2004

  • সুধীন্দ্রনাথ দত্তের অপ্রকাশিত ছোটগল্প

    সুধীন্দ্রনাথ দত্তের অপ্রকাশিত ছোটগল্প

    রচনা-পরিচয় স্বপন মজুমদার সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-৬০) গল্প লিখেছিলেন বেশ কয়েকটি, যদিও প্রকাশ করেননি একটিও। ১৯২৪-এর গোড়ার দিকে তিনটি গল্প পাওয়া যায় তাঁর খসড়া-খাতায় (এরই একটি Ñ ‘দুকূলহারা’- সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে কলকাতার বিভাব পত্রিকার বইমেলা সংখ্যায় [২৫:২, ফেব্রুয়ারি ২০০৪])। এই গল্পগুলির সংস্কার বা পরিমার্জনের পরিচয় আছে তাঁর পরবর্তীকালের পাণ্ডুলেখের মধ্যে। গল্প লেখার এই উৎসাহ সাময়িক উত্তেজনা…

  • স্বপ্নাবসান

    স্বপ্নাবসান

    অ্যাটর্নি অফিসের আবহাওয়ায়, ভাবভঙ্গি, আসবাবপত্র বা অভ্যাগতবৃন্দের মধ্যে এমন কিছু নেই যার সংস্পর্শে জেগে উঠতে পারে মেদুর-করুণ সুদূর অতীতের ছবি। দেবতাদের স্বাধিকারবোধ সম্ভবত খুব বেশি। একের আসরে অপরে আসতে চান না, বিশেষত আইনের অধিষ্ঠাত্রীর মন্দিরে স্বপ্ন-দেবীর আগমন অত্যন্ত বিরল। কিন্তু আজকে আমার ভাগ্যবিধাতা অন্যরূপ অভিরুচি করেছেন। এই চিরাভ্যস্ত আবেষ্টনে ও প্রতিবেশেও যে-স্মৃতি বাঁধা কর্মে অন্যমনা…

  • অশ্রু ও আগুনের নদী

    অশ্রু ও আগুনের নদী

    ‘হায় আল্লাহ…’ ‘চুপ কর হারামজাদা! তোর জিব আমি কেটে নেব।’  লোকটির লুঙ্গির সঙ্গে গোঁজা চল্লিশ হাজার টাকা টান দিয়ে কেড়ে নিল ইউসুফ। ‘হায় খোদা, আমার এক জোড়া গরু বেচার টাকা। আমার সর্বস্ব, আমি পথের ভিখিরি হয়ে যাব’ Ñ বলতে বলতে কাশেম ফুঁপিয়ে কেঁদে কেঁদে ইউসুফের হাত আঁকড়ে ধরল। সাপের মতো পেঁচিয়ে। নাছোড়বান্দা হয়ে। ইউসুফের পিস্তল…

  • কোকিল ডেকে যায়

    কোকিল ডেকে যায়

    মধু ভোরবেলা উঠে বউকে বলে, ‘বিদায় দে।’ মদিনা স্বামীর হাত ধরে কয়, ‘আজ লয়। কাল যাইয়ো।’ কড়ুই গাছের ডালে কোকিল ডেকে ওঠে। বসন্তের ভোরে কোকিলের ডাকের কী মানে হয় মধু জানে না। সে ফের শুয়ে পড়ে। আরামে নিদ্রা যায়। পরদিন ভোরে মধু আবার বউয়ের কাছে বিদায় চায়। বউ আবার বলে, আজ লয়, কাল। মধু সুবোধ…

  • ‘শিল্পীর দায়িত্ব সততার সঙ্গে তাঁর সময়কে ধরে রাখা। সততা শিল্পের বড় বিষয়।’ – মনিরুল ইসলাম

    ‘শিল্পীর দায়িত্ব সততার সঙ্গে তাঁর সময়কে ধরে রাখা। সততা শিল্পের বড় বিষয়।’ – মনিরুল ইসলাম

    সাক্ষাৎকার গ্রহণ : রফি হক সালটা সম্ভবত উনিশশ চুরান্নব্বই। তুখোড় আবেগের বয়েস তখন আমাদের। আমরা বলতে – আহমেদ নাজীর, রশীদ আমীন, মোস্তাফা জামান আর আমি। মাথার ওপর ছাতা মেলে আছেন রোকেয়া সুলতানা। ‘Dhaka Print Makers’ নামে একটি ছাপচিত্রের দল গঠন করেছি। চোখের মণিতে জ্বলজ্বলে স্বপ্ন আমাদের। বতিচেল্লির ‘venus’-এর পাখায় ভর করে আসে আবেগী কল্পনা। দূর……

  • নিবেদন

    নিবেদন

    সেদিন একটি ছয় বছরের বালক আমাকে প্রশ্ন করল, ‘আচ্ছা, বনমানুষদের গায়ের রং কীরকম ছিল?’ চটজলদি উত্তর দিতে গিয়ে আমি বাঁদর, হনুমান, শিম্পাঞ্জি এবং গরিলাদের পাশাপাশি ওরাং ওটাংদের চেহারাও মনে করার চেষ্টা করলাম। এদের শরীরের চামড়া দেখা যায় না। পুরোটাই লোমে ঢাকা। কারো লোম কালচে, কারো ব্রাউন। এদের যদি বনমানুষ বলা না যায় তাহলে এরাই বনমানুষের…

  • নক্ষত্রের সন্তান

    নক্ষত্রের সন্তান

    মানুষের শরীরের বেশির ভাগই পানি, যদি পানিটুকু আলাদা করা যেত তাহলে দেখা যেত পায়ের তলা থেকে বুক পর্যন্ত পুরোটুকুই পানি। পানিকে আমরা পানি হিসেবেই দেখে অভ্যস্ত, যদিও আসলে সেটি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে তৈরি। পরমাণুর সংখ্যা দিয়ে হিসাব করলে মানুষের শরীরে সবচেয়ে বেশি রয়েছে হাইড্রোজেনের পরমাণু, কিন্তু হাইড্রোজেন যেহেতু সবচেয়ে হালকা পরমাণু তাই সংখ্যায়…

  • কালঘুম

    এতোদিন আমাকে নিয়ে কারো কোনো উদ্বেগ-ই ছিল না। পরিবারের একটা প্রায়ান্ধ মানুষ কোথায় কীভাবে আছে এ-নিয়ে কেউ ভাবতো না। কারণ ছেলে-মেয়েদের ধারণা ছিল আব্বা ঘরের যেখানেই থাকুন বই নিয়েই আছেন                সজাগ। কেবল আহার-বিহারের সময় স্ত্রী একটু তাগাদা দিতেন বলতেন ওঠ… যেন একটা পাথরকে ঠেলে গড়িয়ে নাইতে নিয়ে যাচ্ছেন। আমার খাওয়া হয়ে গেলে এ-বাড়ির…

  • জলাশয়

    জলাশয় বলতে আমি বুঝি আমার মায়ের চোখ, পলকহীন তার সজল চোখের দৃষ্টি, আমার মায়ের চোখ মনে হতেই আমি দেখতে পাই বর্ষার আকাশ; বৃক্ষের ছায়া বলতে আমি বুঝি আমার পিতার দুখানি হাত মাথার ওপরে অনুভব করি শীতল মেঘের ছায়া এই ভীষণ খরায় আমি দেখতে পাই নেমে আসছে অনন্ত বৃষ্টিধারা। এখনো প্রশান্ত ভোর বলতে আমি বুঝি আমার…

  • দাম্পত্য গন্ধ

    স্মৃতির স্রোতে ভাসে ‘খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে’র গান খেলা করে উঠোনে বালিকা দুটি কই মাছের পাতলা ঝোল পাশে সজনে চচ্চড়ি পড়ে থাকে নতুন আলুর দর, পুরোনো ব্রাশে কলপ নিয়ে পেছনের পাকা চুল অপেক্ষার ব্যাকুল ঢেউ ওঠে সন্ধ্যায় আহা, দাম্পত্য গন্ধে যে ভিজে ওঠে চোখ। টেলিফোনের টোকায় জলের পাপড়ির মতো খসে পড়ল সব। বেণিবদ্ধ সংসারে বসেও…

  • সালোকসংশ্লেষ

    সে এক আলোর সঙ্গে সম্পর্ক করেছি কিছুদিন মুখ নিচু করে রাখা আলোটির পবিত্র অভ্যেস আশ্চর্য নরম ভঙ্গি, মুগ্ধ করে ফেলেছিল বেশ Ñ তখনও বুঝিনি, তার লজ্জা, লাস্য, সবই বৈদ্যুতিন… সারা ঘর অন্ধকার, অল্পবয়সি আলোটি মায়াবী দু’চোখে ইশারা নেই, হতে পারে Ñ সেটাই ইশারা টেবিলের অন্যদিকে কোনওদিন জ্বলে গেছ যারা, তোমরা জানো, টেবিলের নিচে থাকে সাংঘাতিক…

  • সঙ্গে যাবে?

    যত দেখছি, তার চেয়েও বেশি দেখছি না বলো আমার মতন তুমি অন্ধ হবে কিনা? সারা শহর অন্ধ, সবাই নিজের মতো দেখে চশমা নিয়ে ওরা যে কারা এই শহরে থাকে ওরাও বুঝি মানুষ, কোনো প্রশ্ন রাখছি না চিনছি আর ক’জন বল, সবাই তো অচেনা স্বজন যারা, পড়োশী কেউ, দূরের আত্মীয় পারলে মিশে এদের নিয়ে খরগোশ হয়ে…