2016

  • পটেশ্বরী

    আটঅমৃতা আর প্যারিসের কথায় একটা চিঠির কথাই বারবার মনে আসে| হাঙ্গেরি থেকে যেটা আমায় লিখেছিল ও|চিঠিটা যেন আমাদের জীবনে এক নতুন গল্পের সূচনা| গল্প করেই বলি, যদিও ব্যাপারটা চিঠির|সময়টা আগস্ট, ১৯৩৪-এর| যা পরিবারের পেনশন আসছিল ভারত থেকে তাতে সংসার চালাতে ঘাম ছুটে যাচ্ছিল মা’র| ফলে তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশে ফিরে যাবার নকশা কষছিল বাবা| কেবল অমরি…

  • নদী কারো নয়

    ৪৪রাত এখন কত নির্ণয় নাই, ভোর হতেই বা কত বাকি তারও ঠাহর নাই| মৃত্যু এমনই হয়, আমাদের সময় ধারণাকে গিলে খায়| এই ছিলো, এই নাই! এর চেয়ে ¯^াভাবিক আর কিছু নাই, মানুষ তবু চমকিত হয় মৃত্যু যখন তার কালো চাদরে আমাদের বোধশক্তিকে অকস্মাৎ আচ্ছাদিত করে| ভালো করে তাকিয়ে দেখি জলেশ^রীর আকাশে তখনো দৃপ্ত প্রতাপে তারাসকল…

  • আবুবকর সিদ্দিক ও গণমানুষের গান

    ১৯৪২ সালে চীন বিপ্লব চলাকালীন ইউনানের মুক্তাঞ্চলে মাও সে তুং শিল্প-সাহিত্য প্রসঙ্গে একটি বিখ্যাত রচনা পাঠ করেছিলেন| সেখানে তিনি বিপ্লবের বিজয়ের জন্য দুই ফ্রন্টে লড়াইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন| একটি হলো সামরিক ফ্রন্ট, আরেকটি সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট| মাও সে তুংয়ের ভাষায়, বন্দুকের যুদ্ধ এবং কলমের যুদ্ধ| বিপ্লবের মহানায়ক মাও সে তুং নিজেই যখনসাংস্কৃতিক ফ্রন্ট বা কলম-যুদ্ধের তাৎপর্য…

  • মানবী বর্মের নভোচারী : হামিদ সারাহা

    বোরাক, গড়ুর, উচ্চৈঃশ্রবা বা পুমুক কিংবা পক্ষিরাজ ঘোড়াকোনোটা নয়, ওড়াচ্ছিলে উপমহাদেশে বিমান, ছিমছাম গড়নে বিমানবালাআরব্য রজনী পড়া, বাংলার জাদুঘোড়া ছিলও না কাঠে-কাঠ জোড়াএক কানে মোচড় দিলে যার নাকি খুলে যেত পায়ে পুরনো তালা|হামিদ সারাহা আমেদ তুমি আমাদেরও নতুন মালালা|ছবি দেখি সকালে কাগজে — ঘাড়ে ব্যোম নৌ-চিহ্ন বাঁ-কাঁধে উড়ান এক ডানামনে পড়ছে টিপু ঘরানা — মোহাম্মদি…

  • কহত কবীর

    ভেবে দেখেছ কি চিত্রার্পিত আমাদের এই তিন ভুবন তো,যাঁর হাতে আঁকা প্রকৃত অর্থে তিনিই আসলে চিত্রবন্ত ॥ পটে-আঁকা সব নরনারী ভাবে সত্য তাদের বাঁকা অভিমানকেন একবার ভেবেও দ্যাখে না ঊর্ধ্বে একটি হংসবিমান সমস্ত-কিছু লক্ষ করছে! কাঠপুতুলেরা ত্রিকোণ পার্কেনাগরদোলায় ঘুরতে-ঘুরতে চেয়ে দ্যাখে তাই সূত্রধারকে ॥

  • আমার পড়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস থ্রিটি উম্রিগরের Space Between Us

    আমার পড়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস থ্রিটি উম্রিগরের Space Between Us

    গত কয়েক বছরে আমার পঠিত উপন্যাসগুলোর (বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে) ভেতর, যে-উপন্যাসটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করেছে, যার প্রতিটি চরিত্র, ঘটনা ও তার পরম্পরা, কাহিনির বাঁক, উত্থান-পতন, উপস্থাপনা, ভাষার সাবলীলতা আমার মনের মধ্যে স্থায়ী দাগ কেটেছে, সে-উপন্যাসটির নাম ঝঢ়ধপব ইবঃবিবহ টং (প্রথম প্রকাশ ২০০৭)| লিখেছেন ব¤ে^ (বর্তমানে মু¤^াই) থেকে এসে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সাহিত্যের অধ্যাপক থ্রিটি উম্রিগর|…

