পাঁচ শিল্পীর যৌথ প্রদর্শনী

আগে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষত শীতকালে চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন বেশি হতো। আজকাল সারাবছর জুড়েই ঢাকার নানা গ্যালারিতে প্রদর্শনী হচ্ছে। বিগত দশক থেকেই সংবৎসরের এই আয়োজন সচল রয়েছে। শিল্পীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, কাজের পরিমাণও তেমনি বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রদর্শনীর আয়োজন।

সম্প্রতি ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানের হক আর্ট গ্যালারিতে আয়োজিত হয়েছিল বিশিষ্ট পাঁচজন চিত্রশিল্পীর এক যৌথ চিত্রকলা প্রদর্শনী। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা ষাট, সত্তর ও আশির দশকের প্রতিনিধিত্বশীল। ষাট দশকের শেষভাগের শিল্পী মাহমুদুল হক, সত্তরের প্রথমার্ধের শিল্পী আবদুস শাকুর শাহ, সত্তরের শেষভাগের শিল্পী রোকেয়া সুলতানা এবং আশির দশকের মধ্যভাগের শিল্পী-দম্পতি কনকচাঁপা চাকমা ও খালিদ মাহমুদ মিঠু এই আয়োজনের পাঁচ চিত্রকর।

যূথবদ্ধ প্রদর্শনীর আয়োজন করা এক নিয়মিত ঘটনা এখন। এমন আয়োজনের পেছনে এখন তেমন আদর্শিক প্রেরণা থাকে না। অথচ ষাট-সত্তর কিংবা আশির দশকে আমাদের অনেক শিল্পীই দলগত প্রদর্শনী করেছেন বিশেষ লক্ষ্য ও দর্শনকে কেন্দ্র করে। ঢাকা পেইন্টার্স, সময় – এই গ্রুপগুলোর সূচনা ও বিকাশ আমাদের সেই সময়ের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে শিল্পীর সামাজিক দায়কেই তুলে ধরেছিল। এস্টাবলিশমেন্ট-বিরোধী আদর্শিক সেই গ্রুপগুলো আর টেকেনি নানা সীমাবদ্ধতায়, সদস্য শিল্পীদের প্রচলিত শিল্পের গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে দেওয়ায় কিংবা আরো নানাবিধ কারণে। এখনকার বেশিরভাগ দলগত প্রদর্শনীর পেছনে থাকে আয়োজকদের আগ্রহ, গ্যালারির প্রচার ও প্রসারের চিন্তা। দর্শকরাও একসঙ্গে দেখতে পান কয়েকজন শিল্পীর সমকালীন চিত্রকর্ম। এমনই এক আয়োজন হক আর্ট গ্যালারির ‘পাঁচ বিশিষ্ট শিল্পীর প্রদর্শনী’।

আমাদের শিল্পভুবনে শিল্পী মাহমুদুল হকের পদচারণার সময়কাল চার দশক। আশির দশকের গোড়ায় চিত্রকলায় উচ্চতর শিক্ষার জন্য জাপানে যাওয়ার পর তাঁর চিত্রকলায় বাঁক-বদল ঘটে। বিশেষ করে ওখানে ছাপচিত্র-বিষয় নিয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষালাভের পর তাঁর চিত্রকলায় বেশ পরিমিতিবোধ আসে। আগের কাজের বহুবর্ণিলতা ত্যাগ করে তিনি দৃষ্টিসুখকর মিষ্টি বর্ণে চিত্রপট রঞ্জিত করে তার উপর ছাপাইয়ের মতো কালচে বর্ণে টেক্সচারসমৃদ্ধ নানা ফর্ম ও লাইন উপস্থাপন করেন। তাঁর কাজে কিবরিয়া-স্কুলের কতক প্রভাব দেখা যায়। কাগজে তেলরঙে আঁকা ‘পেইন্টিং-১’ শিরোনামের কাজটির আবহ প্রধানত উষ্ণ লাল, তার উপর নানা ডিজাইনিক ফর্মের ছাপাইসদৃশ প্রয়োগ, নিচে দুধ-সাদা রঙের আয়তাকার বিভাজন। ‘পেইন্টিং-২’ শিরোনামের চিত্রপট নীলচে সাদা, নিচ থেকে কেন্দ্রভাগ পর্যন্ত ইংরেজি ‘টি’ অক্ষরসদৃশ ফর্মের ভেতরে অসংখ্য টেক্সচার ও লাইনের আলিম্পন।

