আহমাদ মোস্তফা কামাল

  • প্রেমে ও প্রার্থনায়

    প্রেমে ও প্রার্থনায়

    ‘ছোটবেলায় সিলেট ডিস্ট্রিক্ট জেলের সামনের মাঠে ক্রিকেট খেলতাম। আমার বন্ধু গৌস সুলতানের বাবা ছিলেন জেলের ডাক্তার। সেই সুযোগে অনেক কয়েদির সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তারা সবাই বেতের জিনিসপত্র বানাত। সেগুলো জেলের সামনের রাস্তার পাশে ‘কেইন শপ’-এ বিক্রি হতো। কেন জানি এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেই ছোটবেলাতেই, যে, কয়েদিদের তৈরি চেয়ার-মোড়ায় কখনো বসবো না। বড়ো হলে এসব…

  • অ্যা স্পিরিচুয়াল জার্নি

    কল মি লাইক মোজাফ্ফর হোসেন – ক্রিয়েটিভ ঢাকা লিমিটেড ঢাকা, ২০২৫ – ৪৫০ টাকা মোজাফ্ফর হোসেনের দ্বিতীয় উপন্যাস কল মি লাইকা পড়ার পর মনে হলো, লেখক এই উপন্যাসে একটি স্পিরিচুয়াল জার্নি সম্পন্ন করেছেন। এও মনে হলো যে, মোজাফ্ফর তাঁর আগের সব কাজকে ছাড়িয়ে গেছেন এই জার্নির ভেতর দিয়ে। শুধু তাই নয়, আমি অনুভব করে উঠলাম…

  • জাতিস্মর অথবা নরকের গল্প

    জাতিস্মর অথবা নরকের গল্প

    তরুণ লেখকরা মাঝে-মাঝে আমার কাছে আসেন, আসেন সাংবাদিকরাও, যদিও তাদের আসার উদ্দেশ্য এক নয়। সাংবাদিকরা আসেন পেশাগত প্রয়োজনে, কোনো বাজারচলতি বিষয়ে মন্তব্য নেওয়ার জন্য, তাদেরকে গরম গরম খবর পরিবেশন করতে হয় কি না! কেউ-কেউ অবশ্য ফোন করে বা মেসেজ করেও মন্তব্য চান – মানে এসে কথা বলার মতো সময় নেই; তাছাড়া, হাতের মুঠোয় যোগাযোগ-যন্ত্র তো…

  • গল্প নয়, জীবনকাহিনি

    গল্প নয়, জীবনকাহিনি

    পুরনো দিনের একটা গানের কথা মনে আছে আপনাদের? সেই যে – ‘গান নয় জীবনকাহিনি, সুর নয় ব্যথার রাগিনী’, রুনা লায়লা গেয়েছিলেন তাঁর অপূর্ব দরদি কণ্ঠে, সেটির কথা বলছি। গানটা বন্দিনী সিনেমার, লিপসিং করেছিলেন ববিতা, অনিন্দ্যসুন্দর তরুণী ববিতা। জানেনই তো, তিনি এমন এক নায়িকা, জীবনানন্দের ভাষায় যাকে বলা যায় – ‘এ পৃথিবী একবার পায় তারে পায়…

  • বিভ্রম কিংবা বিড়ম্বনার গল্প

    তিন বছর বয়সী কন্যা অর্চিকে নিয়ে কবীর আর লিলির ছোট্ট সংসার। নির্ঝঞ্ঝাট, ঝামেলাবিহীন। দুজনেরই মা-বাবা-আত্মীয়স্বজন থাকে গ্রামে বা মফস্বলে, এই শহরে তাদের প্রায় কেউ নেই। বন্ধুবান্ধবও কম, আঙুলে গোনা। টেনেটুনে ভালোই চলছিল তাদের, অন্তত তারা ভালো বলে মেনে নিয়েছিল এই ভেবে যে, একভাবে না একভাবে তো চলছে, কত মানুষের যে চলছেই না! কিন্তু ইদানীং, না…

  • জলের অক্ষরে লেখা

    জলের অক্ষরে লেখা

      পর্ব : ১২ ঋভু আর অবন্তি চলে যাওয়ার পর কেমন যেন খালি খালি লাগছিল বাসাটা, এই অসময়ে কী যে করা যায় বুঝতে পারছিল না অংশু। সাধারণত এরকম ভরসন্ধ্যায় বাসায় ফেরে না সে, ফেরে একটু দেরি করে। আর বৃহস্পতিবার রাত হলে তো কথাই নেই। এখন অবশ্য আবার বেরিয়ে পড়া যায়, অপলাকে নিয়ে রাতের বেলা বের হওয়া…

