বাংলাদেশের নারী – ধানের ফসলে ডোবা ফসলের ঘুম

অন্ধকার পিছিয়ে যায়

দেয়াল ভাঙে বাধার

সাতটি ভাই পাহারা দেয়

পারুল বোন আমার!…

        (সুভাষ মুখোপাধ্যায়)

প্রারম্ভিকতার পূর্বপাঠ…

প্রকৃতির স্বপ্নজাত সন্তান মানবশিশু। আর এ-মানবশিশুর ক্রমঅগ্রসরমান জীবনের যে-সাম্পান সময়ের সীমাহীন সমুদ্রে ধাবমান – তার নাবিক হলো মেয়েশিশু। প্রাকৃতিক অনিবার্যতায় বেড়ে-ওঠা এই মেয়েশিশুটিরই অপর নাম – ‘নারী’। ফলত এই নারীর করস্পর্শেই শুরু হয় সভ্যতার প্রথম আবাদ। যদিও সে-ই শুরুর গল্প থেকে আজ অবধি নিজের ভূমিতে নিজেরই সৃজনক্রিয়ার সৃৃষ্ট ফসল উঠে যায় পুরুষের ভাঁড়ারে। তবুও সময়ের মতো, স্বপ্নও থমকে থাকে না। এগোয় বেড়ালের নরম পায়ে। প্রত্যাশা – যদি কখনো ছেঁড়ে ‘অধিকারে’র শিকে, আর সে-আশার কাফেলায় আমিও ব্রতী। সতীর্থ হই আপন বেদনায়-ভালোবাসায়, স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের নান্দীপাঠে।

ফড়িঙের ডানায় দাঁড়াই জীবন-নদীর ওপরে

আমি কোনো বিদ্যায়তনের গবেষক নই। নেই কোনো উচ্চতর ডিগ্রি, যা পুঁথিগত বিদ্যায় অর্জন করা সম্ভব। তবে একজন নারী হিসেবে জন্মলাভ করার যে অহং ও বেদনা একই সঙ্গে ধারণ ও লালন করি, নিজের বোধিসত্তায় সেই আলোকেই প্রতিফলিত করতে চাই নিজস্ব কথামালা। অবশ্য বাজার-অর্থনীতির এই কালে কথারও বাজারমূল্য আছে। কথাবিশারদরা সেরদরেবেচেন কথার চাল-ডাল। আর তাই প্রথমে নিজেরই দিকে ছুড়ে দিচ্ছি প্রশ্নবাণ Ñ ‘কথাকন্যা, কত দামে তোমাকে কিনছে মধ্যবয়সী পুরুষ-পৃথিবী?’

আর এ-প্রশ্নবাণে নিজে বিদ্ধ হওয়ার পর যে হৃৎক্ষরণ – তার প্রতি ফোঁটা করে রক্তকণিকায় ভেসে ওঠে এক এক মহাভারত-এ স্বয়ম্ভরসভায় দ্রৌপদীর নিলামে ওঠার চিত্র, ভেসে ওঠে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ। মনসামঙ্গল-এ চাঁদ সওদাগরের বেনিয়া মানসিকতার কাছে ব্রাত্যজনের দেবী মনসার বিদ্রোহী হয়ে ওঠার চিত্র। ভাসে অবিভক্ত ভারতবর্ষে তে-ভাগা আন্দোলনে সাঁওতাল রমণীর তীর-ধনুক নিয়ে ঔপনিবেশিক শাসক ও জোতদার-মহাজনদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার ছবি। রক্তের আখরে স্পষ্ট হয় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম হবার আঁতুরঘরে – প্রায় ত্রিশ হাজার নারীর পাকিস্তানি সৈন্য ও তার সহযোগী মৌলবাদী-রাজাকারদের দ্বারা ধর্ষিত হবার ছবি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ইয়াসমিন, নূরজাহান, শবমেহেরদের মৃতমুখ। বিপরীতে পোশাকশিল্পে সেলাই-সুতোয় বোনা আকলিমা, শায়লাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্যানভাস জ্বলজ্বল করে। আর এদের বোধের সমান্তরালে এইসব বোধের     মন্তাজের অভিঘাতকে সাথি করে আমি এসে দাঁড়িয়েছি প্রিয় স্বদেশের কোটি কোটি নারীমুখের চিত্র তুলে ধরতে। তা কী সম্ভব এই আয়োজনের ক্ষুদ্র পরিসর-সময় ও বাস্তবতায়? তবুও মানুষ স্বপ্ন দ্যাখে! আমিও দাঁড়াতে চাই ফড়িঙের ডানায় ভর করে জীবন-নদীর ওপরে।

