‘বিদ্রোহী’ খ্যাত কবি নজরুলের ওপর বিদেশি রাজশক্তি যে প্রসন্ন থাকবেন না তা বলাই বাহুল্য। ‘বিদ্রোহী’ কবিতাকে ঘিরে ক্রোধে প্রশাসন নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলেও তাঁরা উপযুক্ত সুযোগের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন। তারা নজরুলের চলাফেরা ও কার্যক্রম সম্পর্কে সজাগ থেকে কবির পরবর্তী গতিবিধি বিষয়ে সর্বত্র গোপনে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

কিছুকাল পূর্বেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলো কবির প্রথম গদ্য সংকলন অর্থাৎ প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ যুগবাণী। পত্রপত্রিকায় ইতঃপূর্বে প্রকাশিত তাঁর নিবন্ধগুলির এই সংকলনটির প্রকাশকাল (প্রথম সংস্করণ) ছিল ১৯২২ সালের অক্টোবর মাস (কার্তিক ১৩২৯)। প্রকাশক ছিলেন লেখক স্বয়ং কাজী নজরুল ইসলাম।

যুগবাণী ছিল প্রথম বই যা কবির মুদ্রিত গদ্যরচনার সংকলন, সেটি ছাপা হয়ে বেরোয় কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে। প্রকাশের তারিখ ১৭ অক্টোবর ১৯২২। সব রচনাই ১৯২০ সালের ১২ জুলাই থেকে কবির সম্পাদিত সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় সম্পাদকীয় রচনা হিসেবে আগেই ছাপা হয়ে পাঠক ও দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ব্যতিক্রম ছিল গ্রন্থের শেষ রচনা ‘জাগরণী’। সেটি প্রথমে ১৯২১ সালে (আষাঢ় ১৩২৭) ‘উদ্বোধন’ শিরোনামে বকুল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। যুগবাণী গ্রন্থে কবি সেটিকেও স্থান দিয়েছিলেন।

যুগবাণী গ্রন্থাকারে প্রকাশের মাসখানেকের মধ্যেই বাংলার তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুযায়ী নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছিল।

বাজেয়াপ্তকরণের সরকারি নির্দেশনামায় বলা হয়েছিল –

NOTIFICATION

No. 16661 P. The 23rd November 1922. In exercise of the powers conferred by section 99A of the code of Criminal Procedure, 1898, as commended by the third schedule of the Press Law Repeal and Amendment Act, 1922 (Act XIV of 1922), the Governor in council hereby declares to be forfeited to his Majesty all copies, wherever found, of a booklet in Bengali entitled ‘Jugbani’, printed at the Metcalfe Press, Calcutta, and published by the Arya Publishing House, Calcutta, and all copies of the other documents containing the matter of the said booklet on the ground that the said booklet contains words which bring or attempt to bring into hatred and contempt the Government established by Law in British India, the publication of which is punishable under section 124 A, India Penal code.

                       A. CASSELLS

Chief Secretary of the Government of Bengal (Offg.)

সংকলনটি প্রকাশের সময় যুগবাণী গ্রন্থের প্রকাশক ছিলেন গ্রন্থকার স্বয়ং কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু পরিবেশক হিসেবে নাম ছাপা হয়েছিল আর্য পাবলিশিং হাউসের (২০ কলেজ স্ট্রীট মার্কেট, কলিকাতা) শরৎচন্দ্র গুহ বি.এ নামে এক প্রকাশকের। প্রকাশক হিসেবে গ্রন্থকার স্বয়ং কাজী নজরুল ইসলামের ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল কবির বাসস্থান – ৭ প্রতাপ চ্যাটার্জী লেন, কলিকাতা। কবি ও তাঁর শুভার্থী মুজফ্ফর আহমদ ওই ঠিকানায় একই ঘরে পাশাপাশি একত্রে দুটি তক্তাপোশে রাতে শুতেন। জীবনের প্রথম প্রবন্ধ সংকলনটির প্রকাশকালে নজরুল তাই প্রকাশক হিসেবে বইতে তাঁর বাসস্থান ৭ প্রতাপ চ্যাটার্জী লেনের ঠিকানাই ব্যবহার করেছিলেন। দেওঘর থেকে ফিরে কলকাতায় এসে নজরুল সেবার মুজফ্ফরের সঙ্গে বসবাসের জন্যে একই ঘরে উঠেছিলেন। নজরুলের পাশের ঘরটি তখন ছিল সাহিত্য সমিতির অফিস। ঘর ফাঁকা পেয়ে সেখানেই প্রথমে ১৯২১ সালের গোড়ায় এসে নিজের বিছানাপত্র পেতে কুমিল্লা থেকে আগত আলী আকবর খান প্রায় বিনা অনুমতিতেই কলকাতায় আপাতত থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, তিনি চিকিৎসার জন্যে কিছুদিন থাকবেন। চিকিৎসাশেষেই ফিরে যাবেন কুমিল্লায় নিজের দেশে।

