2018

  • কলাকেন্দ্রে ঢালী আল মামুনের একক প্রদর্শনী  ইতিহাস অথবা রূপান্তর

    কলাকেন্দ্রে ঢালী আল মামুনের একক প্রদর্শনী ইতিহাস অথবা রূপান্তর

    আমরা তোমাদের পেছনে ফেলে অনেক দূরে চলে এসেছি! দূর থেকে তাকাও, দেখো তো চিনতে পারো কিনা আমাদের নতুন নতুন শিল্প, নতুন মানুষ?   – পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল হাসানের অগ্রন্থিত কবিতা, পৃষ্ঠা ২৬   ঢালী আল মামুন সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে ভাবেন। সামাজিক অনাচার আর অসামঞ্জস্যকে সামনে তুলে আনেন। ছবিতে তাই আশ্রয় নেয় প্রতীকধর্মিতা। দৃশ্যভাষায় দৃষ্টিনন্দন…

  • তোমার জন্যে

    দিলারা হাফিজ   তোমার জন্যে আকাশ বাড়ি, কবর-ঘাস, পাতালজলে নিমজ্জিত সব কবরের খবর রাখি, মাটির মতো ঠুনকো এমন মরণবানেও জীবন বাজি তোমার জন্যে এখনো আমি যখন-তখন মরতে পারি; তোমার জন্যে অপেক্ষাতুর বৃক্ষটিকে গভীরভাবে ভালোবাসি তোমার জন্যে ধারাপাতের মরণবিলাস কালের-পাতায় যুক্ত করি   তোমার জন্যে সান্ধ্য-ভাষায় এখনো আমি দহন-জ্বালায় চিতায় জ্বলি; তোমার জন্যে, শুধু তোমারই জন্যে…

  • আফসোস

    অলোক সেন   লোকটা খিঁচিয়ে উঠল – কেন যে লেখেন? ধ্যাবড়া এরকম মতিচ্ছন্ন রাগ?   ‘কেন’ – , ওই শব্দটির উৎসমুখ খুঁজতে গিয়ে – আঃ যমুনার সে কি কুলুকুলু…   নৌকা সেই যে ডুবল, কালিদাস একটুও মুচকি হাসলেন না, জয়দেবও লুকোলেন না মুখ চণ্ডীদাস হাসতে হাসতে নেড়ে দিলেন পঞ্চবি ডাল।   বিস্ময় যখন ফাটোফাটো সন্ন্যাসী…

  • বেলাল চৌধুরী শ্রদ্ধাস্পদেষু

    আইউব সৈয়দ   ক.   সমৃদ্ধিকরণের কৌতূহলী সাড়া, পদধ্বনির স্বাক্ষরে বৈচিত্র্যময় নাড়া। শৈল্পিক-ঐশ্বর্যে ভরা, সাহিত্যের ‘ফানুস’, বেলাল চৌধুরী চিরশাশ্বত – উজ্জ্বল মানুষ।   খ.   মুক্ত হাওয়ার বাউ-ুলে জীবন, অন্তর ফুঁড়ানো বোধের উন্মোচন। পতাকাবাহী প্রান্তরে উড়ান ঘুড়ি, নিয়মের ব্যতিক্রমী – কবি বেলাল চৌধুরী।   গ.   সবকিছুতেই আলাদা-ভিন্ন রূপের ভক্তি, দিব্যদৃষ্টির উচ্চারক আহা! অস্তিত্ব দর্শনের…

  • বিদায় বেলালভাই

    পিয়াস মজিদ মানুষের পৃথিবীতে কতদূর এগোল কুমিরের চাষ, মনের সমুদ্রে ধরা গেল কী আকাক্সক্ষার রূপারং মাছ? এইসব গূঢ় প্রশ্নে নিতান্তই নিরুত্তর কফিহাউস বসে থাকে শুধু তোমার অপেক্ষায় – সুনীল স্বপ্ন নিয়ে, শক্তি কক্সবাজার, তিন পাপীর শ্যামল-স্বর্গ, তুষারের শেষ নৌকা আর সন্দীপনের দিবানিশির কলকাতা। অন্তর্জালের এই আকালে খুঁজে ফেরা আমাদের অন্তর্জলী যাত্রা – এক জীবনের সাধের…

  • সমর্পণ

    দুলাল সরকার   আর কোনো বিষয়ের কাছে নিজেকে সমর্পণ করো হতে পারে কৃষকের ইচ্ছের কাছে – হতে পারে সে কোনো প্রবল বৃষ্টি গুচ্ছ গুচ্ছ লতার ভেতর ধুলামুক্ত নির্মল বায়ুস্তরের কাছে বৃক্ষের প্রশান্তি।   হতে পারে শ্বাসরোধী সীসামুক্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাসহীন নির্মল শূন্যের মধ্যে বহুদূরে উঁচুতে উঁচুতে আকাশের টলটলায়মান পৃথিবীকে ঘিরে থাকা অকপট আকাশের বিশুদ্ধ গন্ধের মধ্যে…