চৈতন্যের ক্রুশকাঠে বিদ্ধ হওয়ার গল্প

বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্রায়ন, বিশ্বায়ন, উন্নয়ন, মানবাধিকার ইত্যাকার প্রত্যয়গুলো তুমুলভাবে আলোচিত এবং খণ্ডিতভাবে চর্চিত হচ্ছে। যুগের এ-প্রবহমান হাওয়া বাংলাদেশের পালেও দোলা দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশেও এ-বিষয়গুলো শিক্ষিত সমাজের টেবিল-আলোচনার অন্যতম অনুষঙ্গ। আর পাশ্চাত্য-বিশ্বের শ্রেণিচরিত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর শ্রেণিচরিত্রের মৌলিক কোনো পার্থক্য না থাকায় উল্লিখিত প্রত্যয়গুলোর সঙ্গে ‘নারী’ ইস্যুটির সংযোগ যেন অবশ্যম্ভাবী।

যদি আমাকে বাংলাদেশের নারীদের বর্তমান চিত্র একবাক্যে বলতে বলা হয়, তাহলে দুটি চূড়ান্ত অবস্থার কথা একই সঙ্গে উচ্চারণ করব – ১. খুউব খারাপ, ২. খুউব ভালো। এই দুটো সূচক একেবারেই পরস্পরবিরোধী। তবুও কেন আমি এ-কথা উচ্চারণে পক্ষপাতী – এ-প্রশ্ন করাটা আপনাদের নৈতিক অধিকার। আর সে-প্রশ্নের জবাবের অন্বেষায় আমার এখনকার চেষ্টা।

তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশ। (অবশ্য সরকারি পরিভাষায় আধা-উন্নত দেশ!) প্রায় ১৪ কোটি লোক-অধ্যুষিত এই ক্ষুদ্রায়তনের দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি হলো নারী। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা এই দেশটির নারীর জন্ম, জীবন-যাপন এবং মৃত্যু; জীবনচক্রের এই পুরো আবহ যেন পুরুষতান্ত্রিকতার অধীন। পুরুষতান্ত্রিকতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, পরিচালিত। আর বাড়তি যোগ হয় রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোতেও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার প্রতিফলন!

সকালবেলা থেকে রাত অবধি একজন নারীকেই তাই লড়াই করতে হয় এই ‘পুরুষতান্ত্রিক’ শ্বাপদের সঙ্গে। গ্রামীণ দরিদ্র নারী থেকে শুরু করে শহুরে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত – সকল নারীকেই যাপন করতে হয় প্রতিকূল এ-প্রতিবেশে। যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনো দরিদ্র – ফলে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হতে হতে দরিদ্র নারীকে মেনে নিতে হয় দরিদ্র স্বামী, ভাই বা পিতার দুর্বিষহ নিপীড়ন। আর এ-নিপীড়ন চলে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক Ñ সকল ক্ষেত্রেই।

যদিও প্রতিবছর দারিদ্র্যবিমোচন ও উন্নয়ন- প্রকল্পের নামে দাতা সংস্থা ও গোষ্ঠীসমূহ কোটি কোটি ডলার সাহায্য দেয় সরকারকে, সে-সাহায্য সরকার-পরিচালনায় নিয়োজিত রাজনৈতিক দল ও দলের নেতাকর্মীরা, প্রশাসনের ব্যাপক সংখ্যক কর্মকর্তারা (স্থানীয় সরকার-ব্যবস্থা থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত) ভাগাভাগি করে লুটে নেয়। কিয়দংশ জোটে যাদের জন্য এ-সাহায্য, তাদের ভাগ্যে।