  • প্রিয় বইগুলো

    প্রিয় বইগুলো

    বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গেলে প্রথমেই হোঁচট খাই| আমার প্রিয় বই, এ কি পড়াশোনা আমার গোষ্পদে জলবিন্দুতুল্য হলেও, তার ভেতর থেকে একটি বেছে নিয়ে তাকেই পছন্দের সেরা বলে জাহির করা, না-কি তা হতে পারে একাধিক? লেখারও আছে প্রকারভেদ| গল্প-উপন্যাস-কবিতা, এমন বিভাজন যেন স্বতসিদ্ধ| একটিতে অন্যটির স্বাদ চাইতে পারি| কিন্তু তা ব্যতিক্রমী| বাস্তবও ক্রমাগত রূপ-বদলায়| কাল নিরবধি|…

  • …এবং গেরিলা থেকে সম্মুখযুদ্ধ

    …এবং গেরিলা থেকে সম্মুখযুদ্ধ

    খুব ছোটবেলায় প্রিয় ছিল রূপকথার বই| আর আব্বা যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন, পিটিআই, সেখানকার লাইব্রেরিতে আমাদের ছিল অবাধ প্রবেশাধিকার| ঠানদিদির থলে, ঠাকুরমার ঝুলি, পূজার দিনের উপহার — এই ধরনের বই বের করত দেবসাহিত্য কুটির| সেসব এনে-এনে পড়তাম| রূপকথাই বেশি ভালো লাগত, আর ভালো লাগত হাসির গল্প| শিবরামের গল্প ছাপা হতো, সেসব পড়তাম বুঁদ হয়ে| কিন্তু…

  • আমার সবচেয়ে প্রিয় বই

    আমার সবচেয়ে প্রিয় বই

    জলপাইগুড়িতে এক প্রায়ান্ধকার অপরাহ্ণে হাসপাতালফেরত ডাক্তার দাদু, সিঁড়িতে বসে আমাকে রজতজয়ন্তী সংকলন মৌচাক পড়তে দেখে বলেছিলেন, এই কমে আসা আলোয় বই পড়ো না, চোখ খারাপ হবে| সারাজীবন বই পড়েই চললাম আর দাদুর ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করে চোখের আলো ম্ল­ান হয়ে এলো| সেই ছোট্টবেলায় পড়েছিলাম আফ্রিদি সীমান্তে আর কামানের মুখে নানকিং আর ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ সিরিজের বই| তারপর থেকে…

  • প্রিয় বই : নানা বয়সের

    প্রিয় বই : নানা বয়সের

    আমার ছেলেবেলার বেশিটাই কেটেছে আমাদের দেশের বাড়ি ফরিদপুর জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে| কলকাতাতেও আমাদের একটা বাসাবাড়ি ছিল বটে, তবে আমার বাবা, মা, ছোটপিসি, দিদি ও কলেজের পড়ুয়া তিন কাকা সেখানে থাকলেও ঠাকুর্দা আমাকে দেশের বাড়িতে তাঁর নিজের কাছে রেখে দেন| তাঁরই কাছে আমার হাতেখড়ি, তিনিই আমাকে লোহার সরু শিক দিয়ে নরম মাটিতে আঁচড় কেটে অ…

  • কবিতাযাপন

    কবিতাযাপন

    কবিতা কেন, কী পথে কবিতার কাছে পৌঁছলাম, কেন নিজে লিখতেও চেষ্টা করলাম? এই প্রশ্নগুলো আমার নিজের কাছে উত্থাপন করলাম| কিন্তু কোনো উত্তর নেই| ঝরছে না বারিধারাও| তাহলে অন্তত বারিধারার শব্দটা তো পাওয়া যেত| সেখান থেকে শুরু করেক্রমে-ক্রমে অন্য কিছু; পৌঁছোনো যেত এখন পর্যন্ত, কোনোঅজানা-অচেনা বন্দরে, পোতাশ্রয়ে| গভীর অন্ধকার বিজনে, দূর থেকে একটি নিভু-নিভু প্রদীপশিখা দেখতে…

  • রাঢ়ের এক বালকের গল্প ও আমাদের হাসান আজিজুল হক

    রাঢ়ের এক বালকের গল্প ও আমাদের হাসান আজিজুল হক

    বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের প্রধান স্থপতিদের একজন হাসান আজিজুল হক সত্তর বছরের প্রৌঢ়তায় পৌঁছে তাঁর ˆশশবস্মৃতি পুনরুদ্ধার করে চলেছেন| এখন পর্যন্ত প্রকাশিত স্মৃতিকথার তিন খণ্ড — ফিরে যাই ফিরে আসি (২০০৯), উঁকি দিয়ে দিগন্ত (২০১১) ও এই পুরাতন আখরগুলিতে (২০১৪) আমরা পেয়েছি ˆশশব থেকে চোদ্দো বছরের বালক-স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র হাসান আজিজুল হককে| অর্থাৎ তাঁর স্মৃতিকথা এখনো…