শ্রদ্ধান্জলি

  • শঙ্খ ঘোষ, স্রষ্টা ও সামাজিক

    শঙ্খ ঘোষ, স্রষ্টা ও সামাজিক

    (৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ – ২১ এপ্রিল, ২০২১) আমরা সকলেই ইদানীং ‘পাবলিক ইন্টেলেক্চুয়াল’ কথাটার সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, ইউরোপীয় দার্শনিক ইযুরগেন    হাবেরমাসকে    কথাটা    উদ্ভাবনের   কৃতিত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কথাটাই হয়তো উদ্ভাবন করেছিলেন তিনি, মানুষের সংস্কৃতিতে বহু আগে থেকে এই দায়বদ্ধ বুদ্ধিজীবীর অস্তিত্ব ছিল। গ্রিক দার্শনিক সোক্রাতেসের কথাটা তো সকলের আগেই মনে পড়বে। নানা সংস্কৃতিতেই এই বুদ্ধিজীবীদের একটি…

  • শঙ্খ ঘোষের চিঠি : শিশিরকুমার দাশকে

    শঙ্খ ঘোষের চিঠি : শিশিরকুমার দাশকে

    সংগ্রহ ও ভূমিকা : ভূঁইয়া ইকবাল শঙ্খ ঘোষ (১৯৩২-২০২১) ও শিশিরকুমার দাশের (১৯৩৬-২০০৩) সম্পর্ক ছিল অগ্রজ-অনুজপ্রতিম। এই দুই মনীষী  সাহিত্যশিল্পীর মধ্যে যে পত্রব্যবহার হয়েছিল তার কয়েকটি আমাদের হস্তগত হয়েছে। শঙ্খ ঘোষের কিছু চিঠি এখানে গ্রথিত হলো। শিশির দাশের কিছু পত্রাবলি শঙ্খ ঘোষ উপযুক্ত ভাষ্যসমেত সংকলন করেছেন পুরোনো চিঠির ঝাঁপি (২০১৯) গ্রন্থে। পত্রকার ও প্রাপক –…

  • প্রসঙ্গ : শঙ্খ ঘোষ

    প্রসঙ্গ : শঙ্খ ঘোষ

    এই মুহূর্তে সমগ্র শিক্ষিত বাঙালি সমাজে এক স্তব্ধতা নেমে এসেছে শঙ্খ ঘোষের চলে যাবার কারণে। বাংলা ভাষার একজন প্রধান কবি চলে গেলেন বলে শুধু নয়, চলে গেলেন একজন প্রকৃত ‘ধার্মিক’ মানুষ – ধর্ম মানে যেখানে বিশুদ্ধ নৈতিকতা, বিশুদ্ধ মানবতা। কোনো সম্প্রদায়ভুক্ত খণ্ডিত মানুষের পক্ষে এই রকম একজন প্রকৃত ধার্মিক মানুষ হওয়া প্রায় অসম্ভব। পাশাপাশি তাঁর…

  • প্রয়াণলেখ

    প্রয়াণলেখ

    মৃত্যুর মতো অবধারিত আর কিছুই নেই, তবু কোনো কোনো মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয় – এমন কেন হয়! কেন কোনো চলে যাওয়াকে কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। অথচ এও তো জানি শরীরের অবসান কারো বিরাটত্বকে খাটো করতে পারে না, মানুষের বেঁচে থাকা তাঁর কীর্তিতেই। ২০২১-এর ২১ এপ্রিল প্রয়াণ হলো শঙ্খ ঘোষের, তাঁর অনুরাগীদের কাছে রয়ে…

  • এক দ্রোণাচার্যের কথা (তর্পণ : শ্রী শঙ্খ ঘোষ)

    এক দ্রোণাচার্যের কথা (তর্পণ : শ্রী শঙ্খ ঘোষ)

    এক যুবক কবি ভিড়ের আড়ালে দূর থেকে বুদ্ধদেব বসুকে দেখছেন। মাঝখানে তাঁর দৃষ্টি ঢেকে কলেজ স্ট্রিটের রাস্তায় ঘণ্টি বাজিয়ে ট্রাম চলে যায়, কত হাজাররকম ব্যস্ততা ফুলেফেঁপে ওঠে। যুবক শুধু দূর থেকে দেখে যান স্বনামধন্য কবি ও সম্পাদক বুদ্ধদেব বসুকে – নিজের পরিচয় দিয়ে তাঁর সামনে দাঁড়াতে কোথাও যেন সংকোচ হয় তাঁর। … এই একই ঘটনার…

  • শঙ্খ ঘোষ : কিছুটা ব্যক্তিগত অনুষঙ্গে

    শঙ্খ ঘোষ : কিছুটা ব্যক্তিগত অনুষঙ্গে

    সত্তরের দশকের মাঝামাঝি। মফস্বলের শহর থেকে সোজা রবি ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে। কলাভবনে ছবি আঁকার পাঠ নিতে এসেছি। আমার কাছে এ একেবারে অন্যভুবন, বড় দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে সময়। প্রথম বর্ষের পাঠশেষে কখন যে দ্বিতীয় ধাপে উঠে পড়েছি কে জানে! তাহলে আমরা একটু সিনিয়র, এবারে আরেক রকমের অপেক্ষা। নতুন ছেলেমেয়েরা ভর্তি হবে – এই ভেবে মনের মধ্যে প্রবল…

  • শঙ্খ ঘোষের কবিতা : একটি অলীক সংলাপ

    শঙ্খ ঘোষের কবিতা : একটি অলীক সংলাপ

    (আধুনিক বাংলা কবিতার অলোকসামান‍্য ব‍্যক্তিত্ব শঙ্খ ঘোষ করোনাকবলিত হয়ে বিদায় নিলেন। তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃষ্টির মধ্যে। তাঁর কবিপ্রতিভার আলোচনা, বিশ্লেষণ বহু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। আমরা এখন শোকের ভার লাঘব করতে পরলোকে বিশ্বাস স্থাপন করে ফিরে যাব স্বর্গোদ‍্যানে, যেখানে তিনি তাঁর সতীর্থ, গুণমুগ্ধ কয়েকজনের দেখা পেয়ে সংলাপে মগ্ন হয়েছেন। চলুন, আমরা চুপ থেকে ওনাদের…

  • কবি অলোকরঞ্জন ও তাঁর কাব্যপরিসর

    কবি অলোকরঞ্জন ও তাঁর কাব্যপরিসর

    এই তো সেদিনের কথা। ১৭ই নভেম্বর। একটু রাত করেই ঘুমোই। হঠাৎই ফেসবুকে ভেসে উঠল অলোকদার প্রয়াণসংবাদ। চমকে উঠলাম। সুশীলদা মানে আমাদের সুশীল সাহাকে ফোনে ধরার চেষ্টা করলাম। ফোন বন্ধ। সারারাত জেগেই কাটল। ঘুমবো কী করে? মনে পড়ে এরকমই অবস্থা হয়েছিল সমালোচক অধ্যাপক উজ্জ্বলকুমার মজুমদারের প্রয়াণসংবাদে। যে কয়েকজন প্রথিতযশা মানুষের কাছে এসেছি, ভালোবাসা পেয়েছি তাঁদের মধ্যে…

  • অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত : অধিবিদ্যার কবি

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত : অধিবিদ্যার কবি

    এক বেশ্যা অনায়াসে ভিতরমন্দিরে ঢুকে যায় বুদ্ধ মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে গেল এক বেশ্যা ঢুকে যায় পেছন-দুয়ার ঠেলে দাঁড়ায় বৃদ্ধের ঠিক পাশে; দুটি দেবদারু দেয় দ্বারপ্রান্তে সযত্নে পাহারা কেউ যেন বুঝতে না পায়, কবিতা কি শুধু আবেগ আর প্রেমের, শুধুই কি বৃক্ষ, অরণ্য আর নীরবতার? প্রেম-প্রণয়ের বিপরীতে কবিতা যে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ হয়ে উঠতে…

  • সুধীরদা : স্মৃতির টুকরো

    সুধীরদা : স্মৃতির টুকরো

    সুধীর চক্রবর্তী। বাংলা সাহিত্যের আসরে সোনার জলে খোদাই করা একটি নাম। কৃতী লেখক ও গবেষক। তাঁর কলমের ডগায় শব্দেরা অনায়াসে হাজির হয় বাধ্য অনুগামীর মতো। সারাজীবনে তিনি অজস্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। লেখার হিসাব নিতে বসলে তাঁর রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে উঠবে। এইসব গ্রন্থ কোনো নির্দিষ্ট পথে একই মুখে এগিয়ে চলতে…

  • অপরাজিত সৌমিত্র: রেখে গেলেন এক অমর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

    অপরাজিত সৌমিত্র: রেখে গেলেন এক অমর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

    সদা কর্মচঞ্চল মানুষটিকে ভেতরে ভেতরে ক্লান্ত করছিল টানা লকডাউন? কিন্তু ক্লান্ত হওয়ার মানুষ নন তো তিনি। তাই গৃহবন্দি থেকেও ক্রমে আরো আরো মনের দরজা খুলে দিতে চাইছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর নিজের পড়ার ঘর থেকে পাওয়া গেল এক ডায়েরি, যেখানে রয়েছে ছোট ছোট গদ্য, কবিতা এবং আঁকা ছবি। বোঝা যায় লকডাউন তাঁকে মনের দিক থেকে…

  • ‘সেই অনিঃশেষ চিত্রকল্পের কাছে’

    ‘সেই অনিঃশেষ চিত্রকল্পের কাছে’

    সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নামটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের একঝাঁক চরিত্রের মুখচ্ছবি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে বাঙালিমাত্রেরই। চলচ্চিত্রের অভিনয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন অসামান্য কৃত্যে প্রায় ষাট বছরেরও বেশি। স্বনামধন্য স্মরণীয়-বরণীয় পরিচালকদের সঙ্গে তাঁর অভিনয় বাঙালি দর্শকের হৃদয় জয় করে নিয়েছে দু-তিন প্রজন্ম ধরে।  চলচ্চিত্র-নাটক ছাড়া এক নিভৃতচারী মগ্ন চিন্তাশীল অন্তরের সুপ্ত অনুভবে নিজের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন কবি সৌমিত্র…