কবিতা
-
একাকী খুঁজে ফিরছি
কোনো এক বসন্তের গন্তব্যহীন সন্ধ্যায় ভালোবেসেছিলে – প্রিয় ‘বনলতা সেন’ অনেক পৃথিবীর অতীত কাব্যের শরীরে তোমার ধূসর পাণ্ডুলিপির ’পরে আলোর অজস্র পাতা পড়ে – অন্ধকারে; পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা মুছে ফেলে শতাব্দীর পর শতাব্দী নিভৃতির মর্মমূলে তোমাকেই একাকী খুঁজে ফিরেছি ধানসিড়ি নদীটির তীরে করুণ-বিষণ্ন শালিকের ভিড়ে; ভাবিয়াছি তোমারে বহুদিন পুরনো কলকাতার পথে – নিঃস্বতার দীর্ঘশ্বাসে…
-
সপিনা
তোমার পাশে বসে আছে সে অ্যালবাট্রস এক বসে আছে আরেক অ্যালবাট্রসের পাশে অক্স, আজ বিকেলের আইভি দুলছে অক্সফোর্ড-এ নরম সপিনা পেয়ে হাসছো বাঘের মতো? বুল, এল ডোরাডোর ডোরাকাটা চামড়ায় বুলাও জিভ সবার ঠোঁটেই খানাপিনা আর ভোগবিলাস গরু, হাঁচি দিয়ো না, গরুড়ের মতো উড়ে যাবে মাল, পাখি, সব।
-
উত্তরাধিকার
এ ধুলোপথে নিবেদিত ইতিহাসের চাবি; গন্তব্যের শ্রাবণ অবুঝ বণিকের ক্লাউন – থামাও তোমার জুতোর শব্দ। দ্যাখো – পাখি উড়ছে পালকের পাপ; সৌন্দর্যের দায় ঠোঁটে। আমার কৃষক পিতার নিবিড় চর্চায় মাঠ – ফসলের গেরিলা তাঁর লাঙল রোদকথায় পূর্ণ; ক্ষুধাবিরোধী মিছিলের দৃঢ় সমতা। তুমি জানো না অন্ধ, আমি সেই বৃক্ষের বীজ যার পূর্বপুরুষ স্বপ্নের বদলে ফেলে এসেছে…
-
প্রেতের নগরে
পূর্ণিমার এক রাতে সুরমার বুকে নেমে এসেছিল চাঁদ – একাকী, মায়াবী, নিঃশব্দ দীপ্তি। হঠাৎ ছায়ামানবেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ভূত? না, প্রেতাত্মা! আদতে ওরা চাঁদটাকেই খেতে এসেছিল সুরমার জল ঘোলা করে। শেষতক ঘোলাটে জলে চাঁদের মৃত্যু ঘটে নিভে যায় এক অপার সৌন্দর্য। সেই থেকে প্রেতের নগরে জ্যোৎস্না আসে-না আর। নাগর হেঁটে চলে অন্ধকারে – আলো খুঁজে, আলো…
-
কবিতা
কবিতা স্বপ্নের মতোই থেকে থেকে উঁকি দেয় চেতনার শৈল্পিক নগরে। ভাবুক মনের ঘরে ঢেউ খেলে শব্দ ছন্দের ব্যাকুল তৃষ্ণা, উজ্জীবিত অলকানন্দা ফুল। বাবুই পাখির ঠোঁট যেরকম ক্রমে ক্রমে বুনে যায় বাসা সেই ধাঁচে কবি তার নিপুণ হাতে এঁকে যায় কবিতার রূপ, বোধ ও অব্যক্ত বেদনার লিপি। কবিতা প্রেমিকার মতোই মাঝে মাঝে দেখা দেয়, মাঝে মাঝে…
-
ফল বেশি দরকার
ওরা আনন্দিত কণ্ঠে বললো – কবি আপনি আমাদের এখানে এলে আমরা আপনার জন্যে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো! আমি বিষণ্ন স্বরে বললাম – গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল নয় গো! ছোট্ট একটি ফল নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকো! আমি ভীষণ অসুস্থ! এখন আমার ফুলের চেয়ে ফল বেশি দরকার!
