March 2004
-
ভালোবাসার প্রদীপ
সখী তোমার সব নেবোনা ভয় কোরোনা নীলায়ত আকাশটুকু মুখে ফোটা কুন্দ কুসুম ভরা বুকের ঘামের গন্ধ বুকের সাথে বুক মেলানোর পুলক রাশি গালের সাথে গাল মেলানোর তপ্ত খুশি সখী তোমার সব নেবোনা ভয় কোরোনা হাতটা না হয় হাতের পরে আলতোভাবে ঠোঁটে না হয় ঠোঁট ডুবানোর বিভোর তৃষ্ঞা বাগান থেকে ফুল তুলোনা ফুল দিয়োনা ফুল তো…
-
উই গট হিম
দুঞ্চপাশে রাইফেল ছিল যদি লক্ষ্য ভেদ করতে হয়, গুলিভর্তি পিস্তলও ছিল যদি আত্মঘাত হয় সহজ উপায়। কিন্ত্ত এ সব তাকে করালো না কিছু- কঞ্চমাস ইঁদুর-গর্তে নির্বাসনে থেকে দাড়ি গজিয়েছে আর ভুলে গেছে কোন লক্ষ্যে বাঁচা। ধন্য আমেরিকা। হিরোশিমা নাগাসাকি ভিয়েতনাম আরও আরও আরও ভয়ংকর সন্ত্রাস পেরিয়ে এখন ইরাকে পৌঁছে শিখেছ অনেক।…
-
একটি কবিতা
এবার একটি কবিতা দিতে একটু দেরি হল। খুব দেরি হয়তো নয়, তবুও তো। আসলে আমার কোনো দোষ নেই। কবিতাটি এসে গিয়েছিল, আশেপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। কখনো পাখির পালকের মতো উড়তে উড়তে, কখনো ঝিঁঝির ডাকের মতো ক্রমাগত, কখনো জানালার খড়খড়ির ফাঁকে আলো, কবিতাটি এদিক ওদিক ঘুরপাক খাচ্ছিল। এর মধ্যে কয়েকদিন খুব ঠান্ডা পড়ল, একদিন ভীষণ…
-
পাথর ও রক্তের বিবাদ
কি আছে অনাস্বাদিত? ঠোঁট রেখে কঠিন শিলায় পাথরের গন্ধ শুঁকি পেতে চাই সৃষ্টির লবণ। গ্রানিটে জিহ্বা লাগে, আলজিহ্বে শ্যাওলার স্বাদ স্বাদ নয়, এ কেবল পাথর ও রক্তের বিবাদ। অভুক্ত কবির মুখে, আলজিহ্বে জমেছে যে পানি এ দিয়ে নরম হয় জগতের প্রকৃতিনিচয়, কেবল অনম্য তুমি। পাথরের চেয়েও পাথর। হাসো বাসো নাশ করো মানুষের সব বরাভয়। ২…
-
টোকিও থেকে জাপান দর্পণ
বার্ধক্যের ভালোবাসা ভালোবাসার প্রচলিত ধারণা অনুসরণ করে ভাবনা-চিন্তা করলে স্বাভাবিক যে-সিদ্ধান্তে সহজেই উপনীত হওয়া যায় তা হলো, বার্ধক্য ভালোবাসায় চির ধরায়। তারুণ্যের উদ্দীপনায় যে তরুণ-তরুণী এক সময়ে মুহূর্তের জন্যেও একে অন্যের থেকে দূরে সরে থাকতে নারাজ, তাদেরকেই হয়তো বিবাহিত জীবনের প্রান্তে এসে পরিণত বয়সে দেখা যায় নিজেদের মধ্যে আগ বাড়িয়ে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করে নিতে।…
-
বিজ্ঞান বনাম প্রযুক্তি
মা এবং সন্তানের মাঝে তুলনা করতে গিয়ে একটা খুব সুন্দর কথা বলা হয়, কথাটা হচ্ছে : ‘কুপুত্র যদি বা হয়, কুমাতা কখনো নয়।’ সন্তানের জন্যে মায়ের ভালোবাসা দিয়েই একটা জীবন শুরু হয় তাই মায়ের উপর এতো বড় একটা বিশ্বাস থাকবে বিচিত্র কী? কুপুত্র এবং কুমাতা নিয়ে এই কথাটা একটু পরিবর্তন করে আমরা বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির…
-
নিবেদন
বাংলাদেশের পাঠকদের সঙ্গে আমার আত্মীয়তা শুরু হয়েছিল প্রায় কুড়ি বছর আগে, যখন কালবেলা বের হয়েছিল বই হিসেবে। তখন ঢাকায় অসৎ প্রকাশকরা সক্রিয় ছিলেন না, তাই আমার বই পাইরেট হতো না। কলকাতা থেকে যেসব বই যেত তা থাকত ঠিকঠাক। পরে যখন পাইরেসি প্রায় মুড়ি-মিছরির মতো ছড়িয়ে পড়ল, আমাদের অনুমতি ছাড়াই বইগুলো ওখানে ছাপা হতে থাকল তখন…
-

‘ঘরেরও নয় পারেরও নয়’ : এডওয়ার্ড সাঈদের আউট অফ প্লেস
যারা এডওয়ার্ড সাঈদের ওরিয়েন্টালিজম (১৯৭৮) গ্রন্থটি পড়েছেন এবং যারা তাঁর উত্তর-উপনিবেশী নানা চিন্তা-ভাবনাকে অনুসরণ করেন, প্যালেস্টাইন সম্বন্ধে তাঁর লেখালেখি ও তাঁর মানবতাবাদী বিশ্বাসের সঙ্গে যাদের পরিচয় রয়েছে এবং যারা তাঁর গৃহহীনতার বেদনাকে বুঝতে চান, তাদের জন্য আউট অফ প্লেস অবশ্যপাঠ্য। এ বইটি সাঈদ লিখতে শুরু করেন ১৯৯৪ সাল থেকে – এর মাত্র তিন বছর আগে…
-

এডওয়ার্ড সাঈদের প্রাচ্যভাবনা
এডওয়ার্ড সাঈদ চলে গেলেন। কিছুটা আকস্মিক হলেও তাঁর মৃত্যুর জন্যে অনেকেই প্রস্তুতই ছিলেন। তাঁর দেহে দীর্ঘদিন থেকে কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছিল। ১৯৭৮ সালে বেরিয়েছিল তাঁর সেই সাড়া জাগানো, দুনিয়া কাঁপানো গ্রন্থ ওরিয়েন্টালিজম। সেই থেকে ২০০৩ সাল-এই পঁচিশ বছরে আমাদের চিন্তার ভুবনে তিনি মহীরুহের ছায়া বিলিয়ে গেছেন। প্রাচ্যকে তিনি যে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখেছেন, তা-ই যে একেবারে…
-

আমাদের জাতীয় জীবনের মহান দুটি ঘটনাই শিল্পচর্চায় আমার প্রেরণার মূল উৎস বলে আমি মনে করি : রিজিয়া রহমান
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : হামিদ কায়সার এমএ পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে আগে হঠাৎ মাথায় একটা উপন্যাস লেখার প্লট ভর করলো তাঁর। যদিও তিনি খুব মনোযোগী ছাত্র, ভালো ফল করে একটা ভালো ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন তখন, কিন্তু উপন্যাস লেখার ভেতরকার আমন্ত্রণকে কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারলেন না। শুরু হয়ে গেল লেখা। মাঝখানে পরীক্ষাটা দিয়ে, পুরো উপন্যাসটিই সমাপ্ত করে…
-

গল্পের গোলকধাঁধা
বছর পাঁচেক আগে শরাবনের বয়স যখন পঁচিশ, রবার্ট তুহিন রোজারিওর মুখে প্রভুভক্ত আর পরোপকারী কুকুরের গল্প শুনে শুনে তার মনে হয়েছিল, জীবনের একটি সম্ভাবনার বুঝি অকালমৃত্যু ঘটেছে। আর সেটি হচ্ছে বৃদ্ধ বয়সে নাতি-নাতনি পরিবেষ্টিত অবস্থায় উঁচু বালিশে হেলান দিয়ে মৃত্যুবরণ করার, যা টিভি নাটকের দাদি-নানির বেলায় হামেশাই ঘটে থাকে। বিবাহিত রবার্ট তুহিন রোজারিও বনস্পতি বৃক্ষের…
-

চব্বিশ ঘণ্টা
ঠিক এই সময়টাতেই ওরা আসেন। কেমন যেন বাঁধাধরা নিয়মের মতো দাঁড়িয়ে গিয়েছে ব্যাপারটা। রোজা শুরু হবার কদিন পর থেকেই এমনটি হচ্ছে। ঠিক বলে কয়ে নয়। অলিখিত, অকথিত একটা প্যাটার্নের মতো। রোজ সন্ধ্যাবেলা ওঁরা এসে উপস্থিত হচ্ছেন সুশীলের দোকান ‘সংযোগ’-এ। বাবার বয়সী সব লোকজন। এঁদের কেউই আগন্তুক নয়। সবাই পরিচিত। প্রত্যেকেই এর আগেও দু-একবার এসেছেন এ…
