শ্রদ্ধেয় সম্পাদক আবুল হাসনাত

সবচেয়ে বেশি গল্প লিখেছি যে-পত্রিকায়, তার নাম সাংস্কৃতিক সমসময়। সম্পাদক অশোক চট্টোপাধ্যায়। পত্রিকাটি প্রায় চার দশক ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে এপার বাংলার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট থেকে। তারপর বেশি গল্প লেখার ক্ষেত্রে যে-পত্রিকাটির নাম উঠে আসে সেটি হলো ওপার বাংলার ঢাকা থেকে প্রকাশিত কালি ও কলম পত্রিকা। সম্পাদক আবুল হাসনাত।

সম্পাদকের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ ছিল না। দূরভাষে কখনো কথাও হয়নি। শুধু একবার দেখেছিলাম কলকাতা কলামন্দিরে কালি ও কলম পত্রিকার কলকাতা সংস্করণ প্রকাশের অনুষ্ঠানে। আরো অনেক বক্তার সঙ্গে তাঁর বক্তব্য শুনেছিলাম। মুগ্ধ হয়েছিলাম।

যদিও সেই ২০০৮ সালে আমি প্রথম গল্প লিখি তাঁর সম্পাদিত ওই কালি ও কলম পত্রিকায়। সুদর্শনদা (সাহা), মৃণ¥য়দা (দাস) ও কানাইদা (কুণ্ডু) গল্প পাঠাতে বলেছিলেন। তারপরে সুশীলদা (সাহা) নিজ দায়িত্বে আমার কাছ থেকে গল্প নিয়ে পাঠিয়ে দেন। এখন পর্যন্ত কোনো গল্পই ফেরত আসেনি। আরো আশ্চর্যের বিষয়, কোনো কোনো বছর আমার দুটি বা তিনটি করেও গল্প প্রকাশিত হয়েছে। এ-বছরটাও তেমনি। গত ফেব্রুয়ারিতে একটি। অক্টোবরে আর একটি। আর তিনটি গল্প প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৮ সালে। ফেব্রুয়ারি, আগস্ট এবং অক্টোবর সংখ্যায়।

প্রথমদিকে পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যা এবং সাম্মানিক সংগ্রহ করে নিতে হতো ২০৬ নং বিধান সরণির নয়া উদ্যোগ প্রকাশনী থেকে। পরে সেটা সুশীলদা মারফত পেয়ে থাকি। সাম্মানিক পোস্টাল মারফত কিংবা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসে। একজন সম্পাদক নিজের কাজের প্রতি কতখানি নিষ্ঠাবান থাকলে এমন সুষ্ঠু আয়োজন সম্ভব হয়, পত্রিকাটি হাতে এলেই সেটা টের পাই।

সেই ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যা থেকে এই গত অক্টোবর সংখ্যা পর্যন্ত নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী-সম্পাদিত কলকাতা সংস্করণের তিনটি গল্প বাদে আমার বাকি ১৪টি গল্প আবুল হাসনাত-সম্পাদিত কালি ও কলম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গল্পকার ‘আমি’ পরিচিত হয়েছি বাংলাদেশ-ভারত বাদেও বিশ্ববাঙালি পাঠকের কাছে। প্রত্যন্ত গঞ্জে বাস করা একজন গল্পকারের জীবনে এমন একজন সম্পাদকের স্নেহ যে কত বড় আশীর্বাদ এবং সৌভাগ্যের তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন একজন সম্পাদকের হঠাৎ করে চলে যাওয়াটা আমার কাছে যে কী বেদনার, বলার ভাষা নেই। শ্রদ্ধেয় আবুল হাসনাত, শুধু সম্পাদক হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও আপনার প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা ও প্রণাম।