নতুন বাড়ি

লেখক:

অর্ণব রায়

ম্যাটাডর থেকে মাটিতে পা দিতেই জায়গাটা যেন গাছগাছালি, পুকুর, পাখির ডাক, ঝিরঝিরে বাতাস – সব নিয়ে এক পলকে একেবারে দশ হাতে আপন করে নিল।

দুটো লম্বা লম্বা শ্বাস ফেললাম দাঁড়িয়ে। বেশ ছড়ানো-ছিটানো পাড়া। বা এখনো পাড়া হয়ে ওঠেনি সেভাবে। দুপাশে বেশকিছু কিনে রাখা প্লট। মাঝখান দিয়ে যে-রাস্তা ধরে আমরা এলাম, সেটা শেষ হচ্ছে একটা মাঠের মতো জায়গায়। ডানদিক থেকে বাঁদিকে তাকালে প্রথমে একটা দোতলা বাড়ি। এখনো রং করা হয়নি। সামনে ছোটমতো বাগান করার চেষ্টা চলছে। তার পরে একটা বেশ বড় শান-বাঁধানো চাতাল। আর চাতালের পরেই ছোট দু-কামরার একতলা বাড়িটা। কোনো বাগান নেই। কোনো সীমানা জানানো বেড়া নেই। সবটাই উঠোন। সামনে তিন হাত মতো ছোট বারান্দা। উঠোন থেকে ওঠার জন্য কয়েকটা ইট জড়ো করে সিঁড়ির ধাপ মতন করা আছে। এমনকি প্লাস্টারও করা হয়নি বাড়িটার।

এটা আমাদের বাড়ি। আমার আর মা-র। ভাড়া নয়, একান্নবর্তী ভাগের ঘর নয়। শুধু আমি আর মা। একেবারে নিজেদের। যখন যা ইচ্ছে তাই করার বাড়ি। রাতে দশটার মধ্যে কেন ফেরোনি? দেয়ালে কেন পেরেক ঠুকলে? সকালে চৌকাঠে জলের ছড়া কে দেবে – কিচ্ছু নেই। সেসব কিচ্ছু নেই। আহ্…।

মা কখন ঠুকঠুক করে পাশে এসে কাঁধে হাত রেখেছে। আমি ঘুরে মাকে দেখি। বয়স আস্তে আস্তে অধিকার করতে শুরু করেছে। এখন আর ততটা সটান নেই, সতেজ নেই। চলাফেরায় মাঝে মাঝেই একটা ক্লান্তি ধরা পড়ে। আজ অবশ্য সেসব একেবারেই উধাও। দুচোখ উপচে উৎসাহ আর খুশি ঝলমল করছে। পিঠের ওপর আলতো চাপ দিয়ে বলল, চল, মালপত্রগুলো নামাতে হবে তো!

মালপত্র সামান্যই। ম্যাটাডরের ড্রাইভার আর খালাসিটা মিলে দড়িদড়া খুলছে। আমি মাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরলাম। মা ধরল আমাকে শক্ত করে। অনেক লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত একটা মাথাগোঁজার আস্তানা এই বাড়ি। লড়াই দুজনের দুরকম। মা-র লড়াই বাবা চলে যাবার পরে আমাকে বড় করে তোলা। পৃথিবীর সকলের কাছে নত হয়ে, নমনীয় হয়ে থাকা সবসময়। যাতে আমার কোনো ক্ষতি না হয়। আর আমার লড়াই…