  • নীরব অন্ধকারে

    খোরশেদ বাহার   তিনি হাঁটতেন অন্ধকারে জ্যোতিষ্মান এক স্বাপ্নিক পুরুষ তার হাওয়াই শার্টের আস্তিনে ভাঁজ করা নিঃসীম অন্ধকার স্নিগ্ধ পরশমাখা, নির্বাক চেয়ে থাকা এক অপার বিস্ময়। সময়ের সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে এখন তা লুটিয়েছে ধুলায়।   পড়শির দরজায় কড়া নেড়ে জেনেছি এ বাড়িতে ও নামের আজ আর কেউ থাকে না জানালায় উঁকি মেরে দেখেছি সবকিছু ঝকঝক…

  • মা

    মারুফুল ইসলাম   তিন রাত ধরে ঘুমোয়নি মা একবারও তিনদিন মুখে দেয়নি একনলা ভাত আহা রে তার নাড়িছেঁড়া কলিজার টুকরা মাটির নিচে একা একা কী জানি কী করে তার কি আর নাওয়া-খাওয়া-ঘুম আছে নয়নমণি ছেলেকে অন্ধকারে অভুক্ত রেখে দুঃখিনী মার গলা দিয়ে কী করে নামবে ভাতের দলা   শহরে যেতে চাইত না ছেলেটা ছোটবেলায় বাপ…

  • নদী হত্যাকারী

    গোলাম কিবরিয়া পিনু   নদীও যখন শুকিয়ে যায় মদনের লোভে – তখন ধাতুনির্মিত রক্ষাকবচে কী হবে?   নিমগাছের পাতা নেই কারও শরীরে – নদীবিধৌত মানুষেরও ত্বক তৈরি সজারু ও গণ্ডারের চামড়ায়! কী আশ্চর্য কাল এসে যায় লঞ্চ ও নৌকায় চড়ে আছে নদী হত্যাকারী!   কোকিলের স্বর ভূত-পেত্নির স্বরগ্রামে আটকা – অন্নদাতা আর দীক্ষাদাতা আমলকী বনে…

  • ছন্দ

    মাহমুদ কামাল   ছন্দ আমাকে দেখিয়েছে আলো-পথ পথের মধ্যে ছিল না পাথরকুচি খোলা দরোজায় ছিল না নিষেধ রেখা একজীবনেই জেগে ওঠে স্বকীয়তা।   ছন্দ আমাকে নিয়মের মাঝে রেখে জানিয়ে দিয়েছে এভাবেই শুচি রতি ছোট এ-জীবনে কেন যে হুলস্থূল! অনতিক্রান্ত বৃত্তের মাঝে থেকে।   ছন্দ আমাকে ঢেউ হয়ে কাছে ডাকে মিথুন মুদ্রায় চলমান ছবিগুলো রক্তে রক্তে…

  • দুটি কবিতা

    নাসির আহমেদ   অসহ্য সুন্দর ঘ্রাণ   দীর্ঘাঙ্গী সুন্দর তুমি চলে গেলে ঘরময় তীব্র ঘ্রাণ রেখে সেই গন্ধে জেগে থাকে বিনিদ্র কবিতা সারারাত ঘরময় পায়চারি করে এক শিল্পছায়া যেন কিবরিয়ার ষাটের দশকে আঁকা আশ্চর্যসুন্দর নগ্ন নীল বিমূর্ততা।   নিভৃতে তোমার সঙ্গে মুগ্ধতায় জেগে থাকে অস্থির শব্দেরা আসলে তুমি তো নও, তোমার ঘ্রাণের সঙ্গে, তোমার প্রাণের…

  • তিনি বলতেন

    (বেলাল চৌধুরী বরাবর) রবিউল হুসাইন   তিনি বলতেন মানুষ প্রধানত দুই ধরনের – একদল ক্ষণজন্মা আরেক দল কেনজন্মা আমি ওই কেনজন্মা দলের   তিনি শুধু দিতে জানতেন নিতে জানতেন না মানুষের ভালোটাই দেখতেন এবং কীভাবে প্রশংসা করতে হয় সেটা জানতেন খুব ভালো করে   প্রশংসা করতে করতে বিরল দক্ষতায় সমালোচনা করতেন এবং তা ছিল গড়ন-গঠনের…