ঐতিহ্য, সমকালীন ভাবনা ও আন্তর্জাতিকতাবাদের উন্মেষ

লেখক: মোবাশ্বির আলম মজুমদার

দ্বিমাত্রিক তলে ত্রিমাত্রিক রূপ কিংবা ত্রিমাত্রিক গড়নে বিষয়কে প্রকাশ করার সেই পরম্পরাগত অভ্যাস ছাড়িয়ে শিল্পকলা এখন সরাসরি দেখার বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও এর বাইরের আটষট্টি দেশের শিল্পীদের কাজ নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এ-আয়োজন বলা যায় বিশদ, আড়ম্বরপূর্ণ।

গত ৩৬ বছরে আঠারোবার এ-প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, এটি এ-অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শিল্পকর্ম প্রদর্শনের উৎসব। দুনিয়া জুড়ে যত চারুকলা উৎসব আয়োজিত হয়ে এসেছে তাতে বাংলাদেশ বিয়েন্নালের একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে নিশ্চিত বলা যায়।

পুরো এশীয় দ্বিবার্ষিক প্রদর্শনীর ৪৮৩টি শিল্পকর্মের মধ্যে বাংলাদেশের ১৯৯ জন শিল্পীর মোট কাজের সংখ্যা ২০০টি। এছাড়া অন্যান্য দেশের ২৬৬ জন শিল্পীর কাজের সংখ্যা ২৮৩টি। এ-হিসাবের দিক থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশের শিল্পীদের শিল্পকর্মের সংখ্যা বেশি। এতে বাংলাদেশের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যেসব মাধ্যমে শিল্পকর্মচর্চা হয়ে আসছে তার একটি সমীক্ষা উঠে এসেছে।

প্রথাগত শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর ধারণার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে যে নবতর আর্ট বা নিউ মিডিয়া, স্থাপন- শিল্প (ওহংঃধষষধঃরড়হ অৎঃ) ভিডিও আর্টের সঙ্গে পরিবেশনা শিল্প বা চবৎভড়ৎসধহপব অৎঃ-এর উপস্থাপন আমাদের দর্শকদের কাছে বিস্ময়বোধক হলেও শেষ পর্যন্ত আগ্রহ তৈরি করেছে।

পূর্বের সঙ্গে পশ্চিমের শিল্পকলার পরম্পরাগত ঐতিহ্য ভেঙে দিয়ে নবতর এই মাধ্যমগুলোর সঙ্গে দর্শক এখনই মানিয়ে নিয়েছেন এমন নয়, কিন্তু দর্শকের অংশগ্রহণ বেড়েছে। দর্শকের আগ্রহ থেকেই বোঝা যায় আমাদের এ-অঞ্চলে শিল্পীদের নিরীক্ষাধর্মী কাজ গ্রহণযোগ্যতা পেতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের শিল্পীদের কাজের বাইরে ইউরোপ-লাতিন আমেরিকা, স্পেন, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, অস্ট্রেলিয়ার শিল্পীদের কাজের সমাবেশ প্রদর্শনীকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

কোথায় যেন এ-আয়োজনে অংশগ্রহণ করা দেশের শিল্পী ও শিল্পকর্মের সংখ্যার চেয়ে দেশের সংখ্যার প্রতি আগ্রহ দেখা যায়।

বাংলাদেশ পর্বে মাস্টার আর্টিস্টদের কাজের প্রদর্শনী থেকে একটি ধারাবাহিক পরিসংখ্যান জানা যায়।