যুগবাণী প্রকাশ হবার পর পরিবেশক আর্য পাবলিশিংকে চিফ সেক্রেটারি ভীতি প্রদর্শন করে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিখানি

হলো :

Government of Bengal

Political Department, Political Branch, No-1665 P.

                            From

                          L. Birley, Esq, C.I.E, I.C.S,

                            Chief Secratary to the Government of Bengal

To

Babu Sarat Chandra Guha,

Manager, Arya Publishing House,

20 College Street, Calcutta

Calcutta, the 12th February 1923.

Sir,

The attention of Government has been drawn to the publication from the Arya Publishing House of a book entitled ‘Jug Bani’ by Kazi Nazrul Islam. This book was found to contain matter the publication of which is punishable under section 124 A Indian Penal Code, and the Government of Bengal, on the advice of their law offficers, forfeited it under section 99A of the Code of Criminal Procedure. They are also advised that the publication of the book renders you liable to prosecution under section 124 A, Indian Penal Code. I am accordingly to warn you of the need of exercising great care in the publication of books.

          I have the honour to be,

                           Sir,

          Your most obedient servent

          Sd. L.Birley

          Chief Secratary to the Govt. of Bengal.

          I have the honour to be,

                           Sir,

          Your most obedient servent

          Sd. L.Birley

          Chief Secratary to the Govt. of Bengal.

এই পত্রের প্রতিলিপি পেয়ে সরকার আরেকটি নোটস পাঠায়। সংযোজিত সেই অংশে লেখা ছিল-

Chief Secretary,

     At our request you prescribed under Section 99A, C.P.C. the booklet ‘Jug Bani’ by Kazi Nazrul
Islam vide Gazette of 29th November, 1922. In connection with the prescription we searched the “Dhumketoo” office, the Metcalfe Press and the Arya Publishing House resulting in the seizure of about 350 copies of the booklet. We also obtained evidence to prove that the printing was done at the Metcalfe Press and that the Arya Publishing House arranged for the sale. If the “Jug Bani” was considered a seditious publication, besides Kazi Nazrul Islam the author, the press and the publishing house have rendered themselves liable under section124 A, I.P.C. or to be looked down under Section 108 C.P.C. Prosecution may not commend itself to Government especially as Kazi Nazrul Islam has been convicted in connection with the Dhumketoo Case but I suggest that the question of formally warning the Metcalfe Press and the Arya Publishing House may be considered. The Metcalfe Press used to print “Dhumketu” but the most recent issue which appeared after a gap of some weeks was printed at the Cherry Press. The manager of the Metcalfe Press assisted us by giving evidence to prove Kazi Nazrul Islam’s connection with the “Dhumketu”. He has recently been to our office in connection with the return of some account books seized in the search and I personally considered the Press will be more careful in future but the formal government warring.

