কালি ও কলম দীর্ঘজীবী হোক

কালি ও কলমের প্রথম সংখ্যাটি পড়ে এক কথায় মনে হলো ‘সমৃদ্ধ’ একটি সাহিত্য পত্রিকা। শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির প্রায় প্রতিটি শাখার প্রতিনিধিত্বমূলক রচনা রয়েছে এতে। একমাত্র অপূর্ণতা ‘চলচ্চিত্র’ বিষয়ক লেখার অনুপস্থিতি। ভবিষ্যতে এই ঘাটতি কালি ও কলম কাটিয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছি।

ভাষা-আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিতে ‘একুশে’ নিয়ে একাধিক রচনা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যময় করে তুলেছে বর্তমান সংখ্যাকে। প্রচারবিমুখ শক্তিমান কথাশিল্পী রশীদ করীমের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার পত্রিকার মান বৃদ্ধি করেছে। মননশীল গদ্যকার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধের হৃদয়গ্রাহী আলোচনা করেছেন মহীবুল আজিজ। দু-বাংলার শ্রেষ্ঠ লেখকদের চমৎকার সমাবেশ ঘটেছে কালি ও কলম। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হয়, আধুনিক কবিতার অন্যতম উদ্গাতা জীবনানন্দ দাশের অপ্রকাশিত কবিতা প্রকাশের জন্য। বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি পাবলো নেরুদার যথার্থ পরিচয় ফুটে উঠেছে তিনটি লেখাতেই। সেই সঙ্গে প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর আলোচনায় কবিশ্রেষ্ঠ শামসুর রাহমান পাঠকদের সামনে আরো একবার মূর্ত হয়ে উঠেছেন। পরিশেষে প্রকাশককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি বাংলা ভাষার সকল লেখককে কালি ও কলমে উদাত্ত আহ্বান জানানোর জন্য। আশা করি, নতুন লেখক-তৈরিতেও কালি ও কলম দৃষ্টান্তযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। এই    পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যপত্রিকার দীর্ঘায়ু কামনা করি।

রাজীব সরকার

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা