কবিতা
-
প্রতিযোগিতা
মেয়েটা সিগ্রেট খায় কজন পুরুষ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায় সে হাওয়া থেকে সুখপ্রদ ধারণা গিলে নিচ্ছে সে হাওয়া থেকে নিকোটিনের স্বাধীনতা খেয়ে নিচ্ছে লাল রঙের লম্বা নখের ফাঁকে বেনসনের অফ হোয়াইট মুথা বেশ ভঙ্গি দেখায় অপরাহ্ণের মোরাম শুঁষে নিচ্ছে মেয়েটা পুরুষগুলো নিজেরাও সিগ্রেট মুখে দিয়ে মেয়েটার দিকে ধোঁয়া ছুড়ে দেয় অন্তত ধোঁয়া ছাড়ার ব্যাকরণে তারা…
-
বারুদ
একটু হাওয়া দিক তারপর জানলাটা খুলো, বিরহের পর কাঁদে যতনে মানুষ – ভেজে তুলো পুরনো ডায়েরি পড়ে আছে, ব্যথা সকল পাতায়, একটি লাইন শুধু কালিহীন বুকের ছাতায়। ধরে রাখি শ্বাসমূলে, ঋতু আসে-যায় অলৌকিক বাঁশিতে লেগেছে ঘ্রাণ, সুরগুলো মায়ার অধিক আহা রে শ্রাবণ! সাদা-কালো মেঘগুলো দূরকামী, আমার চোখের ’পরে আসে তারা বেহায়া বেনামি। ভিজে যাচ্ছে ভুলগুলো,…
-
বকুল ফুটেছে কোথাও
বকুল ফুটেছে কোথাও, বুঝি শোনা যায় পদধ্বনি বসন্তের এইখানে ধূলি-ধূসরিত পথ, বাতাস এখানে ভারী মৃদু ক্রন্দনে ঝরাপাতাদের। অবশিষ্ট কিছু শীত হচ্ছে জড়ো সন্ধ্যায় গোল হয়ে আগুন পোহাবে বলে ছোট একটা মাছ পেয়ে মাছরাঙা উড়ে গেছে কোথাও, খড়কা বিলের ধারে পানকৌড়ি বসে আছে সেই সকাল থেকে! বকুল ফুটেছে কোথাও গাছে গাছে মুকুল এসেছে আমের। শিশুরা নতুন…
-
কথা
এত কথা কেন বলো তুমি? করো মৌনতার চাষাবাদ ভিতরে-বাহিরে হও কসমিক এনার্জি হও প্রকৃতির মতো গাছ কোনো কথা বলে না গাছ সুন্দর পাখি কোনো কথা বলে না পাখি সুন্দর – নদী কোনো কথা বলে না নদী সুন্দর তুমি কেন বৃথাই করো কলরব করো শব্দ সন্ত্রাস – হও সূর্যের আলো হও সোনালি বাতাস পাথরের নদী,…
-
শেষ কথা
যাকে আনন্দের মাধ্যমে এতদূর নিয়ে এলাম তাকে ছেড়ে দিতে হবে দুঃখের মাধ্যমে কষ্টের নিয়মে। যে গাছ নিজ অঙ্গে ফোটালো ফুল উৎসাহের আলোক বরণে তাকেই দেখতে হলো দিনবেলা শেষে ফুলের অমোঘ মৃত্যু – সকরুণ রঙে। পথ শেষ হয়। রং শেষ হয়। সুখের নদীতে নামে ভাটা। একই জল দেহের উল্টো দিকে ফেরা। ফেরায় বোনা সন্ধ্যা ফেরায় বোনা…
-
পিয়ানো
কুয়াশা পড়ছে খুব অরণ্যের শাখায় শাখায় কুয়াশার তন্তু এমন আলগা হয়ে পড়ে আছে, মনে হয় মায়ের মুষ্টিচালের কৌটা থেকে সুতাগুটি চুরি করে এলোমেলো ছড়িয়ে রাখছে এখানে-ওখানে! হাটফেরা মানুষের এত এত তাড়া মনে হচ্ছে নেকড়ের ভয়ে পায়ে জড়িয়ে নিয়েছে দৌড় এই মুহূর্তগুলোও আমরা হারিয়ে ফেলি বেপারির খুতি হতে পড়ে যাওয়া খুচরো পয়সার মতো। আহা – প্রতিটি…
-
কুয়াশা আশ্রম
কুয়াশার হিমডানা চেরা এই শীতের সন্ধ্যায় তুমি আমি মুখোমুখি ঝিম পাহাড়ের এক সবুজ কটেজে; হালকা হাওয়া বইতে থাকা বারান্দায় শীতের ছড়ানো পরিযায়ী পাখিদের গান – কটেজের কিছুটা পাশেই জঙ্গলের তাঁবুতে ধীরে উঠে এলো ময়ূরের নাচলিপি! দূর টংঘর থেকে ভেসে আসা পিদিম আলোয় আর চূড়া ভেদ করা রশ্মি দিয়ে দেখতে পাওয়া যায় নিচের বাঁকানো রাস্তা পাহাড়ি…
-
বস্তুত তোমার সুখ নাই
৫৫ প্লাস বয়সেও কালেভদ্রে পথমধ্যে সহসা তোমার মুখোমুখি পড়েই যাই, ভীষণ চমকে উঠি! ২৫ বছরের পরিপাটি যুবকের মনোভাব নিয়ে শার্টের কলার ঠিক করি আলতোভাবে চুলের সিঁথি স্পর্শ করি দেখি মনের জোর তো দ্রুতগামী রেলগাড়ি। মুহূর্তেই হাঁটুর জয়েন্টের ব্যথা কমে, ভগ্নপ্রায় মন ভালো হয়, রক্তে অক্সিজেন আরো ভালোভাবে পৌঁছায় অচঞ্চল মস্তিষ্ক ফের জেগে ওঠে! তদুপরি সঠিক…
-
জল তানপুরা
জানালায় কাঁপে উজ্জ্বল ভোরের কিশোরী-হাওয়া তাকিয়ে আছে সদ্য ফোটা ঘাসছোঁয়া উষ্ণতা আমার ছায়া নিজেই এখন ভবিষ্যতের রথ … আলোর বেগে ছোটে, মাটির বুকে রেখে যায় চিহ্ন দিন গড়ায় – নক্ষত্র কাছে আসে তপ্ত স্মৃতি নিয়ে তাকে ছুঁই, টেনে আনি হৃদয়ের নীল অনুরণনে যা কিছু লুপ্ত, তা নয় আমার ভাষা, বলি সেই গল্প সোনালি ধানের আঁচলে…
-
পানাফুলের দেশে
বেইজ্জতি করিও না আর। কলঙ্কী করিও না আর। আমি তো তোমার নামে বান্ধিতেছি গান। আমি তো তোমার তরে ছাড়িয়াছি ঘর। ছাড়িয়াছি দেশখেশ, হইয়াছি পর। মিনতি রাখিও তুমি। অধমের। বদনামি করিও না আর। বেইমান বলিও না আর। আমি তো আসিবো ফিরে। মাথায় ময়ূরপুচ্ছ, হাতেতে বাঁশুরি। রজনী ব্যাকুল হবে। হয়তো তখন বারিষ নামিবে। ফুটিবে কদম। তুমিও ধরিবে…
-
আবহমান অস্তিত্ব
রৌদ্রের ঝলমলে উচ্ছ্বাস, তেজি উত্তাপে দাহ হয় মধ্যাহ্নের নরম শরীর। জলতেষ্টায় মলিন কামিনীর ঘ্রাণ। শীতল জলে ডুবে থাকা চাতকের তৃষ্ণার্ত চঞ্চু জুড়ে আমাদের আবহমান দুঃখগাথা। ধানক্ষেতের সোনালি সবুজ আভায় উঁকি দেয় শেকড়সন্ধানী মানুষের অযুত নিযুত ইচ্ছে। তারা ভেসে বেড়ায় নদীবক্ষে, স্রোতের টানে, মাঝিমল্লার ভাটিয়ালি সুরে। আমাদের দগদগে ক্ষতগুলো এখনো আরক্ত শুঁড় নাড়িয়ে ভয় দেখায়। জাজ্বল্যমান…
-
বাড়ি
‘ম্যাঁয় আন্দলিব্-এ গুলশান-এ না আফরিদা হুঁ’ – মির্জা গালিব তুলট মেঘেরা ওড়ে কখনো উত্তরে কখনো পশ্চিমে জলহাওয়া ভাঙে পাহাড়ি পাথর নেমে আসে ঝরনাতলায় – নদীজলে সে হাঁটে আঁধার ঢাকা গাঁয়ে ।
