July

  • কুসুম বাগান

    কুসুম বাগান

    নিমতার মানুষ একটা ভয়কে চাদরের মতো গায়ে জড়িয়ে ঘুমায়। ভয়টা হারিয়ে যাওয়ার। পদ্মা এখনো তিন মাঠ দূরে, হয়তো পাড় ভাঙতে ভাঙতে ক্লান্ত, কিছুকাল জিরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু তারা জানে, যে-কোনো রাতে পদ্মা ছোবল মারতে পারে, যখন মানুষজন ঘুমায়, পশুপাখিও। পদ্মা, কেন জানি, রাতটাকেই বেশি পছন্দ করে, কিছু মানুষের মতোই। মুরুব্বিরা বলেন, পদ্মার দশটা ভাঙনের গল্পের সাতটাই…

  • মেয়াদকাল

    মেয়াদকাল

    এক সকালে বাহাত্তর  বছর বয়স পার করে ফৈয়াজ খান হঠাৎ করে রাস্তায় মরে পড়ে থাকেন। উত্তরা মডেল টাউনের প্রশস্ত রাজপথ পেরোচ্ছিলেন। ব্যস্ত রাস্তা – সকাল, বিকাল, রাত্রি বলে কথা নেই – শা-শা করে নানা পদের দ্রুতগতির যানবাহন সব সময় ছুটছে। অত্যাধুনিক জীবনের ফরমেট বদলাচ্ছে। কেবল বদলাচ্ছে না, গতি বাড়ছে। এটা ঠিক, ফৈয়াজ তাল মেলাতে পারছিলেন…

  • মুখোশ পরা মানুষ

    মুখোশ পরা মানুষ

    রিসেপশন থেকে ফোন এলো। ‘স্যার, এক ভদ্রমহিলা আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।’ চায়ে চুমুক দিতে দিতে আসিফ সেদিনকার খবরের কাগজ দেখছিল। এখন খবরের কাগজ আর পড়া হয় না। শুধু চোখ বোলানো। হেডলাইনগুলি দেখা। ওসব হেডলাইন দেখতে দেখতে বলল, ‘কী নাম?’ ‘নাম বলেননি।’ আসিফ তেমন অবাক হলো না। সে যেখানেই যায় এরকম অনেক মহিলাই তার সঙ্গে…

  • অনাহূত স্বপ্নের চিৎসাঁতার

    অনাহূত স্বপ্নের চিৎসাঁতার

    ঘরে ঢোকার মুহূর্তে ভেবেছিল ভেতরটা অন্যরকম হবে। হওয়ারই কথা। বেলা দুপুর, শেষ ফেব্রুয়ারির আলো-হাওয়ায় রমরমা আকাশ-মাটি। কিন্তু তার মন বলছিলদরজা-জানালা আটকানো ঘরে পা দিয়ে দেখবে অল্প ওয়াটের বাল্বে ঝিমঝিমেআলো-আঁধারি। বাস্তবে মোটেও সেরকম হলো না। মাঝারি আয়তনের ছিমছাম ঘর – করপোরেট অফিসে যেমন অভ্যাগতদের জন্য বসার বা অপেক্ষা করার সুব্যবস্থা থাকে। পর্যাপ্ত আলো ঘরের ছাদে-দেয়ালে-মেঝেতে, এসি…

  • কাঁঠালের মরসুম

    কাঁঠালের মরসুম

    দুপুর বেলা এক ধামা রুটি আর ঝুড়িতে দুখানা বিশাল কাঁঠাল যায় মাঠে কাজ করা মুনিষদের জন্য। মাঠের একপাশে দুখানা বাবলা আর শিরিষের আধো ছায়ায় তাদের পেটচুক্তি খাওয়া চলে, জমিদারদের লাগানো দুধে কাঁঠাল আর নতুন গমের রুটি, অমৃত! সন্ধেয় প্রত্যেকে পাবে দশটা করে টাকা – আক্রার বাজারে এই টাকায় কিবা পাওয়া যায়! সকলেরই বাড়িতে বিশাল সংসার…

  • ইছামতী     

    ইছামতী     

    ভবেশরঞ্জন মিত্র মহাশয় আজ ভোর সাড়ে ছয়টায় হাসপাতালে মারা গেলেন। আমরি হাসপাতালের কলকাতায় আরো কয়েকটা শাখা থাকলেও সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের হাসপাতালটা দেশপ্রিয় পার্কের ওদের বাড়ির কাছে বলে এ-হাসপাতালটাতেই ভর্তি করা হয়েছিল ভবেশবাবুকে। তাছাড়া এ-হাসপাতালে মিত্র পরিবারের মেজ ছেলে সুমিত মিত্রের বিশেষ বন্ধু ডা. রঞ্জন হালদার রয়েছেন। ফলে হাসপাতালের ছোটখাটো নানা বিষয়ে অনেক সহায়তা ও রোগীর চিকিৎসার…

