কালি ও কলম প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা ও দ্বিতীয় সংখ্যা পড়লাম। এর আগে এত উন্নতমানের সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি-বিষয়ক পত্রিকা চোখে পড়েনি। অনেকদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো।
আমাদের দেশে এ-ধরনের পত্রিকা দীর্ঘায়ু হয় না, তাই কালি ও কলম অন্তত যৌবনপ্রাপ্ত হবে, এ-আশ্বাস সত্যিই আশান্বিত করেছে।
চমৎকার সব লেখা। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছাড়া এত সমৃদ্ধ পত্রিকা প্রকাশ করা অসম্ভব, প্রথম সংখ্যা দেখে তা সহজেই বোঝা যায়। উভয় বাংলার সাহিত্যের একটা মিলনভূমিতে পরিণত হয়েছে পত্রিকাটি। তবে একটা বিষয়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বাণী বসু, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মন্দাক্রান্তা সেন, দিব্যেন্দু পালিত, সমরেশ মজুমদার প্রমুখ প্রখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের লেখা যতখানি গুরুত্ব সহকারে ছাপা হচ্ছে, আমাদের প্রখ্যাতদের লেখা ভারতের কোনো পত্রিকায় এভাবে ছাপা হয় না। কালি ও কলম বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিল্পের আয়না হয়ে আমাদের সামনে প্রতিভাত হোক – এটাই প্রত্যাশা। আমি ভারতের লেখকদের লেখা প্রকাশের বিরুদ্ধাচরণ করছি না। তবে এর পরিমাণ আমাদের দৈন্যকে যেন নির্দেশ না করে।
এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলেছি দুটি সংখ্যাই। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মানুষ, মানুষ!’ চমৎকারভাবে টেনে নিয়ে গেছে। ইমদাদুল হক মিলনের ‘পর’-ও অনবদ্য। এছাড়া সমরেশ মজুমদারের নিয়মিত কলাম ‘নিবেদন’ ভালো লেগেছে। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, শামসুজ্জামান খান, আবুল মোমেন, আলী আহমেদ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রবন্ধও ভালো লেগেছে, মুনতাসীর মামুনের প্রবন্ধ অর্থবহ।
দ্বিতীয় সংখ্যায় পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের উপর দুটি প্রবন্ধই গুরুত্ববহ। আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘জসীমউদ্দীন’ প্রবন্ধ আমাদের পল্লীকবিকে নতুন করে ভাববার সুযোগ এনে দেয়। জনাব সৈয়দ এ-প্রবন্ধে জসীমউদ্দীনের কবিতায় ছন্দের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ‘পল্লীবর্ষা’ কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে তা মাত্রাবৃত্তে লেখা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এক জায়গায় লিখেছেন-‘অগ্রজ কবি কাজী নজরুল ইসলামের মতোই তিনি অক্ষরবৃত্তকে সরিয়ে রেখে অবলম্বন করলেন মাত্রাবৃত্ত …।’ উদ্ধৃত ‘পল্লীবর্ষা’ কি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা, নাকি অক্ষরবৃত্তে। তাঁর বিখ্যাত ‘কবর’, ‘নিমন্ত্রণ’ কবিতা কি মাত্রাবৃত্তে লেখা? আশা রাখি, আবদুল মান্নান সৈয়দ স্বপক্ষে পরবর্তী কোনো সংখ্যায় এ-প্রসঙ্গে লিখবেন।
ঢাকার বাইরে বসবাস করছেন এমন প্রতিভাবান কবি-সাহিত্যিকদের লেখা শুধু নয়, সাক্ষাৎকার প্রকাশের উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ করছি।
ধন্যবাদ প্রকাশক, সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে।
খসরু পারভেজ
পরিচালক, মধুসূদন একাডেমী, ও
চেয়ারম্যান, পোয়েট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
সাগরদাঁড়ি, যশোর-৭৪৫০

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.