এদিকে বাংলাদেশে শিক্ষার হার এমনিতেই কম। তার মধ্যে নারীশিক্ষার চিত্র আরো ভয়াবহ। যদিও সরকার মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক ঘোষণা করেছে এবং ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, কিন্তু তা রয়ে গেছে মূলত ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে। শিক্ষার জন্য খাদ্যের কথা বলা হলেও সে-খাদ্য সাবাড় হয়ে যাচ্ছে    শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে পৌঁছার আগেই। তাছাড়া ধর্মীয় কুসংস্কার ও মৌলবাদী রাজনীতির কুচক্রের ফাঁদে পড়ে, ফতোয়ার ভয়ে, মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ঘোষণা সত্ত্বেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে অভিভাবকরা মেয়েশিশুদের জগতকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

নারীস্বাস্থ্যের অবস্থা আরো খারাপ। প্রতিবছর    সন্তানপ্রসবকালে শতকরা ২৯ জন মা মৃত্যুর মুখে পতিত হন। আর যদি সন্তান জন্মও নেয়, সেই   সন্তান জন্ম থেকেই অপুষ্টিকে ধারণ করে পৃথিবীর আলো দ্যাখে। স্বাভাবিক বিকাশের পথ হয় রুদ্ধ। নারীর নেই আশ্রয় নেবার নিজস্ব ভূখণ্ড। উত্তরাধিকার আইন এবং রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামো – কোনোটিই নারীর মাথা গুঁজবার মতো আশ্রয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। ফলে তাকে যাপন করতে হয় মানবেতর জীবন।

শহুরে মধ্যবিত্ত নারীর হয়েছে উভয় সঙ্কট। নারী যদি ঘরে সীমাবদ্ধ রাখে নিজের কর্মপরিধিকে, তাহলে সংসারের শান্তির বেড়ায় ফুটো তৈরি হয়। সেই ফুটো দিয়ে ঢোকে হড়হড় করে অশান্তির বিষবাষ্প। আর যদি বাইরের জগতে পা বাড়ায়, সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ও স্বনির্ভরতার জন্য, তবে সমাজ তাকে ‘অবাধ্য মেয়ে’, ‘বে-আদব বৌ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয় তীব্র মানসিক অস্তিত্বের সঙ্কটে। ফলে মানসিক ভারগ্রস্ততায় সে ক্রমশ পরিণত হয় পুরুষতান্ত্রিকতার ক্রীড়নকে। আর নারী-জীবনে নির্যাতনের যে নানামাত্রিক খড়্গ বাংলাদেশে বিদ্যমান, তার কথা তো বলাই বাহুল্য। পরিবারে স্বামী, দেবর, ভাসুর, ভাই, বাবা থেকে শুরু করে সমাজপতি, রাজনীতিকসহ খোদ রাষ্ট্রই অবতীর্ণ হয় নিপীড়কের ভূমিকায়।

একজন নারীর নিজের সৌন্দর্য নিজেরই শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যে-কোনো পুরুষের প্রেমের প্রস্তাব যদি প্রত্যাখ্যান করে Ñ তবে ঝলসে যাবে তার সৌন্দর্যমণ্ডিত মুখের ছবি অ্যাসিডের করাল থাবায়। বখাটেদের নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য থানায় পুলিশের আশ্রয় নেবে Ñ সেখানে খোদ পুলিশই অবতীর্ণ হবে ধর্ষকের ভূমিকায়। বিয়েতে প্রতিশ্রুত টাকা বা যৌতুক দিতে পারেনি পিতা-মাতা Ñ ফলে স্বামী ও স্বামীপক্ষের আত্মীয়স্বজনের নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হবে, যানবাহনে চলাফেরা করতে হলে পুরুষের অনাকাক্সিক্ষত হাতের চাপ অনুভূত হবে। গ্রামীণ নারীরা এনজিওতে কাজ করবে? ধর্মীয় মৌলবাদীরা বেপর্দার অভিযোগ তুলে ফতোয়া জারি করে চালাবে নিপীড়নের ছড়ি। সৃজনশীলতায় উদ্ভাসিত তরুণী নিজের সৃজনপ্রক্রিয়া শেষ করে রাতে বাসায় ফিরলে প্রতিবেশীরা আখ্যা দেবে ‘নষ্ট মেয়ে’ বলে। ফলে ওই তরুণীকে সিলিং-ফ্যানে ঝুলে আশ্রয় নিতে হবে স্বেচ্ছামৃত্যুর! এমনিতর আরো শত শত দৃশ্যপট প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা যাবে বাংলাদেশের নারীদের অবস্থা কতটা খারাপ – তা বোঝানোর জন্য!

