2024

  • পাহাড়ের ডাক

    পাহাড়ের ডাক

    রাত আড়াইটা। প্রধান সড়ক দিয়ে একটা মালবাহী ট্রাক আসে আর চলে যায়। এরপর দীর্ঘ নীরবতা। বসন্তের ফুরফুরে জ্যোৎস্নায় ফিনফিনে বাতাস বয়ে যায়। দুটো বিড়াল ঝগড়ায় মেতে ওঠে। ফের সব আগের মতো, নীরব। এমন নীরব ঘুমহীন রাত ইস্পাতের ফলার মতো বুকে বিঁধে অস্বস্তি দিতে থাকে। বালিশ উলটাসিধা করে, এপাশ-ওপাশ করেও আরামপদ একটা অবস্থান পাই না। ঘুম…

  • আবুবকর সিদ্দিকের সংগীতবিশ্ব

    আবুবকর সিদ্দিকের সংগীতবিশ্ব

    আবুবকর সিদ্দিক (১৯৩৪-২০২৩) প্রথমত কবি। তারপর গল্পকার এবং ঔপন্যাসিক। কিন্তু গীতিকার হিসেবেও যে তিনি স্বতন্ত্র এবং বিশিষ্ট, সেই পরিচয় যেন কিছুটা হলেও আলোচনার আড়ালেই রয়ে যায়। তাঁর রুদ্রপদাবলী : গণমানুষের গান (২০০৮) নামক বইটিতে সংকলিত গানের সংখ্যা ২২১টি। এগুলির বাইরে হারিয়ে যাওয়া কিছু গান ছিল যেগুলিকে এখন আর হিসাবে আনা যায় না। বিষয়বস্তু বা পরিপ্রেক্ষিতের…

  • কবি মাকিদ হায়দার ও অসীম সাহার চিরপ্রস্থান

    কবি মাকিদ হায়দার ও অসীম সাহার চিরপ্রস্থান

    বাংলাদেশের কবিতাঙ্গনের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র মাকিদ হায়দার ও অসীম সাহা। মাত্র ২২ দিনের ব্যবধানে অনন্তের পথে পাড়ি জমিয়েছেন এই দুই প্রথিতযশা কবি ও লেখক। গত ১৮ই জুন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন কবি অসীম সাহা। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা গত…

  • হেঁটে আসি পুরনো রোদে

    পুরোনো রোদের ভেতর হেঁটে আসি রোজ পুরোনো দিনের গন্ধটুকু ঠোঁটে নিয়ে বসে থাকে গৃহবাসী কাক, আহা দেখো কী অবাক! ছিমছাম সবই আছে শুধু ভাঙা দেয়ালের বিবর্ণ রং মনে দাগ কাটে শিকড়-বাকড়ে কিছু শেষ চিহ্ন কতকাল আগের ঘটনা – হেঁটে যাই ভুলোমন কত কথা আর সুর পিছু নেয়, যা-কিছু আছে সেই নেবুতলা-জামতলা করমচা-বন আর ধুলো-ওড়া পথে…

  • স্মৃতির কলহ

    কী কী থাকে ঠোঁটস্থ? তোমার আনন           কুশল কথা           চলানন্দন           চোখের ভিতর নদীকান্ত।      কিন্তু আমি যাচ্ছি ভুলে যখন আবার দেখছি :           বেশি মাত্রায় শহরিকা,           বসনপ্রভা লোকরঞ্জন,           এলোমেলো ভ্রামণিকা,           অস্থিরতার প্রতিনিধি। নতুন পাঠ করতে গিয়ে          ছাইদীপ্তি ঠোঁটের কাহন,           চর্চানিধি ভ্রষ্ট। ঘটক সময় প্রতিযোগে, কষ্টরেখা বহুরূপী। ভেবেছিলাম          আটপৌরে…

  • সুহৃদ অভিভাবক

    [কবি শামসুর রাহমানের প্রয়াণ মাস স্মরণে] ক . বাঁচার আনন্দ কিংবা যন্ত্রণা, সবসময় বন্দনীয় মনে হয়েছে তার কাছে। যার পরিচর্যার পিঠে পিঠে ক্ষুধার্ত হয়েছিল পাখি শত স্নিগ্ধ সন্ধ্যার উপস্থিতিতে ফিনফিনে পালক মিথের বৈঠকে এসে মুখের প্রচ্ছদে বসেছিল; দৃষ্টির সীমানাটা মেপে ছুঁয়েছিল রূপায়িত সত্যের                             কলকণ্ঠের পরিচয় খ . লোকরুচির দশক শাস্ত্রেরই বিশেষ প্রিয়তা পাখি উদ্বেল…

