এবং আমি উৎসারিত হবো একটুকরো কাগজের ওপরে

হেমন্ত দিভাটের কবিতা

মারাঠি থেকে ইংরেজি অনুবাদ : দিলীপ চিত্রে

বাংলায় অনুবাদ : নবনীতা দেবসেন

কে লিখ্ছে কবিতা?

শত ছিদ্রে ভরা

যেগুলো বোজানো যায় না

এমনকি ফুটোর মধ্যে শব্দ গুঁজে দিলেও না

(ছিদ্র

এমনকি মগজের মধ্যবর্তী স্থির নৈঃশব্দ্যও

ছিদ্রে ভরা)

টিভি চলছে

বাচ্চাটা নাচছে তার সামনে

ডিগবাজি খাচ্ছে, ডিগবাজি খাচ্ছে

ও যতই চ্যানেলগুলো বদলাচ্ছে

আমার মাথায় ততই রক্ত উঠে যাচ্ছে

মারব নাকি এক থাপ্পড়?

এমনকি থাপ্পড় মারলেও

নৈঃশব্দ্যের মধ্যে একটা

ছিদ্র তৈরি হয়

ছিদ্র তৈরি হয় থাপ্পড় না মারলেও

প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে আমার

এক ব্যাটা পিঁপড়ে আমাকে কামড়ে দিয়েছে

ওটাকে আমি থেঁতলে ফেলেছি

প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে আমার –

এই কবিতাটা কি লিখবো আমি?

নাকি বাচ্চাটার জন্যে ছবি আঁকবো –

ওর নাম, ব্যাট, বল, টুথব্রাশ, কলগেট, একটা টিভি…

প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে আমার

টিভিটা চলছে

আমি টিভি স্ক্রিনটাকে গুঁড়িয়ে ফেলবো এইবারে

বাচ্চাটা বেজায় চিল্লামিল্লি করছে

আমিও ঘেউ ঘেউ করছি

একটা ফুটোর মধ্যে আঙুল গুঁজে দিচ্ছে ও

আমার গেঞ্জির ফুটোয়

আমি ছিদ্রগুলি বোজাতে চেষ্টা করছি

এই কবিতাটা দিয়ে। শব্দগুলো

সবেগে উপ্চে পড়ছে আমার ভেতর থেকে

ধুল্লু অনবরত টিভিটা খুলছে আর বন্ধ করছে

হাতে রিমোটটা নিয়ে

ও আমাকে বলছে একটার পর একটি

চ্যানেল পালটে যেতে

যতক্ষণ না ওর পছন্দসই চ্যানেলটি আসে

আর এলেই, অমনি

সেই চ্যানেলটাকে অপছন্দ করতে শুরু করে ও

আমি একটা কবিতা লিখছি

একটা শব্দ লিখি, তারপর আরও একটা

বাচ্চাটার জেদিপনা আমাকে কেবলই

            খুলছে আর বন্ধ করছে

আমি উৎপীড়িত হচ্ছি

কখন নিষ্ক্রান্ত হবে, কবিতা?

আমি অস্থির, দাঁতে দাঁত ঘষছি

যে-কোনো মুহূর্তেই

যে-ছিদ্রটি খুঁজছি সেটি খুঁজে পাবো Ñ

আর আমার ভেতর থেকে হুশ্ করে

            বেরিয়ে পড়বো আমি

উৎসারিত হবো

একটুকরো কাগজের ওপরে

১২/৫/০৪