শিল্পাচার্যের কাজের মাধ্যমে এ-গ্যালারির প্রদর্শনী শুরু করে শেষ পর্যন্ত কালিদাস কর্মকারের কাজে এসে থামতে হয়। এ-গ্যালারিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, সফিউদ্দীন আহমেদ, মোহাম্মদ কিবরিয়া, এসএম সুলতান, হামিদুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, কাইয়ুম চৌধুরী, রশিদ চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, নিতুন কুন্ডু, কাজী আবুল বাসেত, আনোয়ারুল হকের কাজে আমরা ধারাবাহিক আখ্যান বা ধরন খুঁজে পাই না। তাতে দর্শক একধরনের ঐতিহ্যিক আধুনিকতা খুঁজে না পেলেও বাংলাদেশের শিল্পচর্চার ইতিহাসের অল্পবিস্তর খোঁজ পান। জয়নুলের কালো স্থূল রেখার দ্রুত চলনে গড়ে ওঠা ‘সাইক্লোন ১৯৭০’ ছবিটি তাঁর কাজের ধরন সম্পর্কে আমাদের জানান দেয়। এভাবে কামরুল হাসানের ‘নাইওর’ ছবিটিতেও চেনা কামরুলকে খুঁজে পাওয়া যায়। বলা বাহুল্য, প্রত্যেক শিল্পীর নিজস্বতায় গড়ে ওঠা শিল্পকর্ম দ্বিবার্ষিক প্রদর্শনীর মর্যাদা বাড়িয়েছে। মাস্টার আর্টিস্টদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত শিল্পীদের কাজ তাঁদের নামের ইংরেজি বর্ণমালা ক্রম-অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। এতে দেখা যায় শিল্পী আবদুস সাত্তার, আবদুল মান্নান, আবুল বারক আলভী, আবদুস শাকুর, আবু তাহের, আহমেদ শামসুদ্দোহা, অলকেশ ঘোষ, আসেম আনসারী, বীরেন সোম, বনিজুল হক, চন্দ্রশেখর দে, ফরিদা জামান, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, গুলশান হোসেন, গৌতম চক্রবর্তী, হাশেম খান, হামিদুজ্জামান খান, জামাল আহমেদ, খালিদ মাহমুদ মিঠু, কনক চাঁপা চাকমা, কেএমএ কাইয়ূম, কালিদাস কর্মকার, মুস্তাফা মনোয়ার, মাহবুবুল আমিন, মাহবুব জামাল, মনসুর উল করিম, মোহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মনিরুল ইসলাম, মোখলেসুর রহমান, মুস্তাফা খালিদ পলাশ, মোস্তাফিজুল হক, মাহমুদুল হক, মোহাম্মদ মহসীন, মুর্তজা বশীর, মোহাম্মদ ইকবাল, নাসরিন বেগম, নিসার হোসেন, নাসিম আহ্মেদ নাদভী, নাইমা হক, নাজলী লায়লা মনসুর, রেজাউল করিম, রফিকুন নবী, রাসা, রণজিৎ দাশ, রোকেয়া সুলতানা, শম্ভু আচার্য্য, সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, শাহাজাহান আহমেদ বিকাশ, স্বপন চৌধুরী, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, শেখ আফজাল, শিশির ভট্টাচার্য্য, তাজুল ইসলাম, তরুণ ঘোষের নিজস্ব ধরন অনুযায়ী করা কাজ। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, মিশর, ফ্রান্স, জাপান, নেপাল ও পোল্যান্ডের আমন্ত্রিত শিল্পীদের কাজ প্রদর্শিত হচ্ছে। গ্যালারিভিত্তিক প্রদর্শনীর মধ্যে ওপেন স্টুডিও প্র্যাকটিস থেকে বারোজন শিল্পীর কাজের আলাদা একটি গ্যালারি রয়েছে। মুক্তশিল্প চর্চার এ-দলটির নাম ‘বিন্দু বিসর্গ’। শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা আঙিনায় গড়ে উঠেছে ভাস্কর্য উদ্যান। নবীন ও প্রবীণ ভাস্করদের কাজ নিয়ে সাজানো হয়েছে এটি।

তিনটি গ্র্যান্ড প্রাইজ ও ছয়টি সম্মানসূচক পুরস্কার পাওয়া কাজ প্রসঙ্গে বলা যায়, পুরস্কৃত কাজ সবসময় দর্শকনন্দিত নাও হতে পারে। এ-কথা বলা যায় যে, পুরস্কৃত কাজের বাইরেও কিছু কাজের দেখা মেলে, যেটি পুরস্কারের বিবেচনায় আনা জরুরি ছিল মনে হয়।

বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে গ্র্যান্ড প্রাইজ পাওয়া শিল্পী সালমা জাকিয়া বৃষ্টির স্থাপনাশিল্প ‘দ্য সুপারহিউম্যান সিনড্রোম’ কাজটি আবেগগত দিক থেকে ঠিক মনে হলেও শিল্প হিসেবে কতটা শক্ত ভিত তৈরি করে, সে-আলোচনা উঠতে পারে। শিল্পী তাঁর ভাষায় এটিকে ব্যাখ্যা করেছেন ‘অতিমানবীয় উপসর্গ’ শিরোনামে। শিশুর অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার নিয়ে তৈরি এ-ভিডিও স্থাপনার সঙ্গে সাউন্ড, পেইন্টিং, কাঠ, কাপড়, খেলনা, লাইট ও প্রজেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। সমাজের নানা স্তরে আক্রান্ত মানুষের জরা-ব্যাধিকে উপজীব্য করে শিল্প-সৃষ্টির ভাবনার সঙ্গে প্রযুক্তির মিশেলে এ-শিল্পকর্মটি নতুন ধারণা তৈরি করেছে।

