগুলোর পাল্লায়, তারা তাকে তাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে একটা পচা ডোবায়, নাকানি-চুবানি খাইয়েছে। তারপর থেকে সে ল্যাজ নামিয়ে বেশারতুল্লার দেওয়া গরুর গাড়িতে মাঠে-মাঠে কেবলই ঘুরে বেড়াচ্ছে। শরীরটা পচা পানিতে ভিজে ন্যাতা, ল্যাজটা…
-
সেই সন্ধ্যাগুলো
চঞ্চল শাহরিয়ার সেই সন্ধ্যাগুলো কাকে তুমি দিয়ে দাও রোজ টিভি রুম থেকে বেরিয়ে বারান্দা তারপর পড়ার টেবিল আর হালকা সাউন্ডে আসিফের গান। আজ কার কথা ভেবে পার করো সন্ধ্যা কফিতে মুখ রাখতে গিয়েও ভাবছো এই বুঝি এলো দুরন্ত কিশোর। অবুজ কিশোর আর ফিরবে না কোনোদিন তবু কার জন্য যতেœ রাখো সন্ধ্যা কেন ভাবো যদি একবার…
-
সুন্দরবনে
আলতাফ হোসেন এক হালকা মিষ্টি তরঙ্গে ভেসে যেতে যেতে তানপুরায় গান করবে ভেবেছে। পান করবে মালাই চা পুরনো ময়মনসিংহের। ‘বন্ধু’ শব্দটি আসবে ফিরে। বন্ধুদের সঙ্গে জমবে আড্ডা খুব। একে একে নিবৃত্তিবুয়া, মশকুর আলি খান গেয়ে চলে গেলে বেহালায় ওই মেয়েটি ছড়ে টান দিতে-দিতে গলায়ও উঠবে গেয়ে কেদার গেওয়া ঘিরে কেওড়া শ্বাসমূল সন্ধ্যায় ডুবে গেলে কালোটুপি…
-
আলোহাসির প্রতিধ্বনি
ইকবাল আজিজ ঝড়ের মাঝে সাগরজলে আলোহাসির প্রতিধ্বনি – শুনতে পাও জীবনজুড়ে বাঁশির সুরে ভাগ্য নাচে? জীবনজুড়ে তারার মেলা জন্ম আছে মৃত্যু আছে বিষাদ বেলা। গভীর কালো কষ্টগুলি শুনতে পাই বৃষ্টি হয়ে বরষা রাতে টিনের চালে – আলোহাসির প্রতিধ্বনি ঘুমের ঘোরে জমির আলে। খুঁজতে থাকি অন্ধকারে আলোহাসির প্রতিধ্বনি কেমন যেন ফুটতে চায় গোলাপ হয়ে রাতের শেষে…
-
সোর্জান
খোন্দকার আশরাফ হোসনে দঘিরি পাড়ে বসে আছ।ি বয়োকুল মন। হাতে বড়শি নইে যে ফাৎনার দকিে মন রুজু করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকবো আকাশে পাক খাচ্ছে ভুবনচলি, তার চোখে আমাকে নর্ঘিাৎ দখোচ্ছে শালকি পাখরি ছানা। তবে সে আমাকে ছােঁ মারার কথা ভাবছে না – সম্ভবত লাভক্ষতরি বক্ররখে গ্রাফ আধকে আঁখরি কোণে দখেে নয়িছেে স,ে এবং…
-
কালো পাখি
শ্যামলকান্তি দাশ মানুষ নয় জন্তু নয় – পাখি। পাখি আমার লোমশ কালো পাখি, বক্ষদেশ বিদ্ধ করে, আর আঙুর ছিঁড়ে খায়। পাখি, আমার বনের কালো পাখি, সামনে-দূরে ধাঁধামজার দেশ, জটপাকানো ডানাপালক নিয়ে বেরিয়ে এসো, দেখি। আবার দিন, বৃষ্টিভেজা ঘন হাওয়ার দিন, দেখতে দেখতে ফুরিয়ে যাক মেঘ, তখন বোঝা যাবে, তুমিও কত রাস্তা চেনো, আর তুমিও কত…
-
সুইসাইড নোট
শিহাব সরকার সুইসাইড নোট তুমি লেখোনি এক পাতা ঘুমের বড়ি গিলেছিলো হাতে গোলাপি কলম, ঘুম আসছিলো তারপর নিশ্চেতনা, পরম বাঞ্ছার ঘুম। তুমি লিখেছো বটে, হাত তোমার ছিলো না। ও-হাতের অলঙ্কার রৌদ্রের সোনালি ফালি ওই হাত যে-দরজা খোলে তা পেরোলে গুহার ভিতরে শোনা যায় প্রতœনদীর ছলোচ্ছলো ধ্বনি। তুমি সুইসাইড করতে পারো না যদিও শুয়ে আছো বাঁ-কাতে,…
-
রুদ্রপলাশ
মারুফুল ইসলাম উপমা আর উৎপ্রেক্ষার ভিড়ে চিত্রকল্প রূপক প্রতীক খুঁজি দুই নয়নে জগৎ দেখার ফাঁকে একটু করে ক্লান্ত দুচোখ বুজি বদলে যাওয়ার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় নিজের ছবি হারিয়ে যায় ভুলে অবসরে এবং অগোচরে রবিশস্য রাখি গোলায় তুলে ফালগুনে যে-বাতাস ডেকেছিল তার কণ্ঠেও ছিল সুধামৃত স্বরবর্ণে এবং ব্যঞ্জনবর্ণে আপন ধর্ম এখনো উদ্ধৃত উৎকণ্ঠিত প্রহর কেটে গেলে নিরাপত্তার…
-
সতেজ-উত্থান
বায়তুল্লাহ্ কাদেরী জীবন যেভাবে কথা বলে তোমার আমার সঙ্গে প্রচ্ছন্ন সন্ধ্যায়, শত শতাব্দীর কোলাহলে এখনো মানুষ সেই নির্জন ভাষায় পৌঁছে যায়… বিবর্ণ বন্ধ্যায় যেসব মাঠের প্রসবের কাল চলে যায় কালান্তরে ওরাও তো জানে একদার সবুজ বর্ষায় উর্বরার মন্ত্রবলে শুরু হয় আমাদের সতেজ-উত্থান, অতএব মথুরায় যে-প্রাণের বীজ সুর তুলে কদম্বের তলে আমাদের প্রেম নেচে ওঠে আজ…
-
তোর নামে পাখি পাঠালাম
হারিসুল হক যা তোর নামে পাখি পাঠালাম যে পাখি খুঁজতে যাবে তোকে দূর কোনো গ্রামে একদিন। যে গ্রামে আমি নেই অথচ সে গ্রামে আমার নামের মতো আর কোনো নাম নেবে খুঁজে যা তোর নামে পাখি পাঠালাম যে নদীতে বান নেই সেইখানে গিয়ে টুকুস মাছের গায়ে ঠোঁট বসাগে যা – তোর নামে পাখি পাঠালাম আমার তো…
