May

  • দুর্গম পথের দুঃসাহসী যাত্রী

    সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অনেক বছর আগে, তা চার দশকেরও বেশি হবে, নজরুল সম্পর্কে আমি একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম, নাম দিয়েছিলাম ‘উন্মুক্ত পথের স্বচ্ছন্দ যাত্রী’। শিরোনামটি তখন যথার্থই যথার্থই মনে হয়েছিল, নইলে দিলাম কেন? এত বছর পরে এসে নজরুলকে নতুন করে পড়ে এবং তাঁর সম্পর্কে ভেবে আমার ধারণা কি বদলে গেছে? কিছুটা গেছে বটে তবে খুব অল্প।…

  • বাঙালি সংস্কৃতির যুগলদূত

    জয়নাল হোসেন বিশ্বে বাংলাদেশ আজ আর অচেনা-অজানা কোনো দেশের নাম নয়। বাংলাদেশের ষোলো কোটি মানুষের অনেকের বিচরণ আজ বিশ্বের সর্বত্র। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে-শ্রমের মাধ্যমে বাঙালিদের অবদান বিশ্বের দেশে দেশে আজ আলোচিত ও স্বীকৃত। বিপন্ন মানবতাকে স্বস্তিতে রাখার আর দেশে দেশে কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাঙালিদের অবদান খোদ জাতিসংঘেরও স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে চেনে শান্তির পারাবতের আবাসস্থল হিসেবে। বাংলাদেশের…

  • নদী কারো নয়

    সৈয়দ শামসুল হক \ ১৮\ উনিশশো সাতচল্লিশ সালের আগস্ট মাস – হিমালয় দক্ষিণের উপমহাদেশ থেকে – বিশেষ আমাদের এই জলেশ্বরীতে ব্রিটিশ বিদায়ের সেই দিনটি – পাকিস্তানের জন্মলগ্নের চোদ্দই আগস্ট বৃহস্পতিবার, আর হিন্দুস্থান তথা ভারতে পনেরোই আগস্ট শুক্রবার – সেই উন্মত্ত সময়ের বয়ান আমাদের কাছে কে করবে? আমরা কুসমির ঘরে সাইদুর রহমান কন্ট্রাক্টরের মুখে গল্প শুনছিলাম…

  • কবি আবুল হোসেনের সান্নিধ্যে

    ইকবাল আজিজ কবি আবুল হোসেনকে মনে হয় আমাদের সাহিত্যের বটবৃক্ষ। আমাদের সাহিত্যে এমন খ্যাতিমান কিংবদন্তি আরো কয়েকজন ছিলেন। আমার সৌভাগ্য, তাঁদের কারো কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। আবুল হোসেনের পাশাপাশি শওকত ওসমান, আহসান হাবীব, শামসুর রাহমান প্রমুখের সান্নিধ্যে নিজেকে বড় বেশি নিরাপদ মনে হতো; এসব প্রবীণ ও অভিজ্ঞ বটবৃক্ষের স্নেহছায়ায়…

  • সাহিত্যের সমাজতত্ত্ব : নজরুলের ছোটগল্প

    সাহিত্যের সমাজতত্ত্ব : নজরুলের ছোটগল্প

    সাদাত উল্লাহ খান Like many areas of sociology, the sociology of literature has a distinguished as well as uncertain history. (Diana Laurenson and A. Swingewood, 1972) কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) বাঙালি সমাজের জাগরণের কবি, মুক্তির কবি ও স্বাধীনতার কবি। তিনি আমাদের আলো – বাঁচার আলো। তিনি সমগ্র বাঙালির প্রেরণা। সমগ্র বাঙালির ইতিহাসে দ্বিতীয় কেউ ছিলেন…

  • আন্তিগোনে: দুঃখদহন ও প্রজ্ঞার প্রতিমূর্তি

    আন্তিগোনে: দুঃখদহন ও প্রজ্ঞার প্রতিমূর্তি

    হোমরীয় (খ্রিষ্টপূর্ব নবম শতক) মহাকাব্য দুটির কাহিনী ও ঘটনাপরম্পরা বিশ্লেষণ করে এটা বলা যায় যে, পশুপালন, সীমিত পর্যায়ের কৃষিকাজ ও লুণ্ঠন ইত্যাদি আশ্রয় করে প্রাচীন গ্রিসের আদিম পিতৃপ্রধান সমাজের বিকাশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ইতিহাসে গ্রিকদের উত্থানের কালেই দেখা যায় যে, তারা বিকশিত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চিন্তার সঙ্গে সঙ্গে আয়ত্ত করেছিল সমৃদ্ধ ভাষা – যা বিচিত্র…

  • নীল

    নীল

    মাধ্যম : কাগজে তেলরং বাংলাদেশের চিত্রকলায় বিমূর্ত অঙ্কনরীতির পরিচর্যায় যাঁরা অগ্রসর তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ কিবরিয়া প্রথম সারির। মূলত তাঁর হাতেই এদেশের আধুনিক শিল্পচর্চা পরিশীলিত হয়েছে। কিবরিয়া দ্বিমাত্রিকতার প্রকাশ-ক্ষমতাকে অনবরত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁর ছবির নিজস্ব জ্যামিতি সৃষ্টি করেছেন। সে-জ্যামিতি তাঁর ভাবনার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ও গভীরতার পরিচায়ক। আধুনিক চিত্রকলায় রং একটি ফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। কিবরিয়ার ছবিতেও রং…