আতিয়া ইসলাম এ্যানির ‘নান শ্যাল ব্লো দ্য সাইরেন বিফোর ডেস্ট্রাকশন’ (প্রলয়ের পূর্বে কেউ শিঙা বাজাবে না’) ছবিতে মানুষের নানা ভঙ্গির দেহ দেখা যায়। কোনো কোনো দেহের মাথা নেই। কাটা মাথার দেখা মেলে না। কালো চিত্রতলের মাঝে লাল, নীল ও ছাইরঙা মানুষ; একজনের হাতে আধা ছাড়ানো খোসাসমেত কলা। ক্যানভাসের নিচের দিকে সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি গ্রেনেড রাখা। এমন অবস্থার বৃত্তান্ত আমরা অতিসম্প্রতি বাস্তবে পার হয়ে এসেছি। মানুষের এমন ক্ষয়ের সঙ্গে ইতোমধ্যে পরিচয় হয়েছে।

শিল্পকলার ভাষা এখন আর সুকুমারচর্চায় আটকে নেই। আদি শিল্পকলায় যে মধুর রসবোধ, নান্দনিকতার উৎকর্ষ দেখা যেত তার খোঁজে হয়তো আমাদের দর্শক এখনো থাকেন। বিশ্বশিল্পকলার সঙ্গে আমাদের শিল্পকলা যুক্ত হয়েছে। তাকে দেখা হয় প্রতিবাদ আর সমাজের চলতি দর্পণ হিসেবে। আরেকটি গ্র্যান্ড প্রাইজ পাওয়া শিল্পকর্ম আমাদের তা-ই বলে দেয়। কুন্দন জি ভারতীয় শিল্পী, তিনি সমকালীন সমাজভাবনা নিয়ে এঁকেছেন ‘কনটেম্পরারি সোসাইটি ৯৮’ (‘সমকালীন সমাজ ৯৮’); যাতে দেখা যায় – একটি একরোখা ষাঁড়ের দ্রুতবেগে ছুটে যাওয়া। আক্রমণের শিকার হয়েছে এক মানুষ। পেছনে অসংখ্য চেয়ারের সমাবেশ। এমন বিষয় বর্ণনার মাধ্যমে শিল্পী সমাজের চলতি ব্যবস্থাকে প্রতীকায়িত করে নিজস্ব ভাষা তৈরি করেছেন।

সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন কামরুজ্জামান স্বাধীন তাঁর ‘দ্য এলিফ্যান্ট ইন দ্য রুম’ (‘গৃহাভ্যন্তরে হস্তী’) শিরোনামীয় কাজের জন্য। তিনটি হাতির অবয়বকে তিনি আবৃত করেছেন নকশিকাঁথার কাপড়ে। দুটি হাতির সঙ্গে আছে একটি বাচ্চাহাতি। আমাদের আবাসভূমিতে চলে আসা হাতির কথা বলতে চেয়েছেন তিনি। হাতির বাসভূমি মানুষ দখলে নিলে যে-অবস্থা তৈরি হয় তা প্রকাশ করেছেন কামরুজ্জামান। মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদারের ‘ওডিসি’ শিল্পকর্মের তিনটি অংশ। কাঠখোদাই মাধ্যমে একজন নারীর পোশাকের মাটিতে এলোমেলো পড়ে থাকা অংশ নিয়ে এ-শিল্পকর্ম। সম্মানসূচক পুরস্কার পাওয়া প্যালেস্টাইনের শিল্পী মুনথের আল জাবিরির শিল্পকর্ম আলোকচিত্র মাধ্যমে করা। রুপালিরঙা কাগজে প্রিন্ট নেওয়া এর বিষয় হলো – একজন সিঁড়ি বেয়ে উঁচু ভবনে উঠছে, মানুষটির পোশাক কালো রঙের। সারা গায়ে কাঁটা ছড়ানো, এত কাঁটার আচ্ছাদন সয়েও মানুষটি ওপরের দিকে যেতে চায়।

সম্মানসূচক পুরস্কার পাওয়া নাজমুন নাহার কেয়ার ‘দ্য ভাইব’ বা ‘আবহ’ শিল্পকর্মে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ভবনের দেয়ালে করা নকশাগুলোর অংশবিশেষ