  • সাঁকো

    পরাবাস্তবের মাঠ থেকে কিছু দূরে এই সাঁকো, ধানিজমি, পাখিদের আলাপচারিতা। তারপর এলনিনোর হঠাৎ আবির্ভাব চোখের পাতায় নেমে-আসা স্বপ্ন থেকে জন্ম নেয় ক্লান্তি, অবসাদ অরণ্যের বাস্তুতন্ত্র লুট হলে ক্যানভাসে কালো রং বেড়ে যায় তারপর হাওয়া ওঠে ভেসে আসে পোড়াকাঠ, অস্থিকলস। ঋতুপরিবর্তনের পথের দক্ষিণ পাশে মূর্তিমান এই ঝড় – স্মৃতিভেজা স্বরলিপি বটপাতা, বৈঠার আওয়াজ চৈত্রের বাঁশির সুর…

  • বৃষ্টিনৃত্য

    ঝাঁক ঝাঁক শাদা পরী নাচছে জানালায় বসে বৃষ্টিনৃত্য দেখছি অন্তহীন কাল দলবেঁধে ছুটে আসে শাদা ঘোড়া ক্ষুরের ধ্বনির সঙ্গে বৃষ্টির কী ভীষণ মাখামাখি ঘোড়াগুলো ঢুকে যাচ্ছে জলের গভীরে কত্থকের বিচূর্ণ মুদ্রায় নিরন্তর কে বাজায় কালের সানাই? কার আঙুল অন্তরীক্ষে দেখায় ম্যাজিক? একবার আমাকে বাজাও অশ^ক্ষুরের ধ্বনির সঙ্গে মিশে যাই

  • বৃষ্টির বাজনা

    কান পেতে আছি কে যেন বাজায় এক অস্থির সেতার ধ্যানমগ্ন শিল্পীর আঙুল ফোটায় অজস্র ফুল নানান রঙের বাহারি নকশা-আঁকা, বিচিত্র ভঙ্গিতে চতুর্দিকে শাদা রক্তপাত ডুবে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি-মাঠ-ঘাট পশুপাখি, শিশুরাও আজ জেগে আছে বাজনাটা কাউকেই ঘুমোতে দিচ্ছে না সারারাত জেগে আছি, কান পেতে আছি

  • বন্ধ করতে হবে

    বন্ধ করতে হবে অতিরিক্ত যা-কিছু অবশিষ্টরা অপেক্ষমাণ দূষণের তালিকায় সেঁটে দাও বিদগ্ধদের নাম যে-ছবি চিৎকার করছে বন্ধুত্বের তাকে হৃদয় দাও। মুদ্রায় নাম লেখা বন্ধ করো চাঁদে যাওয়া বন্ধ করো খাদ্যের গায়ে নাম লেখা বন্ধ করো সূচিপত্র আর নির্ঘণ্ট দিয়ে জীবন চলে না বাহবা দেওয়া বন্ধ করো অভিধান বারবার বদলে যায় বানানরীতি আর জিহ্বার নৃত্য বন্ধ…

  • লম্পট বাতাস

    লম্পট বাতাস সব এলোমেলো করে দিলো রোদের কিরণ মেখে চুপচাপ শুয়ে আছে প্রিয় শাড়িগুলি যদিও রঙিন শাড়ি ব্রা-র স্পর্শ পেয়ে বাতাসকে উপেক্ষা করে রোদের সুষমা নিচ্ছে অপরূপ সৌন্দর্যের লাবণ্য স্ফুরণে নারকীয় হতে হতে অখণ্ড থাকে না আর নীরব সত্তা বাতাসের স্নিগ্ধরূপ নারীর স্নিগ্ধতা প্রকাশিত করে বয়ে যায় দ্বিতীয় সত্তায় লম্পট বাতাস তার কৌমার্য হরণ করে…

  • তোমার জন্যে একটি কবিতা 

    একদিন না-দেখার মর্মার্থ বুঝেছি  তুমি কতো প্রিয় হয়ে ওঠো!  একদিন অভ্যাসের কাঠগড়া থেকে  বেরিয়ে এসে দেখেছি তুমি কতো সুন্দর  অনন্য তোমার রূপ।  আমারই জল যখন মেঘ হয়ে ঘরে ফিরে আসে  বৃষ্টির জল হয়ে  তার বহুগুণ শক্তি।  ওই যে আকাশের দূর ওই যে বহুদূর তার মধ্যে নতুন লুকানো    তার মধ্যে অনেক অমিয়।  তুমি দূরে গেলে…