উত্তরের পথ

লেখক:

সুজন হাজারী

 

আগুন আছে বাহে, বিড়িটা হামার ধরাও। ট্যাঁকে গোঁজা দেশলাই ঠুকে বিড়ির

মুখে আগুন দিয়ে ধুমছে মারে সুখটান। নিকোটিন তৃষ্ণায় ভিজে সুহৃদের

মন-স্বজনপ্রীতিতে প্যারালাল বন্ধু দুজন।

 

গ্রামের আবাল কাঁচা সড়ক অভিজাত হাইওয়ের পিঠে চড়ে জাহাজ কোম্পানির মোড়ে

উঠে যায়। ধুলো-কাদামাখা নাবালক রাখাল গরুপাল লয়ে যায় মাঠে, সরু পুলের

হাত ধরে নদীপার, হাঁপাতে-হাঁপাতে তেমাথায় থামে।

 

তিন মাথাঅলা দু-একজন সাপুড়ে সাপখেলা দেখায়। বাসযাত্রীরা বাইপাসে নেমে

চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে কাপ-হাতে শঙ্খলাগা সাপের খেলা দেখে ঝাঁপির ভিতরে

ফণা তোলা বন্দি নাগিণী বেণুর আওয়াজে ফোঁপায়। বেলেল্লা বেদেনি নাচুনির বডি

ল্যাঙ্গুয়েজ দর্শকের পেনিট্রেটিং চোখের দৃষ্টি কাড়ে। স্তন আর লিঙ্গ ক্ষেপে উঠে যৌনতার

উত্তাপ পোহায়। বিরহ জ্বলন্ত কয়লার আগুন চিতাদহে পোড়ে বেথেলহাম।

 

আগুনের পথে হাঁটতে জোয়ান মরদেরা সূর্যতাপ গেলে, ফিতে বাঁধা চুলে বিষণ্ণ যুবতীরা

সেক্সুয়াল রাক্ষুসী প্রেমে পড়ে বামনদের পৈতা ধরে টানে। উপার্জনহীন নিরঞ্জন অপরাধীর

মতো সারাদিন শিশুগ্রাম সড়কে ঘোরে ফেরে। বিড়ি টানে। আগুন মুখে পথ হাঁটে উত্তরবঙ্গের

অখ্যাত কোনো এক গ্রামে।