March 2004

  • মনসুর উল করিমের সাম্প্রতিক প্রদর্শনী : সীমা-অতিক্রম ও সীমাবদ্ধতার দ্বৈরথ

    মনসুর উল করিমের সাম্প্রতিক প্রদর্শনী : সীমা-অতিক্রম ও সীমাবদ্ধতার দ্বৈরথ

    আমাদের চিত্রকলা জগতে বেশ কিছুদিন ধরেই মনসুর উল করিমের সৃষ্টিকর্ম একটি বিশেষ ঘরানা ও রুচির মানসম্পন্ন উদাহরণ হিসেবে একটি পাকাপোক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। তাঁর একক প্রদর্শনী আগ্রহী দর্শক ও রসজ্ঞমহলে বিশেষ ঔৎসুক্য ও কৌতূহল জাগিয়ে থাকে, নবীন শিল্পপ্রয়াসীদের অনেকের কাজেই তাঁর শিল্পধারার নানান টুকরো-টাকরা প্রভাব সহজেই দেখা যেতে পারে। তবে রাজধানীর বাইরে অবস্থান এবং স্বভাবে…

  • মাধবী : থিয়েটারের নতুন ভাবনার প্রযোজনা

    মাধবী : থিয়েটারের নতুন ভাবনার প্রযোজনা

    ‘কিন্তু তুমি নিজে চলো না, অন্যকে চালাতে বাধ্য করো। এটাই তো বিড়ম্বনা। অথচ জগৎসংসার তোমাকেই তপস্বী আর সাধক বলবে, আমার পিতাকে দানশীল বলবে, আর আমাকে? চঞ্চলমতি এক নারী, যাকে বিশ্বাস পর্যন্ত করা যায় না। এই তো…’; চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যযাতি কন্যা মাধবী এমন বাক্য উচ্চারণ করে। মাধবী যাকে নিজের চেয়ে বেশি ভালোবেসেছিলো সেই গালব…

  • স্বপ্নবাজ তরুণেরা

    স্বপ্নবাজ তরুণেরা

    স্বপ্নবাজ – এই শব্দের সঙ্গে কি আগে কখনো পরিচয় ছিল আমাদের? বাংলাভাষী আমরা স্বপ্নদেখা মানুষদের এতদিন চিনতাম স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বপ্নাবিষ্ট, স্বপ্নময়ী, স্বাপ্নিক – এরকম শব্দের রকমফেরে। কিন্ত্ত বিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষদিকে এসে একটি শব্দের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে বাংলাভাষায়। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে তা তরুণদের কাছে খুবই পরিচিত আর প্রিয় হয়ে উঠেছে। স্বপ্নবাজ হলো সেই শব্দ। স্বপ্নময় হয়ে ওঠা…

  • প্রেমেন্দ্র মিত্র : কবি থেকে গীতিকার

    প্রেমেন্দ্র মিত্র : কবি থেকে গীতিকার

    রবিজীবনের সায়াহ্নে একদল উদ্দাম রচনাকারের মাতনে বাংলা সাহিত্যে এলো কল্লোল। ‘উদ্ধত যৌবনের ফেনিল উচ্ছলতা, সমস্ত বাধা-বন্ধনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত বিদ্রোহ’- এই ছিল আশ্বাস। অনেকের সঙ্গে সেখানে কলম মেলালেন এক তরুণ। প্রেমেন্দ্র মিত্র। পরবর্তীকালে সাহিত্যের বহুধারায় যশ পেলেও তখন তিনি উজ্জ্বল ছোটগল্প আর কবিতায়। সাহিত্য-বন্ধু অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের স্মৃতিতে ‘একমাথা ঘন কোঁকড়ানো চুল, সামনের দিকটা একটু আঁচড়ে বাকিটা…

  • জতুগৃহে বসবাস

    আস্ত একটা কাঁচা ডিম, ভাঙ্গতে বড়োই সুবিধা উপর থেকে, ডাইনে থেকে, বাঁয়ে থেকে, নিচ থেকে যেখান থেকেই চাপ দাও – মুহূর্তেই ভেঙ্গে খান খান, ভাঙ্গনের মহিমায়, এখন আমরা সায়াহ্কের যাযাবর। ভাইটি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে অস্তিত্বের শেষ ধাপে পা রেখে বললো – দাদা আমি আজ থেকে আবু সুফিয়ান, বোনটি পালাতে পালাতে মধ্যাহ্কে – তবু শেষ রক্ষা হলোনা,…

  • পথ

    ঘরে ফিরবেনা বলে যারা পথে নামে তারা সবাই কি পথে থেকে যায়? নাকি কেউ কেউ পথ খুঁজে পায়না বলেই ফের ঘরে ফেরে, কেউ ভুল করে ঢুকে পড়ে অন্য কোনো ঘরে! আসলে পথ কি দিতে পারে সেরকম কোনো নিশ্চিত আশ্রয়! কেউ কেউ হুট করে পথে নেমে পড়ে কেউ বেশ ভেবে-চিন্তে অন্ধি-সন্ধি জেনে। যারা কিছু না ভেবেই…