-
একটাও কবিতা লেখা হয়নি
আপন নিউক্লিয়াস মধ্যমণি, নিজ বৃত্তপথ ঘোরাঘুরি বাতাস ভারি আত্মরতির রোলে চোখ অন্ধগলি, দেখে না পড়শি বটপাতাদের রংবদল স্থির নদ, ঢেউ তোলে না পাশে দাঁড়ানো ‘মরিয়মে’র নোনা জল মাথা রাখে না কেউ কারুর কোলে আমার বন্ধ্যা কবিতার খাতায় শুধু শূন্য-শূন্যের লুকোচুরি
-
তাচ্ছিল্য
তোর নাম কী রে, ক্ষীর বরফের গুঁড়ো গলে যাস, গলে যাস ভাঙাধান কুড়ো উড়ে যাস, উড়ে যাস তোর নাম কী রে, ছায়া অপার্থিব পৃথিবীর ভার্চুয়াল কায়া ভেসে গেছে হরীতকী ডুমুরের বন এ কী প্রবল শ্রাবণ এ কী প্রবল প্লাবন তোর নাম কী রে, মেঘ উড়ে উড়ে যাস ওটা তোর বাড়ি নয়, ভুলের আকাশ
-
সিতপুষ্পের পাশে
সিতপুষ্পের পাশ-ঘেঁষে পথ চলি দেখি বড়বেশি ম্লান-মুখ তার অবনত মাথা – শরীর দুভাঁজ এই গ্রহণের দিনে – ভূমি থেকে জল সরে গেছে বহুদূর কে জানে তা গেছে কিনা দৃষ্টির অগোচরে অসীম সুদূরে – আদরে-সোহাগে তাকে কাছে পাবো এমন ভরসা উধাও শূন্যে আজ; গ্রহণের দিনে ভয় মানি তাই অবিরাম ভয় মানি – পুষ্পপ্রণয়ী…
-
মেহরিন
মেহরিন, এই হৃদয় নিয়ে আমার অহংকারের দিন শেষ যেদিন অপরের হাতে তাকে তুলে দিতে হলো। মেহরিন, কত মুক্ত আর স্বাধীন ছিলাম, মনে পড়ে কিন্তু আজ তোমার সাথে দেখা হওয়ার পর কারাগার নির্ধারিত হয়ে গেল। মেহরিন, কথা রাখো সখি আমার সেই দিনের কথা মনে করে যেদিন সবকিছু ভুলে যাবে তুমি। মেহরিন, তুমি যেখানেই পা রাখো তার…
-
অসমাপ্ত গল্পের জীবন : সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্মরণীয়েষু
পূর্ণ হলো না পাত্র। সত্য হলো দীর্ঘশ্বাস। অসময়ে অকালেই নিভে গেল দীপ। এম্ফিথিয়েটারে শুধু প্রতিধ্বনি শূন্যতা-রোদন। হাহাকার বেজে ওঠে, বীণা হয় হৃদয়বন্দিশ। হৃদয়তন্ত্রীতে গাঙে গহিনে বিষাদ-সুর। ছিলেন ব্যাখ্যাতা তিনি নন্দনতত্ত্বের, সৌম্য সুধী প্রজ্ঞা পুণ্যে ভারানত, কী করে ভুলবো তাঁকে! স্থিতধী মেধাবী সত্তা, স্মৃতিপটে প্রফুল্ল জাগর। আকস্মিক ছিঁড়ে গেছে তার। অবেলায়, দুঃসময়ে। গল্পের বুনট আর পূর্ণতার…
-
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্মরণে
হেমন্তের শূন্যভাঁড়ারে শস্যকাটা হয় না তবু বৈনাশিক ঝড় আর্তনাদ করে! ভেসে যায় এলোমেলো ভাসান জলে – আধকাটা শস্যের ভাঁড়ার পূর্ণ হবার আগেই থমকে থাকে জলের কিনারে! হাহাকারে শোকার্ত চাঁদ কান্নার প্লাবনে অবসাদ রেখে যায় শেষ বিকেলে! – এরকম অজস্র গন্ধবহ ছাতিম শিরিষ নিঃস্বস্বরে ঝরে পড়ে বনের আড়ালে! পাণ্ডুর কথাকলি ফিসফিস জানায় শোক – কতকাল এভাবেই…