ম্যাটাডর থামার আওয়াজ পেয়ে সামনের দোতলা বাড়ি থেকে মহাদেববাবু বেরিয়ে এসেছেন। বেঁটে ও মোটাসোটা ভদ্রলোকটি হাঁসফাঁস করতে করতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছেন। পেছনে ওর স্ত্রী। এদের কাছ থেকে আমরা বাড়িটা কিনেছি। একতলা দু-কামরার বাড়িটা ছেড়ে ওরা সামনের দোতলা বাড়িতে উঠে গেছেন। বাবার বয়সী ভদ্রলোক প্রায় জলের দরে বাড়িটা বিক্রি করে দিলেন আমাদের। ভেবেছিলাম কিছু গোলমাল আছে বোধহয়। উনি আমার হাতে দলিল দিয়ে বললেন, যাকে দিয়ে খুশি চেক করিয়ে নিতে পারো, কোনো গোলমাল নেই। রিটায়ার করে হাতে কিছু টাকা এলো, আর সামনের জমিটাও কেনা ছিল, তাই ওখানে চলে গেলাম। এখন দোতলাটা করতে গিয়ে ঠেকে গেছি। তাই ওই বাড়িটা বেচা। না হলে, নিজের প্রথম করা বাড়ি কেউ বেচে না। বেশিদিন বাসও করিনি ওখানে। প্রায় নতুনই আছে বাড়িটা।

ভদ্রলোককে কেন যেন ভালো লেগে গেল। দামটাও বেশ সস্তা। আর আগেপিছে কিছু ভাবিনি।

– এসে পড়েছো তোমরা? আসুন আসুন। রাস্তায় কোনো কষ্ট হয়নি তো?

ওর স্ত্রী এগিয়ে এসে মা-র হাত ধরেন। মুখে কিছু বলেন না। দুজন প্রায় সমবয়সী মহিলার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমি বুঝতে পারি, এখানে আমাদের পরবর্তী জীবনটা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ হবে।

মহাদেববাবু ম্যাটাডর থেকে মালপত্র নামানো তদারক করতে থাকেন। ওর স্ত্রী নীরবে স্বামীকে সাহায্য করেন। মাঝে মাঝে দু-একটা কথা বলেন। আমি আর মা বাড়িটার দিকে এগিয়ে যাই।

বারান্দায় উঠে আমি তালা খুলি। বহুবার দেখা হয়েছে এই কয়দিনে। তবু আমরা কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে থাকি। সমস্ত শরীর দিয়ে অনুভব করে নিতে চাই নিজের ঘরের স্বাদ। মসৃণ মেঝেতে পা ঘষে ঘষে গিয়ে জানালা খুলে দিতে আলোয় হাওয়ায় ঘর ভেসে যায়। বাড়িটা কেনার পরেও কিছু টাকা বেঁচে যাওয়ায় এই মেঝেটা করিয়ে নিয়েছি। লাল টক্টক্ করছে নতুন মেঝে। আমি হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে অনুভব করতে থাকি। মা হেসে বলে, পাগল ছেলে। ওঠ্। ঠিক উত্তমকুমারের সিনেমার মায়েদের মতো লাগে আমার মা-কে।

দুপুর হওয়ার আগেই মালপত্র সব ঠিক করে রাখা হয়ে গেল। মহাদেববাবুর স্ত্রী বাড়ি চলে গেছিলেন। যখন ফিরে এলেন, আমাদের কাজ প্রায় শেষের মুখে। আমরা তখন দেয়ালে বাবার একমাত্র ফটোটা টাঙিয়ে রাখছি। মা-র দিকে পেছন ফিরে আছি, তবু জানি মা-র চোখে জল। আজ আমাদের নিজের বাড়ি হয়েছে, সামান্য হলেও একটা চাকরি হয়েছে। আজ তো মা-র বাবার কথা মনে পড়বেই। মানুষটা কিছুই দেখে যেতে পারল না। সমস্ত সুখের দিনেও আমাদের এই দুঃখের জায়গাটা ভরাট হবার নয়।

মহাদেববাবুর স্ত্রী কিছুই জিজ্ঞাসা করলেন না। কিছুক্ষণ পাশে মেঝেতে চুপ করে বসে রইলেন। চোখ ব্যথায় ম্লান। তারপর বললেন, আজই এলেন। এবেলা আর রান্নাবাড়ির হাঙ্গামা করে কাজ নেই। ও-বাড়িতেই যা হোক কিছু মুখে দিয়ে নেবেন। কেমন।

– না না, সে কি? এই তো রান্নার ব্যবস্থা হয়েই গেছে।  আপনি আবার কষ্ট করে… এসব কিছুই বলতে পারলাম না। তার আন্তরিকতার সামনে সব শিষ্টাচারই খেলো মনে হলো।

দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা খুবই সাদামাটা, কিন্তু অত্যন্ত যত্নে করা। ডাল ভাত শাক বেগুনের তরকারি আর ছোট মাছ। খেতে বসে মহাদেববাবুকে জিজ্ঞাসা করলাম, আচ্ছা ওই চাতালটা কাদের? মানে এরকম এতটা জায়গা সিমেন্ট দিয়ে বাঁধিয়ে রাখা…

– আমিও ঠিক জানি না।

উনি মাথা নাড়েন।

– শুনেছি ওই পেছনের জলাটার কাছে নাকি এক সাহেবের ধানকল ছিল। ধানটান শুকোতে দিত বোধহয়।

– সাহেব? কতদিন আগের কথা?

– তা চল্লিশ বছর হবে।

– সে কি? সে তো স্বাধীনতার পরে!

– হ্যাঁ। তাই তো দাঁড়াচ্ছে।

– আশ্চর্য! স্বাধীনতার পরে সাহেব এদেশে ধানকল চালাচ্ছে!

– জায়গাটার নাম আরো আশ্চর্য। টেনিসকোর্ট।

টেনিসকোর্ট? তাহলে টেনিস খেলা হতো বলুন।

– সেরকম কিছু কিন্তু শুনিনি। পোস্টাল অ্যাড্রেসেও লেখা থাকে টেনিসকোর্ট। আমাদের চিঠিপত্রও সব ওই ঠিকানাতেই আসে।

 

টেনিসকোর্ট। টেনিসকোর্ট। মাথার মধ্যে নামটা নিয়ে শেষ দুপুরে মেঝের ওপর শুয়ে থাকি। এখনো ফ্যান লাগানো হয়নি। অথচ একটুও গরম লাগছে না। কি অদ্ভুত আর সুন্দর নাম। টেনিসকোর্ট। চিঠিও নাকি আসে ওই ঠিকানায়। আমারও চিঠি আসবে। আমার নামে আসবে। কোনো কেয়ার অফ ছাড়াই। কিন্তু কে চিঠি লিখবে এখানে? আমার ঠিকানা তো কেউ জানে না। অনিতা? না, অনিতাও আমার ঠিকানা জানে না গত এক বছর। শহর কলকাতাকে আমি ছেড়ে এসেছি। কলকাতার সমস্ত বন্ধুগোষ্ঠী, কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা ওয়েলিংটন পর্যন্ত হাঁটা, রাস্তার প্রতিটি ফুটপাতবাসীর জীবন অলস চোখে দেখা, কঠিন কষ্টকর বাংলা মদের মতো কড়া নেশাতুর জীবন – সব সব। আর অনিতা। কলকাতা আমার কাছে অনেকটাই অনিতা। ওদের সল্টলেকের ফ্ল্যাট। সবকিছু এত গুছিয়ে সাজানো। মাপ মতন। ওর মা-বাবার অগাধ প্রশ্রয়। দীর্ঘ দীর্ঘ দুপুর। ওর কাতর অথচ ঋজু শরীরের ভঙ্গি। একটু ভুল হ্যান্ডেল করলেই শক্ত আর শীতল হয়ে যাবে। মুহূর্ত নেবে না তোমাকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিতে। ছেড়ে এসেছি। পারিনি শেষ পর্যন্ত টানতে। শরীরের কোথাও একটা ফিকে ব্যথা লেগে থাকে। শহর কলকাতা আমাকে নেয়নি। আমিও তাকে ফেলে এসেছি। কে হারল কে জিতল ভেবে কী হবে?

তার চেয়ে এই ঢের ভালো। এই লাল শান-বাঁধানো ঘর। প্লাস্টারহীন দেয়াল। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাব। পাশের ঘরে মা। নিজের বাড়ি। সামান্য চাকরি। দিনের শেষে ঘর-গেরস্থালির কিছু কথা। চড়ুই পাখির কিচিরমিচির। নিজের ঠিকানা। টেনিসকোর্ট। ওই বিপুল বিকট শহরশরীর থেকে মায়ের ছেলে মায়ের কোলে ফিরে এসেছি। আহত, তবু জীবিত তো!

