May

  • স্বপ্ন

    স্বপ্ন

    বেসমেন্টের অন্ধকার তখনো ভালো করে কাটেনি। কে জানে দিন কী রাত! রাতই হবে। যদিও মাটির তলার ঘর, কিন্তু খুদে একটা জানালা আছে। সেটা এ-বাড়ির বাগানের সঙ্গে সংযুক্ত। সুতরাং একটু হলেও আলো আসে। দেখা যায় কর্নারে একলা দাঁড়িয়ে-থাকা নাসপাতি গাছটা। শুধু একলা নয় দারুণ শীতে সবগুলো পাতা ঝরা ন্যাড়া ন্যাংটা। সামারে দুটো পাখির বাসা ছিল। কী…

  • রক্তকরবীর গন্ধ

    রক্তকরবীর গন্ধ

    যখন বাগানে নেমেছিলেন সুতপা তখনো রোদের শরীরে যথেষ্ট ঝাঁঝ ছিল। এখন সেটা বিবর্ণ হতে হতে ফ্যাকাশে মেরে গেছে। এখনো দক্ষিণ দিকের গাছগুলোতে জল দেয়া বাকি। কিন্তু শরীর আর বইছে না। জলের বালতিটা টেনে টেনে কোমরে ব্যথা ধরে গেছে। বাধ্য হয়েই খানিকটা বিশ্রাম নেয়ার জন্য সুতপা চাঁপা গাছটার কাছে দাঁড়ালেন। ভাবলেন, এভাবে হুট করে না নেমে…

  • চন্দ্রভূক অমাবস্যার গল্প

    চন্দ্রভূক অমাবস্যার গল্প

    চোখের সামনে বেশ্যা হয়ে গেল লাইলী। প্রকৃতপক্ষে কী যে তার নাম, সে-কথা নীলগঞ্জের কেউ জানে না। এ-শহরের যুবকেরা কম চেষ্টা করেনি; নানাভাবে খুঁচিয়ে দেখেছে, উত্ত্যক্ত করেছে, তার সত্যিকারের নাম কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি। যে-মানুষ কথাই বলে না, তার নাম জানবে কী করে! শুধু নাম কেন, তার সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানা যায়নি। কোথায় বাড়ি, জগত-সংসারে তার…

  • ‘একটি দেশের স্থাপত্য সেই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু ও দেশজ সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশের ওপর নির্ভরশীল।’

    ‘একটি দেশের স্থাপত্য সেই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু ও দেশজ সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশের ওপর নির্ভরশীল।’

    স্থপতি মাজহারুল ইসলাম সাক্ষাৎকার গ্রহণ : সামসুল ওয়ারেস বাংলাদেশে বিশ্বমানের একজন স্থপতিই আছেন। তাঁর নাম মাজহারুল ইসলাম। তিনি এই উপমহাদেশের সম্ভবত সবচেয়ে স্থির, ধীশক্তিসম্পন্ন ও আদর্শবাদী স্থপতি। তাঁর স্থাপত্য এই উপমহাদেশের স্থাপত্য-সারবস্তু ও আদর্শ থেকে উৎসারিত হয়ে রূপান্তরিত হয়েছে বলিষ্ঠ এক অবয়বে যা সর্বকালীন এবং অসীম। তাঁর স্থাপত্য ইট, বালু, কাঠ, আলো, বাতাস ও অন্ধকারের…

  • রসুল হামজাতফ্

    রসুল হামজাতফ্

    আমি যখন তাঁকে দেখি টেলিভিশনের পর্দায়, সেই সুদূর ১৯৭৬/৭৭-এ, তখন তেপ্পান্ন পুরো হয়েছিল হয়তো-বা। তবে আলোকচিত্র কি টেলিভিশন প্রতারণা করে। বয়েস বেশি মনে হয় আসলের চেয়ে। কিন্তু দেখতে তিনি সুদর্শন ও সুখী। পুরুষ মানুষ বলতে যা বোঝায় : রূপ ঠিক মুখের শ্রী বা ছাঁদে ততখানি নয়, যতটা ডৌলের ভাঙাচোরায় চিত্রিত ব্যক্তিত্বের স্পর্শে। দশাসই অবয়বে পাহাড়ি…

  • নিবেদন

    নিবেদন

    সেবার বইমেলার সময়েই রমজানের মাস শুরু হয়ে গেল। আমি থাকতাম ঢাকার মগবাজার আড়ংয়ের দোকানের যে-বাড়িটা তার চারতলায়। অক্ষর প্রকাশনীর ফয়েজ ভাই ওই বাড়ির মালিক, তাঁরই ব্যবস্থাপনায় আমার থাকা। একটু অস্বস্তি ছিল। বন্ধু-বান্ধবরা সারাদিন রোজা রাখবেন আর আমি পেট ভরাবো! স্থির করলাম দিনের বেলায় আমিও খাবো না। এমনকি চা পর্যন্ত নয়। ঘুমিয়ে থাকলে খিদে পায় না…

