কবিতা
-
ছয়টি কবিতা
টোকন ঠাকুর ঘামসূত্র কামসূত্র লিখেছে কে? জানি না। চিনি না তাকে পড়তে পড়তেই করি পর্যটন, ঘুরিফিরি, নানানাসনের বাঁকে এরই মধ্যে আমি ঘেমে উঠি, দৃশ্যত আমি ঘেমে যাই চলন্ত ট্রেনের বগি থেকে লাফ দিয়ে প্লাটফর্মে নেমে যাই …কেবলই ফুটতে থাকে ঘাম, শরীর ঝরিয়ে ঝরে ঘাম… ঘামের আগুন, মিহি নুন – এই বাক্যের অন্তর্মিলে থাকবে কাম কামসূত্র…
-
আপেল শাখা
ঝর্না রহমান উঠে এসো তবে চিতাভস্মের ভেতর থেকে তরতর করে বেড়ে ওঠো তুমি সোনালি আপেল গাছ আফ্রোদিতিরা মরে গেছে কবে – ভূত হয়ে নাচে প্রেমিক যুবক একা অলিম্পাসের কুটিল চূড়ায় খেয়োখেয়ি করে লেজুড়ে দেবতা পরমাত্মার পোশাক পরেছে জীবাত্মাদের স্বর্গশোভন সং নেমে এসো তুমি সোনালি আপেল লুকোনো শাখাটি যেখানে এখনো তাজা মেয়েদের বুকে আপেল ফলে না…
-
আজ ভোরে রবীন্দ্রনাথ
খোরশেদ বাহার সেদিন প্রিয় বন্ধুর ই-মেইল পেলাম, তাতে লেখা ছিল স্থান জোড়াসাঁকো, ২৫শে বৈশাখ, ১৪১৭ বঙ্গাব্দ। এই এখানে সেই সেখানে করতে করতে অবশেষে ঠাকুরবাড়ির উঠোনে পা রাখা গেল বাইরে ছোটখাটো অনুষ্ঠান আয়োজনের তোড়জোড় দেখা গেল। কিছু দূরে ফটিকের বন্ধুরা ছোট্ট একটি বল নিয়ে ইচ্ছেমতো পেটাচ্ছিল, আর ছে-ছে বলে চেঁচাচ্ছিল। দেয়ালের গায়ে পাথরে খোদাই করে…
-
আমার শহর
(কবি, শহীদ কাদরীকে) শামস আল মমীন এ শহর কোনোদিন আখক্ষেত দেখে নাই আখক্ষেতও দেখে নাই শহরের লোক; এ শহর লোহার সিন্দুকে লুকানো স্বর্ণমুদ্রার মতো ঈর্ষার শহর। স্বর্ণ থালা হাতে, রৌপ্যকৌটা কাঁধে বোষ্টমি ও সন্ন্যাসী বাড়ি বাড়ি কড়া নাড়ে; এ শহর নদী ও নক্ষত্রের মতো ছন্দময়, ভীষণ স্পর্শকাতর তবু স্কুলে স্কুলে…
-
প্রতি, রক্তজবা
আসমা বীথি রক্তজবা, তোমাকেই কেন বলি এত কথা ঘুমের ভেতর অনিঃশেষ কাঙ্ক্ষার ঝড় সেইসব বিরল বিষণ্ণতা, গুড়ি পিঁপড়ার বিছানা সীমানার কাছাকাছি গ্রাম দূর থেকে দেখা ছোট ছোট ঘর ছোট ছোট শ্বাস হয়ে যেন আজ নিঃশ্বাসে ছড়িয়ে পড়ে বিলুপ্ত হাওয়া রক্তজবা তোমাকেই বলি শুধু আমাদের কেউ নেই তাতে বিস্ময়ের কী, তবু ক্লান্তি ও কাতরতার অধিক…
-
পূর্ণতার দিকে
আনন্দ ঘোষ হাজরা তিমিরাভিষেক থেকে আলোকযাত্রায় যেতে যেতে আমরা কেবল ভাসি শূন্যতার অসীম সাগরে অথচ চতুর্দিকে শুধু দেখি পূর্ণতা-পরিধি ক্রমশই বড় হয়, বড় হতে থাকে। তাহলে যা দেখি শুধু ভ্রম নাকি আমাদেরই খেলা আমরা খেলছি তবু অনুভূতিহীন অন্য এক সময়প্রবাহ থেকে বের হয়ে এসে পূর্ণতার দিকে যেতে যেতে কিছুক্ষণ শূন্যতায় ভাসা?