মা এসে আমার পাশে বসে। কম কথা বলা আমার মা। ছোট ছোট সুখ-দুঃখে কাতর হয়ে পড়ে। অথচ বড় বড় শোক সামলে উঠেছে। শক্ত থেকেছে বাইরে। হার মানেনি। কী করে পারে?

আমি মাথা না তুলেই বলি, গ্রিল দিয়ে নিতে হবে বারান্দাটায়। না হলে রাত-বিরেতে…

– দাঁড়া এখনই এতগুলো টাকা গেল। বাড়ি কেনা, রেজিস্ট্রি খরচ। তার ওপর এতগুলো টাকা দিয়ে মেঝে তৈরি করালি। একটু থেমে যা। নতুন চাকরি। অত সইবে না।

আমি বললাম, পোস্ট অফিস গিয়ে জানিয়ে আসতে হবে আমরা এসেছি। চিঠি এলে যেন এখানে দিয়ে যায়।

দুপুর বয়ে যায়। একটা শান্ত নিস্তরঙ্গ প্রায় পল্লিজীবন শুরু করার মুখে আমি আর মা চুপ করে বসে থাকি।

 

দুই

আলমারিটা চারতলায় তুলতে পেছন দিয়ে লাল সুতো বেরিয়ে গেল সকলের।

একে শালা সিঁড়িটা সরু। অন্ধকার আর খাড়া খাড়া। ল্যান্ডিংয়ে পাঁচটা লোক পাশাপাশি দাঁড়াতে পারে না। ওখান দিয়ে ওই পেল্লায় আলমারি তোলা কি চাট্টিখানি কথা! এজন্যেই আমি পইপই করে মাকে বুঝিয়েছিলাম, ও আলমারি আর রেখে কী হবে? বেচে দাও। তোমার বিয়ের আলমারি, ঠিক আছে, কিন্তু ওইটুকু ফ্ল্যাটে ওই আলমারি ঢোকাবে কী করে? রাখবেই-বা কোথায়? তোমার খাটটাও তো কম জায়গা নেবে না রে বাবা। তারপরে ঘরের মধ্যে যে চলাফেরার জায়গাই থাকবে না।

মা-কে যেটা বলতে পারি না, এমনিতেই তো তুমি একটা ঘর অকুপাই করে রাখবে। মেয়েটা বড় হচ্ছে। ওকে একটা আলাদা ঘর দিতে পারছি না। তার ওপর তোমার ওই সমস্ত বিশাল বিশাল ফার্নিচার যদি ঢোকে তাহলে আমার দু-একটা জিনিস যে তোমার ঘরে ঢোকাব তার আর উপায় থাকে না।

বুড়ি বুঝে যায় আমার কথা। রাজিও হয়ে যায়। রাজি না হয়ে উপায়! কিন্তু বাদ সাধে আমার বউ। মাঝখানে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

– কী বলছো তুমি? মা-র বিয়ের আলমারি, ওটা যাবে না! নিশ্চয়ই যাবে। নিয়ে যেতেই হবে।

আরে মোলো যা, এ-মেয়েটা নিজের ভালো যদি একটু বোঝে! আমি এ-সমস্ত করছি কার জন্য? ধুর ধুর। শালা সব সংসারে শাশুড়ি-বউয়ে ঝগড়া। আর একে দেখ, মাকে কিছু বলা হলো কি হলো না, অমনি ফোঁস করে উঠবে। মরগে যা। আমার কী? থাকবি গুদামঘরে। মালপত্র সব খাটের ওপর নিয়ে শুয়ে থাকবি।

আর মালপত্রই কী কম! ফ্রিজ। টিভি। ড্রেসিং টেবিল। ডিভান। আলমারি। গোটা দুয়েক শোকেস। ওফ। যা পেরেছে দুহাতে কিনেছে। এখন শিফট করতে গিয়ে আমার দম বেরিয়ে যাচ্ছে।

