কবিতা
-
উপদ্রব মেনে নিয়ে
চাটগাঁ থেকে আসছি ঢাকায়, চাটগাঁ স্টেশনে যারা আমার সঙ্গে ছিলেন তাদের অনেকেই আমাকে দেখলেন খুটে, খুটে। সেই শ্রাবণ সন্ধ্যায় তারা আমাকে উপদ্রব মেনে নিয়ে দ্রুতলয়ে নামলেন ট্রেন থেকে। সেই কামরার, কালো কোট পরিহিত একজন লোক প্রচণ্ড ধিক্কার দিয়ে বললেন নিজে, নিধনের খেলা চারিদিক তার মাঝে এভাবে যাত্রা নিরাপদ নয়, গত সন্ধ্যায় এই দ্রুতযানে দুইজন চলে…
-
সভ্যতা কার কতো
তোমার মহল তোমার দিকেই নত- কুর্নিশরত। তাতেই সে উন্নত? তারই সুখ্যাতি যতো? পিঁপড়েপ্রতিম যারা, ক্ষুদে আর ছেঁড়াখোড়া, তারা ঠিক মাপকাঠি, প্রবল-বেহুঁশ কল ছেড়ে দিয়ে বেসিনে ভাসাও অহেতুক শত-শত পিঁপড়েকে স্নিগ্ধ বিহানবেলা, তারা ঠিক মাপকাঠি সভ্যতা কার কতো বর্বরতার রূপ! তবে, তারও কি মিলবে পার? হেলাফেলা করে কারও কি মিলেছে ভেলা?
-
তুমি তো চাওনি যেতে
তুমি তো চাওনি যেতে; তবু এক দুর্দান্ত ঈগল তোমাকে নিয়েছে তুলে – যেন এক ঝাঁকের ইলিশ। তখন কি ন্যূনতম কেঁপেছিল জলের হৃদয়? যূথবদ্ধ ইলিশের সমুদ্র-বিহার কি থমকে গিয়েছিল অকস্মাৎ? আর কী আশ্চর্য, দ্যাখো – তোমার জীবন উঠেছিল বেড়ে এই মেঘনার এই যমুনার কাদাজলে; চৈতন্যে জড়িয়েছিল ইলিশের তীব্র লোনা স্বাদ। সামান্য পানীয় – স্কচ প্রিয় বটে,…
-
আত্মমুক্তি
মৃত্যু আজ আত্মমুক্তি দিচ্ছে! জীবনের নামে আর এক শিল্পরীতি তৈরি হয় প্যালেস্টাইন কিংবা ইরাকে, জীবন ও মৃত্যু দুটোই সেখানে আত্মবিকাশের শক্তি। আপাতমধুর প্রলোভনে টেনে নিয়ে যায় কারা? প্রাণপাখি নিয়ে- পৃথিবীতে আমরা দৈত্যের জঠরেই বাস করছি। জীবনের জন্য প্রস্ফুটন : অথচ শুধুই আজ জন্ম-কান্নার বদলে মড়াকান্না তৈরি করে কারা? অশ্রুজল আর কাতরধ্বনির মধ্যে ভণ্ড বাকচাতুরীতে শুধুই…
-
দূরত্ব
এক পদক্ষেপে উড়ে চলে যাওয়া পাঁচ ঘণ্টা পথ ভোররাতে ঘেমে ওঠে মাঘ মাস এমন আগুন দাঙ্গা, কারফিউ, মৃত্যু, ছিঁড়ে-ফেলা সমূহ নিষেধ আসলে দূরত্ব নয়, চোখ বুঁজে এক পদক্ষেপ বৈশাখ-দুপুর এসে ভিক্ষা চায় তুমুল উত্তাপ শ্রাবণ নতুন সাজে স্নান সারে পল্কা ছাতায় কবিতা না উপন্যাস, মুছে গেছে অতীত বিভেদ তখন দূরত্ব ছিল চোখ বুঁজে এক পদক্ষেপ…
-
সংগীত
আসলে নদীর কাছে নিজেকেও জল মনে হয় পাহাড়ের কাছে গেলে মনে হয় আমিও পাথর উডেন কটেজে বসে পাহাড়তলির মতো লাগে পুতুল-মানুষ দেখে কেটে গেল এতটা বছর দিনের পাঁজর থেকে মুছে গেল আরো বহুদিন খিদের দুহাত থেকে ঝরে গেল সব অপমান নদীর জলের সাথে আমার আর মিল নেই কোনো পাথর গড়িয়ে পড়ে- আমি শুনি পতনের গান
-