তাঁর এরকম কাজে ইদানীং কিছু বাস্তবানুগ বিষয় বা চরিত্রের আভাস পাওয়া যায়। যেমন- ‘কম্পোজিশন-১’ শিরোনামের সাদাকালো বর্ণপ্রধান কাজটিতে দুটি ফিগরের আভাস বিদ্যমান। আবার ‘কম্পোজিশন-৫’ কাজটিতে দরদালান, দরোজা ও মানুষের অনূদিত রূপ দৃশ্যমান। অর্থাৎ নিজস্ব রীতির ভেতরে অবস্থান করেই কিছু কিছু রূপবদলের খেলায় মেতে উঠেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে শিল্পী, মাহমুদুল হক চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরিমণ্ডলের অনেকগুলো প্রদর্শনী থেকে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। শিল্পী আবদুস শাকুর শাহ বহুদিন কাজ করছেন আমাদের ঐতিহ্যের নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে। আমাদের লোক-উপচার, লোক-কাহিনী, বিশেষ করে ময়মনসিংহ গীতিকার বিভিন্ন চরিত্র অবলম্বন করে সহজ সারল্যের ছবি এঁকে সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর ‘ঐতিহ্য’ শীর্ষক চিত্রকলার মধ্যভাগে এক হাতিকে কেন্দ্র করে আদিম শিকারি-মানবের অনেকগুলো ফিগর। আরো আছে বাঘ, বরাহ ও চন্দ্রাবতীর অবয়ব। এ-যেন আদিম মানুষের শিকারি-যুগকে তুলে এনে আমাদের ঐতিহ্যের উপকথার সঙ্গে তাকে সমন্বিত করে প্রকাশ করার প্রচেষ্টা। শিল্পীর আরেকটি কাজ বেশ ভালো লাগল, সেটি ‘মহুয়ার গল্প-২’। সামনে দৃষ্টিনিবদ্ধ ছয়টি নারী-অবয়ব, কালো ও নীলাভ বর্ণের। ওপরের আয়তাকার প্যানেলে পাঁচটি হাঁসের তদ্রƒপ সম্মুখযাত্রা। নারী-অবয়বগুলোর পেছনে তিনটি ডিজাইনিক ফুল ও পাতার সমাহার। এটিতে কোনো উপকথা-কাহিনীর লেখনী দেননি শিল্পী। এটিও যেন নিজ-ধারাতেই দাঁড়িয়ে থেকে নিজের শিল্পকৃতির কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া।

শিল্পী আবদুস শাকুর শাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং কারুকলা বিভাগের প্রধান। বেশ কটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই শিল্পী।

শিল্পী রোকেয়া সুলতানার চিত্রকলাতেও আমরা ঐতিহ্যের শেকড় প্রোথিত দেখি। তবে তাঁর প্রকাশভঙ্গিটি আধুনিক। যেমন- তাঁর ‘সম্পর্ক-১’, টেম্পারা মাধ্যমের চিত্রকলায় চিত্রপটের মধ্যভাগে এক বাৎসল্যময় নারীর উপবেশনরত অবয়ব, তার হাঁটুতে দাঁড়িয়ে আছে এক পায়রাসদৃশ পাখি। ‘যাও পাখি বলো তারে’ – এমন এক উপকথা বা লোকছড়ার পঙ্ক্তি মনে পড়ে যায়। ‘সম্পর্ক-২’ ইঙ্গিত করে মানব-মানবীর সৃষ্টিময় মধুর সম্পর্ককে।

 রোকেয়ার সফট গ্রাউন্ড প্রিন্ট, ‘বাদামী নদী’ বেশ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ভালো কাজ। চিত্রপটের কেন্দ্রস্থলে এক নৌকার দুজন আরোহীর দুপাশে দুই মাঝি। নিচে কুমির, মাছ ও লতাগুল্ম। কেন্দ্রস্থল ডার্ক, দুপাশ কিছুটা আলোকিত। ‘দেবী উপাখ্যান’ তাঁর আরেক ড্রাইপয়েন্ট ছাপাই। ক্রমবিদ্ধ এক নারী-অবয়ব। পুরো ছবিটিই ফিগর-শেপ অনুযায়ী কাটার ফলে ফর্মের প্রতি মনোযোগ তীক্ষè হয়। ছবির রং সবুজাভ ও কালচে।

ড্রাইপয়েন্টে করা আরো দুটি ছাপাই কাজের শিরোনাম ‘নারী ও সাপ’ এবং ‘ভালোবাসা-২’। নারীর শরীর পেঁচিয়ে থাকা এক সাপ। সাপের মাথায় আরেক নারী-অবয়ব। নারীই যেন নারীর প্রতিদ্বন্দ্বী এখানে। আর ‘ভালোবাসা-২’-এ বসে থাকা এক নারী-অবয়বের হাঁটুতে পক্ষীরূপী এক প্রেমাস্পদের ভালোবাসার অর্ঘ্য-নিবেদন।

প্রতীকীভাবে উপস্থাপিত এসব ছবিতে এমন এক ফ্যান্টাসির দেখা মেলে যা আমাদের অবচেতন মনে উদয় হয়। অবচেতনার ফ্যান্টাসি-বোধকে চিত্রকলায় তুলে আনায় রোকেয়ার দক্ষতা তাঁকে আমাদের চারুশিল্পের এক কীর্তিমান শিল্পীতে পরিণত করেছে। শিল্পী রোকেয়া সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আয়োজিত অনেকগুলো যৌথ প্রদর্শনী থেকে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন।

শিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠুর বিচরণের ক্ষেত্র অনেক। একজন সফল টিভি-অনুষ্ঠাননির্মাতা, চিত্রগ্রাহক হিসেবে তিনি সবিশেষ পরিচিত। ছবি আঁকাতেও সমান পারদর্শী। অবশ্য এই পরিচয়কেই তিনি মৌলিক বলে স্বীকার করেন। ফলে অন্যান্য কাজে যত ব্যস্ততাই থাকুক, ঘরে যেটুকু সময় থাকেন Ñ অনবরত চিত্রপটে ফুটিয়ে তোলেন বিভিন্ন বিষয়ের ছবি। ক্যানভাসে অ্যাক্রিলিকে তিনি এঁকেছেন ‘আমার জানালা থেকে’, ‘পটারি অব জয়’, ‘মনের সঙ্গীত’, ‘সকালের সমুদ্র’ প্রভৃতি।

মিঠু বিশেষ কোনো ধারায় আঁকেন – এটা বলা যাবে না। তবে তাঁর আঁকার যেমন বাস্তবানুগ কিছু ফর্ম বা ফিগর থাকে, তেমনি চিত্রপটের আবহে থাকে বিমূর্ত অঙ্কনরীতির ফর্ম ও বর্ণের আলিঙ্গন। কিছু বাস্তবতা আর কিছু অবচেতনার ধারণা বা ইঙ্গিত তাঁর চিত্রকর্মকে বিশেষায়িত করে। ক্ষণকালের রূপ, চলমান সময়ের চকিত অবলোকন আমরা পাই শিল্পী মিঠুর চিত্রকর্মে। তাঁর ‘পটারি অব জয়’ চিত্রের কিছু ফর্ম পেইন্টিং করা আর ভারি রঙের আস্তরণ চাপানোর পর চিরুনি-চালনার মতো ঢেউ প্রয়োগ করেছেন শিল্পী। ‘সকালের সমুদ্র’ চিত্রে বালুকাবেলার অবয়ব গড়েছেন শিল্পী। বালিয়াড়িতে ‘শামুক ও শঙ্খ’ সেঁটে দিয়েছেন। এসব ক্ষণিকের রূপময়তায় গভীর কোনো বোধ ঠিক জাগ্রত হয় না। শিল্পকে কালোত্তীর্ণ করতে হলে, নিদেনপক্ষে আরো রসোত্তীর্ণ করতে হলে, এক্ষেত্রে শিল্পীকে আরো বেশি সময় দিতে হবে।

শিল্পী কনকচাঁপা চাকমা আমাদের চিত্রকলায় ইতোমধ্যেই নিজের একটি বিশিষ্ট অবস্থান গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছেন। ১৯৬৩ সালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় জন্মগ্রহণকারী এই শিল্পী শুরু থেকেই তাঁর দেখা পাহাড়ি জনজীবনের ছবি এঁকে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য আয়ত্ত     করেছেন। বেশ কটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি।

পাহাড়ি পরিবেশে নারী-অবয়ব ফুটিয়ে তোলা শিল্পী কনকের একটি প্রিয় বিষয়। আগে অত্যন্ত মমতা দিয়ে ডিটেইল ড্রয়িং ও রং আরোপ করে বিষয়বস্তুকে পরিস্ফুট করতেন। ইদানীং লক্ষ করছি, তাঁর কাজে এসেছে গতিময়তা ও স্বাচ্ছন্দ্য। আগের কাজগুলোতে নারী ও নিসর্গের রূপ পরস্পর-সম্পর্কিত থাকলেও তাকে আলাদা করা যেত। এখন তিনি পাহাড়ি প্রকৃতির আবহের সঙ্গে অনেকটা রিলিফ ভাস্কর্যের স্টাইলে ফিগরগুলোকে সংশ্লিষ্ট করে দেন। বর্ণপ্রয়োগেও তিনি এখন অনেক উদ্দাম। ফলে তাঁর কাজের মিষ্টতা এখন অনেকটাই অন্তর্হিত। তার বদলে কেমন যেন পাহাড়ি পরিবেশের রূঢ় বাস্তবতা এখন উচ্চকিত। এখনো নিজ জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনের কঠিন কালকেই নির্দেশ করে। আগের রোম্যান্টিক ভাবালুতার সুন্দর প্রকৃতি ও সেই প্রকৃতির       সন্তানদের অবয়বের মধুরিমা যেন হারিয়ে গেছে কঠিন বাস্তবতার রূঢ়তায়। পাহাড়ি নিসর্গের সবুজাভা এখন উধাও, তার বদলে আদুল মাটির অসহায়ত্ব প্রকট শিল্পীর এখনকার চিত্রকর্মে। তেলরঙে ক্যানভাসে আঁকা তাঁর চিত্রকর্ম ‘বসন্তের একটি মুহূর্তে’ বসন্তের বর্ণবিভোর সঠিক রূপ আমরা পাই না। যেন বসন্ত এখানে ক্ষয়িষ্ণু। ‘গ্রীষ্ম’ শীর্ষক তাঁর আরেকটি চিত্রকর্মেও আমরা প্রবল প্রাকৃতিক উষ্ণতার পাশাপাশি আরো কিছু কৃত্রিম উষ্ণতার সন্ধান পেয়ে যাই শিল্পীর পরিবেশনার গুণে। ‘সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরা’, ‘সুইট সিক্সটিন’      শীর্ষক চিত্রকর্মে বরং শিল্পী প্রতীকায়িত করেছেন সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা।

শিল্পী ইদানীং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নিয়েও ছবি আঁকছেন। গৌতম বুদ্ধের শান্তির অন্বেষণের মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তির বাতাবরণ-সৃজনের যে আকাক্সক্ষা ছিল, সেই আকাক্সক্ষা মানবসমাজে এখনো বিদ্যমান।     হানাহানি ও দলনে-পীড়নে ক্লান্ত মানবকুলের জন্য শান্তির সেই ললিতবাণী উচ্চারণে শিল্পী যে প্রয়াসী, তা আমরা উপলব্ধি করি     ‘শান্তির পথে’ শীর্ষক চিত্রকর্ম দেখে।

পাঁচজন চিত্রশিল্পীর এই প্রদর্শনী নানা কারণেই উল্লেখযোগ্য আয়োজনের স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মধ্যে যেমন ছিল চিত্রকলার শুদ্ধরূপের ইঙ্গিত, ঐতিহ্যের শেকড়সন্ধানী আকুলতা, চলমান        বাস্তবতায় নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসানের যুক্তিনিষ্ঠ ফ্যান্টাসি ও প্রতীকী প্রকাশ, মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া সময়ের চকিত অবয়ব এবং সর্বোপরি সংখ্যালঘু পাহাড় ও পাহাড়িদের অধিকার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার ব্যাকুলতা, শান্তির আকাক্সক্ষা।

প্রদর্শনী চলেছে ২৬ এপ্রিল থেকে ১০ মে, ২০০৪ পর্যন্ত। এ- আয়োজনের জন্য হক আর্ট গ্যালারি-কর্তৃপক্ষ অবশ্যই ধন্যবাদার্হ।