May 2004

  • নীল

    নীল

    মাধ্যম : কাগজে তেলরং বাংলাদেশের চিত্রকলায় বিমূর্ত অঙ্কনরীতির পরিচর্যায় যাঁরা অগ্রসর তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ কিবরিয়া প্রথম সারির। মূলত তাঁর হাতেই এদেশের আধুনিক শিল্পচর্চা পরিশীলিত হয়েছে। কিবরিয়া দ্বিমাত্রিকতার প্রকাশ-ক্ষমতাকে অনবরত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁর ছবির নিজস্ব জ্যামিতি সৃষ্টি করেছেন। সে-জ্যামিতি তাঁর ভাবনার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ও গভীরতার পরিচায়ক। আধুনিক চিত্রকলায় রং একটি ফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। কিবরিয়ার ছবিতেও রং…

  • ‘পল্লীবর্ষা’ কি মাত্রাবৃত্তে না অক্ষরবৃত্তে

    কালি ও কলম প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা ও দ্বিতীয় সংখ্যা পড়লাম। এর আগে এত উন্নতমানের সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি-বিষয়ক পত্রিকা চোখে পড়েনি। অনেকদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। আমাদের দেশে এ-ধরনের পত্রিকা দীর্ঘায়ু হয় না, তাই কালি ও কলম অন্তত যৌবনপ্রাপ্ত হবে, এ-আশ্বাস সত্যিই আশান্বিত করেছে। চমৎকার সব লেখা। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছাড়া এত সমৃদ্ধ পত্রিকা প্রকাশ করা অসম্ভব, প্রথম সংখ্যা…

  • অনুবাদ সাহিত্যে গুরুত্ব দিন

    আমার আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন। কালি ও কলম প্রথম সংখ্যা-প্রকাশে আপনাদের আন্তরিক সদিচ্ছা এর প্রতিটি পাতায়ই পরিদৃষ্ট। প্রতিটি যুগেই যখন মহান সাহিত্যিক ও দার্শনিকরা আপন মেধাকে বিকশিত করেছেন তখনই কোনো-না-কোনো তৎকালীন সাহিত্যপত্রিকাকে তাঁরা অবলম্বন করেছেন তাঁদের সাধনার মাধ্যম হিসেবে। তৎকালীন পত্রিকাগুলোর কর্তাব্যক্তিরাও নিজের নাম উজ্জ্বল করার চেয়ে প্রতিভা-বিকাশে ও কালজয়ী সাহিত্য ও দর্শন-সৃষ্টিতে অধিকতর মনোযোগী…

  • আত্মপরিচয়ের অন্বেষণ : গোরা ও কিম্

    আত্মপরিচয়ের অন্বেষণ : গোরা ও কিম্

    রবীন্দ্রনাথ গোরা ধারাবাহিক লেখা শুরু করেন ১৯০৭ সালে। ওই বছরেই নোবেল পান রাডিয়ার্ড কিপলিং। রবীন্দ্রনাথ কিপলিংয়ের চেয়ে চার বছরের বড়। নোবেল পান তাঁর ছয় বছর পর, ১৯১৩-তে। দুজনের মধ্যে কিন্তু বিস্তর ফারাক – কী দেশ ও কাল-চেতনায়, কী সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। তাঁদের হয়ে-ওঠাও বাস্তব পটভূমির বিপরীত দুই প্রান্ত থেকে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির জাঁদরেল প্রতিনিধি কিপলিং। এতে…

  • রবীন্দ্রনাথ-সম্পাদিত ভাণ্ডার পত্রিকায় খান বাহাদুর সিরাজুল ইসলামের একটি লুপ্ত রচনা

    রবীন্দ্রনাথ-সম্পাদিত ভাণ্ডার পত্রিকায় খান বাহাদুর সিরাজুল ইসলামের একটি লুপ্ত রচনা

    বিশ শতকের সূচনালগ্নে রবীন্দ্রনাথ সম্পাদনভার নিয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র-প্রতিষ্ঠিত (নবপর্যায়ে) বঙ্গদর্শনের (১৯০১-০৪)। চট্টগ্রামের কেদারনাথ দাশগুপ্তের (১৮৭৮-১৯৪২) উদ্যোগে প্রকাশিত মাসিক ভাণ্ডার পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব কবির ওপর পড়ে ১৯০৫-এ। ভাণ্ডারের প্রথম সংখ্যা রবীন্দ্রনাথের সম্পাদনায় ১৯০৫-এর এপ্রিলে (বৈশাখ ১৩১২) প্রকাশ পায়। পত্রিকায় চারটি বিভাগ ছিল : প্রবন্ধ, প্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর ও সঞ্চয়। প্রশ্নোত্তর বিভাগের প্রশ্ন তৈরি করতেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, সম্পাদক নিজে।…

  • কে বুদ্ধিজীবী?

    কে বুদ্ধিজীবী?

