প্রচ্ছদ-পরিচিতি

  • প্রচ্ছদ-পরিচিতি

    মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের চিত্রকলা-আন্দোলনে কামরুল হাসান অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। জয়নুল, সফিউদ্দীনের সহযাত্রী। ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেরও বিশিষ্ট কর্মী। তাঁর সৃষ্টির অজস্রতা ও বিপুল বৈচিত্র্য এদেশের চিত্রকলাকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন, আশা, হতাশা ও প্রতিবাদ তাঁর সৃষ্টিতে আশ্চর্য কুশলতায় প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর অবলোকনে এদেশের মানুষ বহু বর্ণে ও বহু রূপে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর সৃষ্টির বিপুল…

  • প্রচ্ছদ-পরিচিতি

    প্রসাধন ১৯৪৩ সালে অঙ্কিত দুর্ভিক্ষের চিত্রমালার মধ্য দিয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে উঠেছিলেন। এইসব চিত্রে তাঁর রেখার দীপ্তি, শক্তি ও সৃজনকুশলতা নবীন মাত্রা অর্জন করেছিল। শহরের রাস্তায় অন্নের খোঁজে কঙ্কালসার মানুষের মিছিল, অনাহারী মানুষের আর্তনাদ, তাদের হাহাকার, মৃত্যুর ভয়াবহতা রেখানির্ভর কাজে চিত্রিত হয়েছিল। দেশবিভাগের পর তিনি চলে আসেন ঢাকায় এবং একটি চিত্রবিদ্যার…

  • প্রচ্ছদপরিচিতি

    চোখ গোলাপ ও বেহুলা চারুকলা ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নকালে তরুণ ঘোষ বাস্তবধারার কাজের জন্য শিল্পানুরাগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তাঁর কাজের শিল্প সুষমা, বিষয় বৈচিত্র্য তখন থেকেই প্রণিধানযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। পরবর্তীকালে তাঁর ভেতর শিল্পের পথ অন্বেষণের তাগিদ সৃষ্টি হয়। তিনি বন্ধুদের নিয়ে ঢাকা পেইন্টার গ্রুপ গঠন করেন। ইউরোপের সমকালীন চিত্রকরদের কাজ তাঁদের প্রবলভাবে আন্দোলিত করে। তরুণ ঘোষ…

  • প্রচ্ছদ পরিচিতি

    রফিকুন নবী বাংলাদেশের সমকালীন চিত্রের ভুবনে শীর্ষশিল্পীদের অন্যতম। তিনি রোমান্টিকতাকে পরিহার করে ছবি আঁকেন। বাস্তবধর্মিতা তাঁর সৃষ্টির প্রধান গুণ। জীবনের নানা অনুষঙ্গকে তিনি সন্ধান করেছেন নদী, নিসর্গ ও সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামকে উপলব্ধি করে। জলরং, কাঠখোদাই ও তেলরঙের কাজে তিনি যথেষ্ট পারদর্শিতা ও সিদ্ধি অর্জন করেছেন। ষাটের দশকে বাংলাদেশের স্বরূপ-অন্বেষার আন্দোলনের সময় থেকে তাঁর সামাজিক অঙ্গীকারের…

  • প্রচ্ছদ-পরিচিতি

    নাসরীন বেগম জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাচ্যরীতির কাজে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। আমরা প্রত্যক্ষ করেছিলাম তাঁর প্রাচ্যরীতির ফিগারেটিভ কাজে সৃষ্টির আশ্চর্য তন্ময়তা। চড়া রং তিনি কোনোদিন ব্যবহার করেননি। শারীরিক বিম্ব-গঠনের মুন্শিয়ানা তাঁর শিল্পরূপকে করে তুলেছিল গহনতা-সন্ধানী। একদিকে নারীর নিঃসঙ্গতা, নারীত্বের বেদনাকে উপলব্ধি করে এক বিষাদগীতি পটে অঙ্কন করেছেন তিনি, অন্যদিকে ‘নতুন জীবনের দরোজা’ শিরোনামের চিত্রগুচ্ছে জীবনের আশার…

  • কম্পোজিশন

    কম্পোজিশন

    দেবদাস চক্রবর্তী বাংলাদেশের চিত্রকলা-আন্দোলনের প্রথম প্রজন্মের শিল্পী। ১৯৪৮-৪৯ সালে তিনি কলকাতা আর্ট কলেজে চিত্রচর্চায় প্রাথমিক শিক্ষা   গ্রহণ করেন। বামপন্থি ছাত্র-আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন ও আচার্য জয়নুল আবেদিনের আনুকূল্যে ঢাকা চারু ও কারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি এই কলেজ থেকে øাতক হন। ১৯৭৮-৭৯ সালে তিনি পোল্যান্ডের ওয়ারশ থেকে গ্রাফিক্সে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তীর সৃষ্টির বর্ণময় উদ্যানে মানুষ ও প্রকৃতির ছন্দোময় রূপ নবীন আলোকে উন্মোচিত হয়েছে। তিনি আধা বিমূর্ত ও বাস্তবধর্মী এ-দুধরনের কাজেই যথেষ্ট পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষত বিষয়ের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যকে তিনি নানা আকার দিয়ে মনোমুগ্ধকর এক অভিব্যক্তিতে প্রস্ফুটিত করেন।তিনি সমাজসচেতন ও প্রকৃতিবাদী বলে তাঁর সৃষ্টির উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে আছে যন্ত্রণাহত মানুষের আবেগ-অনুভূতি; এদেশের নিসর্গ, জল, মেঘ ও বৃষ্টি। তাঁর শিল্পসত্তায় প্রকৃতি ও মানুষের এই উপস্থিতি তাঁকে বিশিষ্ট করে রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধকে বিষয় করেও তিনি বেশ কয়েকটি চিত্র রচনা করেছেন। এইসব সৃষ্টিতে ধরা পড়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম সাহস, আর্তি ও বেদনা। তাঁর জন্ম ফরিদপুরে ২৫ ডিসে¤¦র ১৯৩৩ সালে।

  • মা ও মেয়ে

    এদেশের চিত্রকলা-আন্দোলনে কাজী আবদুল বাসেত সৃজনী-উৎকর্ষে ও দেশ-আত্মার মর্মযাতনা-অঙ্কনে বড়ো মাপের চিত্রীরূপে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। বিমূর্ত ও বাস্তবধর্মী – দু ধরনের কাজেই তাঁর প্রতিভার স্ফুরণ ও সিদ্ধি স্পষ্ট। ১৯৬২ সালে তিনি আমেরিকায় গেলে দুই খ্যাতনামা শিক্ষকের সান্নিধ্যে তাঁর শিল্পিত মানসভুবন সমৃদ্ধ হয়। বিলোড়ন-সৃষ্টিকারী শিল্পান্দোলন তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, কিন্তু সরাসরি পরিগ্রহণ করেননি। বরং পরবর্তীকালে আপন মৃত্তিকালগ্ন…

  • জলমগ্ন গ্রাম

    জলমগ্ন গ্রাম

    কাইয়ুম চৌধুরী বাংলাদেশের চিত্রকলা-আন্দোলনের প্রথম প্রজন্মের বিশিষ্ট শিল্পী। তাঁর পটে তিনি বাংলাদেশের নদী, নিসর্গ ও মানুষকে বহু রূপে ও বর্ণে অঙ্কন করেছেন। তিনি ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৫৪ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬০ সালে তিনি নিখিল পাকিস্তান জাতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীতে প্রথম পুরস্কার এবং পরে তেহরানে অনুষ্ঠিত আর.সি.ডি প্রদর্শনীতে ‘ইম্পিরিয়াল কোট’ পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৬৫…

  • নীল

    নীল

    মাধ্যম : কাগজে তেলরং বাংলাদেশের চিত্রকলায় বিমূর্ত অঙ্কনরীতির পরিচর্যায় যাঁরা অগ্রসর তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ কিবরিয়া প্রথম সারির। মূলত তাঁর হাতেই এদেশের আধুনিক শিল্পচর্চা পরিশীলিত হয়েছে। কিবরিয়া দ্বিমাত্রিকতার প্রকাশ-ক্ষমতাকে অনবরত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁর ছবির নিজস্ব জ্যামিতি সৃষ্টি করেছেন। সে-জ্যামিতি তাঁর ভাবনার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ও গভীরতার পরিচায়ক। আধুনিক চিত্রকলায় রং একটি ফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। কিবরিয়ার ছবিতেও রং…

  • স্বর্গের সম্রাজ্ঞী

    স্বর্গের সম্রাজ্ঞী

    ঢাকার আর্ট ইনস্টিটিউটের প্রথম প্রজন্মের অন্যতম শিল্পী রশিদ চৌধুরী। জন্ম ১৯৩২ সালে ফরিদপুরে, মৃত্যু ঢাকায় ১৯৮৬ সালে। পঞ্চাশের দশকে ছাত্রাবস্থায় ড্রইং ও জলরঙে সিদ্ধহস্ত ও খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন। ১৯৫৬-৫৭ সালে মাদ্রিদে ভাস্কর্য এবং ১৯৬০-৬৪ সালে প্যারিসে ভাস্কর্য, ফ্রেস্কো ও ট্যাপেস্ট্রিতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। মাধ্যম হিসেবে ট্যাপেস্ট্রিকে এদেশে তিনিই জনপ্রিয়তা দেন। শিল্পকর্মে তিনি বাঙালির লোক-ঐতিহ্য ও…

  • একাত্তরের স্মরণে

    একাত্তরের স্মরণে

    সফিউদ্দিন আহমেদ চল্লিশের দশক থেকেই ভারতখ্যাত। তিনি আমাদের কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রকর। আচার্য জয়নুল আবেদিনের সহযাত্রী। এ দেশের ছাপাই ছবির তিনিই শিল্পগুরু। ছাপাই ছবির প্রসার ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তিনি পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। পঞ্চাশের দশকে লন্ডনে চিত্রচর্চা ও শিক্ষা গ্রহণ তাঁর সৃষ্টির ভুবনকে নতুন মাত্রা দান করেছিল। তিনি তেল রঙেও সিদ্ধহস্ত। তেল রঙের কাজেও তাঁর…

  • রমণীর মুখ

    রমণীর মুখ

    বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের ভুবনে কামরুল হাসান এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্বাতন্ত্র্য এবং লোক-ঐতিহ্যের আধুনিকীকরণের মধ্য দিয়ে তাঁর চিত্রভাষা স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন, আশা, হতাশা ও প্রতিবাদ তাঁর সৃষ্টিতে ভিন্ন মর্যাদায় আলাদা আসন করে নিয়েছে। বৈচিত্র্যে এবং সৃষ্টির অজস্রতায় তিনি এদেশে চিত্রকলায় এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। তাঁর সৃষ্টিবৈচিত্র্যের এক বিশাল অংশ জুড়ে আছে বাঙালি…