যুগবাণী প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২২ সালের ২৭ অক্টোবর তারিখে (শুক্রবার)। ধূমকেতু (অর্ধ-সাপ্তাহিক) পত্রিকা তার মাস তিনেক আগে নজরুলের সম্পাদনায় আত্মপ্রকাশ করে ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট তারিখে। আর যুগবাণী সরকার বাহাদুর নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ২৩শে নভেম্বর ১৯২২ তারিখে প্রকাশিত নোটিফিকেশন অনুসারে। অর্থাৎ যুববাণী প্রকাশের মাত্র ২৭ দিন পরেই আর্য পাবলিশিংয়ে হানা দিয়ে পুলিশ ৩৫০টি যুগবাণীর কপি বাজেয়াপ্ত করে। ধূমকেতু পত্রিকাতেই প্রথম যুগবাণী বইটি প্রকাশের বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল – ১৭ই অক্টোবর ১৯২২ তারিখে। বিজ্ঞাপন প্রকাশের দিন দশেক বাদেই আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে নজরুলের প্রথম প্রকাশিত বই যুগবাণী আত্মপ্রকাশ করে। প্রকাশের আগে থেকে আর্য পাবলিশিং হাউসের পরিচালক শরৎচন্দ্র গুহের (২০ কলেজ স্ট্রিট মার্কেট, কলিকাতা) সঙ্গে নজরুলের পরিচয় ছিল। অরবিন্দ ঘোষ ছিলেন আর্য পাবলিশিং হাউসের মালিক। প্রকাশনার দায়িত্ব ছিল পুরোপুরি শরৎচন্দ্র গুহের ওপর। পরিচয় ও আলাপের পর শরৎচন্দ্র নজরুলের নবযুগ সান্ধ্য দৈনিকে ইতোমধ্যে প্রকাশিত সম্পাদকীয় ও অন্যান্য রচনাকে গ্রন্থাকারে প্রকাশের প্রস্তাব ও পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী নজরুল শরৎচন্দ্রের ইচ্ছানুসারে লেখাগুলি যুগবাণী নাম দিয়ে প্রেসে পাঠিয়ে দেন। অর্থাৎ এসবই ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশের কিছুকাল আগেকার কথা। তাছাড়া নবযুগ পত্রিকা ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নজরুল প্রবন্ধগুলিকে প্রথম বই প্রকাশের প্রস্তাবে সম্মত হতে বিলম্ব করেননি। প্রবন্ধগুলিকে বাছাই করে সামান্য ঘষামাজা করে মোট ২০টি রচনা যুগবাণী গ্রন্থে প্রকাশের জন্যে শরৎচন্দ্র গুহকে দেন। রচনাগুলির মধ্যে ছিল – ১. নবযুগ, ২. গেছে দেশ দুঃখ নাই, আবার তোরা মানুষ হ’, ৩. ডায়ারের স্মৃতিস্তম্ভ, ৪. ধর্মঘট, ৫. লোকমান্য তিলকের মৃত্যুতে বেদনাতুর কলিকাতার দৃশ্য, ৬. মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?, ৭. বাংলা সাহিত্যে মুসলমান, ৮. ছুঁৎমার্গ, ৯. উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন, ১০. মুখবন্ধ, ১১. রোজ-কেয়ামত বা প্রলয় দিন, ১২. বাঙালীর ব্যবসাদারী, ১৩. আমাদের শক্তি স্থায়ী হয় না কেন?, ১৪. কালা আদমীকে গুলি মারা, ১৫. শ্যাম রাখি না কুল রাখি, ১৬. লাট-প্রেমিক আলি ইমাম, ১৭. ভাব ও কাজ, ১৮. সত্য-শিক্ষা, ১৯. জাতীয় শিক্ষা, ২০. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ২১. জাগরণী।

এর মধ্যে একমাত্র ‘জাগরণী’ নবযুগ পত্রিকায় ছাপা হয়নি। সেটি প্রথমে ছাপা হয়েছিল বকুল পত্রিকায় ‘উদ্বোধন’ শিরোনামে (আষাঢ় ১৩২৭)। এটি যুগবাণী গ্রন্থাকারে ছাপানোর সময় সর্বপ্রথম তাতে স্থান পেয়েছিল।

যুগবাণীর প্রথম সংস্করণ বহুকাল পাওয়া যায়নি। ফলে প্রথম প্রকাশিত গদ্য সংকলনের বানানপদ্ধতি পরবর্তী সংস্করণের সময় মিলিয়ে দেখা বহুকাল সম্ভব হয়নি।

যুগবাণীর প্রতিটি রচনা সেকালে অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগের ঘটনা। অথচ বিচার করলে দেখা যায়, এর অনেক রচনার সমস্যা যেন আজো সমকালীন। এসব রচনার কয়েকটি অংশ লক্ষ করলেই এর যথার্থতা অনুভব করা যায়। যেমন –

১. ‘নবযুগ’ রচনায় বলা হয়েছে –

          এসো ভাই হিন্দু! এসো মুসলমান! এসো বৌদ্ধ! এসো ক্রিশ্চিয়ান। আজ আমরা সব গণ্ডি কাটাইয়া, সব সঙ্কীর্ণতা, সব মিথ্যা, সব স্বার্থ চিরতরে পরিহার করিয়া প্রাণ ভরিয়া ভাইকে ভাই বলিয়া ডাকি। আজ আমরা আর কলহ করিব না।

