August 2018

  • জ্যাকোমেত্তির ম্যাজিক

    জ্যাকোমেত্তির ম্যাজিক

    জ্যাকোমেত্তি, ৮ জুন-১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ গুগেনহাইম মিউজিয়াম, নিউইয়র্ক জুনের মাঝামাঝি নিউইয়র্কে এসেছিলেন হাসনাতভাই – অর্থাৎ কালি ও কলমের সম্পাদক আবুল হাসনাত। শহরে সে-সময় শুরু হয়েছে আলবার্তো জ্যাকোমেত্তির ভাস্কর্য ও অংকনের একক প্রদর্শনী, তাও গুগেনহাইমে। মেঘ ও জল, দুটোই একসঙ্গে। হাসনাতভাইকে এই প্রদর্শনীর কথা বলামাত্রই তিনি এককথায় যেতে রাজি। আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ও এ-দেশের বাইরে অনেক…

  • ফণিমনসা : প্রান্তজনের কাব্যনাটক

    ফণিমনসা : প্রান্তজনের কাব্যনাটক

    আমরা চেতনার দাসত্বে বিরোধহীনভাবে টি. এস. এলিয়টের কাব্যনাটক-সম্পর্কিত বক্তব্যকেই মেনে নিয়েছি। তিনি নাটকের জৈবিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে কবিতাকে দ্বিতীয় স্থান দিয়েছেন। এটা তো বাস্তববাদের প্রতিই শর্তহীন আবেগ, তার কারণ বোধ করি তিনি ছিলেন ‘রোমান্টিকতার বিরোধী ও ধ্রুপদী সাহিত্যের প্রতি আসক্ত’ (রাম বসু, নন্দনতত্ত্ব জিজ্ঞাসা, ১৯৯৪)। নাট্যমঞ্চ বহুমাত্রিকতা ধরার জন্য পরোক্ষভাবে কবিতার কাছেই হাত পেতেছে…

  • ফারাবীকে যেমন দেখেছি

    ফারাবীকে যেমন দেখেছি

    মনজুরুল হক চার দশকের বেশি হয়ে গেল ফারাবী আমাদের মাঝে নেই। বেঁচে থাকলে বয়স হতো ওর পঁয়ষট্টি বছর এবং এই জীবনে আরো অনেক কিছুই হয়তো সে দিয়ে যেতে পারত। আক্ষেপটা আমাদের সেখানেই। ফারাবী আমাদের হানাহানির এই সংসারে এসেছিল দেওয়ার জন্য, নিজের ভাণ্ডারে পাওয়ার হিসাব জমা করার জন্য নয়। মাত্র যখন সে তার প্রতিভার সঞ্চয় উন্মুক্ত…

  • ঠাকুরের দেশ

    (আমার প্রথম ঢাকা সফর স্মরণে) পদ্ম প্রসাদ দেবকোটা   যা ছিল আমার ওপর অধিষ্ঠিত সে-অনন্তের ঊর্ধ্বে আমার অধিষ্ঠান এবং আমি অগ্রসরমান – নিচে আলোর চুমকিখচিত মাটি। ও ঠাকুরের দেশ, আধেক চাঁদ মিলিয়ে যাচ্ছে ধীরে কখন তোমার বাণীরে শুনিতে পাব?   হিমালয়ের কঠিন সৌন্দর্য তোমার জলমগ্ন নিষ্কলুষ স্নিগ্ধতায় বিলীন হয়ে যায়, আর একদিন তুমি পৃথিবী-জাগানিয়া অগ্নিময়…

  • যে-মানুষকে ভুলেছে সবাই

    নেপালি কবিতার অনুবাদ . মুনীর সিরাজ অভি সুবেদী রাজা এবং নেতার চলার পথের পাশে অন্তরের দীনতায় ক্ষুদ্র ঘাসের মতো অস্তিত্ব আমার। শক্তিমানের স্বপ্নে প্রসারিত পথের পাশে নিরন্তর সময়ের বাহন ছোট পথের যাত্রী আমি কিছুতেই বাড়তে পারি না। দেশের মুখচ্ছবি দেখতে পাই – রক্তাক্ত, ব্যারাক, পাহারাদার এবং সিংহদরবার।   অনেক স্বপ্ন আছে, যদিও তা ভুলেছে সবাই।…

  • মনে আছে

    নাসরীন জেবিন আমাকে তোমার কী করে মনে আছে এতদিন? এত পথ পেরিয়ে স্মরণের রাত বয়ে যায় আনন্দ-তৃষ্ণায় – বৃষ্টির হাতে রেখে হাত তোমাকেই বলছি শ্রাবণ কী করে মনে আছে এই আশ্বিনেও এসে – ছিপছিপে আমি রুপালি চুলেও খুঁজেছি তোমায় নিতান্তই বালিকা ছিলাম আমি যখন তখন তুমি ছিলে অবাক বালক স্বপ্নঝুরি সন্ধানের হাত – ভেবে পাইনি…

  • বদলে যাওয়া

    নাসরীন জেবিন পাতাকুড়ানির সাথে শান্তিতে ঘুমাব আজ ওর খুপরিঘরে। চারপাশ জুড়ে কাশফুল কৃষক আর কিষানি আহ্লাদে আটখানা পাড়াপড়শি তুলসীমঞ্চ ভেঙে এলো আমার চন্দ্রমল্লিকা পুকুরঘাটটিও কেমন শান্ত আর ধীর গঙ্গাতীরে গোসল সেরে উঠেছি আজ শয্যা ছেড়ে পাতাকুড়ানির সাথে।

  • সুলেখার জন্য শোকগাথা

    কাজলেন্দু দে   নিসর্গের গ্রন্থাগারে আমরাই পাঠক ছিলাম। কখনো জীবনানন্দ দাশ এসে ঝিঁঝি পোকার ডাক আর ট্রামের চাকার শব্দ শুনতেন। ঘাটশিলা থেকে আসতেন বিভূতিভূষণ – নদী, আকাশ, গাছপালা আর পাখিদের সঙ্গে কথা বলে ফিরতেন নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়। একদিন এক বটগাছ এসে বলল আমায় – সুলেখাকে চেনো নাকি? সুলেখানাম্নী কাউকে কখনো দেখিনি; এ-নামের কাউকে চিনি না। আমার…

  • শহীদ কাদরী ‘ব্যক্তিগত, ব্যথিত শহরে’

    তমিজ উদ্দীন লোদী   তোমার চুম্বনগুলো পৌঁছাবার সাথে সাথে তুমিও পৌঁছে গেলে তোমার স্বদেশে তোমার অস্থি, মাংস, মাংসের খাঁচা মিশে থাকল স্বদেশের সোঁদা সুন্দর মাটিতে।   তুমি বলতে ‘দেশ’। দেশ মানে ত্রিশ লাখ মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি বদ্বীপ। তার মাটি, তার জল, তার বৃষ্টি, টিকে থাকার সংগ্রামে যুযুধান মানুষের মুখ। দেশ মানে অজস্র…

  • সে

    হাফিজ রশিদ খান   সে মানে মোমশিখার একবিন্দু কালো কামারশালার হাপরের তলে কনকরঙা ইস্পাত ফাল্গুনের বিরহী শাখায় মুকুলের মুখ পোড়োবাড়িতে বিষণœ পাল শাসনামলের গল্প তপ্ত ফুটপাতে ঘরহারা মানুষের আর্ত পদপাত পাথরে নকশা খোদাইরত শরীর ঘেমো মজুরের   সে মানে বাঘের ঘরে দৌড়ক্লান্ত হরিণীর দৃষ্টিপাত ক্ষণিকের…

  • ভালোবাসার পাঠ

    মোহাম্মদ শামছুজ্জামান   আর কতবার জাগালে তুমি ভালোবাসার ঢেউয়ে পাঠ দেবে! এখন তো প্রদোষ শেষে সানবাঁধানো ঘাটে যাওয়ার সময় সব উপলক্ষ শেষ হলে আর কোনো বাহানা থাকে না থাকে শুধু ‘মুখোমুখি বসিবার’ দায়হীন খেলা, এখন লাল পিঁপড়েরা শবদেহ নিয়ে ভারাক্রান্ত প্রণয়পথে মড়া আর শকুনেরা বিছিয়ে থাকে, তখন আর কেউ নেই ফেলে আসা স্মৃতিচিহ্ন-পথে মরীচিকাময় দীর্ঘশ্বাসগুলো…

  • সেই সুখ

    চঞ্চল শাহরিয়ার   তখনো রবীন্দ্রনাথে আচ্ছন্ন আমি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির দোতলায় হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি পরা কিশোরীর কৌতূহল ভেঙে ভেঙে হাতে তুলে দিচ্ছি।   জোড়াসাঁকো, শিলাইদহের রবীন্দ্র-কুঠিবাড়ি আর দক্ষিণডিহির বর্ষার দুপুর দিয়ে দিচ্ছি ভালোবেসে কিশোরীর আঙিনায়।   সেই সুখ-সোহাগী কার্নিশে খেলা করে নিশিদিন।