  • ‘পল্লীবর্ষা’ কি মাত্রাবৃত্তে না অক্ষরবৃত্তে

    কালি ও কলম প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা ও দ্বিতীয় সংখ্যা পড়লাম। এর আগে এত উন্নতমানের সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি-বিষয়ক পত্রিকা চোখে পড়েনি। অনেকদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। আমাদের দেশে এ-ধরনের পত্রিকা দীর্ঘায়ু হয় না, তাই কালি ও কলম অন্তত যৌবনপ্রাপ্ত হবে, এ-আশ্বাস সত্যিই আশান্বিত করেছে। চমৎকার সব লেখা। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছাড়া এত সমৃদ্ধ পত্রিকা প্রকাশ করা অসম্ভব, প্রথম সংখ্যা…

  • অনুবাদ সাহিত্যে গুরুত্ব দিন

    আমার আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন। কালি ও কলম প্রথম সংখ্যা-প্রকাশে আপনাদের আন্তরিক সদিচ্ছা এর প্রতিটি পাতায়ই পরিদৃষ্ট। প্রতিটি যুগেই যখন মহান সাহিত্যিক ও দার্শনিকরা আপন মেধাকে বিকশিত করেছেন তখনই কোনো-না-কোনো তৎকালীন সাহিত্যপত্রিকাকে তাঁরা অবলম্বন করেছেন তাঁদের সাধনার মাধ্যম হিসেবে। তৎকালীন পত্রিকাগুলোর কর্তাব্যক্তিরাও নিজের নাম উজ্জ্বল করার চেয়ে প্রতিভা-বিকাশে ও কালজয়ী সাহিত্য ও দর্শন-সৃষ্টিতে অধিকতর মনোযোগী…

  • আত্মপরিচয়ের অন্বেষণ : গোরা ও কিম্

    আত্মপরিচয়ের অন্বেষণ : গোরা ও কিম্

    রবীন্দ্রনাথ গোরা ধারাবাহিক লেখা শুরু করেন ১৯০৭ সালে। ওই বছরেই নোবেল পান রাডিয়ার্ড কিপলিং। রবীন্দ্রনাথ কিপলিংয়ের চেয়ে চার বছরের বড়। নোবেল পান তাঁর ছয় বছর পর, ১৯১৩-তে। দুজনের মধ্যে কিন্তু বিস্তর ফারাক – কী দেশ ও কাল-চেতনায়, কী সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। তাঁদের হয়ে-ওঠাও বাস্তব পটভূমির বিপরীত দুই প্রান্ত থেকে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির জাঁদরেল প্রতিনিধি কিপলিং। এতে…

  • রবীন্দ্রনাথ-সম্পাদিত ভাণ্ডার পত্রিকায় খান বাহাদুর সিরাজুল ইসলামের একটি লুপ্ত রচনা

    রবীন্দ্রনাথ-সম্পাদিত ভাণ্ডার পত্রিকায় খান বাহাদুর সিরাজুল ইসলামের একটি লুপ্ত রচনা

    বিশ শতকের সূচনালগ্নে রবীন্দ্রনাথ সম্পাদনভার নিয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র-প্রতিষ্ঠিত (নবপর্যায়ে) বঙ্গদর্শনের (১৯০১-০৪)। চট্টগ্রামের কেদারনাথ দাশগুপ্তের (১৮৭৮-১৯৪২) উদ্যোগে প্রকাশিত মাসিক ভাণ্ডার পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব কবির ওপর পড়ে ১৯০৫-এ। ভাণ্ডারের প্রথম সংখ্যা রবীন্দ্রনাথের সম্পাদনায় ১৯০৫-এর এপ্রিলে (বৈশাখ ১৩১২) প্রকাশ পায়। পত্রিকায় চারটি বিভাগ ছিল : প্রবন্ধ, প্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর ও সঞ্চয়। প্রশ্নোত্তর বিভাগের প্রশ্ন তৈরি করতেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, সম্পাদক নিজে।…

  • কে বুদ্ধিজীবী?

    কে বুদ্ধিজীবী?

    ইংরেজি intellectual শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটি চালু হয়ে গেছে। তাই আমি ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটিই ব্যবহার করব। যদিও প্রতিশব্দটি আমার খুব একটা পছন্দ নয়। বিনয় ঘোষ ‘intellectual’-এর বাংলা করেছেন ‘বিদ্বৎজন’। আমার পছন্দ হলেও কথাটি তেমন চালু হয়নি। থাক সে-কথা। ‘কে বুদ্ধিজীবী?’ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অনেকেই ভাবনাচিন্তা করেছেন। বিষয়টি আমারও খুব প্রিয়। ভীষণ আকর্ষণ করে…