২. ‘ডায়ারের স্মৃতিস্তম্ভ’-এ লেখকের আহ্বান :

          এসো ভাই হিন্দু! এসো ভাই মুসলমান! তোমার আমার উপর অনেক ব্যথা বেদনার ঝড় বহিয়া গিয়াছে; … – আমাদের প্রীতিবন্ধন অক্ষয় হোক। আমাদের এ-মহামিলন চিরন্তন হোক। আমরা আজ সব সঙ্কীর্ণতা, অতীতের সকল দুঃখ-ক্লেশ ভুলিয়া ভাইকে ভাই-এর কোল বাড়াইয়া দিই। এস ভাই, আর একবার হাত ধরাধরি করিয়া এই খোলা আকাশে মুক্ত মাঠে দাঁড়াই।

৩. ‘ছুঁৎমার্গ’-এ আছে –

          … হিন্দু হিন্দু থাক, মুসলমান মুসলমান থাক, শুধু একবার এই মহাগগনতলের সীমা-হারা মুক্তির মাঝে দাঁড়াইয়া – মানব! – তোমার কণ্ঠে সেই সৃষ্টির আদিম বাণী ফুটাও দেখি! বল দেখি, “আমার মানুষ ধর্ম।” দেখিবে, দশদিকে সার্বভৌমিক সাড়ার আকুল স্পন্দন কাঁপিয়া উঠিতেছে। … মানবতার এই মহা-যুগে একবার গণ্ডী কাটিয়া বাহির হইয়া আসিয়া বল যে, তুমি ব্রাহ্মণ নও, শূদ্র নও, হিন্দু নও, মুসলমান নও, তুমি মানুষ – তুমি সত্য।

৪. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিবন্ধে বলা হয়েছে –

          … আমরা চাই, আমাদের শিক্ষা-পদ্ধতি এমন হউক, যাহা আমাদের জীবনশক্তিকে ক্রমেই সজাগ, জীবন্ত করিয়া তুলিবে। যে-শিক্ষা ছেলেদের দেহ-মন দুইকেই পুষ্ট করে, তাহাই হইবে আমাদের শিক্ষা। ‘মেদা-মারা’ ছেলের চেয়ে সে হিসাবে ‘ডাংপিটে’ ছেলে বরং অনেক ভালো।’

নানা বিষয়ে নবযুগে সেদিন কবি যেভাবে জাতির আত্মসমালোচনা ও জীবনবোধের নানাদিক নিয়ে খোলাখুলি সহজ ভাষায় মতামত ব্যক্ত করেছিলেন তার প্রাসঙ্গিকতা আজো অস্বীকার করা যায় না।

সৈন্যবাহিনীফেরত এক বাইশ বছরের যুবকের এসব সামাজিক সমস্যা বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণার প্রকাশ এই রচনাগুলি ছিল সেদিনের বাঙালি মানসের মনের কথা। ফলে শতবর্ষ পূর্বের বাঙালি মনের ভাবনা ও প্রবণতার কথা ভেবে ব্রিটিশ প্রশাসন কাজী নজরুল ইসলামের যুগবাণীকে এতো বিস্ফোরক বলে মনে করেছিল।

ভাবলে অবাক হতে হয়, ১৯২২ সালে যুগবাণী প্রকাশিত হওয়ার পর মাত্র এক মাসের মধ্যেই তা বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং পুলিশ বইটিকে নিষিদ্ধ করার আগেই প্রেস, প্রকাশকের দফতর, বিক্রয় কেন্দ্র এবং সব বইয়ের দোকান থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ‘বিদ্রোহী’ প্রকাশের পর নানা আইনগত কারণে পুলিশ সক্রিয় হতে পারেনি। কিন্তু ‘বিদ্রোহী’র জনপ্রিয়তা ও প্রচারের ব্যাপ্তি দেখে এবং তা বাজেয়াপ্ত বা নিষিদ্ধ করতে না পেরে হাত কামড়ে পড়ে থাকার গ্লানি থেকে বাঁচতে পুলিশ হিংস্র হয়ে উঠেছিল। ফলে যুগবাণী প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে।

প্রথম প্রকাশের (১৯২২) আঠারো বছর পরে যখন যুগবাণী থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি উঠেছিল বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় তখনো আতঙ্কিত প্রশাসন। যুগবাণীর পুনঃপ্রকাশন ঠেকাতে চেয়ে উচ্চপদস্থ সরকারি আমলা মতামতে জানিয়েছিলেন,

… I have examined the book ÔYugabaniÕ. It breathes bitter social hatred directed mainly against the British, preches revolt against the existing administration in the country and abuses in the very strong language the ‘slave-minded’ Indians who uphold the administration. The three articles on ‘Memorial to Dyer’. ‘Who was responsible for the Muslims massacre’ and ‘Shooting the Blackman’ are specially objectionable. I don’t think it would be advisable to remove the ban on this book in the present crisis. On the whole it is a dangerous book, forceful and vindictive.