  • ভ্যানগঁগ জাদুঘরে

    ভ্যানগঁগ জাদুঘরে

    হেনি রুমকেন্স আমার ডাচ-বন্ধু। আমার সঙ্গে ওর কলম-বন্ধুত্ব হয় ১৯৬১ সালে, তখন আমি স্কুলে পড়ি। ১৯৭৮ সালে ও ঢাকায় আসে স্বামীর সঙ্গে। ওর স্বামী ইয়োপ ভন-ওভেন কোনো একটি বিদেশী সংস্থার কাজ-সূত্রে ঢাকায় আসে। ওরা চার বছর ছিল। ওই সময় ওর সঙ্গে আমার সরাসরি যোগাযোগ হয়, আমাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং কলম-বন্ধুত্বের অবসান ঘটে। ১৯৮১ সালে ও…

  • কলগার্ল

    কলগার্ল বুদ্ধকে দিয়েছে তার আজকের দিনের উপার্জন। কারুণিক সঙ্গে-সঙ্গে তাকে দেখালেন সমস্ত ভুবন জুড়ে ব্যাপ্ত এক অনন্তনাগের ফণায় ফণায় জ্যোৎøা সমবিতরিত হয়ে আছে। অথচ দু-গজ দূরে ওৎ পেতে রয়েছে বৈমাত্রেয় ভাই-টাই – যাকে বলে আত্মীয়স্বজন – তাদের নগদ পাওনা লুফে নেবে ব’লে; অনন্তনাগের তুলনায় এরা ছোটখাটো সাপ, এদের ফণায় অন্ধকার টায়টায় হয়েছে বণ্টন। দু-চারজন তবু…

  • রমিত বসন্তে

    আদিতে তুমিই ছিলে অন্তে ছিলে তুমি আকাশ সমুদ্র ছিলে, ছিলে বনভূমি আঁধার আলোর মতো ছিলে গোধূলিতে বিশাল প্রকৃতি জুড়ে বিপুল সংগীতে প্রবল অস্থির ছিলে বাতাসের স্বরে নদীর বিস্তারে আর পাতার মর্মরে অস্থিতে মজ্জায় তুমি ছিলে চিরকাল আমার মাংসের মধ্যে আমার কঙ্কাল চুম্বনে নিমগ্ন একা ছিলে আলিঙ্গনে উন্মত্ত বৃষ্টির গানে শ্রাবণে শ্রাবণে স্তম্ভিত শব্দের মধ্যে ধ্বনিত…

  • সংশয়

    রক্ত এবং মাংস জুড়ে তোর কেন এই ভয় ভালো যদি বাসিস নারী কেনরে সংশয় ভালো যদি বাসিস তবে মাতাল হয়ে যা অন্ধ এবং বধির হয়ে অধীর হয়ে যা ভালো যদি বাসিস নারী ঢেউ তুলে যা মনে ভালোবাসা মরণ খেলা খেলবি দুইজনে তুইতো জানিস কেমন ক’রে বাসতে ভালো হয় কেমন ক’রে ঝড়ের মতো বাতাস শুধু বয়…

  • সম্পাদক সমীপেষু

    ক্যানো যে কবিতা লিখি বলতে পারি না। আমি তো তেমন কোনো অমিতাভ স্বপ্নের পশারি নই যে ভ্রাম্যমাণ চিন্তনের শব্দযূথ রচনায় অবিরাম হৃদয় দোলাবো সকলের। আর সুন্দরের অক্লান্ত চর্চায় রচিত চিত্রাবলি ঋদ্ধ করবে চিত্তের বায়বীয় আহার। বাহবা হয়তো দেবে তীক্ষèবাক পণ্ডিতের চুলচেরা কথন। তেমন কিছুই নই। তবে ক্যানো এইসব মর্মচেরা গূঢ় কাতরতা আমাকে তাড়ায় আজো যেমনটি…

  • ঘুম

    কতবার মনকে বলেছি, না – সামনে আর এগিও না, একটু থামো। একটু বসে থাকো। বসে-বসে একটু ভাবো। সারা জীবন লম্ফ ঝম্প করেছ অনেক – কিছুই হয়নি; তবুও ভাবো, তোমার নাম রিপ ভ্যান উইঙ্কল। ঘুম-ঘুম-অজস্র ঘুমের সুখে অজস্র ঘুমের মধ্যে ডুবে আছো তুমি – মাঝেমধ্যে ভুঁশ করে ভেসে উঠছ ‘দেবদাস’ বা ‘চারুলতা’       বা ওইরকম কোনও…