কিন্তু জীবনের প্রবহমানতার শর্ত তো শুধু একরৈখিক নয়। এর রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বহুমাত্রিক বিচ্ছুরণ। সেই বিচ্ছুরণের আলোকিত রশ্মিগুলোকে তাহলে এবার একটু চেনা যাক। বাংলাদেশের নারীরা খু-উ-ব ভালো আছে কীভাবে – তা একটু অনুভব ও উপলব্ধিতে আনা যাক।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে মাত্র ৩২ বছর আগে। কিন্তু এদেশের মানুষের স্বাধীনতাপ্রাপ্তির আকাক্সক্ষার বীজ রোপিত হয়েছে আরো আগে। আর সেই স্বাধীনতার সঙ্গে ‘নারী-স্বাধীনতা’ প্রসঙ্গটি যুক্ত ছিল চোখের মণির সঙ্গে চোখের পাতার মতো। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী ৩২ বছরে বাংলাদেশের সাংবিধানিক অবয়বে নানা আঁচড় পড়েছে। সেই আঁচড়ের ছোঁয়া নারীদের গায়েও লেগেছে। তবে সকল আঁচড় নেতিবাচক নয়, ইতিবাচকও বটে। একসময়ে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে নারীদের আসন ছিল ‘শো-পিস’ হিসেবে। কিন্তু বর্তমানে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল হিসেবে স্থানীয় সরকার-পরিষদ থেকে শুরু হয়েছে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া। নারীরা তাতে অংশ নিচ্ছে এবং নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র-পরিচালনার নিমিত্তে সরকার-কাঠামোর প্রাথমিক স্তর বা ভিত্তিভূমিতেই রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 দেশে উচ্চশিক্ষার হার এমনিতেই খুব বেশি নয়। তবু এই সীমিত উচ্চশিক্ষাতেও ভালো ফলাফলের দিকে গত বেশ কয়েক বছর যাবৎ আধিপত্য

বিস্তার করে আছে নারীরা। দেশের সীমিত সম্পদের মধ্যেও যে-পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে – তার সিংহভাগ অর্জন করে পোশাকশিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ নারীরা। দেশে বর্তমানে বিদ্যমান খাদ্য-চাহিদা মেটাতে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে তার পেছনেও রয়েছে কৃষিকর্মী

নারীরা। এনজিওদের সকল কার্যাবলি-পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সিংহভাগ ভূমিকা নারীদের। দেশের সরকারি দল ও প্রধান বিরোধীদল পরিচালিত হচ্ছে নারী-নেতৃত্বে। রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে বিদ্যমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার ক্ষেত্রে নারীর পাশে (সংখ্যায় অত্যল্প হলেও) পুরুষকে পাওয়া যাচ্ছে। সিভিল প্রশাসন, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ, এমনকি সেনাবাহিনীতেও নারীর অংশগ্রহণের সংখ্যা বাড়ছে।

ইতিহাস তুমি কেঁদো না, পরিবর্তন আসে

চিরক্রান্তির ভাবনা তোমাকেই ভালোবাসে

দার্শনিক কনফুসিয়াস বলেছেন, মানুষ তার আশার সমান বড়। মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় তাঁর এ-কথা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত সত্য।

একজন নারী যেভাবে সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কৃষিসভ্যতার সময়ে চৈতন্যের যে বীজ রোপণ করেছেন – তা শুধুমাত্র ওই নারীর নিজস্ব বোধিবৃক্ষ হিসেবে থাকেনি, সমগ্র নারীজাতির বোধিসত্তার পত্র-পল্লবে ছাওয়া এক বিশাল মহীরুহ হয়েছে। যে-নারী তাঁর মনোজগতে বিদ্যমান অদম্য কৌতূহল বা জিজ্ঞাসুসত্তার জন্য স্বর্গচ্যুত হয়েছেন – সে-নারীই আজকের এই ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ পৃথিবীকে স্বর্গীয় প্রশান্তির প্রলেপে ভরিয়ে তুলবেন; পুনর্বার। শুধু বাংলাদেশ নামক একটি দেশে নয়, পৃথিবী নামক একটি গ্রহে নয়, গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে, এক ছায়াপথ থেকে অন্য ছায়াপথে।