-
চেতন-রোদে শূন্যতা চাষ
হাসান হাফিজ রঙের দোলা গোলাপ-দোলা আত্মভোলা অাঁধার নাই জোনাকি চাঁদের আলো পথের দিশা ভুলতে পারাই নিয়ম স্বাভাবিক তোমার রঙে মন রাঙিয়ে অভিমানের আড় ভাঙিয়ে ভরিয়ে তুলি বিহবলতায় শান্ত এবং সরল চতুর্দিক পাপড়িকুঁড়ির স্বপ্নচুরি মনমহলার নিরল পুরী সকালসন্ধ্যা ওড়ায় ঘুড়ি, মেঘলোকে মন করতে চুরি নাই কোনো তার তুলনা-ছাঁদ কিংবা সমান জুড়ি শস্যবিফল বন্ধ্যা ঊষর…
-
কঠিন কোমল হ’য়ে ওঠে
হাবীবুল্লাহ সিরাজী কঠিন কোমল হ’য়ে ওঠে। আগুনের তেজ পেলে কঠিনও কোমল হ’তে জানে হাপরের হাওয়া দেয় পাঁজরের ভাঁজে – সম্মুখে বসেন পঞ্চানন। সিসে গলে, নৃত্যের ভঙ্গিতে ছাঁচে-ছাঁচে নদী জাগে, জাগে বর্ণমালা ব্যঞ্জনের দুই পার্শ্বে অবিভক্ত স্বর ভাষার অন্তর … কঠিন কোমল হ’য়ে ওঠে স্রোত ভাঙে পাতালের নতুন পাথর অমাবস্যা ভেঙে চাঁদ শস্য বিলি করে…
-
বিদ্রোহী ২০১১
মুহম্মদ নূরুল হুদা জাহেদার আগেই গেলেন ফকির মোহাম্মদ। তবু ছেড়ে এলে বজলে করিম আর চকোর গোদার দরদ। তারপর আলী আকবর খান হয়ে কান্দিরপাড়। কিছুটা তো পায়ে হেঁটে, কিছুটা তো ট্রেনে। নববুই বছর আগে জন্ম হলো তালতলা লেনে। বটে সে-ও কলকাতা, বটে সে-ও নাগরিক কুঁড়ে। এতোটা বয়স গেল, তুমি কিন্তু নও থুত্থুড়ে। হবে যে কখন? যৌবন…
-
আশ্চর্য আগুন
মৃণাল বসুচৌধুরী সারাক্ষণ মুগ্ধতা চেয়েছো চেয়েছো মধুর ভাষালিপি গুহাচিত্রে মুগ্ধ পরম্পরা চেয়েছো নিষিদ্ধ মেঘ চিত্রময় অকালবর্ষণ অলৌকিক সিঁড়ির দুধারে স্বচ্ছতোয়া নদীর আশ্লেষে চেয়েছো ঘনিষ্ঠ ঠোঁট সোহাগী সিঁদুর অনুক্রমে স্বপ্নের বিকল্প কিছু বোধির উত্তাপ চেয়েছো অভিজ্ঞ ছায়া মেধাশ্রিত প্রেম জতুগৃহ নয় প্রথাহীন পর্যটনে, সুখের…