    ইংরেজি intellectual শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটি চালু হয়ে গেছে। তাই আমি ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটিই ব্যবহার করব। যদিও প্রতিশব্দটি আমার খুব একটা পছন্দ নয়। বিনয় ঘোষ ‘intellectual’-এর বাংলা করেছেন ‘বিদ্বৎজন’। আমার পছন্দ হলেও কথাটি তেমন চালু হয়নি। থাক সে-কথা। ‘কে বুদ্ধিজীবী?’ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অনেকেই ভাবনাচিন্তা করেছেন। বিষয়টি আমারও খুব প্রিয়। ভীষণ আকর্ষণ করে…

  • স্বপ্ন

    স্বপ্ন

    বেসমেন্টের অন্ধকার তখনো ভালো করে কাটেনি। কে জানে দিন কী রাত! রাতই হবে। যদিও মাটির তলার ঘর, কিন্তু খুদে একটা জানালা আছে। সেটা এ-বাড়ির বাগানের সঙ্গে সংযুক্ত। সুতরাং একটু হলেও আলো আসে। দেখা যায় কর্নারে একলা দাঁড়িয়ে-থাকা নাসপাতি গাছটা। শুধু একলা নয় দারুণ শীতে সবগুলো পাতা ঝরা ন্যাড়া ন্যাংটা। সামারে দুটো পাখির বাসা ছিল। কী…

  • রক্তকরবীর গন্ধ

    রক্তকরবীর গন্ধ

    যখন বাগানে নেমেছিলেন সুতপা তখনো রোদের শরীরে যথেষ্ট ঝাঁঝ ছিল। এখন সেটা বিবর্ণ হতে হতে ফ্যাকাশে মেরে গেছে। এখনো দক্ষিণ দিকের গাছগুলোতে জল দেয়া বাকি। কিন্তু শরীর আর বইছে না। জলের বালতিটা টেনে টেনে কোমরে ব্যথা ধরে গেছে। বাধ্য হয়েই খানিকটা বিশ্রাম নেয়ার জন্য সুতপা চাঁপা গাছটার কাছে দাঁড়ালেন। ভাবলেন, এভাবে হুট করে না নেমে…

  • চন্দ্রভূক অমাবস্যার গল্প

    চন্দ্রভূক অমাবস্যার গল্প

    চোখের সামনে বেশ্যা হয়ে গেল লাইলী। প্রকৃতপক্ষে কী যে তার নাম, সে-কথা নীলগঞ্জের কেউ জানে না। এ-শহরের যুবকেরা কম চেষ্টা করেনি; নানাভাবে খুঁচিয়ে দেখেছে, উত্ত্যক্ত করেছে, তার সত্যিকারের নাম কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি। যে-মানুষ কথাই বলে না, তার নাম জানবে কী করে! শুধু নাম কেন, তার সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানা যায়নি। কোথায় বাড়ি, জগত-সংসারে তার…

  • ‘একটি দেশের স্থাপত্য সেই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু ও দেশজ সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশের ওপর নির্ভরশীল।’

    ‘একটি দেশের স্থাপত্য সেই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু ও দেশজ সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশের ওপর নির্ভরশীল।’

    স্থপতি মাজহারুল ইসলাম সাক্ষাৎকার গ্রহণ : সামসুল ওয়ারেস বাংলাদেশে বিশ্বমানের একজন স্থপতিই আছেন। তাঁর নাম মাজহারুল ইসলাম। তিনি এই উপমহাদেশের সম্ভবত সবচেয়ে স্থির, ধীশক্তিসম্পন্ন ও আদর্শবাদী স্থপতি। তাঁর স্থাপত্য এই উপমহাদেশের স্থাপত্য-সারবস্তু ও আদর্শ থেকে উৎসারিত হয়ে রূপান্তরিত হয়েছে বলিষ্ঠ এক অবয়বে যা সর্বকালীন এবং অসীম। তাঁর স্থাপত্য ইট, বালু, কাঠ, আলো, বাতাস ও অন্ধকারের…

  • রসুল হামজাতফ্

    রসুল হামজাতফ্

    আমি যখন তাঁকে দেখি টেলিভিশনের পর্দায়, সেই সুদূর ১৯৭৬/৭৭-এ, তখন তেপ্পান্ন পুরো হয়েছিল হয়তো-বা। তবে আলোকচিত্র কি টেলিভিশন প্রতারণা করে। বয়েস বেশি মনে হয় আসলের চেয়ে। কিন্তু দেখতে তিনি সুদর্শন ও সুখী। পুরুষ মানুষ বলতে যা বোঝায় : রূপ ঠিক মুখের শ্রী বা ছাঁদে ততখানি নয়, যতটা ডৌলের ভাঙাচোরায় চিত্রিত ব্যক্তিত্বের স্পর্শে। দশাসই অবয়বে পাহাড়ি…

  • নিবেদন

    নিবেদন

    সেবার বইমেলার সময়েই রমজানের মাস শুরু হয়ে গেল। আমি থাকতাম ঢাকার মগবাজার আড়ংয়ের দোকানের যে-বাড়িটা তার চারতলায়। অক্ষর প্রকাশনীর ফয়েজ ভাই ওই বাড়ির মালিক, তাঁরই ব্যবস্থাপনায় আমার থাকা। একটু অস্বস্তি ছিল। বন্ধু-বান্ধবরা সারাদিন রোজা রাখবেন আর আমি পেট ভরাবো! স্থির করলাম দিনের বেলায় আমিও খাবো না। এমনকি চা পর্যন্ত নয়। ঘুমিয়ে থাকলে খিদে পায় না…