যুগবাণীর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রসঙ্গে কবির দীর্ঘকালের সহযোগী, সখা ও অনুরাগী প্রাণতোষ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সাংবাদিক নজরুল গ্রন্থে (প্রথম প্রকাশ মার্চ ১৯৭৮) জানান, যুগবাণী প্রথম প্রকাশের ২৭ বছর পরে ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় সংস্করণের প্রকাশক ছিলেন মঈনউদ্দীন হোসায়ন, নূর লাইব্রেরী (১২/১ সারেঙ্গ লেন, কলিকাতা) থেকে। তিনি ছিলেন রাজনৈতিক ও সাহিত্য জীবনে কবির বন্ধু ও শুভার্থী। কিন্তু মঈনউদ্দীন তাঁর আসল নাম ছিল না। তিনি ব্যক্তিজীবনে ছিলেন সুশিক্ষিত, উদারমনা এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আজীবন জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তাঁর ছোট ভাই ছিলেন সুলেখক, কংগ্রেসের নেতা উকিল রেজাউল করীম। রাজনীতির ক্ষেত্রেও রেজাউল ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় সুপরিচিত কংগ্রেস নেতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী।

মঈনউদ্দীন ম্যাট্রিকুলেশন থেকে বি.এ. পরীক্ষা পর্যন্ত তাঁর আসল নামটি ব্যবহার করেছিলেন। আসল নামেই তিনি একদা রচনা করেছিলেন ছাত্রদের জন্য একখানি অভিধান যেটি ছিল একটি চমৎকার পার্সি ভাষার অভিধান সংকলন। নিজেও তিনি ছিলেন ধ্রুপদী পার্সি ভাষায় সুপণ্ডিত। কিন্তু তাঁর আসল নামটি কেউ পরে আর কোথাও ব্যবহার বা উল্লেখ করতেন না। আর নিজে তো সর্বত্র প্রাত্যহিক জীবনে ‘মঈনউদ্দীন হোসায়ন’ই ব্যবহার করতেন। এমনকি ১৯২৪ সালের ২৪শে এপ্রিল কলকাতায় নজরুল-আশালতার বিয়ের সময় মঈনউদ্দীন হোসায়ন নামেই তিনি নজরুলের বিয়ের পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর এই ছদ্মনামের কারণ বা বৈশিষ্ট্য কী তা কোথাও কেউ কখনো ব্যাখ্যা বা উল্লেখ করেননি। প্রাণতোষ চট্টোপাধ্যায়ও তা জানাননি।

বীরভূম জেলার মাড়গ্রামে ছিল তাঁর বাড়ি। কলকাতায় দীর্ঘকাল তিনি নূর লাইব্রেরীর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১৯৭৬ সালে কবির মৃত্যুর বছরেই তিনি প্রয়াত হন। তাঁর প্রয়াণসংবাদ অবশ্য কোথাও কোনো পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। হয়নি কোনো স্মরণানুষ্ঠান। বন্ধুদের স্মৃতিচারণেও তাঁর উল্লেখ নেই।

