ছোট গল্প
-

স্বপ্ন পাখির ডানা
বিয়ের ভাবনা ঠিকমতো বুঝে ওঠার আগেই বিয়ের প্রস্তাব আসে হোসনার। সেদিন স্কুল থেকে ফিরে মায়ের সঙ্গে ভাত খেতে বসেছিল। খিদে ছিল খুব। মা শুঁটকি ভর্তা করেছিল আর কুমড়ো ভাজি। দুটোই ওর প্রিয়। থালাভর্তি ভাত নিয়ে পিঁড়িতে বসে খেতে শুরু করলে শুনতে পেয়েছিল বাড়ির দরজার কাছে কেউ একজন এসে বাঁশের দরজা ধরে ঝাঁকাচ্ছে। ও এক লোকমা…
-

সমুদ্রযাত্রা
টলোমলো জলভরা চোখে যাতনা বাদলকে তার দৃষ্টির অস্বচ্ছ আঙ্গিকে দেখার চেষ্টা করে সুবিধা করতে পারে না। তার দৃষ্টির সামনে বাদলের মুখাবয়ব দেহাঙ্গিক ভেঙে ভেঙে যেতে থাকে। বাতাসের ধীরগতির প্রসারণে ছোট ছোট ঢেউয়ে ভরা জলাধারের উড়াল পাখির ভেসে থাকা অস্বচ্ছ প্রচ্ছায়ার মতো লাগে বাদলের ছায়া ছায়া ছবি। ‘উড়াল পাখিই তো।’ অশ্রম্ন ফোঁটার ভার সামলাতে গিয়ে অভিমানী…
-

ফ্যালাসি অব ফোর টার্মস
কদিন থেকে একটু বেশি গম্ভীর দেখাচ্ছে অয়নকে। পঁয়ষট্টির নিপাট ভদ্রলোক। অন্তর্মুখীন ব্যক্তিত্ব। এখন আরো অভ্যন্তরে। নানা কাজে ফজলকে বেশ কয়েকবার ওর আবাসে অবস্থান …। অন্য ঋতুতে সমস্যা নেই; কিন্তু গ্রীষ্মে হুগলির মহকুমা শহর আরামবাগে না আছে বাগ-বাগিচা, না আরাম। সারা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্বলন্ত। যদিও শহর ঘেঁষে বয়ে চলেছে দ্বারকেশ্বর। মাইক্রো প্রভাব পড়তে পারত,…
-

হৃত সংগ্রামের গল্প
কে উ জাতিস্মর নয়। জীবনের সব কথাই সকলের মনে থাকে। তবুও। এক এই সামনে বসে তাঁকে স্পষ্ট দেখা যাবে না। চেহারায় নানা বর্ণ আছে; বয়স নানা রং দেয়, এখন সেই পোড়া তামাটে রং বিদ্যুতের আলোয় প্রায় বিলীন। একটু পরে পাদপ্রদীপের আলোয়, চাই কি ছুঁড়ে দেয়া আলোয়, সেই রং-ও অদৃশ্য হয়ে যাবে। এ-রকম পোশাকেও নয়।…
-

স্যুররিয়েল গল্প
\ এক \ ছেলেটি খুব অবাক হলো মেয়েটির কথা শুনে, কেননা এমন কথা সে তার কাছ থেকে এই প্রথম শুনল। মেয়েটি যদিও লিখেছে, মুখে কথা বলেনি, কিন্তু ব্যাপারটা তো দাঁড়ায় একই। শতভাগ না হলেও অনেকটাই, যেহেতু বলা শব্দে হোক অথবা হরফে লেখায়, বক্তব্যটা এক ও অভিন্নই হয়। কেউ কেউ বলেন, যা মনের ভেতর থাকে তা…
-

পাহাড়ের স্তব্ধতা
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর আমার চারপাশে পাহাড়ের স্তব্ধতা। এই স্তব্ধতা কেউ ভেঙে দিক আমি চাই না। সকালবেলা, রোদ যখন গাছের পাতা রঙিন করে। আমি এক কাপ কালো কফি নিয়ে গরুর ঘণ্টার পিছু পিছু পাহাড়ের ঢালে চলে আসি। আমাকে ঘিরে ধরে পাহাড়ের স্তব্ধতা, কিন্তু পাহাড়ের মধ্যে নানা শব্দ আছে, সে সকল শব্দ কখনো পাখির ডাক। সে সকল…
-

জলসংসার
স্বপ্ন আর অনটন এ-দুইয়ের দ্বৈরথে স্বপ্নটা বারবার হোঁচট খেলেও ধনেখালীর বাজারে সাহস করে ছোটখাটো একটা সাইকেল সারাইয়ের দোকান শেষমেশ দিয়েই বসে তমিজ আলী। এ-জলার দেশে ফসলি ভুঁইয়ের বড়ই অভাব; ক্ষেত-গেরস্তির কাজ তাই সবার কাছেই এক অলীক স্বপ্ন। তবে বাজারের মাঝবরাবর শুয়ে থাকা মেটে রাস্তার দু-ধারে জংলা ছাপার শাড়ির একহারা পাড়ের মতো মাথা উঁচু করে সার…
-

অর্ধনারীশ্বর
বিকেল চারটে বেজে পাঁচ। নারকেলবাগান মোড়টা ছেড়ে রবীন্দ্র-তীর্থের সামনে আসতেই মোবাইলটা বেজে উঠল, যতদূর দূর থাক, শুধু যে চেয়ে থাক …। ব্যস্ত রাস্তা। সামনে-পেছনে সারি সারি গতিময় যান। বাইকের গতি কমিয়ে মোবাইলটাকে ঘাড়ে-কানে চেপে ধরার চেষ্টা করল অহিঞ্জিত। কত দিন কত মাস এই সুরটা শোনার অপেক্ষায় ছিল অহিঞ্জিত। সেই কবে লাজুলি তাকে নীরবে ছেড়ে চলে…
-

পিঁপড়া-কাসেম
ডান বাহুর কনুইয়ের ওপর একটা পিঁপড়া হাঁটছিল। আমি সেটা একদম খেয়াল করিনি। খেয়াল করার মতো অবস্থায় নেই আমি। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এজলাস চলাকালীন সময় এটি। এ-সময়ে কে কার দিকে দৃষ্টি রাখে। সবার মনোযোগ বিচারকের বিচারিক কর্মের দিকে নিবদ্ধ থাকে। এমনিতে পুলিশি ধরপাকড় করায় সদর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আসামি সোপর্দ হয় বেশি, তার ওপর আজ সরকারি কর্মদিবসের…
-

অন্ধকারের খোসায় স্বপ্নের বীজ
আচমকা কার ডাকে চটকা ঘুম ভাঙতে অজয়ের খরচ হয়ে গেল অনেকটা দুপুর। চোখ কুঁচকে কচি করে তাকাতেই – গাছপালা এক আকাশ রোদ্দুর হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল দুচোখে। দৃষ্টির আড়মোড়া ছাড়াতে নিল একটু সময়। তারপর আসেত্ম আসেত্ম নজরের পাট ভাঙতে ভাঙতে ওপর দিকে তাকাতে লক্ষ শিশু-মেঘ কোলে নিয়ে অপেক্ষায় এক বিশাল জননী-আকাশ। অক্টোপাস ডালপালা বিছিয়ে সেই…
-

অপারেশন গোপালপুর থানা
আসসালামু আলাইকুম …। – ওয়ালাইকুম আসসালাম। আপনি কে হে ভাই? আমার এই পর্ণকুটিরে …! – আমি আজরাইল …। – আজরাইল! তা, আমার বাড়িতে কী মনে করে, জনাব …? – মহান আলস্নvহতায়ালার হুকুম হয়েছে, আপনাকে এখন যেতে হবে। আমি আপনাকে নিতে এসেছি। স্ত্রী-পুত্র-পরিজন – কাউকে কিছু বলতে চাইলে ঝটপট বলে ফেলুন। আমার হাতে সময় কম …।…
-

ফকরের বলি
জবা আমার বয়সী হইবো। আমার মার লেগা দাওয়াই আনবার গেছিলাম আজিমপুর ডাক্তরখানায়। জবারে আমি চিনবার পারি নাই। দেখি একটা মাইয়া দাওয়াইআলার হাত-পাও ধরতাছে, বাকিতে নেশার সুই দিবার কয়। কান্দন শুরু করলো। চাইরো দিকের মানুষ দেখতাছে আর হাসি-মশকরা করতাছে। কেউ আঁচল ধইরা টানে, কেউ পানির ছিটা দেয়। মাইয়াটা যেই না ঘুরছে, দেইখা আমি তো থম মাইরা…