অথবা পুরো অংশ নিয়ে আলোকচিত্র তোলা। এ-শিল্পকর্মে পৌনঃপুনিক ফর্ম নেই, একেকটি ফর্মকে উল্লম্ব ও আড়াআড়িভাবে তিনি স্থাপন করেছেন। থাইল্যান্ডের শিল্পী ত্রিরাত শ্রিবুরিন কালি ও কলমে তাঁর ‘বিল্ডিং (‘ইমরাত’)  চিত্রে একটি ভবনের দৈনন্দিন অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তিনি চুম্বক অংশকে বারবার স্থাপন করে বড় একটি ইমেজ তৈরি করেন, যাতে দেখা যায় বড় একটি আবাসস্থলের প্রকৃত চালচিত্র। চীনের সমকালীন এগারোজন শিল্পী বাইশটি কাজের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী চৈনিক শিল্পকলার বাইরে এসে কাজ করেছেন। তেলরঙে আঁকা চীনের উ জুন সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন ‘আয়রন কুকার’ (‘লোহার পাত্র’) শিরোনামের কাজের জন্য। কাজটিতে চা বানানোর কেটলির সারির সঙ্গে উত্তপ্ত ঘরে উল্লম্ব হয়ে আছে একজন চা-দোকানের শ্রমিক। শিল্পী একে বর্ণনা করেছেন ‘আয়রন কুকার’ হিসেবে। চলতি সমাজব্যবস্থা, রাজনীতি, অর্থনীতি, বিশ্ব-রাজনৈতিক সমকালীনতা, বর্ণবাদ, মানুষের সুখ অন্বেষণ, ব্যক্তিগত আবেগ – এসব বিষয়কে অবলম্বন করে শিল্পীরা তাঁদের শিল্পকর্ম গড়ে তোলেন। এ-প্রদর্শনীতে এসব বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে।

ভাস্কর্য ও ক্যানভাস, প্রিন্ট ছাড়াও দ্বিমাত্রিক, ত্রিমাত্রিক শিল্পকর্মের বাইরে সরাসরি পরিবেশিত পারফরম্যান্স আর্ট কয়েক বছর ধরে উপস্থাপিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, স্পেন, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের শিল্পীরা প্রদর্শনী শুরুর প্রথম সপ্তাহে এ-পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেন।

পরিবেশনা শিল্পের স্থিরচিত্র ও ভিডিওচিত্রের প্রদর্শনী দেখে তাৎক্ষণিক পরিবেশিত শিল্পগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। নবতর এ-মাধ্যমে উপস্থাপিত শিল্প নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, বেড়েছে দর্শকদের অংশগ্রহণও।

এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর এ-আয়োজনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কাজের সমাবেশ গ্যালারির দেয়ালে শৃঙ্খলাপূর্ণ প্রদর্শনে বাধা বলে মনে হয়েছে, সেটি হয়তো আয়োজক মহল ভাববেন।

আর্জেন্টিনার দুজন শিল্পী দুই ধরনের কাজ দেখিয়েছেন। একটি হলো মারিয়া ইন্স ডেল রোসারিওর কাগজে কালি মাধ্যমে আঁকা ‘ড্যান্সিং ইন দ্য ডার্ক’ (‘আঁধারে নৃত্য’)। আরেকটি মারিসা কাইচিওলোর ‘নো মোর ব্লাড’ (‘আর নয় রক্ত’)। এটি একটি ভিডিওচিত্র। আর্মেনিয়া থেকে আসা হ্যাগ্প সুলাহইনের মিশ্রমাধ্যমের শিল্পকর্ম ‘হ্যাবিট্যাট’-২ (‘আবাস-২’) নগর সভ্যতার প্রতীকায়ন। অস্ট্রেলিয়ার শিল্পীরা তাঁদের অতিসম্প্রতি করা ডিজিটাল প্রিন্ট, ক্যানভাসে অ্যাক্রিলিক, লেকার পেইন্টিং দিয়ে স্থাপনাশিল্প প্রদর্শন করেছেন। অস্ট্রিয়ার শিল্পী ব্রানাশা গিটার ভিডিও অ্যানিমেশন মাধ্যমে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি দেখিয়েছেন। ক্রিস্টিন সেজান থাস ক্যানভাসে এঁকেছেন ‘লাভ, ফ্রেন্ডশিপ, সলিডারিটি’ (‘ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, সংহতি’)। ভুটানের পাঁচজন শিল্পীর কাজের মাধ্যমে তাঁদের ধর্মীয় উপাসনার ভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়েছে। চীনের সমকালীন এগারোজন শিল্পী বাইশটি কাজের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী চৈনিক শিল্পকলার বাইরে এসে কাজ করেছেন। ডেনমার্কের শিল্পী অ্যান শিফাল রানথে ‘লাভ’ (‘ভালোবাসা’) ও ‘দ্য ক্যাট’ (‘বিড়াল’) শিরোনামে দুটি ক্যানভাসে উজ্জ্বল রঙের ফর্ম গড়েন। শিশু-চিত্রকলার আদলে করা ফর্ম ক্যানভাসে সুসংহত মনে হয়।

