কবিতা

  • শিমুলপুরের কবিতা

    হাবীবুল্লাহ সিরাজী মটরদানার মতো পলকহীন চোখে অশ্রু যদি ঝরে দুই ফোঁটা ঈশ্বরীর বিনয় মজুমদার বোঝে না তার কিছু কেবল কুটোর ন্যায় ওড়ে মরা ত্বক দুঃখ আর বেহিসেবি না-ফেরা বেলায় শিমুলপুরের কবিতা মাঠ-পাহারায় যায় আশ্বাসের সেগুনে মোড়া দূর জনপদে বিশ্বযুদ্ধে নিভে আসে মোম ও বিশ্বাস নগর কলকাতার ছকে তোলা নদীজল বদল হবার আগেই ওড়ে তেজপাতা গন্ধ…

  • মায়া

    মেহেদী ইকবাল কবে কখন যে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলাম। শুনেছি বৃষ্টি ছিল সেই রাতে কেউ হয়তো দিয়েছিল আজান, বৃষ্টি আর হাওয়া দাঁড়িয়েছিল পথরোধ করে হয়তো বেশিদূর পারেনি যেতে আগমনী বার্তা আমার। শুনেছি, আমার বাবা তখন ছিলেন রাজবন্দি ময়মনসিংহ কারাগারে ইনটিউশনে তিনি কি শুনেছিলেন আমার ওয়া-ওয়া কান্নার ধ্বনি? এরপর মায়ের কোল ছেড়ে আস্তেধীরে হাঁটতে শিখেছি, হাঁটতে হাঁটতে এতটা…

  • মন পালাবেই

    শাহনাজ নাসরীন যতই পাহারা দাও মন পালাবেই ঘাসের ডাকে চলে যাবেই সে বৃন্দাবন আর ফিরে এসে শোনাবে চমৎকার রূপকথা এইভাবে নখের আঁচড় বা বালিশের চুল লুকাতে অযুত-নিযুত গল্পের সূচনা হবে বিড়াল, কাঁটাঝোপ, চঞ্চল শিশু জাতীয় শব্দবীজ সেইসব গল্পের রঙিন বোতাম আর পা-ুলিপিগুলি পাচার হয়ে যাবে ভাঁড়ারঘরে বা পুকুরঘাটে সংসারের জামা ফিটফাট রাখতে এইসব গল্পগাথার চল…

  • আমাদের বাড়ি

    সোহরাব পাশা গভীর মেঘের সূক্ষ্ম ভাষা ছিল রাত্রির বৈশাখে নদীর মাতাল ঢেউ ভাঙে জলের কবিতা হাসির শেকড়, আমি অন্য কেউ ভেবে এক ফোঁটা অন্ধকার ঢেলে ছিলে চোখে কখনো ভাবোনি প্রজাপতি ভোর দেখেনি শৈশব আমাদের দেখেনি বিকেল আলোকলতায় ঝিরঝির বৃষ্টির চুম্বন, রাত পোহানোর নামতা পড়েই আরেক সন্ধের পাতা ছুঁয়েছে আঙুল; দূরের প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে ছুঁয়ে গেছে…

  • চন্দ্রাভিযান

    আলমগীর খান মানুষের কোমলতা, নিষ্কলুষতা ও প্রেমময় মনের প্রতিফলন চাঁদ হারাতে লাগল তার রহস্যময়তার ঘ্রাণ আর মনোসমুদ্রে অমোঘ মাধ্যাকর্ষণের টান। লুণ্ঠনের কবলে সে পথ হারাল নগরে আসা প্রথম রাখাল বালকের মতো। আশ্রয় হলো তার পতিতাপল্লিতে। এরপর পথে নামল সে একটুকরো ঝলসানো রুটির জন্য কিংবা নিজেই রুটি হয়ে। নীল আর্মস্ট্রংয়ের কাছে সে হলো পদানত যেভাবে পদানত…

  • প্রেম ও প্রার্থনা

    নওশাদ জামিল হে রাষ্ট্র, হে ভ্রষ্ট – মনে রেখো বারবার কখনো হারেনি কবি, হারবে না আর কিতাব, পুরাণ, ওহি, বেদ, রামায়ণ কবির কলমে ঠোঁটে হয়েছে বয়ন চর্যাপদ, ইলিয়াদ-ওডিসি আখ্যানে কবি থাকে শৌর্যে-বীর্যে শীর্ষে সবখানে জীবাত্মার পরমাত্মা এক দ্যোতনায় পলকে ফালাক কাঁদে কবি ইশারায় গ্রহ-নক্ষত্রের ফুল, মাটির মৌতাত পৃথিবীকে তারা দিলো প্রথম প্রভাত হে শিষ্ট, হে…

  • কন্যাটি আঁচড়ায় চুল

    শামসুল ফয়েজ আমার কন্যাটি আঁচড়ায় লম্বা চুল; তার চুলের গোছায় ঢাকা পড়ে তার দু-কানের দুল। কে যেন আমার কন্যার মাথার ওপরে লাগিয়ে দিয়েছে আমার মায়ের দিঘল কেশ। যা দেখে একসময় স্বপ্না ফুপু বলত ‘কী দারুণ, চমৎকার – বেশ’ কন্যাটির সুশ্রী অবয়বে কে যেন বসিয়ে দিয়েছে হুবহু আমার মায়ের মুখ!! তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে নস্টালজিয়ায় উপচে পড়ে…

  • সন্ধেবেলা

    গৌতম হাজরা বর্ষাস্নাত মেয়েটির নাম সন্ধেবেলা। সে রোজ সাইকেলে চেপে আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যায় আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি সে যেন এক বিদ্যুৎশিখা সামনের বাড়ির বাগানে অমনি আলোড়ন ওঠে। সেই আলোড়নের দু-একটা ঢেউ ওঠে মোড়ের চায়ের দোকানে শূন্যবেলার নামতায় গুনগুন শোনা যায় রোজ। শুনেছি মেয়েটির কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। সে নাকি একা একা কবিতাও লেখে জোনাকির…

  • না-লেখা কবিতা

    মোস্তফা তারিকুল আহসান স্বীকার করি আমার না লেখা কবিতার সংখ্যা লেখা কবিতার চেয়ে অনেকগুণ বেশি আর আমার না লেখা কবিতাই বেশি সাবলীল – নতুনত্বের গন্ধে ভরপুর তবু আমার কিছু লেখা কবিতা নিয়েই তোমার যত দস্যিপনা বালিশে মাথা দিলেই ঘুম আর সুসুপ্তির মাঝে আমি খুব ভালো কবি হয়ে উঠি কিংবা বেরিয়ে পড়া সকালে একাকী বাসে ট্রেনে…

  • অবিশ্বস্ত হলদে গোলাপ

    সুহিতা সুলতানা সফলতা নিয়ে আমার কখনো কোনো ভাবনা ছিল না আজো নেই। মানুষের ভেতরে এত লোভের হাঁকডাক বেসামাল পথভ্রষ্ট হয়ে চূড়ায় উঠে যেতে চায়। হিম হিম অন্ধকারে ডুবে ডুবে জল খায় নব্য রাজাকার। সূর্যগ্রহণ জলভর্তি থালায় নেমে এলে অর্ধেক পৃথিবী কার হবে কে জানে? এই যে তুমি এখন খণ্ড খণ্ড সফলতার মোহে ঋষি হতে চাও…

  • শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ

    শব্দদূষণ আমাকে ভীষণ ক্লান্ত করে তোলে আমি ভীত হয়ে পড়ি আমার মগজের ওপর দিয়ে রোলার চালায় ওই শব্দদূষণ আর আমি তখন খুঁজে ফিরি নৈঃশব্দ্যের প্রসাদ যে-শব্দ ভাষা নয় শুধুই কোলাহল আমি তার পৃষ্ঠাগুলো উলটিয়ে রেখে দিই দ্রুত আর চলে যাই সেইদিকে যেদিকে অরণ্যের সুখণ্ডদুঃখ পাতার অস্পষ্ট মর্মরের নিচে লুক্কায়িত বায়ুদূষণ আমাকে অস্থির করে তোলে আমি…

  • ধানের বয়ান

    গরিবের বাসস্থানে গোলাঘর খুব বেমানান সেই গোলাঘরে ফসল দেখলে সন্দিহান হয় পড়শীরা দৃষ্টি বাঁকা হয়ে আসে সহসা তাদের গরিবের গোলাভরা ধানকে সবাই চিটা ভাবে চিটা ভেবে আনন্দিত হয়। তুমি গো দয়াল, সোনার বরণ হৃষ্টপুষ্ট ধান আদর করিয়া দান করিয়াছো – এই অভাজনে। আরেকটু অধিক সহায় হও, স্বপ্নময় ফসলের সাথে ছিটেফোঁটা মান মাগিতেছি। গরিবের দেউড়িতে কাঁটাঝোপ…