ছয়-সাতজন লোক লাগল আলমারিটাকে তুলতে। সরু সিঁড়ি। দাঁড়াবার জায়গা নেই। আলমারি মসৃণ। ধরা যাচ্ছে না। হাত স্লিপ করে গেলে কেলেঙ্কারি হবে। শেষে একজন বুদ্ধি দিলো, সিঁড়ির রেলিংয়ে তুলে দাও আলমারি। তারপর ঘসটে নিয়ে চলো। ওভাবেই তোলা সহজ হলো। কিন্তু চারতলায় উঠে দেখা গেল আলমারির একটা পাশজুড়ে লম্বা একটা স্ক্র্যাচ। আমার মাথা গেল জ্বলে।

– তখনই বলেছিলাম, ওসব ফালতু বোঝা আনার দরকার নেই। এখন এই স্ক্র্যাচ পড়া আলমারি আবার রং করাতে হবে। এমনিতেই এই পায়রার খুপরিটা জোটাতে আমার সবকিছু বেরিয়ে গেছে। এখন আমি মরে গেলে শ্রাদ্ধ করতে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে তোমাদের, সে-খেয়াল আছে? যে যার মতো নবাবি করে চলেছে। খাট, পালঙ্ক, আলমারি – ঢোকাও আরো ঢোকাও।

সবাই শুনছে। মা আমার মিইয়ে যায়। কিছু বলার চেষ্টা করে। পারে না।

কটুবাক্যের স্রোত আমার মস্তিষ্কের মধ্যে তোড়ে বইতে থাকে। শুধু আজকে নয়। প্রায় প্রত্যেক দিন একই ব্যাপার ঘটতে থাকে। টুক কথাতে রেগে উঠি আমি। বুঝতে পারি, সবসময় আমি ঠিক নই। নিজের ভুল কখনো স্বীকার করি না। নিজের কাছেও না। এ-ফ্ল্যাট আমার পয়সায় কেনা। আমি এ-পরিবারের কর্তা। এখানে সব সিদ্ধান্ত আমি নেব। আমার কেয়ার অফে সবকিছু হবে এখানে। সবাই তটস্থ হয়ে থাকবে আমার সামনে। থাকেও। ইরা আর বাবা বলে ঘেঁষ দিতে আসে। না। ইতু সবসময় সতর্ক। কখন পান থেকে কি চুন খসে। আর মা তো ছায়ামানুষ হয়ে গেছে।

তবু কিছুদিন চুপচাপ কাটলেই আমার মাথার ভেতর সুড়সুড় করতে থাকে। ইস্যু খুঁজতে থাকি ওদের বিদ্ধ করার। পেয়েও যাই। নতুন ফ্ল্যাট, নতুন রং করা দেয়ালের আনাচ-কানাচ, মোজাইক করা মেঝে – সব বিদ্ধ হতে থাকে।

ইতু একদিন বলেছিল, তোমার প্রেশারটা বোধহয় ঠিক নেই। এত হুটহাট রাগে যাচ্ছো…।

আমার অসুখ! হাঃ। অসম্ভব।

আমি এখনো সিঁড়িতে প্রতিটি স্টেপ দৃঢ়তার সঙ্গে রেখে উপরে উঠি। চারতলা উঠে যাই একদমে। উঠি আর ভাবতে থাকি, ইতু ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম দেওয়ার কথা আমাকে মনে করিয়ে দেয়নি, ওকে আজ…, ইরা আজকাল স্কুল থেকে ফিরতে খুবই দেরি করছে, নিশ্চয়ই কোনো ছেলেটেলের চক্কর, মেয়েটাকে পেলে…, আর মা-র তো কোনো কথাই নেই…

বাকি জীবন আমি এই অপরিসর সিঁড়িটা ধরেই উঠতে থাকব। হয়তো এরই কোনো ল্যান্ডিংয়ে মোড় ঘুরলে রাখা আছে আমার বা অন্য কারো কৈশোরের স্বপ্নে দেখা বাড়ি। দুটো ঘর। লাল মেঝে। সামনে বারান্দা। বাঁধানো চাতাল। দুপুর গড়ানো বিকেল। অন্য কোনো মা। আর অন্য কোনো আমি।

কিন্তু এসব আমি ভাবি-টাবি না।

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার