খঞ্জ ভিখিরির মতন আমি নিজে
দু’হাত বাড়িয়েছি তোমার দিকদিশে;
শূন্য পেয়ালায় দু’হাত রেখে, দ্যাখো,
আমি কি আরো বেশি শূন্যতারই দিকে
পাতিনি বারবার আমার দুটি হাত?
খঞ্জ ভিখিরির মতন আগ্রহে
দু’হাত বাড়িয়েছি তোমারই দিকে শুধু –
আধুলি নয়তো বা একটি সিকি যেন
তুল্য প্রতিমান! – তোমাকে দিতে পারি
স্বপ্নমহলের সোনার চাবিকাঠি :
বুকের খুব কাছে লুকোনো রয়েছে যা।
খঞ্জ ভিখিরির মতন আমি আজো
দু’হাত বাড়িয়েছি তোমার উদ্দেশে –
জড়ের মতো স্থাণু অন্ধ ভিখিরি যে
যখন আর আমি দেখি না মুখ-চোখ
রাতের গহ্বরে! তখনো এই আমি
তোমারই দিকে হাত বাড়িয়ে রেখেছি তো
নীরব নিষ্ঠায়;
আমার দেহজুড়ে শরীর-মন ভ’রে
তোমার জয়গান, তোমারই সামগীতি :
আমি তো বাড়িয়েই রয়েছি দুটি হাত
তোমার দিকে শুধু হিরণ-দাহ বুকে –
তৃষ্ণা-কাতরতা তপ্ত দুই ঠোঁটে
রাবণ-চিতা জ্বেলে জাগিয়ে রেখেছি তো –
তোমার পথ চেয়ে মধ্যরাত জেগে
শুনেছি সুদূরের সরোদ-মূর্ছনা;
শুব্ধ স্মরণিকা – ক্ষুব্ধ অভিমান
আজকে কেন টানে বিরহ-অভিসারে!
কে জানে কতো দূর, কোথায় সুদূরতা –
কুমারী দিনরাত অলস, অনাহত!
কে জানে সেই কবে আমার সাম্পানে
উড়িয়ে দিয়েছিলে বিজয়-পতাকাটি…
সুরার গহ্বরে এখনো ডুবে আছো,
পিপাসা মেটেনি কি? – এবার ফিরে এসো :
আমার মৃদু মদে তোমার স্নান সারো –
মীরার আকুতিটি ধরেছি দেহ-মনে,
অন্ধ ভিখিরির মতন অবিরত
এখনো বাড়িয়েই রেখেছি দুই হাত,আমার দু’টি হাত ॥

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.