নজরুল-প্রমীলার বিয়ে হয়েছিল কলকাতায় ১৯২৪ সালের ২৫শে এপ্রিল (১৩৩১) তারিখে। বিয়ের পুরোহিত মঈনউদ্দীন, যিনি ছিলেন কবির নির্ভরযোগ্য সখা, ১৯৪৯ সালে তিনিই হয়েছিলেন নিষিদ্ধ যুগবাণী গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের প্রকাশক (নূর লাইব্রেরী, কলকাতা)। সরকারি রেকর্ড অনুসারে যুগবাণীর ওপর থেকে বাজেয়াপ্তকরণের আদেশ প্রত্যাহৃত হয় ১৯৪৫ সালে। এই সংস্করণ প্রকাশের সময় দেশ পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত, কিন্তু কবি তখন অসুস্থ, নির্বাক ও স্মৃতিভ্রষ্ট।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত সুপরিচিত প্রবীণ নজরুল গবেষক আসাদুল হক তাঁর নির্ভীক সাংবাদিক নজরুল (প্রথম প্রকাশ এপ্রিল ২০০৪/ ২১ চৈত্র ১৪১০, প্রকাশক : কাজী আশরাফ, মিরপুর, পল্লবী, ঢাকা) গ্রন্থে যুগবাণীর প্রথম সংস্করণের একটি কপির সূত্র ধরে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের তারিখ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩৫৬ বলে উল্লেখ করেছিলেন (পৃ ৩২)। তাতে বলা হয়েছে যে, কলকাতা থেকে গবেষক বসুমিত্র মজুমদার একদা রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া যুগবাণীর দ্বিতীয় সংস্করণের একটি কপি পান, যার মধ্যে প্রথমদিককার আখ্যানপত্রের চারটি পৃষ্ঠার ফটোকপি আসাদুল সাহেবকে তিনি ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। তারই সূত্র ধরে নির্ভীক সাংবাদিক নজরুল গ্রন্থে আসাদুল হক তথ্যটি সংযোজন করেছিলেন। তাতে উৎসর্গপত্রটিও ছাপা হয়েছে।

শরৎচন্দ্র প্রথম সংস্করণের মতো যুগবাণী দ্বিতীয় সংস্করণেরও প্রকাশক নন। কিন্তু আসাদুল হকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুগবাণী দ্বিতীয় সংস্করণের প্রকাশকাল ১৩৫৬, অর্থাৎ তাঁর গ্রন্থ বলেই দাবি করেছিলেন। তাছাড়া দ্বিতীয় সংস্করণের চার পৃষ্ঠাটি কীভাবে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া যুগ-বাণী থেকে খসে গেল সেটাও বিস্ময়কর। প্রথম সংস্করণ (১৯২২) যে শ্রী ধীরেন্দ্রকুমার সেনগুপ্তকে উৎসর্গিত তার কথা তো আসাদুল হকের বইতে (পৃ ৩১) লেখক নিজেই উল্লেখ করেছিলেন। দ্বিতীয় সংস্করণের প্রকাশনা পর্বে ১৩৫৬ (১৯৪৯)-কে প্রকাশকাল বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। রাস্তায় বইতে উল্লিখিত এই দুষ্কর্ম জানতে হলে নতুন দিল্লির জাতীয় আর্কাইভের কপি থেকেই প্রকৃত প্রকাশন (প্রথম সংস্করণ ২৭ অক্টোবর ১৯২২) তারিখটি নিয়ে এই বিভ্রান্তি দূর হতে পারে। নইলে দ্বিতীয় সংস্করণের ক্ষেত্রে ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ প্রকাশ তথ্যটি বিভ্রান্তি আরো বাড়াতে পারে।

বলা হয়েছে, যুগবাণী দ্বিতীয় সংস্করণ ছাপিয়েছিলেন মঈনউদ্দীন হোসায়ন ১৯৪৯ সালে (১৩৫৬)। যুগবাণীর ওপর থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল ১৯৪৭ সালের ৩১শে মার্চ তারিখে। অথচ সাংবাদিক নজরুল গ্রন্থে যুগবাণীর দ্বিতীয় সংস্করণের প্রকাশকাল ১৩৫৬ (১৯৪৯) বঙ্গাব্দ বলে ছাপা বলেই (পৃ ৩০) দেখানো হয়েছে। বাজেয়াপ্ত যুগবাণীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরই প্রকাশক মঈনউদ্দীন হোসায়ন যে তা ছাপিয়েছিলেন, সেটা বোঝা যায়। প্রথম সংস্করণে (২৭ অক্টোবর ১৯২২) যুগবাণী বইটির শিরোনাম যুগবাণীর বদলে যুগ-বাণী নামে ছাপা হয়েছিল। মাঝে নজরুল হাইফেন চিহ্নটিকে ব্যবহার করেছিলেন। প্রাপ্তিস্থান – আর্য পাবলিশিং হাউস, কলেজ স্ট্রীট মার্কেট – (দোতলায়), কলিকাতা, কার্ত্তিক ১৩২৯। মূল্য ১, এক টাকা।

এর একটি কপি এখনো নতুন দিল্লির ন্যাশনাল আর্কাইভে রক্ষিত আছে। লন্ডনের ইন্ডিয়ান অফিস লাইব্রেরিতেও ২৮ নভেম্বর ১৯৩১ তারিখে বিধিভুক্ত সেই প্রথম সংস্করণ যুগবাণী দেখতে পাওয়া যায়। (Beng. 706/3.31, 14.10.31 P.P. Beny B/o No 1)।

কিন্তু যুগ-বাণী গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ শেষ পর্যন্ত ছাপা হয়েছিল ১৯৫৭ সালে (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ)। সেবারও অবশ্য যুগ-বাণীর প্রকাশক হিসেবে প্রথম সংস্করণের প্রাপ্তিস্থানের মালিক শ্রী শরৎচন্দ্র গুহ নিজের নামটি প্রকাশক হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধা করেননি।

২৫ বছর পরে স্বাধীন ভারতে নজরুলের প্রথম গদ্য সংকলন ছাপার সময় এ-দেশ স্বাধীন ছিল। ব্রিটিশ শাসনে ঘোষিত নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত গ্রন্থের থেকে প্রত্যাহৃত মামলা ও মুক্ত যুগবাণী ছাপানোর ক্ষেত্রে আর কোনো আশঙ্কা বা আইনগত বাধা না থাকায় শরৎচন্দ্র গুহ প্রকাশক হিসেবে নিজের নাম ব্যবহার করতে দ্বিধা করেননি। সর্বোপরি নজরুল তখন অসুস্থ। স্মৃতিভ্রষ্ট। তাঁর অসুস্থতার তখন প্রায় ১৭ বছর অতিক্রান্ত। কিন্তু কবির অনুরাগী শরৎচন্দ্র দ্বিতীয় সংস্করণে যে-ভূমিকাটি লিখেছিলেন তাতে নবযুগের প্রবন্ধগুলি ১৯২২ সালে লেখা বলে উল্লেখ করে অসতর্কতার পরিচয় দিয়েছিলেন। কেননা, সকলেই জানেন, নবযুগ সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকায় প্রথম যেসব সম্পাদকীয় বা রচনা ছাপা হয়েছিল মূলত সেগুলিকেই কবি তাঁর যুগ-বাণী গদ্য সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। নবযুগ বেরোনো তখন বন্ধ। নজরুলের সঙ্গেও পত্রিকার সব যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রধানত এই কারণেই নজরুল তাঁর লেখাগুলি দৈনিকের পৃষ্ঠা থেকে পাঠকের স্মৃতিতে বিস্মরণের গভীরে সময়ের সাধারণ নিয়মে হারিয়ে যেতে পারে – সেই আশঙ্কায় সেগুলিকে গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। লেখাগুলি পত্রিকায় ছাপানোর পর সম্ভবত লেখাগুলির মধ্যে যে স্ফুলিঙ্গ চাপা পড়েছিল একমাত্র বই হিসেবে যুগ-বাণী প্রকাশের পর গোয়েন্দা দফতর তা টের পেতে সমর্থ হয়।

যেদিন নজরুলের যুগ-বাণীকে বাজেয়াপ্ত করার সরকারি নির্দেশনামা জারি হয়, ২৩ নভেম্বর ১৯২২, কবি ছিলেন তখন কুমিল্লায়। তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে চারণ কবির মতো পথে পথে গান গেয়ে দেশবাসীকে সেদিন উজ্জীবিত করছিলেন। কুমিল্লার ঝাউতলা অঞ্চলে পুলিশ লাইনে ছিল কুমিল্লারই নামকরা উকিল যোগেশ চন্দ্রের বাড়ি। দেশবাসীকে উদ্দীপ্ত করতে সেবার পথে পথে গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে কবি যখন যোগেশ চন্দ্রের সেই বাড়ির সামনে হাজির হন, তখন কলকাতার গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সদলবলে কলকাতা থেকে কুমিল্লায় পৌঁছে (১৯২২ সালে) কবিকে গ্রেফতার করে। কিন্তু সেদিন কবিকে যুগবাণীর জন্যে গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি তাঁরই সম্পাদিত ধূমকেতু (অর্ধ-সাপ্তাহিক) পত্রিকায় (প্রথম প্রকাশ ১৩ আগস্ট ১৯২২) নিজের লেখা কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’র জন্য অভিযুক্ত হওয়ায় গ্রেফতার হন। কবিতাটি প্রথম বেরোয় ধূমকেতুতে ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে। প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার প্রকাশিত পত্রিকার প্রাণপুরুষ ও একমাত্র স্বত্বাধিকারী ছিলেন তখন কবি নিজে। তাই পুলিশ কলকাতায় কবিকে না পেয়ে ৮ নভেম্বর ১৯২২ ধূমকেতু অফিসে হানা দেয়। সম্পাদককে না পেয়ে মুদ্রক আফজল উল্ হককে গ্রেফতার করে ও পত্রিকার পুরনো সংখ্যা এবং কাগজপত্র নিয়ে সেদিন পুলিশ চলে যায়। আফজলই ছিলেন পত্রিকার প্রকাশক।