মিশরের তিনজন শিল্পীর কাজের মধ্যে মোহাম্মদ ইব্রাহিম আবদাল্লাহ এলমাসরির ডিজিটাল ইমেজটি সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করে। তেরোটি আলাদা ইমেজে মানুষের ক্রান্তিকাল, যেমন – যুদ্ধ, মৃত্যু, দুর্ভিক্ষ, শরণার্থী, আশ্রয়, গণকবর – সব ছবির মানুষগুলোর মাথা ঢেকে দেন গোলাপফুল দিয়ে। এ-শিল্পকর্মটির শিরোনাম – ‘উই আর দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ (‘আমরা পৃথিবীর শেষ’)।

ফ্রান্সের সমকালীন শিল্পের যাত্রা শুরু হয় সত্তরের দশকে। একুশ শতকের ফ্রান্সের শিল্পীরা স্থাপনাশিল্প ও ডিজিটাল আর্ট নির্মাণে আগ্রহী। পৃথিবীর নানা ঘটনা ও বিষয় নিয়ে সমকালীন ফ্রান্সের শিল্পীরা ক্যানভাস গড়েন। এবারের প্রদর্শনীতে ফ্রান্সের দুজন শিল্পী দুটি কাজ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। দালিবার টানকু, এচিং মাধ্যমে ‘প্যারিস বাই নাইট’ (‘রাতের প্যারিস’), ‘ক্যাফে’, ‘লায়ন’ (‘সিংহ’) শিরোনামের তিনটি কাজ এবং মাউরো বরডিন ‘জিরো রিস্কস’ (‘ঝুঁকিবিহীন’) শিরোনামে এনামেল পেইন্টের কাজ উপস্থাপন করেন।

জার্মানির তিনজন শিল্পী তিন ধরনের কাজে জ্যামিতি, ব্যক্তিক দ্বন্দ্ব ও প্রকৃতি প্রকাশকে বিষয় করেন। জার্মানির শিল্পীরা ডিজিটাল যুগে প্রবেশের পরও চিত্রকলার সীমানা অতিক্রম করেননি। বরং তা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক শিল্পকর্মের বিষয়গুলো প্রকৃত অর্থেই এক নতুন ধারণা প্রকাশ করে। আমরা প্রথমে দর্শন, এরপর অনুধাবন, হৃদয়ঙ্গম, উপলব্ধি করি, সবশেষে তা প্রকাশ করি। ভারতের শিল্পকলা প্রধানত শোভাবর্ধক বা শোভাপ্রদ ছিল। পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে ভারতের তরুণ শিল্পীরা যুক্ত হন। প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেছেন নিজেদের অনুভূতি ও চেতনা। ভারতের একত্রিশজন শিল্পীর কাজে ঐতিহ্যবাহী ফর্ম ব্যবহারের প্রবণতা নেই। শোভাবর্ধক শিল্পকর্মের পরিবর্তে ভারতের শিল্পীরা মাধ্যমগত পরিবর্তনে মনোযোগী হয়েছেন।

পৃথিবীর সবচেয়ে ঋদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ ইতালিতে বর্তমানে শিল্পচর্চার গতি কিছুটা কম। তা সত্ত্বেও তেলরং, মিশ্রমাধ্যম, সিল্ক কাপড়ে প্রিন্ট, কাপড়, কাগজ ও অ্যাক্রিলিক মাধ্যমের কাজে সমকালীন সমাজ-ভাবনা প্রকাশ পায়।

জাপানের ছয়জন শিল্পী প্রত্যেকে আলাদা ভঙ্গিতে কাজ করেন। মাধ্যম ও বিষয়ের নিরীক্ষা জাপানি শিল্পীদের কাজের বৈশিষ্ট্য। মাকিজুনো কেনজির ‘আনটাইটেলড’ (‘শিরোনামহীন’) ভিডিওগ্রাফিতে দেখা যায়, একটি শিশুর দিনযাপনের মুহূর্ত।

দ্বীপরাষ্ট্র ফিলিপাইনের শিল্পকর্মে একরকম শোভাবর্ধক আলংকারিক রূপ দেখা যায়। নিকোলাস প্যাডার অ্যাকা জুনিয়রের কাঠের প্যানেল খোদাইয়ের মধ্যে ফর্মগুলো আলংকারিক। প্রদর্শনীর গুরুত্বপূর্ণ দেশ প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া। এদেশের শিল্পীদের শিল্পকর্মের ধরনে চীন, জাপানের কাজের মিল দেখা যায়। কোরিয়ার শিল্পকর্ম মূলত ধর্মীয় উপাসনালয়ভিত্তিক। প্রদর্শনীর কোনো কোনো শিল্পী বাংলাদেশকে উপলক্ষ করে শিল্পকর্ম গড়েছেন। বো সুক লি ‘বাংলাদেশ