  • মিনু মাসির বাসাবদল

    মিনু মাসির বাসাবদল

    এক ‘আমার নাম মিনু। মিনুরানি নাথ। আপনার ঘরটি আমাদের ভাড়া দিলে প্রাণে বেঁচে যাই কর্তাবাবু।’ দুই হাত জড়ো করে বলল মিনুরানি। যাঁকে উদ্দেশ করে বলল, তিনি উদয়ন মিত্র। ‘মিত্রমশাই’ নামে এলাকায় তাঁর পরিচিতি। আরাম কেদারায় আধশোয়া হয়ে একটা বই পড়ছিলেন তিনি। শিশির সমতটীর লেখা ঢাকার বাঈজীদের ইতিবৃত্ত। জমিদার, বাঈজি, সামন্তযুগ, কৈবর্তবিদ্রোহ, সেন-পাল আমল – এসব…

  • কেয়ারার

    কেয়ারার

    সেদিন খবর পেলাম আসমা নেই। ওর মেয়ে ফোনে বলেছে। চমকে গেলাম। এমন প্রাণবন্ত মেয়েটার কী হলো? মেয়ে না বলে ওকে নারী বলা ভালো। আমার সঙ্গে বেশ কিছুদিন আগে আলাপ হয়েছিল। আমরা একদিন পার্কে বসে কথা বলেছিলাম। ও বাড়িতে কখনো কাউকে ডাকেনি। কেন? আসমা বলেছিল – কারো সঙ্গে হাসি, গল্প, কথা বলা ও পছন্দ করে না।…

  • মিথ্যার মতো সুন্দর

    মিথ্যার মতো সুন্দর

    আমাকে বলতে হবে, ভদ্রমহিলা দেখতে আমার মায়ের মতো। কেন, এরকম আকাট একটি মিথ্যা কেন বলতে যাব? যে দুটি চেহারার মধ্যে সুদূর সামঞ্জস্যও নেই, তাদের মধ্যে সাদৃশ্য খোঁজার চেষ্টা কেন করব আমি? তার চেয়ে বরং বলতে পারি, আপনি আমার মায়ের চেয়েও দেখতে সুন্দরী। না, সেটাইবা বলব কেন, এখানে আমার মা’র প্রসঙ্গটি তুলতেই হবে, এমন তো কথা…

  • মোহন আলী বেলুন হাউজ

    মোহন আলী বেলুন হাউজ

    হাউজের সামনে শিশু দাঁড়ায়। চোখেমুখে আনন্দ এবং বিলাস। তার থেকে বড়ো সঙ্গী হাত ধরে টানে। শিশুর দুটো পা ফুটপাতকে খামচে ধরে। জিদে পা আছড়ায়। জুতো বা স্যান্ডেল শু মিউজিকঅলা হলে বাজতে থাকে। সঙ্গী বেলুন কিনে দেবে না। শিশুর চোখ ছলছল। কষ্টতাড়িত। সঙ্গী কিনে দেয়। শিশুর হাতে গ্যাসবেলুনের দড়ি, ছুটে গেলে রঙিন পৃথিবী শূন্য। দড়ি মুঠোতে।…

  • অচেনা চেহারা

    অচেনা চেহারা

    চা-শিঙাড়ার অর্ডার দিয়ে অফিস ক্যান্টিনের কোণে একা বসে আছে শান্তা। ক্যান্টিন এখন প্রায় খালি। দু-একজন আছে এদিক-ওদিক। সাধারণত দুপুর বারোটার দিকে ক্যান্টিন ফাঁকা হয়ে যায়। ফাঁকা সময়টাই বেছে নেয় সে। তুমুল আড্ডার সময়টা এড়িয়ে চলে। অফিস কলিগদের আড্ডা বসে এগারোটা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত। এ সময় গিজগিজ করে ক্যান্টিন। তর্ক-বিতর্ক চলে। সে-সময় কত কথা যে…

  • একটি আকস্মিক উদ্ধারপর্ব

    একটি আকস্মিক উদ্ধারপর্ব

    এক বছরের ব্যবধানে ভায়োলেটের জীবনে ঘটে যাওয়া দুটো ঘটনা তাকে যারপরনাই বিধ্বস্ত করে দেয়। এপ্রিলে মারা গেল তার স্বামী মাইক। সিটি সেন্টারের রাউন্ড চার্চে গিয়েছিল ঈস্টারের প্রার্থনাসভায় যোগদান করার জন্য। সেখানেই অকস্মাৎ বন্ধ হয়ে গেল তার হৃদযন্ত্র। অথচ অল্পক্ষণ আগেও মাইক মনোযোগ দিয়ে শুনছিল প্রিস্টের কথাগুলি। তিনি বলছিলেন, সপ্তদশ শতাব্দীর বিখ্যাত কবি জন ডান এই…