মা ও মেয়ে

এদেশের চিত্রকলা-আন্দোলনে কাজী আবদুল বাসেত সৃজনী-উৎকর্ষে ও দেশ-আত্মার মর্মযাতনা-অঙ্কনে বড়ো মাপের চিত্রীরূপে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। বিমূর্ত ও বাস্তবধর্মী – দু ধরনের কাজেই তাঁর প্রতিভার স্ফুরণ ও সিদ্ধি স্পষ্ট। ১৯৬২ সালে তিনি আমেরিকায় গেলে দুই খ্যাতনামা শিক্ষকের সান্নিধ্যে তাঁর শিল্পিত মানসভুবন সমৃদ্ধ হয়। বিলোড়ন-সৃষ্টিকারী শিল্পান্দোলন তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, কিন্তু সরাসরি পরিগ্রহণ করেননি। বরং পরবর্তীকালে আপন মৃত্তিকালগ্ন ঐতিহ্যেই তাঁর নিমজ্জন হয়েছিল। দেশে প্রত্যাবর্তন করেন ১৯৬৫ সালে। সেই সময়ে দেশের মানুষের প্রবল আত্মবিকাশের আকাক্সক্ষা নবমাত্রা অর্জন করেছিল। তিনিও নিসর্গ কিংবা প্রকৃতির অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য যা অঙ্কন করেন তাতে সমকালীন ঘটনাপ্রবাহ কখনো প্রতীকাশ্রয়ী হয়ে, কখনো সরাসরি ছায়া ফেলে। ষাটের মধ্যভাগ থেকে তিনি বিমূর্ত ধারার কাজে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। পরবর্তীকালে আবার বাস্তবরীতির কাজে মনোযোগ দেন। এই দুই রীতির ছবিই তাঁকে বিশিষ্ট করে তুলেছিল। ফিগারেটিভ কাজে বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের, বিশেষ করে, নারীর অনুষঙ্গ-অঙ্কনে তিনি খুবই পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তীকালে তিনি মায়ের অপেক্ষা নিয়ে বেশকিছু তেলরং, প্যাস্টেল ও ড্রইংয়ে স্বকীয়তার পরিচয় দেন। তাঁর জন্ম ১৯৩৫ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর। মৃত্যু ২০০২ সালের ২৩ মে।