  • দীর্ঘস্থায়ী ক্রন্দনের জন্যে

    দীর্ঘস্থায়ী ক্রন্দনের জন্যে মানুষের লোভ আজ এতদূর এমন আগ্রাসী- সান্তনার সব পাতা ছেঁড়া হয়ে গেছে। জীবনের এতো বড়ো স্থির বৃক্ষ থেকে ঘুমের ভেতরে জেগে স্বপ্নগুলো ছুঁতে না পারার ক্রোধ ক্রমাগত তাকে সহজ নক্শা থেকে উল্লম্ফনে ক্রীতদাস হতে আজ বাধ্য করেছে। আর তাই, নদীর ঢেউয়েরা আজ তত আকর্ষক নয়, বন আর বনের কুসুম নয় ততো প্রাণপ্রিয়,…

  • নাট্যস্বপ্নকল্প : হ্যামলেট

    ডানদিকে হিমঘর, বাঁয়ে লাল রেলের কলোনি এরপর স্টেশন আসবে, কালের যাত্রায় হুহু ধ্বনি ধৈর্য ধশ্রে শুনতে হয় – কেমনে ধৈরজ ধরি, সই? সে আমার সুরধনি, আমি তার কিছু একটা হই! পকেটে কমদামি সেন্ট, ট্রেনে কেনা শস্তা চানাচুর, নাটকে টিকিট কাটা, ধূপছায়া রঙের দুপুর … বিকেলে টেনশন বাড়ছে, বাড়িতে নির্ঘাত কিছু হবে তবুও দলবল মিলে যাওয়া…

  • সঙ্গে আসো যদি

    শোকের আড়ালে কিছু অনিশ্চয় মিশে থাকে, চোখের জলের সঙ্গে নুন ক্ষয়ে যেতে যেতে তবু নির্বিকার সেজে থাকে সম্পর্কের ঘুণ পরস্পর বন্ধু ভাবে, ভাই ভাবে, প্রতিবেশী, উত্তরাধিকারী একবার ভাবো অন্য, সম্পর্ক আড়াল হলে অবিমৃষ্যকারী ফিরে আসে দিনশেষে, সভ্যতার ঞ্চপরে মাথা নুয়ে আছে খড় মু-হীন মানুষেরা স্বপ্ন দেখে মহাকাল মনোসগোচর দেশ নেই, বাড়ি নেই, যে-পৃথিবী ঘিরে আছে…

  • কবিতার প্রহর

    খনির ঠিকানা সকলেই পায় ঘরে কিংবা সিটি স্কোয়ারে যে যার মতো আনন্দখনির সন্ধান পেয়ে গেছে। আসছে মশাল, গাঁইতি। ঐখানে মূল কথা, খনির ভিতর নামা অন্ধকার সুড়ঙ্গ ধরে কে কীভাবে যাবে আনন্দের কত চুনি, পান্না; স্বপ্নে মাতাল হয়ে আছি তুমি আমি সাদা কালো মজুরেরা খনির নিচে কবিতার গুপ্ত সরোবর ঐ জলে ডুব দিতে চায় প্রত্যেকে, গোলমাল…

  • বালক, তুমি একদিন / দ্বিতীয় পাঠ

    বালক, তুমি একদিন কবি হবে, আমি সেই দিনের জন্যে শোক করছি। আমি এই ধনুক থেকে ছুড়ে দিচ্ছি তীর, নৌকো থেকে দিয়ে দিচ্ছি গতি, নদী থেকে জালের টানে তুলে ফেলছি মহাশোলের সিঁদুরপরা মুড়ো, আছড়ে ফেলছি তোমার তকতকে নিকোনো উঠোনে, বালক, এই শোক। অবিরাম তোমার কণ্ঠ থেকে এখন উচ্চারিত হচ্ছে যে শব্দসকল, আমি তার ভেতরে এখন পুরে…

  • কবিতার মতো

    তোমার অদেখার প্রিয় মুহূর্ত এবং উদ্ভবের প্রহর কোনো কোনো দিন যেন পরাবাস্তব কবিতার মতো এই চোখ ফাঁকি দিয়ে কখনো কবিতা হয়ে ওঠে আর আমি তরঙ্গায়িত মৌচাকের আঁধার চুরি করে যখন একটি করে শব্দের সুষমা আবিষ্কার করি যেন একটু-একটু করে রহস্যের জট খুলে যায় দক্ষ কারিগর যেমন ছেনি-হাতুড়ির কায়িক-শ্রমে প্রতিধ্বনিত শব্দের পাথর কেটে উন্মোচিত করে তার…