জতুগৃহে বসবাস
আস্ত একটা কাঁচা ডিম, ভাঙ্গতে বড়োই সুবিধা উপর থেকে, ডাইনে থেকে, বাঁয়ে থেকে, নিচ থেকে যেখান থেকেই চাপ দাও – মুহূর্তেই ভেঙ্গে খান খান, ভাঙ্গনের মহিমায়, এখন আমরা সায়াহ্কের যাযাবর। ভাইটি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে অস্তিত্বের শেষ ধাপে পা রেখে বললো – দাদা আমি আজ থেকে আবু সুফিয়ান, বোনটি পালাতে পালাতে মধ্যাহ্কে – তবু শেষ রক্ষা হলোনা,…
-
পথ
ঘরে ফিরবেনা বলে যারা পথে নামে তারা সবাই কি পথে থেকে যায়? নাকি কেউ কেউ পথ খুঁজে পায়না বলেই ফের ঘরে ফেরে, কেউ ভুল করে ঢুকে পড়ে অন্য কোনো ঘরে! আসলে পথ কি দিতে পারে সেরকম কোনো নিশ্চিত আশ্রয়! কেউ কেউ হুট করে পথে নেমে পড়ে কেউ বেশ ভেবে-চিন্তে অন্ধি-সন্ধি জেনে। যারা কিছু না ভেবেই…
-
দীর্ঘস্থায়ী ক্রন্দনের জন্যে
দীর্ঘস্থায়ী ক্রন্দনের জন্যে মানুষের লোভ আজ এতদূর এমন আগ্রাসী- সান্তনার সব পাতা ছেঁড়া হয়ে গেছে। জীবনের এতো বড়ো স্থির বৃক্ষ থেকে ঘুমের ভেতরে জেগে স্বপ্নগুলো ছুঁতে না পারার ক্রোধ ক্রমাগত তাকে সহজ নক্শা থেকে উল্লম্ফনে ক্রীতদাস হতে আজ বাধ্য করেছে। আর তাই, নদীর ঢেউয়েরা আজ তত আকর্ষক নয়, বন আর বনের কুসুম নয় ততো প্রাণপ্রিয়,…
-
নাট্যস্বপ্নকল্প : হ্যামলেট
ডানদিকে হিমঘর, বাঁয়ে লাল রেলের কলোনি এরপর স্টেশন আসবে, কালের যাত্রায় হুহু ধ্বনি ধৈর্য ধশ্রে শুনতে হয় – কেমনে ধৈরজ ধরি, সই? সে আমার সুরধনি, আমি তার কিছু একটা হই! পকেটে কমদামি সেন্ট, ট্রেনে কেনা শস্তা চানাচুর, নাটকে টিকিট কাটা, ধূপছায়া রঙের দুপুর … বিকেলে টেনশন বাড়ছে, বাড়িতে নির্ঘাত কিছু হবে তবুও দলবল মিলে যাওয়া…
-
সঙ্গে আসো যদি
শোকের আড়ালে কিছু অনিশ্চয় মিশে থাকে, চোখের জলের সঙ্গে নুন ক্ষয়ে যেতে যেতে তবু নির্বিকার সেজে থাকে সম্পর্কের ঘুণ পরস্পর বন্ধু ভাবে, ভাই ভাবে, প্রতিবেশী, উত্তরাধিকারী একবার ভাবো অন্য, সম্পর্ক আড়াল হলে অবিমৃষ্যকারী ফিরে আসে দিনশেষে, সভ্যতার ঞ্চপরে মাথা নুয়ে আছে খড় মু-হীন মানুষেরা স্বপ্ন দেখে মহাকাল মনোসগোচর দেশ নেই, বাড়ি নেই, যে-পৃথিবী ঘিরে আছে…
-
কবিতার প্রহর
খনির ঠিকানা সকলেই পায় ঘরে কিংবা সিটি স্কোয়ারে যে যার মতো আনন্দখনির সন্ধান পেয়ে গেছে। আসছে মশাল, গাঁইতি। ঐখানে মূল কথা, খনির ভিতর নামা অন্ধকার সুড়ঙ্গ ধরে কে কীভাবে যাবে আনন্দের কত চুনি, পান্না; স্বপ্নে মাতাল হয়ে আছি তুমি আমি সাদা কালো মজুরেরা খনির নিচে কবিতার গুপ্ত সরোবর ঐ জলে ডুব দিতে চায় প্রত্যেকে, গোলমাল…