এরিরাং-১’ (‘বাংলাদেশ অ্যারিরাং-১’) শিরোনামের ছবিতে কালো কালিতে জ্যামিতিক ফর্ম গড়ে সারফেসকে ভেঙেছেন। ট্র্যাডিশনাল কোরিয়ান কাগজে লাল-কালো রঙের বিন্দুতে ‘স্টার ৫৮০৬১-১’ (‘নক্ষত্র’) শিরোনাম দিয়েছেন শিল্পী নোন তায়ে সাব।

রাশিয়ান শিল্পীদের কাজে রঙের নিরীক্ষা, মাধ্যমের পরিবর্তন নিরীক্ষা বর্তমানে উপস্থিত। তিনজন শিল্পীর কাজের মধ্যে সাবিনা খোসেইনের অ্যাক্রিলিকে করা কাজের শিরোনাম ‘রিগ্রেটস’ (‘অনুশোচনা’)। অন্য আরেকটি কাজে দেখা যায় অন্ধকার ভেদ করে চিৎকার করে বেরিয়ে আসছে একটি মুখ; গাঢ় কালো রঙের চিত্রতলকে আর্তনাদ করা মুখের উপস্থিতি প্রতিবাদমুখর করে। স্পেনের শিল্পকলা রেনেসাঁসের সময় থেকেই আধুনিক যুগে প্রবেশ করতে শুরু করে। ফ্রান্সিস গয়া, পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালি বিশ্বখ্যাত শিল্পী; বিশ্বশিল্পকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্পেনের শিল্পী এলেনা গার্সিয়া মার্টিনেজ ‘আনটাইটেলড’ (‘শিরোনামহীন’) শিরোনামে যে-ভিডিও আর্ট প্রদর্শন করেছেন তাতে একটি তরল প্রবাহকে বারবার প্রদর্শন করেন।

শ্রীলংকার সমকালীন শিল্পকলার সীমানা ক্রমে ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। প্রদর্শনীর ছয়টি কাজের মধ্যে শিল্পী বাড্ডিগামা আরাকেজের অ্যাক্রিলিক রঙে করা কাজটি উল্লেখযোগ্য।

থাইল্যান্ডের শিল্পীদের কাজে পশ্চিমা শিল্পীদের কাজের প্রভাব দেখা যায়। তাঁদের শিল্পকর্মে দেখা যায় বিচিত্র রীতি-কৌশল ও অনুশীলন পদ্ধতি। প্রথাগত নকশাপ্রধান আচরণ থেকে বেরিয়ে এসে জ্যামিতিক বিন্যাস, ফর্মের পৌনঃপুনিক ব্যবহার থাই শিল্পীদের কাজে প্রধান হয়ে ওঠে।

তুরস্কের শিল্পীরা ক্লাসিক্যাল ইম্প্রেশনিজমের চর্চা করে আসছেন। এই নতুন ধারার শিল্পকলায় নানারকম শৈলী ও পদ্ধতির চর্চা দেখা যায়। মিনিয়েচার ভাস্কর্য উষ্ণ রঙের ব্যবহারে উডকাট প্রিন্ট ও অ্যাক্রিলিকের কাজ দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

রাজকীয় শিল্পকলার ঐতিহ্যগত অবস্থানে নিজেদের আবদ্ধ না রেখে আধুনিক জীবনযাপনের নানা আলোড়ন, বিত্ত-বেসাতের অবস্থান প্রকাশ পায় যুক্তরাজ্যের ভাস্কর্য, চিত্রকর্ম, ভিডিওচিত্রে। কনসেপচুয়াল শিল্পকর্ম নির্মাণে তাঁরা মনোযোগী হয়েছেন সম্প্রতি।

যুক্তরাষ্ট্রের বা আমেরিকান শিল্পীরা নানা জাতি-সংস্কৃতির মিশেলে গড়ে ওঠা শিল্পের চর্চা করেন। মার্কিন চিত্রকলার কোনো একক চরিত্র নেই। আমেরিকার শিল্প-আন্দোলন বিমূর্ত প্রকাশবাদ, অ্যাকশন, স্কুলকেন্দ্রিক শিল্পচর্চা আমেরিকার সাম্প্রতিক শিল্পকর্মে প্রভাব ফেলেনি। চারজন আমেরিকান শিল্পীর কাজে আলাদা ধরনের ফর্ম ও রঙের ব্যবহার দেখা যায়। শিল্পী কেট্টা জোয়াননিডোর ‘সান কলাপস’ (‘সূর্য-পতন’) শিরোনামে তেলরং মাধ্যমে আঁকা কাজে বেগুনি ও সবুজ রঙের প্রাধান্য রয়েছে।