অবশেষে ১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর তারিখে, অর্থাৎ পত্রিকায় ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রকাশিত ‘আনন্দময়ীয় আগমনে’ প্রকাশের প্রায় মাস দুয়েক পরে ২৩ নভেম্বর ১৯২২ তারিখে কুমিল্লায় পত্রিকার সারথি ও স্বত্বাধিকারী কাজী নজরুল ইসলাম গ্রেফতার হন।

লক্ষণীয় যুগ-বাণী গ্রন্থটিও (প্রকাশকাল ২৭ অক্টোবর ১৯২২) বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ওই একই তারিখে (২৩ নভেম্বর ১৯২২), কলকাতায় বইটি প্রকাশের এক মাস পরে। ফলে কুমিল্লায় নজরুলের গ্রেফতারবরণ এবং একই দিনে যুগবাণী বাজেয়াপ্তকরণের তারিখটি কাকতালীয় কি না তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে।

অনেকের বিশ্বাস, যুগবাণী গ্রন্থের প্রবন্ধ ‘ নবযুগ’-এ যে আহ্বান ঘোষিত হয়েছিল, তা সরকার লক্ষ করেছিল এবং আইনগত নানা বিষয় ভালোভাবে বিবেচনা করে যুগবাণী সম্পর্কে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে পা ফেলতে চেয়েছিল। সে-কারণেই কিছুটা সময় লেগে যায়। ততদিনে ধূমকেতু পত্রিকার বিষয়টিও সামনে এসে যায়। তাই ঘটনাটি হয়তো নেহাতই কাকতালীয়। ‘নবযুগ’ নিবন্ধে লেখকের আহ্বান : ‘আজ বিশ্বের মহাজাগরণ, আজ মহামানবতার মহা আনন্দের দিন; আজ মহামানবতার মহাযুদ্ধের মহা উদ্বোধন। … ঐ শোনো, শৃঙ্খলিত নিপীড়িত বন্দীদের শৃঙ্খলের ঝনৎকার। তাহারা শৃঙ্খলমুক্ত হইবে, তাহারা কারাগৃহ ভাঙ্গিবে।’ প্রায় দুশো বছর ধরে পদদলিত জাতির কাছ থেকে ব্রিটিশ সরকার আকস্মিক সেই ঔদ্ধত্যকে মেনে নিতে চায়নি। বিদ্রোহী কবিকে সংযত করার চেষ্টা বা পরিকল্পনা এসব কিছুর মধ্য দিয়ে বাস্তবে সেটাই রূপ নেয়।

যুগ-বাণী নজরুলের প্রথম প্রকাশিত বই। তাই প্রিয় প্রথম গদ্য সংকলনটি ধীরেন্দ্রকুমার সেনগুপ্তকে উৎসর্গ করতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন,

শ্রীধীরেন্দ্রকুমার সেনগুপ্ত

শ্রীচরণেষু

রাঙাদা,

       তোমার চোখা লেখার জন্য নয়, তোমার মোহন রূপের জন্য নয়, তোমার বুকভরা স্নেহের জন্য নয়, তোমার উদাস উন্মুক্ত বিরাট প্রাণশক্তির জন্য নয়, তোমার বেদনা-রক্ত ব্যর্থতার জন্যও নয়, – তোমার ভালোবাসার বিপুল সাহসিকা শক্তির জন্য, কোনো-কিছুকে না-মানার জন্য, বিদ্রোহের জন্য, তোমায় আমি আমার রক্ত প্রণাম জানাচ্ছি।

                                           তোমার আদর-সিক্ত

                                               ছোট ভাই

                                                 ন. ইস.

Leave a Reply