  • জলের অক্ষরে লেখা

    জলের অক্ষরে লেখা

    পর্ব : ১১ অবন্তিকে বিদায় দিয়ে ফের বেডরুমে এলো ঋভু। বিছানাটা এলোমেলো হয়ে আছে। মুচকি একটু হাসলো সে, অনেক ঝড় বয়ে গেছে বেচারা বিছানার ওপর দিয়ে, বহুদিন পর। থাকুক, ওভাবেই থাকুক আজকে। ঘর জুড়ে একটা সুগন্ধ, অবন্তির শরীরের গন্ধ, থাকুক ওটাও। সে এলোমেলো বিছানাতেই সুগন্ধির ভেতরে ঘুমাবে আজ। কিন্তু এখন তো ঘুম আসবে না, কী…

  • জলের অক্ষরে লেখা

    জলের অক্ষরে লেখা

    পর্ব : ৬ অবন্তিকে পৌঁছে দিয়ে ফেরার সময় অংশুর ইচ্ছে করছিল আরো কিছুক্ষণ পথে পথে ঘুরে বেড়াতে। শহরের নানা প্রান্তে তার নকশায় নানা স্থাপনা তৈরি হয়েছে। মাঝে মাঝে সে একাই বেরোয় সেসব দেখতে, সাধারণত মাঝরাতে, যখন কেউ থাকে না আশেপাশে। কখনো-বা অপলাও সঙ্গে থাকে। একেকটা ভবন বা স্থাপনা সে অনেকক্ষণ ধরে দেখে। ভাবে, যা সে…

  • জলের অক্ষরে লেখা

    জলের অক্ষরে লেখা

    পর্ব : ৫ ডিনারের পর অবন্তি যখন গভীর মনোযোগ দিয়ে ঋভুর সংগ্রহ করা ছবিগুলো দেখছিল আর ঋভু গিয়ে ওর পাশে দাঁড়িয়েছিল, অংশু দূরে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্যটির দিকে কতক্ষণ মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিল। ঋভু ফিসফিস করে কথা বলছিল আর অবন্তি কান নামিয়ে এনেছিল ওর কাছে। কী সুন্দর একটা দৃশ্য, কী দারুণ মানানসই একটা জুটি! কেন যে…

  • তাঁর স্নেহসিক্ত কণ্ঠস্বর

    তাঁর স্নেহসিক্ত কণ্ঠস্বর

    হাসনাতভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল সম্ভবত ১৯৯৫ সালের শেষে অথবা ১৯৯৬ সালের শুরুর দিকে। তখন তিনি দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সম্পাদক আর আমি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ লেখক। সংবাদের সাহিত্য সাময়িকী তখন ভীষণ আলোচিত, আকর্ষণীয়, সুপরিকল্পিত, সুসম্পাদিত, অভিজাত সাহিত্যপাতা। সংবাদপত্র হিসেবে দৈনিকটির ততটা জনপ্রিয়তা না থাকলেও সাহিত্যামোদী পাঠকরা বৃহস্পতিবারের সাময়িকীর জন্য অপেক্ষা করতেন এবং অতি অবশ্যই সংগ্রহ করতেন।…

  • পাতাদের সংসার

    পাতাদের সংসার

    অনেকদিন আগে পথিক এ-বাড়িতে প্রথম এসেছিল নিতান্তই খেয়ালের বশে। তখন তার ছিল হাঁটার ‘ব্যারাম’, অন্তত লোকে তাই বলতো। শহরময় অবিরাম হেঁটে বেড়াতো সে, মনে হতো যেন নিজের নামকরণের সার্থকতা প্রতিপন্ন করতে চাইছে – পাঁচ-দশ মিনিটের বেশি বসতো না কোথাও, যেন উদ্ভ্রান্তের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছে কোনো কিছু, এমনই ছিল তার হাঁটার ভঙ্গি। আসলে কী খুঁজতো সে?…

  • দাগ

    দাগ

    এই বিদেশ-বিভুঁইয়ে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল তাদের। পাঁচতারা হোটেলের দীর্ঘ ও প্রশস্ত করিডোর, একপাশে সারিবাঁধা রুম, অন্যপাশটা খোলা। করিডোর না বলে ব্যালকনি বলাই ভালো। সেখানে রেলিংয়ে দুই হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিল সে। দূরে তাকিয়ে ছিল, অনেক দূরে, কী ভাবছিল জানে না কেউই। এই করিডোর ধরেই সিঁড়িতে যেতে হয়, কিংবা লিফটে। শায়লাও যাচ্ছিল। ডিনারের সময় হয়ে…