বাংলাদেশের ২০০টি শিল্পকর্মের বড় একটি সংখ্যা ভাবনার জন্ম দেয়। একটি আন্তর্জাতিক মানের দ্বিবার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর মধ্যে পৃথিবীর অন্যান্য ৬৭টি দেশের ২৬৬ জন শিল্পীর শিল্পকর্মের সংখ্যা যেখানে ২৮৩টি, সেখানে স্বাগতিক দেশের শিল্পকর্ম ও শিল্পীসংখ্যা বেশ বড় সংখ্যার বলে মনে হয়েছে।

বাংলাদেশের অংশে কিছু কাজের প্রদর্শন একেবারেই অনাকাক্সিক্ষত। তবে কিছু কাজ দৃষ্টিগ্রাহ্য ও উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশে পরিবেশনা শিল্প বা পারফরম্যান্স আর্টের শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে। নিজের দেহভঙ্গির সঙ্গে স্থান, সময় সংশ্লিষ্ট উপকরণ যুক্ত করে পরিবেশন করে নির্দিষ্ট বিষয়। দর্শকদের বিষয় সংশ্লিষ্ট বার্তা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি দিক জানান দেয়, সেটি হলো নান্দনিকতা।

এ-প্রদর্শনীতে নবতর মাধ্যম হিসেবে পরিবেশনা-শিল্প দর্শকনন্দিত হয়েছে। ‘লাইভ স্ট্রিম’ গ্যালারিতে শিল্পীদের পরিবেশিত শিল্পের ভিডিওচিত্র ও স্থির আলোকচিত্র প্রদর্শনীর দর্শককে তাৎক্ষণিক পরিবেশনা থেকে বঞ্চিত করেনি। স্পেনের শিল্পী আবেল আজকোনা পরিবেশন করেছেন ‘স্মল ফিশ : লাইক অ্যা ফিশ ইন ওয়াটার’ (‘ছোট্ট মাছ : জলে মাছের মতো’)।

আবু নাসের রবির পরিবেশনা ছিল, ‘ইভেন বিউটি সারাউন্ড আস দো উই নিড টু গো টু গার্ডেন টু নো ইট’ (‘চারপাশে সুন্দর থাকলেও আমরা বাগানে খুঁজি’)।

অর্পিতা সিংহ লোপার পরিবেশনার বিষয় ‘নস্টালজিয়া’। অতীতকে খুঁজে ফেরে বর্তমান। এভাবে পুরনো বাড়িতে সোনালি কাপড় আবৃত করে তিনি শিল্পে সৃষ্টি করেন অতীতের সঙ্গে বর্তমান।

অসীম হালদার সাগর পরিবেশন করেন ‘ফর গডস সেক, ইট মি, ইফ ইউ ক্যান’ (‘ঈশ্বরের দোহাই, পারলে আমাকে খাও’)। অসীম নিজেকে উপস্থাপন করেন সমাজের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে। সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদের বিপক্ষে নিজেকে প্রকাশ করে দেখান শিল্পী।

চীনের শিল্পী চ্যাং জিং তাঁর পরিবেশনার শিরোনাম দেন, ‘টু অ্যাড ওয়ান মিটার টু অ্যান অ্যানোনিমাস মাউন্টেন’ (‘এক অজানা পাহাড়ে এক মিটার যোগ করতে’)।

বাংলাদেশের ইমরান সোহেল পরিবেশনায় আনেন সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা। গতিশীল পৃথিবীর সঙ্গে নিজেকে মেলাতে গিয়ে ব্যবহার করেন নানা অনুষঙ্গ।

ফারাহ নাজ মুন ঐতিহ্যবাহী ভবনের সুরক্ষা, হারিয়ে যাওয়া নান্দনিক স্থাপত্যের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে পরিবেশনা-শিল্প দেখান। শিরোনাম ছিল – ‘আনকন্ডিশনাল প্যারাডক্স’ (‘নিঃশর্ত বিপ্লব’। এছাড়া ফারহানা আখতারের ‘দ্য গ্রে লিরিক্স অব সাউন্ড পলিউশান’ (‘শব্দদূষণের ধূসর স্বরলিপি’), দক্ষিণ কোরিয়ার জিম গ্যাং চেওলের ‘ফিজিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্ট : দ্য ফিল্ম’ (ভৌত শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র : চলচ্চিত্র’), তুরস্কের লেমান সেভদা পরিবেশন করেন ‘লুকিং আফটার অ্যা রোজ’ (‘গোলাপ সমাদর’), অস্ট্রেলিয়ার মারিসা গ্যারিফার ‘রিচুয়ালস অব হিলিং : ট্রেসেস’ (‘নিরাময়ের রীতিনীতি : চিহ্নসমুদয়’), জার্মানির মারিটা বুলম্যানের ‘আনটাইটেলড’ (‘শিরোনামহীন’), রিপাবলিক অব কোরিয়ার পার্ক কিয়ং হাওয়ার ‘ফিশ বোল’ (‘মাছের বাটি’), যুক্তরাষ্ট্রের প্রিচ আর সানের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম : দ্য ইনভাসন অব দ্য বুম-ব্যাপ’।

বাংলাদেশের সঞ্জয় চক্রবর্তীর ‘লাভ ফর দ্য গোরি নোটস অ্যান্ড ইটস রাইটার’ (‘গোরি নোটস ও এর লেখকের জন্য ভালোবাসা’), সরকার নাসরিন টুনটুনের ‘এসকিউ আইডেনটিটি’ (‘পরিচয় গোপন’), শুভ সাহার ‘ঢাকা গেট’, সুজন মাহবুবের ‘অন্বেষণ’, সুমনা আখতারের ‘স্ক্রিম’ (‘চিৎকার’), জাহিদ হোসাইনের ‘সোশ্যাল ডিজায়ার’ (‘সামাজিক অন্বেষা’), সৈয়দ মোহাম্মদ জাকিরের ‘রিফ্লেকটর অ্যান্ড দ্য রিঅ্যাকশন অব রিফ্লেক্সশন’ (‘প্রতিফলক ও প্রতিফলনের প্রতিক্রিয়া’), ইয়াসমিন জাহান নূপুরের ‘আওয়ার ওউন প্রাইভেট অ্যানথোলজি’ (‘আমাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত সংকলন’), জাপানের ইউকি কোবাইশির ‘ক্র্যাম্প’ (‘পেশি সংকোচন’), ইউজুরু মায়েদার ‘জেনতাই আর্ট প্রজেক্ট’ (‘জেনতাই শিল্প প্রকল্প’) নবতর শিল্পের নতুন দিগন্ত সূচিত করেছে।

শিল্প মানেই নতুন সৃষ্টির সন্ধান। বাংলাদেশের এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী নতুন সৃষ্টির সমাবেশের মাধ্যমে বিশ্ব-শিল্পকলার সঙ্গে নিজে যুক্ত করে। শিল্পের বিশ্বপরিধিতে যুক্ত হলো বাংলাদেশ – এ-বার্তা ধ্বনিত হয় এ-আয়োজনের মাধ্যমে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় গত ১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ-প্রদর্শনী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলেছে।

 

একনজরে আঠারোতম এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী

৬৮টি দেশ, ৪৬৫ জন শিল্পী (১৯৯ জন বাংলাদেশি, ২৬৬ জন অন্যান্য দেশের)

৩৮৩টি শিল্পকর্ম (২০০টি বাংলাদেশের, ২৮৩টি অন্যান্য দেশের)

 

গ্র্যান্ড পুরস্কার

* আতিয়া ইসলাম এ্যানি, বাংলাদেশ

(‘নান শ্যাল ব্লো দ্য সাইরেন বিফোর ডেস্ট্রাকশন’ বা ‘প্রলয়ের

পূর্বে কেউ শিঙা বাজাবে না’)

* কুন্দন জি, ভারত

(‘কনটেম্পরারি সোসাইটি, ৯৮’ বা ‘সমকালীন সমাজ, ৯৮’)

* সালমা জাকিয়া বৃষ্টি, বাংলাদেশ

(‘দ্য সুপারহিউম্যান সিনড্রোম’ বা ‘অতিমানবীয় উপসর্গ’)

 

সম্মানসূচক পুরস্কার

* কামরুজ্জামান স্বাধীন, বাংলাদেশ (‘দ্য এলিফ্যান্ট ইন দ্য

রুম’ বা ‘গৃহাভ্যন্তরে হস্তী’)

* মো. ফখরুল ইসলাম মজুমদার, বাংলাদেশ (‘ওডিসি-৩’)

* মুনথের আল জাবিরি, প্যালেস্টাইন (‘এলিভেশন-১৫’ বা ‘আরোহণ-১৫’)

* নাজমুন নাহার, বাংলাদেশ (‘দ্য ভাইব’ বা ‘অনুভূতি-মাত্রা’)

* ত্রিরাত শ্রিবুরিন, থাইল্যান্ড (‘বিল্ডিং’ বা ‘ইমারত’)

* উ জুন, চীন (‘আয়রন কুকার’ বা ‘লোহার পাত্র’)

Leave a Reply

%d bloggers like this: